অষ্টম শ্রেণি বাংলা – শিকল-পরার গান – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘শিকল-পরার গান’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - শিকল-পরার গান - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির বাসনা কীভাবে ‘শিকল-পরার গান’ কবিতায় ধরা পড়েছে, তা আলোচনা করো।

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন দেশপ্রেমী কবি। পরাধীনতার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাঁর মন ছিল ব্যাকুল। তাঁর এমন মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে তাঁর বিভিন্ন কবিতায়। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে স্বাধীনতাকামী ভারতবাসীর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, এমনই একটি কবিতা হল ‘শিকল-পরার গান’। ইংরেজ শাসনে ভারতবাসী শোষিত ও লাঞ্ছিত; পদে পদে পীড়ন সহ্য করতে হয়েছে তাদের—তাই ভারতীয়রা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নানা সময়ে বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছেন। এর ফলে তাদের হতে হয়েছে কারারুদ্ধ এবং রক্তাক্ত। তবু বিপ্লবের পথ থেকে পিছিয়ে যায়নি ভারতীয়রা। ইংরেজের লৌহশৃঙ্খলের ভয়ে ভীত নয় ভারতবাসী, বরং সেই শৃঙ্খল পরেই তারা ব্রিটিশের লৌহশিকলকে ভাঙতে মরিয়া। কবি তাই বলেছেন—’এই বাঁধন পরেই বাঁধন-ভয়কে করব মোরা জয়’। ভারতীয়রা যেন ছল করেই শিকল পরতে তৎপর হয়ে উঠেছেন, কারণ পরাধীনতার বাঁধন যত বৃদ্ধি পাবে, ততই বাঁধন হবে শিথিল। কেবল ভয় নামক ভূতকে জয় করতে পারলেই, কোনো শিকলেই আটকে রাখা যাবে না ভারতীয়দের। কবির বিশ্বাস দেশপ্রেমিকগণ ফাঁসির মঞ্চেই জীবনের জয়গান রচনা করবেন, আপন বুকের অস্থি দিয়ে বজ্রানল প্রজ্বলিত করবেন এবং মুক্তিপথের অগ্রদূতের চরণ-বন্দনা করবেন তারা; এর ফলেই অবসান ঘটবে লাঞ্ছনার। এভাবেই ‘শিকল-পরার গান’ কবিতায় স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির বাসনা প্রকাশিত হয়েছে।

‘বাঁধন-ভয়কে করব মোরা জয়’—কেন এই বাঁধন? কারা, কীভাবে এই ‘বাঁধন-ভয়’কে জয় করবে?

ব্রিটিশ সরকার ভারতের স্বাধীনতাকে হরণ করেছে, তারা ভারতবাসীকে শাসন আর শোষণ করে চলেছে। ভারতীয়রা পরাধীন, তাদের কোনো অধিকার নেই বরং তাদের আন্দোলন বা বিপ্লবকে স্তব্ধ করতে সক্রিয় ইংরেজ সরকার। তাই ইংরেজ সরকার শিকলের বাঁধনে বাঁধতে চায় ভারতীয়দের। পরাধীন ভারতীয়, যারা ইংরেজ শাসনে লাঞ্ছিত, তারাই বাঁধন-ভয়কে জয় করবে। কবি নজরুল ইসলাম তাঁর ‘শিকল-পরার গান’ কবিতায় এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, ইংরেজের কারার বাঁধনে আর বেঁধে রাখা যাবে না ভারতীয়দের। বিপ্লবীগণ মাভৈঃ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। এই মন্ত্র বলহীনকেও বলবান করে তুলবে। কোনো ভয়েই তারা ভীত হবেন না, ভয়ের টুটিই তারা চেপে ধরে ভয়হীন হবেন, শঙ্কামুক্ত হৃদয়ে মাতৃমুক্তির ব্রত গ্রহণ করবেন। ইংরেজের তৈরি শৃঙ্খলকে তারা আর ভয় পাবেন না, ওই শৃঙ্খলিত হাত দিয়েই শৃঙ্খল ভাঙার সংকল্প নেবেন তারা। ভয় দেখিয়ে সরকার কখনও বিধির শক্তি নাশ করতে পারবে না। বিপ্লবীরা ভয় নামক ভূতকে দমন করবেন, তারা কারাগারের লৌহকপাট ভেঙে টুকরো টুকরো করে বিজয়কে ছিনিয়ে আনবেন। এমন সংকল্পের শক্তিতেই তারা বাঁধন-ভয়কে জয় করবেন বলে কবির বিশ্বাস।

‘শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল।’—উদ্ধৃত অংশটির তাৎপর্য লেখো।

প্রশ্নোক্ত অংশটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘শিকল-পরার গান’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার প্রায় দুই শত বছর ভারতের বুকের ওপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়েছে। ভারতবর্ষকে তারা লৌহকারাগারে পরিণত করেছে। বিপ্লবীদের কার্যকলাপ রুদ্ধ করার জন্য সরকার তাদের শিকল পরিয়ে কারাগারে আবদ্ধ করছে। তবে ভারতীয়রা এতে ভয় পায়নি, তারা অকুতোভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আন্দোলনে; যেন শিকল পরার নেশায় মেতে উঠেছে স্বাধীনতাকামী ভারতীয়গণ। এইভাবে তাদের আর শিকলের বাঁধনে বেঁধে রাখা যাবে না, বিপ্লবীদের সংগ্রামের মাধ্যমে ইংরেজের লোহার শিকল ছিন্ন হবে বলে কবি আশা প্রকাশ করেছেন।

‘তোমরা বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে করছ বিশ্ব গ্রাস’—’তোমরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? উক্তিটির ব্যাখ্যা দাও।

প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘শিকল-পরার গান’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘তোমরা’ বলতে অত্যাচারী শাসক ইংরেজ শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ব্রিটিশ শক্তি ভারতকে পরাধীন করে রেখেছে, তারা ভারতবাসীর সকল প্রকার স্বাধীনতাকে হরণ করেছে। ত্রাসের শাসন-শোষণ চালিয়ে সকলকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তবে তারা বুঝতে পারছে না যে এমনভাবে ভয়ভীতির মাধ্যমে মানুষের মন জয় করা যায় না, তারা ভেবেছে লৌহকারাগারের সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখলেই বুঝি তাদের সাম্রাজ্য চিরকাল স্থায়িত্ব পাবে। কবি নজরুল সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন যে, এমনভাবে সমগ্র বিশ্বকে তারা ক্ষুদ্র গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে রাখতে পারবে না, ভয় দেখিয়ে বা ত্রাসের শাসন চালিয়ে বিধাতার দেওয়া শক্তিকে তারা হ্রাস করতে অক্ষম হবে।

‘ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ’—’ভয়-দেখানো ভূত’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? কীভাবে তাদের সর্বনাশ করা হবে?

প্রশ্নোক্ত অংশটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘শিকল-পরার গান’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘ভয়-দেখানো ভূত’ বলতে কবি শাসক ব্রিটিশ সরকারকে বুঝিয়েছেন। প্রায় দুই শত বছর ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষ শাসন করেছে, তারা ভারতবাসীর মন জয় করতে পারেনি বরং অত্যাচারের মাধ্যমে দেশবাসীর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, তারা ভয়ভীতির নীতির মাধ্যমে দেশশাসন করেছে। কিন্তু মানবতার পূজারি কবি নজরুল মনে করেন এমনভাবে ভয়ের মাধ্যমে দেশবাসীকে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখা যাবে না, দেশবাসী সংগ্রামের মাধ্যমে আত্মবলিদান করবেন। তারা ইংরেজের বানানো শিকল পরেই শিকল ভাঙার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বেন, ইংরেজের লৌহকারাগার তাদের আর বন্দি করে রাখতে পারবে না, মাভৈঃ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তারা ইংরেজের বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রামে রত হবেন—এভাবেই ‘ভয়-দেখানো ভূত’ অর্থাৎ ইংরেজ সরকারের সর্বনাশ করবেন তারা।

‘মোরা ফাঁসি পরে আনব হাসি মৃত্যু-জয়ের ফল।’—’ফাঁসি পরে’ কীভাবে মৃত্যুজয়ের ফল আনা সম্ভব?

প্রশ্নোক্ত অংশটি মানবতার পূজারি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘শিকল-পরার গান’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। বিদেশি ইংরেজ সরকারের শাসন-শোষণ থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে, সেই প্রসঙ্গই আলোচিত হয়েছে ‘শিকল-পরার গান’ কবিতাটিতে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ সরকার অত্যাচারের মাধ্যমে ভারতীয়দের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে, যে-সকল দেশপ্রেমী সাহসী পুরুষ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে, তাদের প্রতি কঠোর নীতি গ্রহণ করে লৌহকারাগারে শৃঙ্খলিত করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু কবি মনে করেন এমনভাবে অত্যাচার করেও আর সংগ্রামকে স্তব্ধ করা যাবে না। বীর যুবকগণ মাতৃমুক্তি পণ করবেন, তারা হাসতে হাসতেও ফাঁসির দড়ি গলায় পরবেন, দেশমাতাকে মুক্ত করার সাধনায় দলে দলে তারা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তারা মাভৈঃ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বলবীর্য লাভ করে সকল ভয়কে জয় করবেন, ফাঁসির মঞ্চেই তারা জীবনের জয়গান রচনা করবেন। এভাবেই দেশমাতা বিদেশি শাসনের হাত থেকে মুক্তি পাবেন, আর দেশসেবকদের জীবন বলিদানের মাধ্যমেই আকাঙ্ক্ষিত ফল অর্থাৎ স্বাধীনতা ফিরে পাবে ভারতীয়গণ।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘শিকল-পরার গান’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ঘুরে দাঁড়াও - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ঘুরে দাঁড়াও – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

ঘুরে দাঁড়াও - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ঘুরে দাঁড়াও – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

ঘুরে দাঁড়াও - কবি পরিচিতি - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ঘুরে দাঁড়াও – বিষয়সংক্ষেপ

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ঘুরে দাঁড়াও – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ঘুরে দাঁড়াও – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ঘুরে দাঁড়াও – বিষয়সংক্ষেপ

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ভালোবাসা কি বৃথা যায়? – বিষয়সংক্ষেপ

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর