এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মেটাসেন্ট্রিক এবং সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কাকে বলে?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মেটাসেন্ট্রিক এবং সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কাকে বলে?
মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম – যে ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারটি ক্রোমোজোমের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে, তাকে মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। এক্ষেত্রে ক্রোমোজোমটির বাহুদুটির দৈর্ঘ্য সমান হয় এবং অ্যানাফেজ ক্রোমোজোমের গঠনটি চলনের সময় অনেকটা ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো দেখায়।

সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম – যে ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারটি ক্রোমোজোমের মধ্যবর্তী স্থানের কাছে অবস্থান করে, তাকে সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। এক্ষেত্রে ক্রোমোজোমের একটি বাহু বড়ো হয় এবং অপর বাহুটি ছোটো হয় এবং অ্যানাফেজ চলনের সময় ক্রোমোজোমের গঠনটি অনেকটা ইংরেজি ‘L’ অক্ষরের মতো দেখায়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ক্রোমোজোমের আকৃতি নির্ধারণে সেন্ট্রোমিয়ারের ভূমিকা কী?
সেন্ট্রোমিয়ার হল ক্রোমোজোমের একটি বিশেষায়িত অঞ্চল যা ক্রোমাটিড দুটিকে একসাথে রাখে এবং কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডল তন্তুর সংযোগস্থল। এটি ক্রোমোজোমের আকৃতি বা গঠন নির্ধারণ করে, কারণ সেন্ট্রোমিয়ার যেকোনো স্থানে অবস্থান করতে পারে। এর অবস্থানের উপর ভিত্তি করেই ক্রোমোজোমকে মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ইত্যাদি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
মেটাসেন্ট্রিক এবং সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো কী কী?
মেটাসেন্ট্রিক এবং সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমের মধ্যে মূল পার্থক্য –
1. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান – মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারটি ঠিক মাঝখানে থাকে, ফলে দুটি বাহুর দৈর্ঘ্য সমান হয়। সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারটি কেন্দ্রের কাছাকাছি কিন্তু মাঝামাঝি ঠিক নয়, ফলে একটি বাহু অন্যটির চেয়ে কিছুটা লম্বা (দৈর্ঘ্য অসমান) হয়।
2. দৃশ্যমান আকৃতি – অ্যানাফেজে মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম V আকৃতির দেখায়, যেখানে সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম L বা J আকৃতির দেখায়।
“সাবমেটাসেন্ট্রিক” কে কি “সাব-টেলোসেন্ট্রিক” বলা যায়?
না, সাবমেটাসেন্ট্রিক ও সাব-টেলোসেন্ট্রিক এক নয়। সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি থাকে, ফলে বাহু দুটির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য খুব বেশি হয় না। অন্যদিকে, সাব-টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার প্রান্তের দিকে খুব কাছাকাছি থাকে, ফলে একটি বাহু অত্যন্ত লম্বা ও অন্যটি অত্যন্ত ছোট হয়। এটি মূলত অ্যাক্রোসেন্ট্রিকের কাছাকাছি একটি ধরন।
ক্রোমোজোম কাকে বলে?
ক্রোমোজোম হলো কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ধারবাহিকতার একক যা জিনগত তথ্য (DNA) বহন করে। এটি জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
সেন্ট্রোমিয়ার কি? এর কাজ কী?
সেন্ট্রোমিয়ার হলো ক্রোমোজোমের একটি বিশেষায়িত অঞ্চল, যেখানে দুইটি সিস্টার ক্রোমাটিড যুক্ত থাকে। এটি কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডল ফাইবারের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে এবং ক্রোমোজোমের সঠিক বিভাজন নিশ্চিত করে।
ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে কী কী?
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে ক্রোমোজোম চার প্রকার –
1. মেটাসেন্ট্রিক (মধ্যবিন্দুতে),
2. সাবমেটাসেন্ট্রিক (মধ্যবিন্দুর কাছাকাছি),
3. অ্যাক্রোসেন্ট্রিক (এক প্রান্তের দিকে),
4. টেলোসেন্ট্রিক (প্রান্তে/টেলোমিয়ারে)।
অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ও টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কাকে বলে?
অ্যাক্রোসেন্ট্রিক – সেন্ট্রোমিয়ার একদম প্রান্তের দিকে অবস্থিত, ফলে একটি বাহু অত্যন্ত ছোট ও অন্যটি দীর্ঘ হয়।
টেলোসেন্ট্রিক – সেন্ট্রোমিয়ার প্রান্তে বা টেলোমিয়ারে অবস্থিত, ফলে একটিমাত্র দীর্ঘ বাহু দেখা যায় (প্রাণীকোষে সাধারণত নেই, কিছু উদ্ভিদে থাকে)।
ক্রোমোজোমের গঠন অ্যানাফেজে কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে দুইটি ক্রোমাটিড আলাদা হয় এবং স্পিন্ডল ফাইবারের টানে বিপরীত মেরুর দিকে চলার সময় তাদের আকৃতি সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী V, L বা J আকার ধারণ করে।
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান ক্রোমোজোমের কার্যক্রমকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান ক্রোমোজোমের গঠন, জিনের বিন্যাস, বিভাজনের সময় চলনের ধরন এবং কিছু জিনগত ব্যাধির (যেমন – রবার্টসোনিয়ান ট্রান্সলোকেশন) সাথে সম্পর্কিত।
ক্রোমোজোমের বাহুর দৈর্ঘ্য ভিন্ন হওয়ার জিনগত তাৎপর্য কী?
দীর্ঘ ও খাটো বাহুতে জিনের বণ্টন ও ঘনত্ব ভিন্ন হয়। খাটো বাহু (p বাহু) সাধারণত জিনঘনত্ব কম, দীর্ঘ বাহু (q বাহু) তুলনামূলক জিনসমৃদ্ধ।
ক্রোমোজোমের আকৃতি পর্যবেক্ষণ করার উপায় কী?
সাধারণত মাইটোসিসের মেটাফেজ বা অ্যানাফেজ দশায় কোষ রঞ্জন (জিমসা রঞ্জন) করার পর অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে ক্রোমোজোমের আকৃতি ও সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান স্পষ্ট দেখা যায়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মেটাসেন্ট্রিক এবং সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কাকে বলে?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন