অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া: সহযোগিতা ও বিদ্রোহ – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

Rahul

আজকে আমরা এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের পঞ্চম অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া: সহযোগিতা ও বিদ্রোহ”-এর কিছু “বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষার জন্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Unit Test) থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া-সহযোগিতা ও বিদ্রোহ-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর
Contents Show

1. সতীদাহ বিরোধী আন্দোলন ও বিধবা বিবাহ আন্দোলনের মধ্যে সাদৃশ্য লেখো।

উনিশ শতকে বাংলায় সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ দুটি দিক ছিল সতীদাহ বিরোধী আন্দোলন ও বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন।

এই দুটি আন্দোলনের মধ্যে মিল –

  • সময় – দুটি আন্দোলনই গড়ে উঠেছিল উনিশ শতকে। অর্থাৎ, যখন ভারত ব্রিটিশ রাজশক্তির পদানত ছিল।
  • নেতৃত্ব – দুটি আন্দোলনেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন উচ্চবর্ণের উচ্চশিক্ষিত মানুষ। একজন ছিলেন রাজা রামমোহন রায় এবং অন্যজন ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
  • কুসংস্কারের বিরোধিতা – দুটি আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিল হিন্দুসমাজের প্রচলিত কুসংস্কার দূর করা।
  • উদ্দেশ্য – এ দুটি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উভয় সমাজসংস্কারকই চেয়েছিলেন বাংলার অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীজাতির মুক্তি।
  • সাফল্য – উভয় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীরা সাফল্য লাভ করে। ব্রিটিশ সরকার আইন করে সতীদাহ প্রথার উচ্ছেদ করে এবং বিধবা বিবাহের পক্ষে রায় দেয়।
  • আইন – দুটি ক্ষেত্রেই দুটি আলাদা আইন প্রণয়ন হয়। একটি সপ্তদশ বিধি (1829 খ্রিস্টাব্দ) এবং অন্যটি পঞ্চদশ আইন (1856 খ্রিস্টাব্দ)।

2. নব্যবঙ্গ আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছিল কেন? এই মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

দারুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে নব্যবঙ্গ আন্দোলন শুরু হলেও নানা কারণে এই সংস্কার আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছিল। ব্যর্থতার কারণগুলি নিচে আলোচিত হল —

নব্যবঙ্গ আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ –

  • যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা – সমাজের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নব্যবঙ্গ আন্দোলন ও তার নেতৃবৃন্দের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এই আন্দোলন শহর কলকাতায় শিক্ষিত যুবক ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
  • জনস্বার্থ অবহেলা – ভারতের নানা প্রান্তের কৃষকরা যখন ব্রিটিশ সরকারের কৃষক স্বার্থ বিরোধিতায় সরব হয়েছিল তখন নব্যবঙ্গীয়রা কৃষকদের নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা করেননি। তাঁরা ভারতীয়দের প্রতি সরকারের শোষণ ও অপশাসনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেননি।
  • পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা – নব্যবঙ্গীয় নেতারা পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে অন্ধের মতো অনুকরণ করেছিলেন। তাঁদের চোখে এদেশের সবকিছুই ছিল খারাপ।
  • নব্যবঙ্গীয়দের বয়স বৃদ্ধি – নব্যবঙ্গ আন্দোলনের দুর্বলতার অপর একটি কারণ ছিল নব্যবঙ্গীয় নেতাদের বয়স বৃদ্ধি। তাঁদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলনের তীব্রতা কমে আসে।

মন্তব্য – সবশেষে বলা যায় যে, নব্যবঙ্গীয়দের মতাদর্শ ও উদ্দেশ্য যুগের তুলনায় এতটাই অগ্রগামী ছিল যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভবপর হয়নি।

3. ধর্মসংস্কার আন্দোলনে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অবদান সম্পর্কে যা জানো লেখো।

অথবা, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সমন্বয়বাদী ধর্মসংস্কার আন্দোলন উল্লেখ করো।

উনিশ শতকে বাংলার ধর্ম ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনের দিশারী ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণদেব। তিনি মানবতাবাদ ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের বাণী প্রচার করে পৃথিবীর ইতিহাসে আজও অমর হয়ে আছেন।

শ্রীরামকৃষ্ণের সমন্বয়বাদী ধর্মসংস্কার –

  • সমন্বয়বাদী মনোভাব – শ্রীরামকৃষ্ণদেব প্রচার করেন পৃথিবীর সব ধর্মই এক, সব ধর্মের উদ্যোগও এক। সব ধর্ম বা মতের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর লাভ করা যায়। এজন্য তিনি বলেন, “যত মত তত পথ”। তা প্রমাণ করার জন্য তিনি দীর্ঘ 12 বছর ধরে তন্ত্রমতে, বৈষ্ণব মতে, সুফি মতে ও খ্রিস্ট মতে সাধনভজন করেন।
  • অদ্বৈতবাদী মত – তিনি মনে করতেন ঈশ্বর এক ও অভিন্ন, তাঁকে মানুষ বিভিন্ন নামে ডাকে। কেউ বলে রাম, কেউ রহিম, আবার কেউ বলেন খ্রিস্ট। তাঁর মতে সকল ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষের লক্ষ্য এক; অর্থাৎ ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ।
  • ধর্মসহিষ্ণুতা প্রচার – শ্রীরামকৃষ্ণদেব ধর্মসহিষ্ণুতার বাণী প্রচার করেন। তাঁর ধর্মসহিষ্ণুতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ। ব্রাহ্মনেতা কেশবচন্দ্র সেন, রাধাকান্তদেব প্রমুখ তাঁর ধর্মীয় ভাবনায় আপ্লুত হন।
  • মানবতাবাদের প্রসার – শ্রীরামকৃষ্ণদেব ছিলেন ত্যাগ, ভালোবাসা ও মানবতাবাদের মূর্ত প্রতীক। ‘শিব জ্ঞানে জীব সেবা’ আদর্শের মধ্যেই লুকিয়েছিল তাঁর মানব সেবার আকুতি।

মন্তব্য – শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের এই উদার ও মানবতাবাদী মতবাদ ভারতীয় জনজীবনে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ ও চিন্তাধারায় আজও বহু মানুষ অনুপ্রাণিত।

4. বাংলার বাইরে সমাজসংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে লেখো।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে মহারাষ্ট্র তথা পশ্চিম ভারতে বিধবা মহিলাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে মতামত তৈরি হতে থাকে। 1866 খ্রিস্টাব্দে বিষ্ণুশাস্ত্রী পন্ডিত বিধবা বিবাহের পক্ষে একটি সভা গঠন করেন। পরবর্তীকালে ‘আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ’ ও ‘মহাদেব গোবিন্দ’ রানাডের নেতৃত্বে বোম্বাইয়ে প্রার্থনা সমাজ সামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল।

নারীদের অবদান – উনিশ শতকে যেসব নারী নারীশিক্ষার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে পশ্চিম ভারতের ‘পণ্ডিতা রমাবাই’, মাদ্রাজের ‘ভগিনী শুভলক্ষ্মী’ ও বাংলার ‘বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন’-এর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পণ্ডিতা রমাবাই বিধবা মহিলাদের জন্য একটি আশ্রম তৈরি করেছিলেন।

বীরেশলিঙ্গম পান্তুলু – মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে বিধবা বিবাহ আন্দোলন সংগঠিত করেন বীরেশলিঙ্গম পান্তুলু। তিনি ব্রাহ্ম আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দক্ষিণ ভারতে সমাজসংস্কার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তিনি অস্পৃশ্যতা, মূর্তিপুজো, জাতিভেদ ও বাল্যবিবাহ প্রথার তীব্রভাবে বিরোধিতা করেছিলেন।

5. মহারাষ্ট্রের সংস্কার আন্দোলনের বিবরণ দাও।

1840-এর দশকে মহারাষ্ট্রে সমাজসংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে বিধবা বিবাহের পক্ষে জনমত গঠনের উদ্যোগ দেখা দেয়। এরজন্য বিষ্ণুশাস্ত্রী পন্ডিত 1866 খ্রিস্টাব্দে একটি সভা গড়ে তোলেন।

প্রার্থনা সমাজ – 1867 খ্রিস্টাব্দে প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ। প্রার্থনা সমাজের কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরোধিতা, বিধবা বিবাহ, অসবর্ণ বিবাহ ও নারীশিক্ষার প্রসার। প্রার্থনা সমাজের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মহাদেব গোবিন্দ রানাডে।

রমাবাই – ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে রমাবাই একজন শূদ্রকে বিবাহ করে তৎকালীন জাতপাত ব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাত করেন। বিধবা অবস্থায় তিনি ইংল্যান্ডে যান এবং সেখানে গিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন।

6. উনিশ শতকে মহারাষ্ট্রে সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রার্থনা সমাজের অবদান কী ছিল?

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে ভারতে সমাজসংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে প্রার্থনা সমাজের অবদান অনস্বীকার্য।

প্রার্থনা সমাজ ও সংস্কার আন্দোলন

প্রতিষ্ঠা – ব্রাহ্মসমাজের নেতা ‘ব্রহ্মানন্দ’ কেশবচন্দ্র সেনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ড. আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ 1867 খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রে প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।

আদর্শ –

  • প্রার্থনা সমাজ একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল।
  • তারা বেদকে অভ্রান্ত বলে মনে করত না,
  • সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে এই সমাজ সনাতন হিন্দু রীতি-নীতি মেনে কাজ করার পক্ষপাতী ছিল,
  • তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল হিন্দুসমাজের মানোন্নয়ন ঘটানো।

প্রসার – প্রার্থনা সমাজ আন্দোলন মহারাষ্ট্রে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। মহাদেব গোবিন্দ রানাডে এই সমাজের অন্যতম সদস্য। প্রার্থনা সমাজে যোগ দেন রামকৃষ্ণ ভান্ডারকর।

কার্যাবলি –

  • প্রার্থনা সমাজের উদ্যোগে মহারাষ্ট্রে অনেক নৈশবিদ্যালয় অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, মদ্যপান ও অস্পৃশ্যতা বিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে।
  • স্ত্রীশিক্ষার প্রসার ও সমাজ সংস্কারের জন্য মহাদেব গোবিন্দ রানাডে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিধবা বিবাহ সমিতি’, ‘পুনা সার্বজনিক সভা’, ও ‘দাক্ষিণাত্য শিক্ষা সমিতি’।

7. ভারতে জাতীয়তাবাদ প্রসারে থিওসফিক্যাল সোসাইটির অবদান উল্লেখ করো।

উনিশ শতকে ভারতে জাতীয়তাবাদী মনোভাব জাগরণ ও সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে থিওসফিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠা এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

ভারতে থিওসফিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা –

1886 খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজের আইডিয়ার নামক স্থানে মাদাম ব্লাভাটস্কি ও কর্নেল ওলকট থিওসফিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই সোসাইটির প্রকৃত নেতৃত্ব দেন শ্রীমতী অ্যানি বেসান্ত।

উদ্দেশ্য – এই সোসাইটির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল—

  • হিন্দুধর্মের পুনর্জাগরণ তথা হিন্দু অধ্যাত্মবাদের প্রসার ঘটানো,
  • এই জাগরণের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করা,
  • দেশবাসীকে জাতীয়তাবোধের আদর্শে উদ্দীপ্ত করা, তথা ভারতবাসীর পরাধীনতার গ্লানি দূর করা,
  • ভারতের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূর করা ইত্যাদি।

অবদান – 1889 খ্রিস্টাব্দে অ্যানি বেসান্ত এই সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি তাঁর লেখা ও বক্তৃতা দ্বারা হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য ও গৌরবময় অধ্যায় তুলে ধরেন। তাঁরই উদ্যোগে বেনারসে সেন্ট্রাল হিন্দু কলেজ গড়ে ওঠে। এ ছাড়া এই সোসাইটির সদস্যরা বন্দিশালার সংস্কার, হাসপাতালে রুগিদের সেবা ইত্যাদি সেবামূলক কাজ করেন।

সীমাবদ্ধতা – এই সোসাইটির কার্যকলাপ কেবল শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল। তা ছাড়া তারা ভারতের মতো বহুজাতিক দেশে কেবলমাত্র হিন্দুত্ববাদের আদর্শ প্রচার করার ফলে এটি একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারেনি।

8. সমাজসংস্কার আন্দোলনগুলির চরিত্র ও সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উনিশ শতকে নানা সমাজসংস্কারের কথা বলা হলেও, এইসব সমাজসংস্কার প্রথম থেকেই নানা সীমানায় আটকে পড়েছিল। কেন-না ঔপনিবেশিক শাসনের সমস্ত সুবিধা পেয়েছিলেন উচ্চশ্রেণির ভদ্রলোকেরা।

সমাজসংস্কার আন্দোলনে ভদ্রলোকদের ভূমিকা – একসময় ভদ্রলোকরাই সমাজসংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এঁরাই ব্রাহ্মসংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্রাহ্ম আন্দোলনের বিশেষ যোগাযোগ ছিল না। সমাজসংস্কারকরাও সর্বস্তরের মানুষের কথা ভাবেননি। কারণ, সমাজসংস্কারকরা সকলেই ছিলেন উচ্চবর্ণের মানুষ। সাধারণভাবে সমাজসংস্কারকরা ইংরেজি ও সংস্কৃত-ঘেঁষা বাংলা ভাষা ব্যবহার করতেন। পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতেও প্রার্থনাসমাজের কাজকর্মের পরিধি ছিল ভদ্রলোক-সমাজের পরিবেশের মধ্যেই।

শাস্ত্রীয় বিষয় – উনিশ শতকের সমাজসংস্কারকরা মনে করতেন যে, ধর্মশাস্ত্রের বিষয়গুলি পালন করতে হবে। তাঁদের মতে, বেশ কিছু স্বার্থপর মানুষ নিজেদের স্বার্থেই ধর্মশাস্ত্রগুলির অপব্যাখ্যা করতেন। দেশের বেশিরভাগ অশিক্ষিত মানুষের শাস্ত্রজ্ঞান না-থাকার ফলে তারা নানাভাবেই কুপ্রথার শিকার হত। তখন সমাজ সংস্কারকরাও শাস্ত্রের সঠিক ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ নেন। এর ফলে শাস্ত্রের অপব্যাখ্যার পরিবর্তে শাস্ত্রসম্মত ব্যাখ্যার প্রচলন হয়।

9. ভারতে কোম্পানির শাসনকালে কৃষক ও উপজাতি বিদ্রোহের কারণগুলি কী ছিল?

ঔপনিবেশিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশে কৃষক ও উপজাতি মানুষজন নানা কারণে বিদ্রোহ করেছিল।

বিদ্রোহের কারণ –

  1. ভূমিরাজস্ব নীতির পরিবর্তন – আঠারো শতকের শেষে ও উনিশ শতকে কোম্পানি প্রবর্তিত নতুন ভূমিরাজস্বনীতির প্রভাব সরাসরি কৃষক ও উপজাতি সমাজের ওপর পড়েছিল।
  2. ভূমি রাজস্বের উচ্চহার – ব্রিটিশ কোম্পানি কৃষকদের কাছ থেকে উচ্চহারে রাজস্ব আদায় করতে থাকে। এর ফলে কৃষকরা মহাজনদের কাছে ঋণ করতে বাধ্য হয় এবং পরে তারা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে।
  3. জমিদার, মহাজনদের শোষণ – ঔপনিবেশিক শাসক, জমিদার, মহাজন ও ইজারাদারদের অত্যাচার, খাদ্যশস্য চাষের বদলে জোরপূর্বক অর্থকরী ও বাণিজ্যিক ফসল চাষে বাধ্য করা প্রভৃতি কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়।
  4. ইউরোপীয় কর্মচারীদের অত্যাচার – ইউরোপীয় কর্মচারীরা কৃষক ও উপজাতিদের ওপর কারণে-অকারণে অত্যাচার চালাত। সরল আদিবাসীদের বেগার খাটানো হত। উপজাতীয়দের নিজস্ব সংস্কৃতিকে তারা বিপন্ন করছিল।
  5. জমিতে কৃষকদের অধিকার লোপ – নতুন ভূমি রাজস্বনীতিতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হলে জমির ওপর কৃষকদের অধিকার লুপ্ত হয়। জমিদাররা কৃষকদের উচ্ছেদ এবং খুশিমতো রাজস্ব আদায় করত। এর ফলে কৃষকসমাজ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

10. তুমি কি মনে কর মুন্ডা বিদ্রোহ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল? অথবা, এই বিদ্রোহের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উনিশ শতকের শেষ দিকে ভারতে যে সমস্ত জমিদার ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন সংঘটিত হয়, সেগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল মুন্ডা বিদ্রোহ। ফলাফলের নিরিখে এই বিদ্রোহ কম তাৎপর্যপূর্ণ ছিল না।

মুন্ডা বিদ্রোহের গুরুত্ব –

চিরাচরিত প্রথার পুনঃপ্রতিষ্ঠা –

  • মুন্ডা বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার 1908 খ্রিস্টাব্দে ‘ছোটোনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন’ দ্বারা জমির ওপর মুন্ডাদের চিরাচরিত যৌথ মালিকানার প্রথা (খুৎকাঠি) মেনে নেয়।
  • এ ছাড়া জমি ও বনভূমির ওপর মুন্ডাদের অধিকার স্বীকার করে নেয়।
  • তাদের বেগার শ্রম দেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

তানা ভগৎ আন্দোলন – 1914 খ্রিস্টাব্দে ওরাওঁ সম্প্রদায় যে তানা ভগৎ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, তা সম্ভবত বীরসা মুন্ডার নেতৃত্বে মুন্ডা বিদ্রোহের ফল।

বীরসা মুন্ডার মাহাত্ম্য – মুন্ডা বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়ে বীরসা মুন্ডা মুন্ডাদের সমাজে উপাস্য দেবতায় পরিণত হয়। তাঁর কার্যকলাপ ও আত্মত্যাগের কাহিনি মুন্ডাদের আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

মন্তব্য – সুতরাং, একথা কখনোই বলা যায় না যে, মুন্ডা বিদ্রোহ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। সেজন্য ঐতিহাসিক ড. সুমিত সরকার মন্তব্য করেছেন যে, ব্যর্থতা সত্ত্বেও ব্রিটিশ বিরোধী উপজাতি বিদ্রোহগুলির মধ্যে মুন্ডা বিদ্রোহ ছিল সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য।

11. ফরাজি আন্দোলন সম্পর্কে কী জান?

ফরাজি কথার অর্থ ইসলামের পবিত্র আদর্শে বিশ্বাস। উনিশ শতকে বাংলায় ফরাজি আন্দোলনের সূচনা করেন হাজি শরিয়ৎউল্লাহ। তাঁর মৃত্যুর পর এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন দুদু মিঞা।

ফরাজি আন্দোলন উদ্দেশ্য – ফরাজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মের সংস্কার এবং সকল মুসলমানগণকে ‘কোরান’ নির্দেশিত 5টি অনুশাসনে অনুপ্রাণিত করা। এই অনুশাসন বা অবশ্যপালনীয় কর্তব্যগুলি হল ফর্জ বা ফরাইজ। আর এর থেকেই এই আন্দোলনটি ফরাজি আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিধর্মী বিদেশি ইংরেজরা ছিল তাদের এবং ইসলামের শত্রু। সুতরাং, তারা মনে করত প্রত্যেক মুসলমানের প্রধান কর্তব্য হল এদেশ থেকে বিধর্মী ইংরেজদের বিতাড়ন করা।

আদর্শ – সমাজের সমস্ত শ্রেণির মঙ্গলসাধন করাই ছিল তাঁর আদর্শ। সমাজে সব শ্রেণির মানুষের অধিকার স্থাপনের জন্য তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

নেতৃত্ব – তাঁর নেতৃত্বে পূর্ববঙ্গের দরিদ্র মুসলমান কৃষকরা হিন্দু জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়। প্রথমেই তিনি সেখানকার 300-500টি পরিবার নিয়ে কয়েকটি হল্কা বা অঞ্চল গড়ে তোলেন। ইংরেজ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি শক্তিশালী লেঠেল বাহিনী গড়ে তোলেন। বাহাদুরপুরে তিনি একটি শক্তিশালী কর্মকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

অবসান – 1860 খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাব এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবের জন্য এই আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

মন্তব্য – তবে অনেকেরই মত যে, প্রথম দিকে এই আন্দোলন সাম্প্রদায়িক মনোভাব দ্বারা পরিচালিত হলেই পরে এটি একটি আর্থসামাজিক প্রশাসনে পরিণত হয়েছিল।

12. সাঁওতাল বিদ্রোহ ও নীল বিদ্রোহে ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার অবদান কী ছিল?

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন (1853)। এই পত্রিকায় তিনি ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং তা জনগণের সামনে তুলে ধরেন।

সাঁওতাল বিদ্রোহ – সাঁওতাল বিদ্রোহের সমর্থনে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্য হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় তুলে ধরেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন—ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের বিদ্রোহ ছিল যুক্তিযুক্ত। কারণ, ইংরেজদের অর্থনৈতিক শোষণ, শান্ত ও সৎ সাঁওতালদের ক্ষুব্ধ করেছিল। এ ছাড়াও ছিল অতিরিক্ত খাজনা, কাজ করিয়ে বেতন না-দেওয়া ও অত্যাচার। এরফলে সাঁওতালরা বিদ্রোহী হতে বাধ্য হয়। এজন্য সাঁওতালদের শাস্তি প্রাপ্য নয়। যারা অত্যাচার করে তাদের শাস্তি পাওয়া উচিত। সাঁওতালরা জঙ্গল ও উপত্যকায় স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের অধিকার চায়।

নীল বিদ্রোহ – নীল বিদ্রোহীদের প্রতি সহমর্মী হরিশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় নীলচাষিদের সমর্থনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি লিখেছিলেন—নীলচাষ একটি সংগঠিত জুয়াচুরি ও নিপীড়ন ব্যবস্থা মাত্র। নীলচাষে কোনো লাভ হয় না, ক্ষতিই বেশি হয়, কোনো চাষি ন্যায্য দাম পায় না। একবার চাষ করলে আর বেরিয়ে আসার কোনো উপায় নেই। নীলকরদের বিরোধিতা করলে অত্যাচারিত হতে হয়। বস্তুত এই পত্রিকার মাধ্যমে শিক্ষিত বাঙালি সমাজ নীলবিদ্রোহ সম্পর্কে জানতে পারে।

13. নীল বিদ্রোহের গুরুত্ব/তাৎপর্য আলোচনা করো।

বাংলায় কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাসে 1859-1860 খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত নীল বিদ্রোহ ছিল এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

নীল বিদ্রোহের গুরুত্ব –

  • অষ্টম আইন – বিদ্রোহের চাপে পড়ে ব্রিটিশ সরকার 1860 খ্রিস্টাব্দে ‘নীল কমিশন’ গঠন করে। কমিশনের ভিত্তিতে পাস হয় অষ্টম আইন (1868 খ্রিস্টাব্দ)। এর দ্বারা বাংলায় নীলচুক্তি আইন রদ হয়। বলা হয় নীল চাষ সম্পূর্ণভাবে চাষির ইচ্ছাধীন।
  • কৃষকের জয় – নীল বিদ্রোহের পর বাংলায় নীলচাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এই চাষ তখন থেকে চাষির ইচ্ছানুসারে হতে থাকে। নীল বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কাছে ইংরেজ প্রশাসনও মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়।
  • গণআন্দোলন – প্রকৃত অর্থে নীল বিদ্রোহ ছিল একটি গণ আন্দোলন। কারণ এই বিদ্রোহে বাংলার চাষিরা যেমন পথে নেমেছিল, তেমনি অন্যান্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজন বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল।
  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি – এই বিদ্রোহে হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের কৃষকরা শামিল হওয়ায় এটি একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শনে পরিণত হয়।

মন্তব্য – এই বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে সর্বপ্রথম বাংলায় কৃষক, জমিদার ও মধ্যবিত্ত সমাজ ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। অনেকে এই বিদ্রোহকে প্রাকসিপাহি বিদ্রোহ বলে মনে করেন।

14. নীল বিদ্রোহে বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের ভূমিকা আলোচনা করো।

1859-60 খ্রিস্টাব্দে সংগঠিত নীলবিদ্রোহ ছিল নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই বিদ্রোহে সমকালীন বাংলার মধ্যবিত্ত সমাজের একাংশ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা –

  • পত্রপত্রিকার ভূমিকা – নীলকর সাহেবদের নির্মম অত্যাচারের কাহিনি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় 1822 খ্রিস্টাব্দে সমাচার চন্দ্রিকা ও সমাচার দর্পণ পত্রিকায়। এরপর 1849 খ্রিস্টাব্দে অক্ষয়কুমার দত্তের তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-য় এ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা স্থান পায়। ব্যতিক্রম ছিল না হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকাও।
  • মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভূমিকা – সমকালীন বাংলার শিক্ষিত সমাজ নীলচাষিদের পক্ষে সরব হয়। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, মনোমোহন ঘোষ, শিশিরকুমার ঘোষ, কিশোরীচাঁদ মিত্র, দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ প্রমুখ ব্যক্তিত্ব। জানা যায়, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নীল চাষিদের নানাভাবে সাহায্য করেন। তিনি তাঁর বাড়িতে বিদ্রোহীদের থাকার জায়গা করে দিয়েছিলেন।
  • নাটকের ভূমিকা – এ বিষয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি। 1860 খ্রিস্টাব্দে দীনবন্ধু মিত্র এটি রচনা করেন। এই নাটকে নীলকর সাহেবদের নির্মম অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরা হয়। পরে এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি বাঙালি মনে এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, সরকার এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

মন্তব্য – একথা সত্য যে, নীল বিদ্রোহের পশ্চাতে শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা না থাকলে এই বিদ্রোহ মোটেই সাফল্য অর্জন করতে পারত না।

15. মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র (1858 খ্রিস্টাব্দ) – টীকা লেখো।

মহাবিদ্রোহের পর ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়। ঘোষিত হয় ‘ভারত শাসন আইন’ (1858 খ্রিস্টাব্দের 1 নভেম্বর লর্ড ক্যানিং এলাহাবাদে মহারানির যে ঘোষণাপত্র পাঠ করে শোনান তাই ‘মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র’ নামে খ্যাত)।

মহারানির ঘোষণাপত্র –

ঘোষণাপত্রের বিষয় – মহারানির ঘোষণাপত্রে বলা হয়—

  • ভারতবাসীর ধর্মপালনে ও সামাজিক ক্রিয়া-কর্মের ক্ষেত্রে সরকার কোনোরকমভাবে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না।
  • জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষে ভারতের সকল নাগরিক সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে সমান অধিকার লাভ করবে।
  • স্বত্ববিলোপ নীতি প্রত্যাহার করা হবে।
  • দেশীয় রাজ্যগুলি দত্তকপুত্র গ্রহণ করতে পারবে।
  • ইতিপূর্বে দেশীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে সরকারের যে সমস্ত চুক্তি হয়েছে তা বহাল থাকবে।
  • দেশীয় রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
  • মহাবিদ্রোহের সময় খুনজখমের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তারা ছাড়া অন্যান্য অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া হবে।
  • সরকার এখন থেকে এদেশে সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি পরিত্যাগ করবে।
  • ভারতীয়রা ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। তাদের ওপর বলপূর্বক খ্রিস্টানধর্ম চাপিয়ে দেওয়া হবে না ইত্যাদি।

মূল্যায়ন – কিন্তু দুঃখের বিষয়, ‘মহারানির ঘোষণাপত্র’ ঘোষিত হওয়ার পরও সাম্রাজ্যবাদী সরকারের মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার সিপাহি বিদ্রোহের পরবর্তী অধ্যায়কে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অধ্যায় বলে অভিহিত করেছেন।


আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের পঞ্চম অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া: সহযোগিতা ও বিদ্রোহ”-এর কিছু “বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই ধরনের প্রশ্নগুলো স্কুলের পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি তোমাদের/আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় টেলিগ্রামে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। এছাড়া, এই পোস্টটি সেইসব বন্ধু বা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিষয়সংক্ষেপ