আজকের এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘সবুজ জামা’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

1. ‘দাদু যেন কেমন, চশমা ছাড়া চোখে দেখে না।’ – এই পঙ্ক্তির মধ্যে ‘যেন’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে কেন? এইরকম আর কী কী শব্দ দিয়ে একই কাজ করা যায়?
‘যেন’ সাদৃশ্য বা উপমাবাচক শব্দ। চোখের সামনে যা আসে তাই দেখা যায়, কিন্তু দাদু যে বয়সের কারণে চশমা ছাড়া দেখতে পায় না—এটা তোতাই জানে না। দাদুর এই না দেখতে পাওয়া ব্যাপারটা তোতাই মানতে পারে না। সেজন্য সতর্কীকরণে আশঙ্কাসূচক শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
একইরকম অন্যান্য শব্দগুলি হলো- ‘মতো’, ‘থেকে’, ‘ন্যায়’, ‘চেয়ে’, ‘অপেক্ষা’ ইত্যাদি। যেমন – চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ, রামের থেকে শ্যাম ভালো ছেলে, নবীন অপেক্ষা পুলিন বয়সে ছোটো, নয়ন কমলের ন্যায় = নয়নকমল, রমেনের চেয়ে রমেশ স্বভাবে ভীষণ ভালো ইত্যাদি।
2. ‘সবুজ জামা’ কবিতায় তোতাইয়ের সবুজ জামা চাওয়ার মাধ্যমে কবি কী বলতে চাইছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘সবুজ জামা’ কবিতায় শিশু তোতাইয়ের বৃক্ষময় হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা অর্থাৎ আরও গাছ লাগানোর কথা বলেছেন। বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর দূষণ প্রকৃতিকে বিপন্ন ও ধ্বংসপ্রায় করেছে। শ্বাসকষ্ট ও নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত। বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার এবং যন্ত্রসভ্যতার দাপাদাপি দূষণ ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। অক্সিজেন প্রকৃতি থেকে কমে যাওয়ায় সভ্যতার ধ্বংস অনিবার্য। এহেন অবস্থায় প্রকৃতিতে আরও গাছ লাগিয়ে সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। গাছেরা সবুজ জামা পরে যেমন আনন্দ পায়, তেমনই শিশু তোতাই অদ্ভুত আনন্দ প্রত্যাশা করে। গাছেদের মতো সেও একপায়ে দাঁড়িয়ে এক্কা-দোক্কা খেলবে এবং স্কুলের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে গাছেদের মতো মুক্ত থাকবে। কবি বিশ্বাস করেন, শিশুদের বন্ধনের মধ্যে না রেখে তারা প্রকৃতির সম্পদ—এই ভেবে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম করতে পারলে শিশুর সার্বিক বিকাশ হবে। শিশুমনের পূর্ণতায় প্রকৃতি ও মানুষকে একসূত্রে বেঁধে দিতে পারলে শিশুও প্রকৃতির মতো সহজ সারল্যে বিস্তৃত হবে।
3. তোতাইবাবুর সবুজ জামা পরিধানের মধ্য দিয়ে কবি কোন্ ভাবনার প্রকাশ দেখিয়েছেন?
শিশুমন যেমন সরল, পবিত্র ও সুন্দর, প্রকৃতিও ঠিক তেমনই সরলতা, পবিত্রতা ও সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘সবুজ জামা’ কবিতায় শিশুপ্রাণের সঙ্গে প্রকৃতির এই একাত্মতাকেই শুধু প্রকাশ করেননি, এর মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা রচিত হওয়ার পথটিকেও গড়ে দিয়েছেন। গাছের গায়ে যেমন সবুজ পাতার আবরণ থাকে জামার মতো, তোতাই নামক শিশুটিও সেইরকমই সবুজ জামা পরে গাছ হয়ে যেতে চায়, যার আকর্ষণে প্রজাপতি এসে তাকে গাছ ভেবে তার গায়ে বসবে—এটাই সে চায়। গাছেদের মতো এক পায়ে দাঁড়ানো তার কাছে খেলা আর সেভাবে সবুজ জামা পরলেই সে গাছ হয়ে যাবে। তখন তার গায়ে লাল-নীল ফুল ঝরে পড়বে। তোতাইয়ের শিশুমন এমন কল্পনার জাল বুনলেও কবি যেন প্রকৃতিকে ভালোবাসার জন্য সকল মানুষের মধ্যেই এই প্রকৃতির সঙ্গে অভিন্নতা ও একাত্মতার বোধ গড়ে তোলার ভাবনাকেই কবিতার আকারে প্রকাশ করেছেন।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘সবুজ জামা’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন