আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা‘ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করব। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় এই রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা। একবার ভালোভাবে আয়ত্ত করলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি — যেকোনো ক্লাসের পরীক্ষাতেই তোমরা এই রচনার প্রশ্নের উত্তর সহজেই লিখতে পারবে!

একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা
আমি একটি প্রাচীন বটগাছ। কবে ও কীভাবে আমার জন্ম হয়েছিল জানি না। কিন্তু আজ আমি বিরাট আকার নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কত মানুষ আমার ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেয়, পথশ্রমে ক্লান্ত মানুষ আমার তলায় বসে জিরিয়ে শান্তি পায়। আমার হৃদয়ে জমে আছে কত হাসি-কান্না ভরা স্মৃতিকথা। তোমরা কি শুনবে আমার কথা? হতে পারে আমার জন্ম কোনো পাখির বিষ্ঠা থেকে। কিন্তু এজন্য আমার মনে কোনো দুঃখ নেই। কারণ আমি বড়ো তো হয়েছি। বহু ঘটনা আমার জীবনে ঘটে গেছে। সব হয়তো বলার মতো নয়, আবার অনেক ঘটনা আছে যা ভুলতেই পারিনি। বহুদিন আগে আমি ছিলাম এক গ্রামের রক্ষাকর্তা গ্রাম্যদেবতা। কত মানুষ কত মানত নিয়ে আমার কাছে আসত। সিঁদুর-চন্দনে পুজো করে তাদের কামনা জানাত। তাদের সব কামনা পূর্ণ না হলেও আমার প্রতি তাদের বিশ্বাস ছিল অটল। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে আমার চারপাশে মেলা বসত। বহু মানুষের কোলাহলে আমার চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠত। কিন্তু এসব এখন শুধুই স্মৃতি, সেসব ঘটনাও আজকাল লুপ্ত হয়ে গেছে। আমি এখন সময়ের সাক্ষী মাত্র। আগের মতো আমাকে নিয়ে কৌতূহল ও আনন্দ আর নেই। একসময় আমি মানুষের মনের ভিতরে ছিলাম আজ আর নেই। আজ শুধু বসে ভাবি কত মানুষ তার বিবাহের পর নতুন জীবনের সাক্ষী রেখে আমায় প্রণাম করে গেছে। দূরে নদীর ঘাটের মানুষেরা আমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গেছে। আবার কত অপরাধ, ডাকাতি ও হত্যার নানা পরামর্শও আমার তলায় বসে কিছু মানুষ করেছে। আমি তা শুনে শিউরে উঠেছি, কিন্তু অপরাধীকে আমি যেমন বাধা দিতে পারিনি তেমনই যাদের বিপদ তাদের সতর্ক করে দিতেও পারিনি। সে সব শুধুই স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। হয়তো একদিন আমিও পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নেব। এই কথা ভেবেই আমার মন দুঃখে ভরে ওঠে, চোখ জলে ভরে আসে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা‘ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করেছি। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় ‘একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা‘ রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন