অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

Rahul

আজকে আমরা এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের সপ্তম অধ্যায়, “ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন”-এর কিছু “বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষার জন্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Unit Test) থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর
Contents Show

1. দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধিজি কী কারণে সত্যাগ্রহ শুরু করেন?

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি 1892 খ্রিস্টাব্দে আইনব্যবসায়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে তিনি ভারতীয়দের ওপর শ্বেতাঙ্গদের অত্যাচার দেখে বিচলিত হন এবং এর বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ শুরু করেন।

সত্যাগ্রহের কারণ –

জীবিকা, ব্যবসা ও অন্যান্য কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় 10 হাজার ভারতীয় বসবাস করত। কিন্তু এরা ছিল বর্ণবৈষম্যের শিকার। তাই পদে পদে তাদের শ্বেতাঙ্গদের কাছে নানাভাবে হেনস্থা হতে হত, যেমন—

  • দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয়দের ‘অর্ধবর্বর এশীয়’ বলে চিহ্নিত করা হত। তাদের কোনো ভোটাধিকার ছিল না। প্রত্যেক ভারতীয়কে তার আঙুলের ছাপসহ সরকারি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিতে হত।
  • তারা ভালো জায়গায় বসবাস করতে পেত না; ছিল না ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার।
  • 1907 খ্রিস্টাব্দে এক আইন প্রবর্তন করে সরকার সেখানে ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।
  • এ ছাড়া ভারতীয়দের ওপর এক ধরনের বিশেষ কর চাপানো হয়।

এই সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে গান্ধিজি সেখানকার ভারতীয়দের সংঘবদ্ধ করেন এবং শুরু করেন অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন।

2. দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধিজির সত্যাগ্রহের সাফল্য বা গুরুত্ব কী ছিল?

আন্দোলনের গুরুত্ব –

দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধিজির সত্যাগ্রহ আন্দোলন ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ—

  • 1914 খ্রিস্টাব্দে সেখানকার সরকার বাধ্য হয়ে ‘ইন্ডিয়ান রিলিফ অ্যাক্ট’ বলবৎ করে। ফলে জয় হয় গান্ধির নেতৃত্বে প্রথম সত্যাগ্রহ আন্দোলনের।
  • এই সাফল্য ছিল গান্ধির মূল পাথেয়। কারণ এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে ভারতের স্বরাজ আন্দোলনে সাহায্য করেছিল।
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী হাজার হাজার মুসলমানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি এদেশের মুসলমানের কাছ থেকে পান অকুন্ঠ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রথম কোনো এক কৃষ্ণাঙ্গ নেতা শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করে সফলতা লাভ করেন। ফলে ভারত তথা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গান্ধিজির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।

3. মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে আমেদাবাদ শ্রমিক আন্দোলনের তাৎপর্য নির্ণয় করো।

দীর্ঘ আড়াই দশক দক্ষিণ আফ্রিকায় অতিবাহিত করার পর গান্ধিজি 1915 খ্রিস্টাব্দে ভারতে ফিরে আসেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি ভারতীয়দের নিয়ে 3টি সত্যাগ্রহ আন্দোলন পরিচালিত করেন। এগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল আমেদাবাদের শ্রমিক আন্দোলন।

আমেদাবাদে শ্রমিক আন্দোলন –

  • আন্দোলনের কারণ – গুজরাটের আমেদাবাদ তার বস্ত্রশিল্পের জন্য ‘ভারতের ম্যানচেস্টার’ হিসেবে পরিচিত। এখানে গুজরাটি শিল্পপতিদের উদ্যোগে অসংখ্য কাপড়ের কল প্রতিষ্ঠিত হয়। মিলমালিকরা প্রচুর মুনাফা অর্জন করলেও শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। তারা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই থেকে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে মিল শ্রমিকরা মালিকদের কাছে 50 শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানায়। কিন্তু মালিকপক্ষ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে, এর ফলে তারা আন্দোলন শুরু করে। এই অবস্থায় গান্ধিজি মিল শ্রমিকদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অনশন সত্যাগ্রহ শুরু করেন।
  • আন্দোলনের গুরুত্ব – আমেদাবাদ শ্রমিক আন্দোলনে গান্ধিজির নেতৃত্বদান ভারতীয় রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, কারণ—
    • অনশনের চতুর্থ দিনেই মিল মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বেতন 35 শতাংশ বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়।
    • শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে গান্ধিজির সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণির এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
    • এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দ্রুত ভারতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে চলে আসেন।

4. ‘সত্যাগ্রহ’ বলতে গান্ধিজি কী বুঝিয়েছিলেন?

পরাধীন ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধির আবির্ভাব যেন ‘এক আলোকের মতো’ ঘটনা। তাঁর ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য ও ভিত্তি ছিল ‘সত্যাগ্রহ’।

মহাত্মা গান্ধি ও তাঁর সত্যাগ্রহের আদর্শ –

  • গান্ধিজির প্রেরণা – প্রখ্যাত রুশ লেখক লিও টলস্টয়ের ‘কিংডম অব গড’ (The Kingdom of God Is Within You) এবং ব্রিটিশ লেখক রাসকিনের ‘আন্টু দ্য লাস্ট’ (Unto This Last) গ্রন্থ দুটি পড়ে গান্ধিজি সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হন বলে জানা যায়।
  • সত্যাগ্রহ – ‘সত্যাগ্রহ’ হল একটি নৈতিক শক্তি। ‘সত্যাগ্রহ’ শব্দটি ‘সত্য’ ও ‘আগ্রহ’—এই দুটি শব্দের সমাসবদ্ধ রূপ। এর অর্থ হল সত্যে অবিচল থাকার প্রতিজ্ঞা। গান্ধিজি মনে করতেন, মানুষের আচরিত ধর্মগুলির মধ্যে মূল ধর্ম হওয়া উচিত অহিংসা। কারণ, হিংসা হল মানুষের মনের এক পাশবিক প্রবৃত্তি। হিংস্রতা কাপুরুষতারই একটি ঘৃণ্য দিক। গান্ধিজির সত্যাগ্রহের মূল কথা হল, ‘আত্মার শক্তি’ বা ‘প্রেমের শক্তি’। তিনি মনে করতেন, শত্রুকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও অহিংস পথে পরাজিত করতে হবে; হিংসার পথে নয়। তাঁর মতে, প্রেম, অহিংসা আর শুভ চেতনার মন্ত্র দিয়েই শত্রুর মন জয় করা যায়। তাই তিনি ছিলেন আজীবন সত্য ও অহিংসার পূজারী।
  • মূল্যায়ন – মনে রাখতে হবে, গান্ধিজি কখনোই তাঁর সত্যাগ্রহের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তাই অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে যখন চৌরিচৌরা হত্যাকাণ্ড ঘটে, তখন তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন। ফলে ওই আন্দোলন তিনি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। যদিও গান্ধিজির জাতীয় আন্দোলনে এই অহিংস পদ্ধতিতে অনেকেই আস্থা রাখতে পারেননি।

5. জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড বলতে কী বোঝো?

রাওলাট আইনের (1919 খ্রিস্টাব্দ) বিরুদ্ধে গান্ধিজি সত্যাগ্রহের ডাক দিলে, পাঞ্জাবে এই আইনের বিরোধিতা শুরু হয়।

পাঞ্জাবের শাসনকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ার পাঞ্জাবে সামরিক আইন জারি না করে সভা-সমিতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। 13 এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের একটি উদ্যানে ‘হলগেট ব্রিজের হত্যাকাণ্ডের’ প্রতিবাদে বিকেল 4.30 মিনিট নাগাদ একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। এই সভা বন্ধ করার জন্য কোনো আগাম নোটিশ জারি না করে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেগিন্যাল্ড ডায়ারের নির্দেশে অস্ত্রধারী সৈন্যরা উক্ত জনসমাবেশে 10 মিনিট ধরে 1600 রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। সরকারি মতে, সেখানে 379 জন ব্যক্তি নিহত ও 1200 জন ব্যক্তি আহত হন। শুধু এই নির্মম হত্যালীলা করেই ডায়ার ক্ষান্ত ছিলেন না, মুমূর্ষু আহতদের চিকিৎসারও কোনো ব্যবস্থা তিনি করেননি। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডই জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত।

6. আইন অমান্য আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে 1930-34 খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত আইন অমান্য আন্দোলন একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

আইন অমান্য আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য –

  • লবণ আইন ভঙ্গ – গান্ধিজি লবণ আইন ভঙ্গ করে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন। তিনি জানতেন, লবণ আইন ভঙ্গের মধ্য দিয়েই দেশের বৃহত্তর সংখ্যক মানুষের সমর্থন আদায় করা যাবে। হয়েছিলও তাই।
  • আন্দোলনের ব্যাপকতা – প্রকৃত অর্থে এটি একটি গণ-আন্দোলনের চেহারা নেয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আবালবৃদ্ধবনিতা ভারতবাসী এই আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদান করে। বাংলা, বিহার, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি প্রভৃতি স্থানে সত্যাগ্রহীরা দারুণ উদ্দীপনা সহকারে আন্দোলনে শামিল হয়।
  • নারীসমাজের ভূমিকা – ভারতের নারীসমাজ আইন অমান্য আন্দোলনে পিছিয়ে ছিল না। এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য সরোজিনী নাইডু, বাসন্তী দেবী, ঊর্মিলা দেবী, সরলাবালা দেবী ও লীলা নাগ প্রমুখ নারীর কর্মকাণ্ড।
  • কৃষক আন্দোলন – এ সময় ভারতের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা খাজনা বন্ধ আন্দোলন শুরু করে। মাদ্রাজ ও অন্ধ্রপ্রদেশে কৃষকরা সরকারি রাজস্ব হ্রাস করার জন্য সরব হয়ে ওঠে। বেরারের কৃষকরা খাজনা বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে মহাজন ও জমিদারদের সম্পত্তি লুণ্ঠন করে।

7. আইন অমান্য আন্দোলনের গুরুত্ব নির্ণয় করো।

1934 খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলন সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহৃত হলেও ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

আইন অমান্য আন্দোলনের গুরুত্ব/তাৎপর্য

  • সর্বভারতীয় আন্দোলন – আইন অমান্য আন্দোলন ছিল একটি সর্বভারতীয় আন্দোলন। দেশের প্রায় সর্বত্র জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়।
  • কংগ্রেসের মর্যাদা বৃদ্ধি – গান্ধিজি পরিচালিত এই আন্দোলন দেশজুড়ে এক ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই আর-একবার প্রমাণিত হয় যে, জাতীয় কংগ্রেসই হল দেশের একমাত্র প্রধান দল।
  • গান্ধিজির মর্যাদা বৃদ্ধি – আন্দোলনে কর্তৃত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে গান্ধিজি ভারতীয় জনজীবন ও রাজনীতিতে একজন অবিসংবাদী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
  • ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদে আঘাত – বলাবাহুল্য যে, আইন অমান্য আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ওপর কঠিন আঘাত হানা হয়েছিল। ভারতে ব্রিটিশ পণ্যসামগ্রী আমদানি প্রায় 1/3 অংশ হ্রাস পেয়েছিল।
  • ভারতীয় শিল্পের উন্নতি – অন্যদিকে ভারতীয়দের জন্য বিলেতি পণ্য বয়কট ও স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

8. গান্ধিজি প্রথম পর্যায়ের আইন অমান্য আন্দোলন কেন প্রত্যাহার করলেন? দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্দোলনের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আন্দোলনের কী পার্থক্য ছিল?

প্রথম পর্যায়ের আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার –

আইন অমান্য আন্দোলন যখন দেশজুড়ে তুমুল আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল ঠিক তখনই ব্রিটিশ সরকার ব্যাপক দমননীতি গ্রহণ করেছিল। পাশাপাশি সরকার সাইমন কমিশন নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বৈঠক ডাকে। কিন্তু বৈঠকে কংগ্রেস যোগদান করেনি। সরকার বুঝতে পেরেছিল যে, কংগ্রেস ছাড়া কোনো বৈঠক সফল হবে না। সেই কারণে 1931 খ্রিস্টাব্দে ‘গান্ধি-আরউইন চুক্তি’ হয়। এই চুক্তি অনুসারে গান্ধিজি আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। পাশাপাশি ঠিক হয় যে, লন্ডনে আয়োজিত দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে কংগ্রেস যোগ দেবে। কিন্তু দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনায় গান্ধিজি হতাশ হন। ভারতে ফিরে তিনি পুনরায় আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেন।

পার্থক্য –

  1. প্রথম পর্যায়ের আইন অমান্য আন্দোলন দ্বিতীয় পর্যায়ের তুলনায় সফল হয়েছিল।
  2. প্রথম পর্যায়ের আন্দোলনে দেশের বেশিরভাগ মানুষ যোগদান করেছিল কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই সফলতা লক্ষ করা যায়নি।
  3. দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্দোলনের আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল কি না তা নিয়ে আন্দোলনকারীদের মনেই সন্দেহ ছিল।

9. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

1942 খ্রিস্টাব্দে শুরু হওয়া ভারত ছাড়ো আন্দোলন বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়।

  • ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলেই ছিল বেশি।
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্দোলন ছিল হিংসাশ্রয়ী; তবে ক্ষণস্থায়ী।
  • সরকারি দমননীতি উপেক্ষা করে বহু মানুষ বহু স্থানে গণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রতিষ্ঠিত হয় কতকগুলি ‘জাতীয় সরকার’। যেমন— সাতারার ‘প্রতিসরকার’।
  • ভারত ছাড়ো আন্দোলন যথার্থ গণ আন্দোলনের রূপ পেলেও দক্ষিণ ভারতে এর তেমন প্রভাব পড়েনি।
  • মনে রাখতে হবে, এই আন্দোলন ছিল মহাত্মা গান্ধি পরিচালিত প্রথম ‘স্বাধীনতা আন্দোলন’। তিনি একে জাতির ‘চূড়ান্ত সংগ্রাম’ বলে আখ্যা দেন।
  • ঐতিহাসিক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার এই আন্দোলনকে ‘সৈনিকদের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু একে এক ‘স্বতঃস্ফূর্ত গণ অভ্যুত্থান’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

মন্তব্য – গবেষক জ্ঞানেন্দ্র পাণ্ডে দেখিয়েছেন যে, গান্ধিজি এই গণ আন্দোলনে দাঙ্গা ও গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত ছিলেন। তবে একথা সত্য যে, তিনি কখনোই অহিংসার পথ থেকে বিচ্যুত হননি।

10. ভারত ছাড়ো আন্দোলন ব্যর্থ হল কেন?

1942 খ্রিস্টাব্দে শুরু হওয়া ভারত ছাড়ো আন্দোলন নানা কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। শেষ পর্যন্ত 1944 খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে গান্ধিজি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

ব্যর্থতার কারণ –

  • নেতৃত্বহীনতা – ভারত ছাড়ো আন্দোলন চলাকালেই গান্ধিজিসহ কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতাই কারারুদ্ধ ছিলেন। ফলে নেতৃত্ববিহীন আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • সমর্থনহীনতা – মুসলিম লিগ, কমিউনিস্ট দল, হিন্দু মহাসভা প্রভৃতি দল ভারত ছাড়ো আন্দোলনের পক্ষে ছিল না। বরং তারা এর বিরোধিতা করেছিল।
  • সরকারি দমননীতি – ভারত ছাড়ো আন্দোলন দমন করতে সরকার ব্যাপক দমননীতি প্রয়োগ করে। এই সময় সারা দেশে প্রায় 60 হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। পুলিশের গুলিতে নিহত হন 740 জন বিদ্রোহী।
  • দুর্ভিক্ষ – অন্যদিকে 1943 খ্রিস্টাব্দে বাংলায় দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা, খাদ্যশস্যের অভাব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষ, যা স্বভাবতই আন্দোলনের গতিকে দুর্বল করে তোলে।
  • সমন্বয়ের অভাব – পরিশেষে বলা যায় যে, আন্দোলনে সংহতি ও সমন্বয়ের অভাব ছিল যা এই আন্দোলনকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে।

11. খিলাফত আন্দোলনের লক্ষ্য ও কর্মসূচি কী ছিল?

তুরস্কের সার্বভৌমত্ব এবং তুরস্কের খলিফা ষষ্ঠ মহম্মদকে স্বমহিমায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য ভারতীয় মুসলমানগণ ভারতে যে আন্দোলন শুরু করেন, ইতিহাসে তা খিলাফত আন্দোলন নামে খ্যাত।

খিলাফত আন্দোলনের লক্ষ্য

এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল—

  • খলিফার সাম্রাজ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা।
  • মেসোপটেমিয়া, প্যালেস্টাইন, আরব ও সিরিয়ায় খলিফার প্রাধান্য সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং
  • পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে বিদেশি প্রভাব থেকে মুক্ত করা।

আন্দোলনের কর্মসূচি

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রপক্ষ ‘সেভরের চুক্তি’ দ্বারা তুরস্ক ব্যবচ্ছেদ করলে ভারতে খিলাফত আন্দোলন জোরদার হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি ভারতে খিলাফত আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে বলা হয়—

  • সরকারি সমস্ত পদ ও খেতাব মুসলমানগণ বর্জন করবে।
  • সরকারকে তারা সমস্ত রকমের খাজনা দেওয়া বন্ধ করবে।
  • পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পদে মুসলমানগণ গণ ইস্তফা দেবে ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য যে, কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটির কর্মসূচি বাস্তবায়িত করতে মহাত্মা গান্ধি ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘কাইজার-ই-হিন্দ’ উপাধি বর্জন করেন।

12. স্বরাজ্য দলের উদ্ভব হয় কীভাবে? অথবা, এই দল গঠনের পটভূমি উল্লেখ করো।

স্বরাজ্য দলের উদ্ভব, কর্মসূচি ও অবদান স্বরাজ্য দল গঠনের কারণ –

পরাধীন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে স্বরাজ্য দলের উদ্ভব একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে ‘দেশবন্ধু’ চিত্তরঞ্জন দাশ আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে কারারুদ্ধ অবস্থায় ‘স্বরাজ্য দল’ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। 1922 খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের ‘গয়া অধিবেশনে’ তিনি সভাপতির পদ অলংকৃত করেন। সভাপতির ভাষণে তিনি আইন সভাগুলিতে প্রবেশ করে সরকারি নীতির বিরোধিতা করার প্রস্তাব আনেন। আইনসভায় প্রবেশের পক্ষে ছিলেন মতিলাল নেহরু, আজমল খাঁ, বিঠলভাই প্যাটেল প্রমুখ। এঁরা ছিলেন পরিবর্তনপন্থী। গান্ধিজির অনুগামীরা দেশবন্ধুর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। বিরোধীদের মধ্যে ছিলেন ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ, রাজা গোপালাচারী, ড. আনসারি প্রমুখ। ফলে তাঁর প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।

এর ফলে, 1923 খ্রিস্টাব্দের 1 জানুয়ারি চিত্তরঞ্জন দাশ কংগ্রেসের মধ্যেই গড়ে তোলেন ‘স্বরাজ্য দল’। এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন স্বয়ং চিত্তরঞ্জন দাশ এবং দলের সম্পাদক হন মতিলাল নেহরু।

13. স্বরাজ্য দলের কর্মসূচিতে কী কী ছিল?

স্বরাজ্য দলের কর্মসূচি –

  • স্বরাজ্য দলের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে থেকে স্বায়ত্তশাসন লাভ করা। এটি ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসন নামে পরিচিত। এই শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে স্বরাজ্য দল যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—
  • নির্বাচনের মাধ্যমে আইনসভায় প্রবেশ করে সমস্ত সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করা।
  • সরকারি বাজেট প্রত্যাখ্যান করা।
  • নানাপ্রকার বিল ও প্রস্তাব উত্থাপন করে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটাতে সাহায্য করা।
  • সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করে বৈদেশিক শোষণ বন্ধ করা। মূলত 1919 খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনে যে শাসন প্রবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, স্বরাজ্য দল তা বানচাল করতে এই ধরনের কর্মসূচি রূপায়ণ করেছিল। স্বরাজ্য দলের কর্মসূচির মধ্যে অন্যান্য কিছু দাবিদাওয়া ছিল, যেমন— রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি, সরকারের বিভিন্ন দমনমূলক আইন রদ, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন লাভ ইত্যাদি।

14. স্বরাজ্য দলের ব্যর্থতার কারণ কী ছিল?

গান্ধিজির সঙ্গে আইনসভায় প্রবেশ সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ 1923 খ্রিস্টাব্দের 1 জানুয়ারি স্বরাজ্য দল গঠন করেন। তবে দেশবন্ধুর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠন অবলুপ্ত হয়। এই দলের ব্যর্থতার কতগুলি কারণ ছিল—

  • 1925 খ্রিস্টাব্দে চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যু হয়। দেশবন্ধুর মৃত্যুর পর উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে এর পতন ঘটে।
  • 1923 খ্রিস্টাব্দের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখা দেয়। স্বরাজ্যপন্থীরাও এই দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়লে দলের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে।
  • স্বরাজ্য দলের ত্রুটিপূর্ণ কর্মসূচির জন্য এটি কখনোই সাধারণ মানুষের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারেনি, বরং বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান রূপেই পরিচিত হয়েছিল।
  • নীতিগত ক্ষেত্রে জাতীয় কংগ্রেস ও স্বরাজ্য দলের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ দমনমূলক নীতির প্রতিবাদ করা এবং তার জন্য আইনসভায় যোগদান করাটা অনেকেই মেনে নিতে পারেনি।
  • এই দলের মন্ত্রীরা স্বজনপোষণ ও দুর্নীতিতে আকৃষ্ট হয়। এর জন্য দলের সুনাম নষ্ট হয়।
  • ফরিদপুর কনফারেন্সে চিত্তরঞ্জন দাশ সরকারের প্রতি দুর্বল মনোভাব পোষণ করলে যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, বীরেন শাসমল, তুলসী গোস্বামী প্রমুখের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা স্বরাজ্য দলকে দুর্বল করে তোলে।
  • অনেকে মতিলাল নেহরুর স্বৈরাচারী আচরণকেও স্বরাজ্য দলের পতনের জন্য দায়ী করেন।
  • বাংলার মুসলিম সম্প্রদায় স্বরাজ্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।

15. মাস্টারদা সূর্য সেন বিখ্যাত কেন?

1894 খ্রিস্টাব্দে অবিভক্ত বাংলার চট্টগ্রাম জেলার নোয়াপাড়া গ্রামে ভারতের উল্লেখযোগ্য পুরুষসিংহ সূর্য সেন জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রামে শিক্ষকতা বৃত্তি নেওয়ায় তাঁকে বিপ্লবীরা ‘মাস্টারদা’ নামে অভিহিত করেন। মাস্টারদা সূর্য সেন ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’ নামে একটি বিপ্লবী দল গঠন করে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। তাঁর অনুগামীরা হলেন গণেশ ঘোষ, লোকনাথ বল, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তী, নির্মল সেন প্রমুখ।

  • চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন – 1930 খ্রিস্টাব্দের 18 এপ্রিল রাত 10টায় ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবীরা চারটি দলে বিভক্ত হয়ে দুঃসাহসিক অভিযানে বের হন। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সূর্য সেন। ব্রিটিশ অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, অন্য একটি অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, ইউরোপীয় ক্লাব ধ্বংস এবং টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার সফল অভিযান করেন বিপ্লবীরা।
  • জালালাবাদের যুদ্ধ – 1930 খ্রিস্টাব্দের 22 এপ্রিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনী চট্টগ্রামে প্রবেশ করলে বিপ্লবীরা জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নেন। একদিকে 57 জন বিপ্লবী এবং অন্য দিকে বিশাল পুলিশবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষে 64 জন ব্রিটিশ পুলিশ এবং 11 জন বিপ্লবী প্রাণ হারান।
  • কর্ণফুলির যুদ্ধ – জালালাবাদের যুদ্ধের পরে বিপ্লবীরা গোপনে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন। তাঁরা বুঝতে পারেন বিশাল পুলিশবাহিনীর সঙ্গে এইভাবে লড়াই করা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা গেরিলা পদ্ধতিতে সংগ্রাম চালিয়ে যান।
  • সূর্য সেনের গ্রেফতার ও ফাঁসি – চট্টগ্রামের গৈরালা গ্রামের এক বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকাকালীন জনৈক বিশ্বাসঘাতকের চক্রান্তে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে সূর্য সেন ধরা পড়েন। প্রায় 11 মাস বিচারাধীন থাকার পর 1934 খ্রিস্টাব্দের 12 জানুয়ারি তাঁর ফাঁসি হয়।

মূল্যায়ন – সূর্য সেনের মতো বিপ্লবীদের প্রকৃত মৃত্যু হয় না, তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে বেঁচে থাকেন।

16. বিপ্লবী ভগৎ সিং স্মরণীয় কেন?

ভারতে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে বিপ্লবী ভগৎ সিং ছিলেন এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। এদেশ থেকে ব্রিটিশদের উচ্ছেদ সাধনের জন্য তিনি বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত হন।

বিপ্লবী কার্যকলাপ – পাঞ্জাবের বিপ্লবী অজিত সিং-এর ভাইপো ভগৎ সিং প্রথম জীবনে চন্দ্রশেখর আজাদের ‘হিন্দুস্থান রিপাবলিকান দল’-এর সদস্য ছিলেন। এরপর তিনি 1926 খ্রিস্টাব্দে ‘নওজোয়ান ভারত সভা’ নামে একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন। পরে তিনি ‘হিন্দুস্থান সোস্যালিস্ট পার্টি’র নাম দেন ‘হিন্দুস্থান সোস্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন’।

স্যান্ডার্স হত্যার প্রচেষ্টা –

  • লালা লাজপত রায়-এর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তিনি 1928 খ্রিস্টাব্দে পুলিশ সুপার স্যান্ডার্সকে হত্যা করেন।
  • এরপর 1929 খ্রিস্টাব্দের 8 এপ্রিল তিনি ও বটুকেশ্বর দত্ত কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপ করে গ্রেপ্তার বরণ করেন।

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা – সরকার ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত সহ বহু বিপ্লবী আসামিদের বিরুদ্ধে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। বিচারে ফাঁসির হুকুম হয়। 1931 খ্রিস্টাব্দের 23 মার্চ তাঁদের ফাঁসি হয়।

এইভাবে দেশের জন্য আত্মত্যাগের বিপ্লবী আন্দোলনের এক নজির সৃষ্টি হয়। ভগৎ সিং-এর দেশপ্রেম ও ফাঁসির মঞ্চে তাঁর আত্মবলিদান আজও আমাদের জাতীয়তাবাদে আদর্শ উদ্দীপিত করে।

17. টীকা লেখো – ‘গান্ধি-আরউইন চুক্তি’

আইন-অমান্য আন্দোলনের তীব্রতা অনুভব করে বড়লাট আরউইন কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনায় আসতে রাজি হন। ইতিমধ্যে গান্ধিজি কর্তৃক উত্থাপিত 6 দফা প্রস্তাব সরকার মেনে নিলে 1931 খ্রিস্টাব্দের 5 মার্চ ‘গান্ধি-আরউইন চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির শর্তাবলি –

  • সমস্ত পীড়নমূলক আইন ও সরকারি অর্ডিন্যান্স বাতিল করা,
  • সব রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়া,
  • আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতাদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত দেওয়া অথবা তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা,
  • মাদকদ্রব্য ও বিদেশি বস্ত্রের দোকানে পিকেটিং করার অধিকার এবং লবণ তৈরির স্বাধীনতা দেওয়া,
  • পুলিশি অত্যাচারের নিরপেক্ষ তদন্ত করা ইত্যাদি।
  • পক্ষান্তরে গান্ধিজি সরকারকে দুটি প্রতিশ্রুতি দেন; যেমন— আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন এবং এর বিনিময়ে জাতীয় কংগ্রেস দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে লন্ডন যাবে।

ফলাফল – এই চুক্তির শর্তানুসারে সরকার নিপীড়নমূলক আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার এবং রাজবন্দিদের মুক্তি দিলে গান্ধিজি আইন অমান্য আন্দোলন তুলে নেন। তিনি ‘দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে’ যোগ দিতে ইংল্যান্ডে যান, কিন্তু সেখান থেকে খালি হাতে দেশে ফেরেন। এইভাবে ‘গান্ধি-আরউইন চুক্তি’ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

18. কী উদ্দেশ্যে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়েছিল?

1919 খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইনে বলা হয়েছিল যে, এই আইন কতটুকু কার্যকরী হয়েছে, তা অনুসন্ধানের জন্য একটি রাজকীয় কমিশন গঠন করা হবে। 1926 খ্রিস্টাব্দে লর্ড আরউইন ভারতের গভর্নর জেনারেল হয়ে ভারতে এসে দেখেন হিন্দু-মুসলিম বিরোধ অব্যাহত এবং ভারতীয়দের মনে ক্ষোভ ও হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া, 1926 খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রূপে স্বীকৃতি পেলে এদেশে দ্বৈতশাসন পদ্ধতি প্রবর্তনের বিরুদ্ধে প্রবল আপত্তি জানায়। এই পরিস্থিতিতে লর্ড আরউইন 1927 খ্রিস্টাব্দে রাজকীয় কমিশন নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন।

1927 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সাতজন সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন উদারপন্থী দলের সাংসদ স্যার জন সাইমন। ভারতে শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে এই কমিশন গঠিত হয়েছিল, যা ‘সাইমন কমিশন’ নামে পরিচিত। সুভাষচন্দ্র বসু প্রথমে এই কমিশনকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পক্ষে একটি ‘শুভ মুহূর্ত’ বলে ঘোষণা করেছিলেন।

19. ভারতবাসীরা কীভাবে সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল?

ভারতবাসী এই কমিশন গ্রহণ না-করার কারণ –

সাইমন কমিশন গঠনের কিছুদিন পরেই ভারতে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় ভারতীয়রা এই সংগঠনকে নিজেদের জাতীয় অপমান বলে মনে করে। ফলে ভারতের সকল রাজনৈতিক দল এই কমিশনকে বয়কটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

প্রতিবাদ –

সাইমন কমিশনের সদস্যরা 1928 খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে মুম্বইতে পৌঁছান। ভারতীয়দের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের এই প্রতারণায় বিপুল সংখ্যক ভারতীয় মুম্বই বন্দরে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল শুরু হয় সমগ্র দেশজুড়ে। কমিশনকে কালো পতাকা দেখিয়ে স্লোগান ওঠে ‘সাইমন ফিরে যাও’ (Go back Simon)। কমিশনের বিরুদ্ধে মিছিলে জাতীয় নেতারাও অংশ নেন। লালা লাজপত রাই এই আন্দোলন চলাকালীন আহত হন ও পরে মৃত্যুবরণ করেন।

20. কীভাবে ফরোয়ার্ড ব্লক গঠিত হয়?

ত্রিপুরি কংগ্রেসে সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পরেও সুভাষচন্দ্রের ক্ষমতা খর্ব করে গান্ধিজির হাতে ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের কর্তৃত্ব অর্পণ করা হয়। এমতাবস্থায় সুভাষচন্দ্র ও গান্ধিজির মধ্যে কংগ্রেসের নীতির প্রশ্নে মতভেদ শুরু হয়। 1939 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র কংগ্রেসের সভাপতি পদে ইস্তফা দেন। তখন রাজেন্দ্র প্রসাদকে কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়। দক্ষিণপন্থীদের অসহযোগিতা ও গান্ধিজির মনোভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে সুভাষচন্দ্র এরূপ পরিস্থিতিতে 1939 খ্রিস্টাব্দের 3 মে কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই ‘ফরোয়ার্ড ব্লক’ নামে একটি দল গঠন করেন।

ফরোয়ার্ড ব্লক গঠন –

নবগঠিত ফরোয়ার্ড ব্লকের সভাপতি ও সহসভাপতি হন যথাক্রমে সুভাষচন্দ্র বসু ও পাঞ্জাবের সর্দার শার্দূল সিং। বিহারের স্বামী সহজানন্দ, বোম্বাইয়ের নরিম্যান প্রমুখ ফরোয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। কংগ্রেস কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকার গণআন্দোলন সংগঠিত করা যাবে না। সুভাষচন্দ্র এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থীদের কোণঠাসা করে দেওয়া হয়। সুভাষচন্দ্র বাধ্য হয়ে কংগ্রেসের বাইরে থেকেই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

21. আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিচারে দেশে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল?

দিল্লির লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ বাহিনীর সেনাদের বিচারকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

  • দেশপ্রেমিক সেনাদের মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে জনসভা হয় ও মিছিল বেরোতে থাকে।
  • গণবিক্ষোভের আঁচ পেয়ে জওহরলাল নেহরু, তেজবাহাদুর সপ্রু, ভুলাভাই দেশাই, কে. এন. কাটজু, আসফ আলি প্রমুখ কংগ্রেস নেতা ও আইনবিদ বন্দিদের হয়ে সওয়াল করেন।
  • দেশের বিভিন্ন অংশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন স্তরের মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
  • আজাদ হিন্দ বাহিনীর অন্যতম ক্যাপ্টেন রসিদ আলির 7 বছর কারাদণ্ডের আদেশ হলে কলকাতা উত্তাল হয়ে ওঠে। তাঁর মুক্তির দাবিতে 1946 খ্রিস্টাব্দের 11 ফেব্রুয়ারি ‘রসিদ আলি দিবস’ পালিত হয়।
  • শেষপর্যন্ত সরকার বিদ্রোহীদের শাস্তি ঘোষণা করেও গণঅভ্যুত্থানের ভয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

22. 1946 খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত নৌবিদ্রোহের কারণগুলি উল্লেখ করো।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষ পর্বে (1946 খ্রিস্টাব্দে) সংগঠিত নৌবিদ্রোহ ছিল একটি উল্লেখযোগ্য গণআন্দোলন। বলা বাহুল্য যে, এই বিদ্রোহ ভারতীয় নৌকর্মীগণ সূচনা করলেও পরে তা একটি সর্বভারতীয় গণআন্দোলনের রূপ নেয়।

নৌবিদ্রোহের কারণ –

বৈষম্যমূলক নীতি – ভারতীয় নাবিকদের প্রতি ব্রিটিশ সরকার বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। যেমন— ইংরেজদের তুলনায় ভারতীয় সৈনিকরা কম বেতন পেতেন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কেবল ভারতীয়দেরই পাঠানো হতো।

প্রতিকারের দাবি – নৌবাহিনীর ভারতীয় সেনাদের দাবি ছিল— উৎকৃষ্ট মানের খাবার, সমমানের বেতন ও ভাতা ইত্যাদি। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জাতীয়করণ, আজাদি সেনাদের নিঃশর্ত মুক্তি ইত্যাদি।

মানসিক প্রেরণা – নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ বাহিনীর উত্থান ও 1946 খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ ভারতীয় নৌকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে।

সূচনা – নৌসেনাধ্যক্ষ অ্যাডমিরাল গডফ্রে ‘তলোয়ার’ জাহাজ পরিদর্শনে এলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এই ঘটনায় জড়িত বলাইচন্দ্র দে* নামক একজন নৌকর্মীকে পুলিশ আটক করলে 1946 খ্রিস্টাব্দের 10 ফেব্রুয়ারি নৌবিদ্রোহের সূচনা হয়। 1946 খ্রিস্টাব্দের 18 ফেব্রুয়ারি মুম্বই-এ ‘তলোয়ার’ নামক জাহাজের 1500 কর্মী অখাদ্য খাদ্য গ্রহণে অসম্মত হয়। পরের দিন রাত্রেই বিদ্রোহী নৌসেনা ও নৌকর্মীরা ব্রিটিশ ‘ইউনিয়ন জ্যাক’ নামিয়ে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

23. 1946 খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত নৌবিদ্রোহীদের দাবিগুলি কী ছিল? আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিচারের সঙ্গে নৌবিদ্রোহের সম্পর্ক কী ছিল বলে তুমি মনে করো।

নৌবিদ্রোহীদের দাবি – 1946 খ্রিস্টাব্দের 18 থেকে 23 ফেব্রুয়ারি বোম্বাইয়ের ‘তলোয়ার’ জাহাজের নাবিকরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। নাবিকদের দাবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—

  1. খাবারের মান খারাপ হওয়া।
  2. বর্ণবৈষম্যের অপমান।
  3. বেতনে সমতা আনা।
  4. আজাদ হিন্দ বাহিনী ও অন্যান্য রাজবন্দিদের মুক্তি।

আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিচার ও নৌবিদ্রোহ – আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিচার চলাকালীন ভারতীয় জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাঁদের বিচার বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে জনসভা হয় ও বহু মানুষ মিছিলে শামিল হয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। আজাদ হিন্দ বাহিনীর সমর্থনে সবচেয়ে জোরালো প্রতিরোধ শুরু করেন বোম্বাই জাহাজের নাবিকরা। তাঁরা আজাদ হিন্দ ত্রাণ তহবিলে অর্থদান করেন। বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে করার জন্য নাবিকরা বিদ্রোহের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। নৌবিদ্রোহের অন্যতম দাবি ছিল আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দি এবং রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।


আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের সপ্তম অধ্যায়, “ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন”-এর কিছু “বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই ধরনের প্রশ্নগুলো স্কুলের পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি তোমাদের/আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় টেলিগ্রামে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। এছাড়া, এই পোস্টটি সেইসব বন্ধু বা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিষয়সংক্ষেপ