অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

Rahul

আজকে আমরা এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের ষষ্ঠ অধ্যায়, “জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষার জন্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Unit Test) থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
Contents Show

কোন সময়কালকে বলা হয় ‘সভা সমিতির যুগ’? এ যুগের সভা সমিতিগুলি গড়ে ওঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? এই সময়ে গড়ে ওঠা দুটি সংগঠনের নাম লেখো।

1857 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1885 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে ‘সভা সমিতির যুগ’ বলা হয়।

সভা সমিতি গড়ে ওঠার উদ্দেশ্য –
1. প্রথমদিকের সভা সমিতিগুলি গড়ে ওঠার উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা।
2. পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদ প্রসারের জন্য সভা সমিতিগুলি গড়ে উঠেছিল।

সংগঠন –
এই সময়ে গড়ে ওঠা দুটি সংগঠন হল—
1. নবগোপাল মিত্রের হিন্দুমেলা।
2. শিশিরকুমার ঘোষের ইন্ডিয়ান লিগ (1875 খ্রিস্টাব্দ)

উনিশ শতকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা সভা সমিতিগুলি সম্পর্কে কী জান?

1857 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1885 খ্রিস্টাব্দে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বে সরকারের কাছে অভাব-অভিযোগ ও দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য বেশ কয়েকটি সভা সমিতি গঠিত হয়েছিল। এই সময়কালের উল্লেখযোগ্য সমিতিগুলি হল—
1. নবগোপাল মিত্রের হিন্দুমেলা।
2. শিশিরকুমার ঘোষের ইন্ডিয়ান লিগ (1875 খ্রিস্টাব্দ)।
3. কর্নেল অলকট ও মাদাম ব্লাভাটস্কির থিয়োসফিক্যাল সোসাইটি।
4. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসুর ভারতসভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (1876 খ্রিস্টাব্দ)।

‘হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ কী?

জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম ছিলেন ব্রিটিশ শাসিত ভারতের প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্ট। লর্ড ডাফরিন ছিলেন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময়কালের ভারতের বড়োলাট। হিউমের জীবনীকার ওয়েডারবার্ন উল্লেখ করেন যে, হিউম ও ডাফরিনের ষড়যন্ত্রেই জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই তত্ত্বটি ‘হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব নামে পরিচিত।

খোলা চিঠি কী?

ইংরেজ সিভিলিয়ান হিউম এক গোপন রিপোর্টে জানতে পারেন যে, ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের তীব্র ক্ষোভ সঞ্চিত হয়েছে। যে-কোনো সময়ে তা বিস্ফোরিত হতে পারে। তাই তিনি 1883 খ্রিস্টাব্দের 1 মার্চ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের ছাত্রদের কাছে চিঠি লিখে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ার প্রস্তাব দেন। এই চিঠিই ‘খোলা চিঠি’ নামে পরিচিত।

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় ডাফরিনের ভূমিকা কী ছিল?

জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠায় ডাফরিনের ভূমিকা নিয়ে নানান জন নানা কথা বলেছেন। হিউমের জীবনীকার ওয়েডারবার্ন জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউম ও ডাফরিনের ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন। তবে অনেকে ডাফরিনের নানা বক্তব্যে কংগ্রেসের প্রতি তাঁর নেতিবাচক মনোভাবের কথা উল্লেখ করেন। ডাফরিন কংগ্রেসের উদ্যোগ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তিনি কংগ্রেসকে ‘সংখ্যালঘিষ্ঠদের প্রতিনিধি’ হিসেবেও বিদ্রুপ করতেন।

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা কী ছিল?

অনেকের মতে প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্ট অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পিছনে হিউমের যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য কাজ করেছিল, তা হল —

1. নানা ঘটনায় ভারতীয়দের মধ্যে যে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছিল তা প্রশমিত করা।
2.ভারতীয়দের মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দিয়ে আলাপ-আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা, যা ভারতীয়দের স্বার্থ রক্ষা করবে।

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে কংগ্রেসের নীতি কী ছিল?

জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা লগ্নে কংগ্রেসের নীতিগুলি ছিল নিম্নলিখিত। যেমন—

1. আঞ্চলিক পার্থক্য ও স্বার্থের বাইরে বৃহত্তর চিন্তা ও আদর্শের জন্য প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অংশে অধিবেশন হবে। যে অঞ্চলে অধিবেশন বসবে, সেই অঞ্চলের কেউ সভাপতি হতে পারবেন না।

2. যদি কোনো প্রস্তাবে হিন্দু অথবা মুসলমানের সমর্থন না থাকে, তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে না। সার্বিক ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলাই সমিতির লক্ষ্য।

কংগ্রেসের প্রথম যুগের ‘আবেদন-নিবেদন’ নীতি কী?

কংগ্রেসের প্রথম যুগের (1885-1905 খ্রিস্টাব্দ) নরমপন্থী নেতারা ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত। তাঁরা বিশ্বাস করতেন ভারতের ব্রিটিশ শাসন ‘বিধির বিধান’। তাঁরা সরকারের কাছে জাতীয় স্বার্থ বা দেশোন্নয়ন স্বার্থে বিভিন্ন দাবিদাওয়ার জন্য আবেদন-নিবেদন নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁরা ছিলেন ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত; তাঁদের কাছে কংগ্রেস কখনোই ব্রিটিশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের মঞ্চ নয়। প্রথম পর্বের নেতাদের অনুষ্ঠিত এই কার্যকলাপই ‘আবেদন-নিবেদন’ নীতি নামে পরিচিত।

জাতীয় কংগ্রেস কী উচ্চবর্গের মানুষের সংগঠন ছিল—যুক্তি দাও।

1885 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেস ছিল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। কংগ্রেসের আদিপর্বে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষ। এঁরা নিম্নবর্গীয় মানুষজনের অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এতে যোগ দেননি। তাই অনেকে ব্যঙ্গ করে কংগ্রেসকে উচ্চবর্গের মানুষের সংগঠন বলে অভিহিত করেছেন।

কে, কেন কংগ্রেসকে আণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘু (microscopic minority) বলেছেন?

1885 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসকে লর্ড ডাফরিন ব্যঙ্গ করে ‘আণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘু’ বলেছেন।

কারণ –
1. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথমদিকের অধিবেশনগুলিতে ভারতের জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল অল্প।
2. এ ছাড়া কংগ্রেস বিভিন্ন দাবিদাওয়া পেশ করে (আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে) সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

‘তিন দিনের তামাশা’ কী?

প্রথম পর্বের কংগ্রেস নেতারা ছিলেন আংশিক রাজনীতিক। সারা বছর কংগ্রেসের হয়ে কাজ করার লোকের সংখ্যা ছিল নগণ্য। কারণ, কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্য ছিলেন আইনজীবী বা চাকুরিজীবী বা ব্যবসায়ী। দলের জন্য সময় দিয়ে তাঁরা নিজেদের পেশার ক্ষতি করতেন না। বছরের শেষ দিকে যখন অফিস-আদালত ছুটি থাকত, তখনই কংগ্রেসের তিনদিনের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইংরেজিতে দীর্ঘ বক্তৃতা দিতেন। এর জন্য সমালোচকরা ব্যঙ্গ করে ‘তিনদিনের তামাশা’ বলে কংগ্রেসের আদিপর্বের কার্যকলাপের সমালোচনা করতেন।

শ্বেতবিদ্রোহ কী?

লর্ড রিপনের নেতৃত্বে ইলবার্ট বিল পাস হয়। এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করতে থাকে ইউরোপীয়রা। ইলবার্ট বিলের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের এই আন্দোলনকে বলা হয় শ্বেতবিদ্রোহ।

শ্বাসরোধক আইন কী?

লর্ড লিটন 1878 খ্রিস্টাব্দে ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ (Vernacular Press Act, 1878) পাস করে দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করেন। এই শর্তগুলি দ্বারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। তাই অনেকে ব্যঙ্গ করে এই আইনকে ‘শ্বাসরোধক আইন’ (Gagging Act) বলেছেন।

‘A policy of 3 P’s’ কী?

জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম পর্বে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পদ্ধতি ছিল আবেদন-নিবেদন নীতি। এই নীতিকে 3P বলে — Please, Pray, Petition। এই নীতিকে কেউ কেউ ‘রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি’ বলেছেন।

ইলবার্ট কে ছিলেন? ইলবার্ট বিল কী?

ইলবার্ট ছিলেন লর্ড রিপনের শাসন পরিষদের আইন বিষয়ক সদস্য। ভারতের বিচারব্যবস্থায় ইউরোপীয় ও ভারতীয় বিচারকদের ক্ষমতার বৈষম্য দূর করার জন্য বড়লাট লর্ড রিপনের আইন সচিব ইলবার্ট এক খসড়া আইন রচনা করেন। ইলবার্টের যে প্রস্তাবিত বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার অধিকার দেওয়া হয়, সেই বিলই ‘ইলবার্ট বিল’ নামে পরিচিত।

ব্রিটিশ শাসন সম্পর্কে নরমপন্থীদের ধারণা কী ছিল?

নরমপন্থীদের কাছে ব্রিটিশ শাসন ছিল ‘বিধির বিধান’। তাঁরা চাইতেন, ব্রিটিশ শাসন ও সভ্যতার অধীনে থেকেই ভারতীয়রা আংশিক শাসন ভোগ করবে। ভারতবাসীর যখন পূর্ণ স্বশাসন ভোগ করার উপযুক্ত হবে, ব্রিটিশরা তখনই ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবে।

নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

1. নরমপন্থীরা আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিলেন। অপরদিকে চরমপন্থীরা নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের মাধ্যমে দাবি আদায়ে বিশ্বাসী ছিলেন।

2. নরমপন্থীরা ইংরেজি শিক্ষা থেকে পাওয়া জাতীয়তাবাদের ধারণা দিয়ে ভারতবর্ষকে আধুনিক করার ভাবনা ভেবেছিলেন। অপরদিকে চরমপন্থীরা ইংরেজি শিক্ষাজাত জাতীয়তাবাদের ধারণার সমালোচনা করতে থাকেন।

চরমপন্থী ও সশস্ত্র বিপ্লবীদের মধ্যে পার্থক্য কী?

চরমপন্থী এবং সশস্ত্র বিপ্লবী উভয়েরই লক্ষ্য ছিল পূর্ণ স্বরাজ। চরমপন্থীদের পথ ছিল বয়কট, অন্যদিকে সশস্ত্র বিপ্লবীদের পথ ছিল সন্ত্রাস সৃষ্টি করা।

চরমপন্থী আন্দোলনে বালগঙ্গাধর তিলকের ভূমিকা কী ছিল?

মহারাষ্ট্রের অন্যতম চরমপন্থী নেতা ছিলেন বালগঙ্গাধর তিলক। ভারতবাসীকে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন—”স্বরাজ আমাদের জন্মগত অধিকার…”। মহারাষ্ট্রে তিলকের নেতৃত্বে ‘শিবাজি উৎসব’ ও ‘গণপতি উৎসব’ হয়। 1906 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা অধিবেশনে বালগঙ্গাধর তিলকের নেতৃত্বে চরমপন্থী গোষ্ঠীর চূড়ান্তভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল।

‘লাল-বাল-পাল’ কারা ছিলেন?

বিশ শতকের শুরুতেই কংগ্রেসের মধ্যে নরমপন্থার নিষ্ক্রিয়তা ও চরমপন্থার উদ্ভব ঘটে। চরমপন্থার সমর্থকেরা চরমপন্থী গোষ্ঠী নামে পরিচিতি লাভ করেন। পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র ও বাংলাকে কেন্দ্র করে চরমপন্থা প্রসারিত হয়। এই তিন অঞ্চলের চরমপন্থী আন্দোলনের প্রধান তিন নেতা ছিলেন যথাক্রমে লালা লাজপত রাই, বালগঙ্গাধর তিলক ও বিপিনচন্দ্র পাল। এই তিনজন একসঙ্গে ‘লাল-বাল-পাল’ নামে পরিচিত ছিলেন।

লর্ড কার্জনের প্রশাসনিক সংস্কারগুলি লেখো।

প্রশাসনিক সংস্কার –

1. 1899 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা পৌরসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যা হ্রাস করা।
2. 1904 খ্রিস্টাব্দে আইন করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা।
3. বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে কঠোর সরকারি নজরদারির আওতায় আনা।
4. 1905 খ্রিস্টাব্দে প্রশাসনিক কারণে বাংলাকে ভাগ করা।

‘বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’—এরূপ নামকরণের কারণ কী?

দ্বারকানাথ ঠাকুর 1836 খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’ প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেন। এই সভা বাংলা ভাষায় জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রচার করতে থাকে। তাই এরূপ নামকরণ করা হয়।

স্বদেশি আন্দোলনে মুসলমান সমাজের অংশগ্রহণ কেন কম ছিল?

চরমপন্থী নেতাদের অনেকে স্বদেশি আন্দোলনে ধর্মীয় প্রতীক ও দেবদেবীর প্রসঙ্গ ব্যবহার করতে থাকেন। এর ফলে আন্দোলনে হিন্দুধর্মীয় ঝোঁক প্রবল হতে থাকে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা স্বদেশি আন্দোলনে মানসিকভাবে যুক্ত হতে পারেনি।

1867 থেকে 1883 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোন্ কোন্ বিষয়ে শিক্ষিত ভারতীয়রা প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করেন?

ব্রিটিশ সরকারের আয়কর নীতি, বৈষম্যমূলক আয়ব্যয়, দেশীয় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাগিচা শ্রমিকদের অবস্থা, আইন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে ভারতীয়দের মর্যাদা বৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে শিক্ষিত ভারতীয়রা প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করেন।

উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম পর্বের বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ সফল হয়নি কেন?

ভারতীয় বিপ্লবীদের ত্যাগ, আদর্শ, সংগ্রামী মানসিকতার অভাব না-থাকলেও ফলাফলের বিচারে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছিলেন। ভারতে বিচ্ছিন্নভাবে চালিত বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদ কয়েকটি কারণে ব্যর্থ হয়েছিল।

1. সরকারের নিষ্ঠুর দমন নীতির কারণে বিপ্লবীদের অধিকাংশ কার্যকলাপ ব্যর্থ হয় অথবা তাঁরা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

2. বিপ্লবীদের কাজকর্ম গোপনে হওয়ার জন্য সমাজের মানুষের বৃহত্তর অংশকে তারা আন্দোলনে যুক্ত করতে পারেনি। ফলে জনগণের বিরাট অংশের থেকে তারা ছিল বিচ্ছিন্ন।

তিন আইন কী?

কেশবচন্দ্র সেনের সমাজসংস্কার আন্দোলনের প্রভাবে সরকার 1872 খ্রিস্টাব্দে তিন আইন পাস করে। এই আইনে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয় ও অসবর্ণ বিবাহ আইনসিদ্ধ করা হয়।

অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি কী?

শচীন্দ্রকুমার বসু ‘অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি’ গঠন করেন। কার্লাইল তাঁর ঘোষণার মাধ্যমে যে সমস্ত আন্দোলনরত ছাত্রদের সরকারি বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা এই প্রতিষ্ঠান করত।

যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় স্মরণীয় কেন?

বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) জার্মানি থেকে অস্ত্র আনিয়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। শেষপর্যন্ত বাঘা যতীনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল। বুড়িবালামের তীরে খণ্ডযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বাঘা যতীন প্রাণপণ লড়াই করে প্রাণ হারান।

বাসুদেব বলবন্ত ফাড়কে স্মরণীয় কেন?

1876-77 খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রে বাসুদেব বলবন্ত ফাড়কে সাধারণ মানুষদের নিয়ে একটি সংগঠন তৈরি করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্রিটিশদের হাতে ফাড়কে ধরা পড়েন ও তাঁর সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।

ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি স্মরণীয় কেন?

1908 খ্রিস্টাব্দের 30 এপ্রিল ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে মারার জন্য মজফফরপুরে কিংসফোর্ডের ফিটনগাড়ি লক্ষ করে বোমা ছোড়েন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওই ফিটনগাড়িতে কিংসফোর্ড ছিলেন না, ছিলেন মিসেস ও মিস কেনেডি। তাঁরা বোমার আঘাতে মারা যান। পরদিন ক্ষুদিরাম পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এবং প্রফুল্ল চাকি রিভলবারের গুলিতে আত্মাহুতি দেন। বিচারে ক্ষুদিরামের ফাঁসির আদেশ হয়।


আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের ষষ্ঠ অধ্যায়, “জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই ধরনের প্রশ্নগুলো স্কুলের পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি তোমাদের/আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় টেলিগ্রামে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। এছাড়া, এই পোস্টটি সেইসব বন্ধু বা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিষয়সংক্ষেপ