এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা থেকে বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবস্থার কোন কোন দিক জানা যায়?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা থেকে বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবস্থার কোন কোন দিক জানা যায়?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা থেকে বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবস্থা
ভূমিকা –
উনিশ শতকের সমাজের বাস্তব চিত্র আমাদের সমকালীন সংবাদপত্র থেকে জানা যায়। এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো 6 জানুয়ারি 1853 সালে প্রতিষ্ঠিত ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ নামক ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (1855–1861 খিস্টাব্দ) এর সম্পাদনায় পত্রিকাটি গ্রামীণ শোষণ ও মধ্যবিত্ত সংকট নিয়মিত তুলে ধরত।
হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা থেকে বাংলার গ্রামীণ সমাজজীবন –
- কৃষিকাজ – গ্রামীণ সমাজে জমিদারি থাকলেও কৃষকরা আউশ ও আমন চাষ করে খাদ্যশস্য উৎপাদন করত। নীলচাষের জোরজবরদস্তি শুরু হলে নীলকররা আউশ জমিতে নীলচাষ বাধ্য করত, ফলে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতো।
- অলাভজনক নীলচাষ –
- নীলচাষ কৃষকদের জন্য আর্থিক দুর্ভোগ ছিল।
- নীলকররা ‘দাদন প্রথা’ (অগ্রিম ঋণ) দিয়ে কৃষকদের ফাঁদে ফেলত। একবার দাদন নেওয়ার পর কৃষক নীলচাষ থেকে মুক্তি পেত না।
- নীলের দাম কম, উৎপাদন খরচ বেশি, জমির উর্বরতা নষ্ট—সব মিলিয়ে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হত।
- 1859–1860 সালে নীল বিদ্রোহ সংগঠিত হয়, যাকে পত্রিকাটি সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছিল।
- আদিবাসী বিদ্রোহ –
- হিন্দু প্যাট্রিয়ট সাঁওতাল বিদ্রোহ (1855 খিস্টাব্দ) সম্পর্কে প্রতিবেদন করেছিল।
- সাঁওতালদের ওপর জোরপূর্বক বেগার খাটানো, অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও অর্থনৈতিক শোষণই বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল।
- তবে পত্রিকাটি সরাসরি সাঁওতাল বিদ্রোহকে সমর্থন করিনি।
- মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবস্থা –
- বৈদেশিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাট, তুলা, আখ ইত্যাদির রপ্তানি বাড়ার ফলে খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্ভোগে পড়ে।
- পাশ্চাত্য শিক্ষানীতির অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের কারণে শিক্ষিত যুবকের মধ্যে বেকারত্ব বেড়ে যায়। পত্রিকা সরকারের এই নীতি থেকেই বেকারত্ব বৃদ্ধির দায়িত্ব দেখত।
- পুলিশ-জমিদার দুর্নীতি ও চা-শ্রমিক নির্যাতনের মতো বিষয়েও মধ্যবিত্তের ভূমিকার সমালোচনা করত।
হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা থেকে বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপসংহার
হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় বাংলার সমাজব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব ছিল স্বদেশি ও জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে। এটি সাঁওতাল বিদ্রোহের সংবাদ করলেও সরাসরি সমর্থন দেয়নি; কিন্তু নীল বিদ্রোহকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করেছিল। পত্রিকা নারীশিক্ষা ও বিধবাবিবাহের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল এবং জমিদার-নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পত্রিকাটি কৃষকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অর্থ সংগ্রহ করত, যা ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা থেকে বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবস্থার কোন কোন দিক জানা যায়?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা থেকে বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবস্থার কোন কোন দিক জানা যায়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment