আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’-এর উপবিভাগ ‘মারে-ডার্লিং অববাহিকা’ এবং বিশেষত ‘মারে-ডার্লিং অববাহিকা’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির (Class 8) ভূগোল পরীক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল একাদশ অধ্যায়: ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা (রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর)
মারে-ডার্লিং অববাহিকার ভূপ্রকৃতি ও নদনদীর বর্ণনা দাও।
মারে-ডার্লিং অববাহিকার ভূপ্রকৃতি –
- সাধারণ বৈশিষ্ট্য –
- প্রকৃতিগতভাবে মারে-ডার্লিং অববাহিকাটি একটি আদর্শ সমতলভূমি অঞ্চল।
- মারে ও ডার্লিং নদী এবং এদের উপনদী বাহিত উর্বর পলি সঞ্চয়ের ফলে এই সমভূমি অঞ্চল গঠিত হয়েছে।
- এই সমভূমির তিনদিকে (উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম) উঁচু পার্বত্যভূমি রয়েছে।
- উচ্চতা – এর গড় উচ্চতা 200 মিটার।
- আকৃতি – মুখ খোলা বোতলের মতো দেখতে অববাহিকাটির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক উন্মুক্ত, সেখান থেকে মারে নদী এনকাউন্টার উপসাগরে পড়েছে।
- ঢাল – দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঢালু উত্তরাংশকে ডার্লিং বেসিন এবং পশ্চিম দিকে ঢালু দক্ষিণ অংশকে মারে বেসিন বলে। অঞ্চলটির সামগ্রিক ঢাল উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে।
- মৃত্তিকা – পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চল থেকে সৃষ্ট মারে-ডার্লিং এবং তাদের অসংখ্য উপনদী বাহিত পলিমাটি দিয়ে এই অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে। তাই সমগ্র অববাহিকা অঞ্চলটিতে উর্বর পলিমাটির আধিক্য লক্ষ করা যায়।
মারে-ডার্লিং অববাহিকার নদনদী – মারে-ডার্লিং অববাহিকার প্রধান নদী হল মারে-ডার্লিং। মারে প্রধান নদী এবং ডার্লিং হল তার উপনদী। মারে (2,589 কিমি) অস্ট্রেলিয়ান আল্পসের স্নোয়ি পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, ডার্লিং (1,163 কিমি) নদীটি নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ওয়েন্টওয়ার্থ শহরের নিকট ডার্লিং নদীটি মারের মূলস্রোতের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
অতঃপর মারে ও ডার্লিং-এই দুটি নদীর মিলিত প্রবাহ দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হওয়ার পর দক্ষিণে এনকাউন্টার উপসাগরে পড়েছে।
- বৈশিষ্ট্য –
- মারে বরফগলা জলে পুষ্ট নদী এবং ডার্লিং বৃষ্টির জলে পুষ্ট নদী,
- মারে-ডার্লিং একটি নিত্যবহ বা চিরপ্রবাহী নদী,
- নদীটিতে সারাবছর নৌচলাচল করে,
- তবে মোহানার নিকট কয়েকটি বালুচর অবস্থান করায় সমুদ্রের বড়ো বড়ো জাহাজ নদীতে প্রবেশ করতে পারে না।
- উপনদী – মারের প্রধান উপনদীগুলি হল – ডার্লিং, মারামবিজি, লাচলান, গোলবার্ন প্রভৃতি। অন্যদিকে, ডার্লিং-এর উপনদীগুলি হল – ওয়ারিগো, বোগান, পারু, বারওয়ান, কালগোয়া, ম্যাকিনটায়ার, মকুওয়ারি, নামোই প্রভৃতি।

মারে-ডার্লিং অববাহিকার কৃষিকাজ ও পশুপালন সম্পর্কে লেখো।
কৃষিকাজ – মারে-ডার্লিং অববাহিকা কেবল অস্ট্রেলিয়ার নয়, সমগ্র পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৃষিসমৃদ্ধ অঞ্চল। এই অববাহিকার প্রধান কৃষিজ ফসল হল গম। অস্ট্রেলিয়ার লোকসংখ্যা কম হওয়ায় প্রচুর গম ও গমজাত দ্রব্য প্রতি বছর রপ্তানি করা হয়। অন্যান্য ফসলের মধ্যে যব, ভুট্টা, ওট, বার্লি, আখ, তামাক, তিসি, ধান প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। রেনমার্ক থেকে মিলডুরা পর্যন্ত জলসেচের সাহায্যে ফলের চাষ হয়। বিড্রিল অঞ্চলে নানারকম লেবু ও আঙুরের চাষ হয়। অববাহিকার দক্ষিণাংশে রিভারিনা অঞ্চলে প্রচুর আঙুর, আপেল, কমলালেবু, নাসপাতি, অ্যাপ্রিকট, আতা, খোবানি, পিচ প্রভৃতি ফল জন্মায়। মিলডুরা আঙুর চাষ ও মদ্য প্রস্তুতের জন্য বিখ্যাত।
পশুপালন –
- মারে-ডার্লিং অববাহিকায় নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর কারণে ছোটো ঘাসের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বা ডাউনস্ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে মেরিনো, লিঙ্কন, মার্স নামক মেষ পালন করা হয়। মেষ পালনে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী।
- অববাহিকার পূর্বভাগে দীর্ঘ ঘাসযুক্ত অঞ্চলে গবাদিপশু পালন করা হয়। এই সমস্ত চারণভূমিতে প্রধান দুগ্ধপ্রদায়ী গবাদিপশু যেমন – জার্সি, হলস্টিন প্রভৃতি পালন করা হয়।
- উত্তরের কুইন্সল্যান্ড ও দক্ষিণ-পূর্বের নিউ সাউথ ওয়েলস্ প্রদেশে মাংস প্রদায়ী গবাদিপশু পালন করা হয়।
পশুপালনের ওপর নির্ভর করে এখানে পশম, দুধ ও দুগ্ধজাত শিল্পেরও ব্যাপক বিকাশ লাভ ঘটেছে।

মারে-ডার্লিং অববাহিকার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের সম্পর্ক লেখো।
জলবায়ু – মারে-ডার্লিং অববাহিকার সামগ্রিক জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। তবে উত্তরাংশে নাতিশীতোষ্ণ এবং দক্ষিণাংশে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বিরাজ করে। এখানকার গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা 20°C এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা 10°C থাকে। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর প্রভাবে সারাবছর বৃষ্টি হয়। তবে অববাহিকাটির পূর্বভাগ গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হওয়ায় সেখানে বৃষ্টিপাত অপেক্ষাকৃত কম। এখানকার গড় বৃষ্টিপাত 50-75 সেমি। এই সমভূমির উত্তরাংশে গ্রীষ্মকালে ও দক্ষিণাংশে শীতকালে প্রধানত বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পূর্ব থেকে পশ্চিমে ক্রমশ হ্রাস পায়।
স্বাভাবিক উদ্ভিদ –
- কম বৃষ্টিপাতের কারণে মারে-ডার্লিং অববাহিকায় ছোটো ছোটো ঘাসের তৃণভূমি গড়ে উঠেছে, যা ডাউনস্ নামে পরিচিত।
- এই অববাহিকার পূর্বদিকের স্থানে স্থানে ওক, ম্যাপল, পপলার, এলম প্রভৃতি পর্ণমোচী বৃক্ষ দেখা যায়।
- দক্ষিণের অ্যাডিলেড অঞ্চলে জারা, কারি, ব্লু-গাম প্রভৃতি ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদ জন্মায়।
মারে-ডার্লিং অববাহিকার জলসেচ ব্যবস্থা সংক্ষেপে লেখো।
মারে-ডার্লিং অববাহিকার জলসেচ ব্যবস্থা – জলসেচের প্রয়োজনীয়তা মারে-ডার্লিং অববাহিকা অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে কৃষিসমৃদ্ধ অঞ্চল। অস্ট্রেলিয়ার মোট সেচসেবিত ভূমির মধ্যে 85 শতাংশ এই নদীর অববাহিকাতে অবস্থিত। এই অববাহিকা উর্বর পলল মৃত্তিকা সমৃদ্ধ হলেও স্বল্প বৃষ্টিপাতের (50-75 সেমি) জন্য কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। সারাবছর অধিক কৃষিজ ফসল ও পশুপালনের জন্য জলসেচের একান্ত প্রয়োজন হয়।
জলসেচ পদ্ধতি – মারে-ডার্লিং অববাহিকায় প্রধানত দু-ভাবে জলসেচ করা হয়ে থাকে –
- খালের সাহায্যে ও
- কূপের মাধ্যমে।
মারে-ডার্লিং নদীতে সারাবছর জল (বরফগলা ও বৃষ্টি) পাওয়া যায়। সে-কারণে মারে নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে হিউম জলাধার এবং মারামবিজি নদীর ওপর ব্যারিনডাক জলাধার (অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম জলাধার) নির্মাণ করা হয়েছে। এসব জলাধার থেকে খালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে জল সরবরাহ করা হয়। উল্লেখ্য, মারে নদীর মোহানার কাছে অনেকগুলি লবণাক্ত জলের হ্রদ অবস্থান করায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল মারে নদীতে ঢুকে পড়ত, ফলে কৃষিকাজে সেই জল ব্যবহার করা যেত না। বর্তমানে 20 কিমি দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে সমুদ্রের নোনা জল নদীতে প্রবেশ করতে না পারে। অন্যদিকে, মারে-ডার্লিং অববাহিকার বিভিন্ন স্থানে অজস্র আর্টেজীয় কূপ অবস্থান করছে। এই কূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল বা ভৌমজল সংগ্রহ করে কৃষিক্ষেত্রে ও পশুচারণভূমিতে জল সরবরাহ করা হয়।

মারে-ডার্লিং অববাহিকা পশুপালন ও ডেয়ারি শিল্পে উন্নত কেন?
অথবা, মারে ডালিং অববাহিকায় পশুপালন ও পশু-নির্ভর শিল্পোৎপাদনে সমৃদ্ধির কারণ আলোচনা করো।
মারে-ডার্লিং অববাহিকা পশুপালন ও ডেয়ারি শিল্পে উন্নতিলাভ করেছে। অতি উন্নত মানের পশম উৎপাদন ও রপ্তানিতে অস্ট্রেলিয়া সমগ্র পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে। এ ছাড়া এখানে প্রচুর পরিমাণে মেষের মাংস, গোমাংস (পৃথিবীতে পঞ্চম স্থান) ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত দ্রব্য (মাখন, চিজ, পনির, ঘি, গুঁড়ো দুধ, জমানো দুধ, ইয়োগার্ট) উৎপাদন হয়। পশুপালন ও ডেয়ারি শিল্পে উন্নতির কারণগুলি হল –
- বিস্তীর্ণ তৃণভূমি – এখানকার ডাউনস্ তৃণভূমিতে ছোটো ছোটো নরম তৃণ (আলফালফা, হে, শিষ, মিচেল) জন্মায়, যা পশুদের উৎকৃষ্ট খাদ্য।
- বিস্তৃত চারণক্ষেত্র – এখানকার এক-একটি তৃণক্ষেত্রের আয়তন প্রায় 5000 একর। এই তৃণক্ষেত্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণে উন্নত প্রজাতির মেষ (মেরিনো, লিংকন, মার্স) এবং দুগ্ধপ্রদায়ী উন্নত মানের গবাদিপশু (হলস্টিন, জার্সি, আয়ারশায়ার) প্রতিপালন করা হয়। এরা বিস্তৃত তৃণক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে।
- নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু – এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। এই ধরনের জলবায়ু পশমপ্রদায়ী মেষ, ভেড়া এবং অধিক দুগ্ধপ্রদায়ী গোপালনের সহায়ক। ফলে এখানে ডেয়ারি শিল্প উন্নত।
- জমির ওপর জনসংখ্যার চাপ কম – অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে জমির ওপর জনসংখ্যার চাপও স্বল্প। তাই বিস্তীর্ণ ও উন্মুক্ত তৃণভূমিতে পশুপালন সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া অঞ্চলটির জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির এবং জনসংখ্যা কম হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে পশম বস্ত্রের চাহিদা কম। তাই অস্ট্রেলিয়া প্রচুর পশম বিদেশে রপ্তানি করতে পারে।
মারে-ডার্লিং অববাহিকার খনিজ সম্পদের পরিচয় দাও।
মারে-ডার্লিং অববাহিকা প্রধানত পলিগঠিত সমভূমি হওয়ায় খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয়, তবে অববাহিকার প্রান্তবর্তী অঞ্চল থেকে নানা ধরনের খনিজ সম্পদ (রূপা, সিসা, দস্তা, সোনা, তামা, টিন) আহরণ করা হয়। প্রধান প্রধান খনিজ সম্পদগুলি হল –
- রূপা – অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘অ্যাডিলেড ব্রোকেনহিল’ থেকে প্রচুর রূপা উত্তোলন করা হয়, সেজন্য ব্রোকেনহিলকে ‘রূপার শহর’ (Silver City) বলে।
- সোনা – ব্যালারাট, বেন্ডিগো, বাথার্স্ট।
- তামা – অ্যাডিলেড, কোবার।
- সিসা – ব্রোকেনহিল ও অ্যাডিলেড।
- দস্তা – ব্রোকেনহিল ও তার সন্নিহিত অঞ্চল।
এ ছাড়াও মারে-ডার্লিং-এর মোহানায় আকরিক লোহা পাওয়া যায়। সমভূমিটির উত্তরাংশে ডার্লিং-এর দুটি উপনদীর (ম্যাকিনটায়ার ও নামোই) তীরবর্তী অঞ্চল থেকে সামান্য প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল পাওয়া যায়। আবার, অস্ট্রেলিয়ান আল্পস্ ও ব্লু রেঞ্জ পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চল থেকে নিম্নমানের কয়লা সংগ্রহ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণগুলি লেখো।
অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকাটি অর্থনৈতিক দিক থেকে একটি অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। এই সমৃদ্ধির প্রধান কারণগুলি হল –
- ভূপ্রকৃতি – এই অববাহিকাটি সমতল হওয়ায় কৃষিকাজ, পরিবহণ, শিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে খুবই উন্নত।
- জলবায়ু – এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির হওয়ায় মানুষ অধিক সময় ধরে কাজ করতে পারে।
- কৃষি সমৃদ্ধির কারণ –
- উর্বর পলল মৃত্তিকাযুক্ত সমতল ভূমি,
- মারে-ডার্লিং নদী ও বিভিন্ন খাল থেকে জলসেচের সুবিধা,
- আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার প্রভৃতি কারণে এই অঞ্চল কৃষিক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
- পশুপালন – এই অববাহিকার ডাউনস্ তৃণভূমি পশুপালন তথা ডেয়ারি শিল্প ও পশম শিল্পে খুবই উন্নত।
- খনিজ সম্পদ – এই অববাহিকায় সোনা, রূপা, তামা প্রভৃতি মূল্যবান খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। প্রচুর রুপা পাওয়া যায় বলে ব্রোকেনহিল শহরকে ‘রূপার শহর’ বলা হয়।
- শিল্পোন্নতি – কৃষি ও পশু সম্পদের ওপর নির্ভর করে এখানে পশম, বস্ত্রবয়ন, ডেয়ারি, ময়দা, মাংস শিল্প প্রভৃতি ব্যাপক উন্নতিলাভকরেছে। এ ছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক, লৌহ-ইস্পাত প্রভৃতি ধাতব শিল্প গড়ে উঠেছে। সর্বোপরি সরকারি সহযোগিতা, জনসংখ্যার স্বল্প চাপ, সিডনি, ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ইত্যাদি বন্দর দিয়ে বাণিজ্যের সুবিধা প্রভৃতি কারণে মারে-ডার্লিং অববাহিকা অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে।
মারে-ডার্লিং অববাহিকার কৃষি ও শিল্প সমৃদ্ধির কারণ লেখো।
কৃষিতে উন্নতির কারণ – মারে-ডার্লিং অববাহিকা কেবল অস্ট্রেলিয়ার নয়, সমগ্র পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৃষিসমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানকার কৃষিতে উন্নতির কারণগুলি হলো—
- দিগন্তবিস্তৃত সমতলভূমি,
- নদীগঠিত উর্বর পলল মৃত্তিকা,
- নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু,
- পরিমিত বৃষ্টিপাত,
- জলসেচের ব্যাপক সুবিধা (নদী, খাল, আর্টেজীয় কূপ),
- উন্নত কৃষিযন্ত্রপাতির ব্যবহার,
- উন্নত প্রজাতির বীজ,
- পর্যাপ্ত ও উৎকৃষ্ট রাসায়নিক সার ও কীটনাশক,
- অত্যাধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি বা কৃষিবিজ্ঞান, এবং
- বিদেশে (ইউরোপ ও এশিয়া) কৃষিজ ফসল রপ্তানির সুবিধা প্রভৃতি।
শিল্পোন্নতির কারণ – এই অঞ্চল শিল্পেও ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছে, কারণ—
- এই অববাহিকায় সোনা, রূপা, তামা প্রভৃতি মূল্যবান খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়, যার ওপর ভিত্তি করে সিডনি, ব্রিসবেন, মেলবোর্ন অঞ্চলে বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে।
- কৃষিজ ও পশুজাত দ্রব্যের ওপর ভিত্তি করে এখানে পশম, বস্ত্রবয়ন, ডেয়ারি, ময়দা, মাংস শিল্প প্রভৃতি গড়ে উঠেছে।
- এছাড়া সরকারি সহযোগিতা, বন্দরের নৈকট্য প্রভৃতি কারণে এখানে শিল্পে উন্নতি ঘটেছে।
মারে-ডার্লিং অববাহিকার শিল্প ও শিল্পকেন্দ্রগুলির বিবরণ দাও।
মারে-ডার্লিং অববাহিকা ভারী শিল্পে তেমন সমৃদ্ধ নয়। এখানে ভারী ধাতব শিল্পের তেমন বিকাশ হয়নি। এই অঞ্চলের অধিকাংশ শিল্প কৃষিজাত ও পশুজাত দ্রব্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এখানকার কৃষিভিত্তিক শিল্পের মধ্যে ময়দা, বেকারি, সুরা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ প্রভৃতি এবং পশুভিত্তিক শিল্পের মধ্যে মাংস সংরক্ষণ ও প্যাকিং, ডেয়ারি (মাখন, গুঁড়ো দুধ, পনির, ঘি), পশম সংরক্ষণ, পশম বস্ত্রবয়ন, চর্মশিল্প প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও এই অঞ্চলে ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক, লৌহ-ইস্পাত প্রভৃতি ধাতব শিল্প গড়ে উঠেছে। মিলডুরাতে আঙুর থেকে সুরা, কিশমিশ, মনক্কা; পিরিতে সিসা ও রূপার শোধনাগার; এবং ব্রোকেনহিল-এ রূপা ও লৌহ-ইস্পাত শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। তাছাড়াও ওয়েন্টওয়ার্থ, উইলক্যানিয়া, কোবার, সোয়ান হিল, বেন্ডিগো, গ্রিফিথ, এচুকা, ব্যারিং অ্যাস, বুর্কে, ডাবো, অ্যাডিলেড, ক্যানবেরা প্রভৃতি এই অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর ও শিল্প-বাণিজ্য কেন্দ্র।
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের একাদশ অধ্যায় ‘ওশিয়ানিয়া’-এর উপবিভাগ ‘মারে-ডার্লিং অববাহিকা‘ থেকে কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment