এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) কী? গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) কী?
গুরুমস্তিষ্ক –
অগ্রমস্তিষ্কের দুটি গোলার্ধে বিভক্ত মস্তিষ্কের সর্বাপেক্ষা যে বৃহদাকার অংশ প্রাণীদের স্মৃতি, চিন্তা, শিক্ষা, বুদ্ধি এবং তাপ, চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা, কম্পন প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে সেরিব্রাম বা গুরুমস্তিষ্ক বলে।
লঘুমস্তিষ্ক –
পশ্চাদমস্তিষ্কের সর্ববৃহৎ অংশ, পন্স ও সুষুম্নাশীর্ষকের ঠিক পিছনে এবং গুরুমস্তিষ্কের নীচের অংশে লঘুমস্তিষ্ক অবস্থান করে।
গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক -এর মধ্যে পার্থক্য –
| গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) | লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) |
| গুরুমস্তিষ্ক অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত। | লঘুমস্তিষ্ক পশ্চাদমস্তিষ্কে অবস্থিত। |
| গুরুমস্তিষ্কের গোলার্ধদ্বয় করপাস ক্যালোসাম দ্বারা যুক্ত থাকে। | লঘুমস্তিষ্কের গোলার্ধদ্বয় ভারমিস দ্বারা যুক্ত থাকে। |
| গুরুমস্তিষ্ক বুদ্ধি, বিবেচনা, স্মৃতিশক্তি ইত্যাদির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। | লঘুমস্তিষ্ক দেহের ভারসাম্য রক্ষা, পেশিটান, পেশির সঞ্চালন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ কী কী?
মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ হল – অগ্রমস্তিষ্ক (Forebrain), মধ্যমস্তিষ্ক (Midbrain) এবং পশ্চাদমস্তিষ্ক (Hindbrain)। গুরুমস্তিষ্ক অগ্রমস্তিষ্কে এবং লঘুমস্তিষ্ক পশ্চাদমস্তিষ্কে অবস্থিত।
গুরুমস্তিষ্কের গঠন কেমন?
গুরুমস্তিষ্ক দুটি গোলার্ধে বিভক্ত, যা করপাস ক্যালোসাম নামক স্নায়ু তন্তু দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। এর বহিঃস্তর ধূসর বস্তু (গ্রে ম্যাটার) দ্বারা গঠিত, যাকে সেরিব্রাল কর্টেক্স বলে।
লঘুমস্তিষ্কের কাজ কী?
লঘুমস্তিষ্ক প্রধানত দেহের ভারসাম্য রক্ষা, ভঙ্গিমা নিয়ন্ত্রণ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পেশির সমন্বিত ও সূক্ষ্ম সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে।
মস্তিষ্কের কোন অংশ স্মৃতি ও চিন্তার জন্য দায়ী?
স্মৃতি, চিন্তা, বুদ্ধি ও শিক্ষার কেন্দ্র হল গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম)।
“ভারমিস” কী?
ভারমিস হল লঘুমস্তিষ্কের দুটি গোলার্ধকে যুক্তকারী একটি গঠন, যা করপাস ক্যালোসামের মতোই একটি সংযোজক সেতুর কাজ করে।
যদি কারও লঘুমস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কী সমস্যা দেখা দেয়?
লঘুমস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা (অস্থিরতা), পেশির সমন্বয়হীনতা (অ্যাটাক্সিয়া), কথা বলায় জড়তা, চলাফেরায় অসুবিধা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।
গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের কোথায় অবস্থিত?
গুরুমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের সামনের ও উপরের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে অবস্থিত (অগ্রমস্তিষ্কে)। লঘুমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের পিছনে, গুরুমস্তিষ্কের নিচে এবং পন্স ও মেডুলা অবলংগাটার পিছনে অবস্থিত (পশ্চাদমস্তিষ্কে)।
গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্কের গোলার্ধ যুক্তকারী গঠনের নাম কী?
গুরুমস্তিষ্কের গোলার্ধ করপাস ক্যালোসাম দ্বারা যুক্ত। লঘুমস্তিষ্কের গোলার্ধ ভারমিস দ্বারা যুক্ত।
পন্স কী এবং এর সাথে লঘুমস্তিষ্কের সম্পর্ক কী?
পন্স হল পশ্চাদমস্তিষ্কের একটি অংশ, যা লঘুমস্তিষ্কের ঠিক সামনে অবস্থিত। এটি গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্কের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পেশির চলন নিয়ন্ত্রণে গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্কের ভূমিকা আলাদা কীভাবে?
গুরুমস্তিষ্ক পেশির ইচ্ছামূলক সঞ্চালনের আদেশ দেয় (যেমন, হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া), অন্যদিকে লঘুমস্তিষ্ক সেই সঞ্চালনকে সুসংবদ্ধ, মসৃণ ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) কী? গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন