এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে?
হরমোন –
যে জৈব-রাসায়নিক তরল যা শরীরের কোনো কোষ বা গ্রন্থি থেকে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিঃসরিত হয়ে রক্তরস বা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংস প্রাপ্ত হয় তাদের হরমোন বলে।
স্নায়ুতন্ত্র –
প্রাণীদের যে তন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সংযোগ রক্ষা করে, জৈবিক কার্যাবলীর সমন্বয় করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন তৈরি করে পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে তাই হলো স্নায়ুতন্ত্র।
হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।
হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য –
| হরমোন | স্নায়ুতন্ত্র |
| হরমোন প্রাণীদেহে রাসায়নিক সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে। | স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীদেহে ভৌত সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে। |
| হরমোনের ক্রিয়া মন্থর কিন্তু প্রভাব সূদূরপ্রসারী। | স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া দ্রুত, তাৎক্ষণিক এবং প্রভাব ক্ষণস্থায়ী। |
| হরমোনের কাজ দীর্ঘস্থায়ী। | স্নায়ুতন্ত্রের কাজ ক্ষণস্থায়ী। |
| হরমোন ক্রিয়ার পর ধ্বংস হয়ে যায়। | স্নায়ুতন্ত্র ক্রিয়ার পর অক্ষত থাকে, এর গঠনগত কোনো পরিবর্তন হয় না। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
হরমোন কী দিয়ে তৈরি?
হরমোন সাধারণত বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক যৌগ যেমন পেপটাইড, প্রোটিন, স্টেরয়েড বা অ্যামিনো অ্যাসিড ডেরিভেটিভ দিয়ে তৈরি হয়।
হরমোন কিভাবে কাজ করে?
হরমোন রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য কোষ বা অঙ্গে পৌঁছায়। সেখানকার কোষের ঝিল্লি বা ভিতরে অবস্থিত নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে কোষের নির্দিষ্ট বিপাকীয় কার্যকলাপকে উদ্দীপিত বা নিষ্ক্রিয় করে।
হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে কে?
হরমোন নিঃসরণ প্রধানত এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের বিভিন্ন গ্রন্থি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে হাইপোথ্যালামাস এবং পিটুইটারি গ্রন্থি অন্য গ্রন্থিগুলোর হরমোন নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। নেগেটিভ ফিডব্যাক মেকানিজম এর একটি সাধারণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।
হরমোনের অতিরিক্ত বা ঘাটতির ফলে কী হয়?
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বিভিন্ন রোগের কারণ। যেমন – ইনসুলিনের ঘাটতিতে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড হরমোনের বেশি নিঃসরণে গয়টার, গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় বামনত্ব বা দৈত্যাকারতা ইত্যাদি।
স্নায়ুতন্ত্রের মূল গাঠনিক ও কার্যকরী একক কী?
স্নায়ুতন্ত্রের মূল গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো নিউরন বা স্নায়ুকোষ।
স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশগুলো কী কী?
স্নায়ুতন্ত্র প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত –
1. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (CNS) – মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড।
2. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (PNS) – কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সারা শরীরে বিস্তৃত সকল স্নায়ু ও গ্যাংলিয়া।
স্নায়ুপ্রবাহ (Nerve Impulse) কী?
স্নায়ুপ্রবাহ হলো একটি তড়িৎ-রাসায়নিক সংকেত যা নিউরনের অ্যাক্সন বরাবর চলাচল করে তথ্য বহন করে।
রিফ্লেক্স ক্রিয়া কী? এবং এর উদাহরণ দাও।
রিফ্লেক্স ক্রিয়া হলো একটি দ্রুত, অনৈচ্ছিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া যা মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই (সাধারণত সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা) সম্পাদিত হয়। উদাহরণ – গরম জিনিস স্পর্শ করলে হাত টেনে নেওয়া, হাঁটুর নিচে হালকা আঘাত পেলে পা সামনে ঝাঁকুনি দেওয়া।
হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় কিভাবে ঘটে?
হাইপোথ্যালামাস নামক মস্তিষ্কের অংশটি হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে প্রধান সমন্বয়কারী। এটি স্নায়ু সংকেত গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী পিটুইটারি গ্রন্থিকে হরমোন নিঃসরণের জন্য সংকেত প্রেরণ করে। উদাহরণ – ভয় পেলে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয় এবং অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে অ্যাড্রিনালিন হরমোন নিঃসরণের জন্য উদ্দীপিত করে।
কোনটি দ্রুত কাজ করে – হরমোন নাকি স্নায়ুতন্ত্র? কেন?
স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত কাজ করে। কারণ স্নায়ুপ্রবাহ সরাসরি স্নায়ুতন্তুর মাধ্যমে (বৈদ্যুতিক সংকেত হিসেবে) খুব দ্রুত গতিতে চলাচল করে। অন্যদিকে, হরমোন রক্তের মাধ্যমে শরীরে পরিবাহিত হয়, যা একটি ধীরতর প্রক্রিয়া।
শরীরের সমন্বয়ে হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র পদ্ধতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শরীরের জটিল ও নানান রকমের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দ্রুত-স্বল্পস্থায়ী (স্নায়ুতন্ত্র) এবং মন্থর-দীর্ঘস্থায়ী (হরমোন) উভয় প্রকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই প্রয়োজন। তারা পরস্পর পরিপূরক হিসেবে কাজ করে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং দেহের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা (হোমিওস্ট্যাসিস) বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন