এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব, “‘অচেনা আনন্দকে পাইতে হইলে পৃথিবী ঘুরিয়া বেড়াইতে হইবে, তাহার মানে নাই।’ — ‘পথের পাঁচালী’তে দুর্গা আর অপু নিশ্চিন্দিপুর গ্রাম থেকেই কীভাবে বারে বারে অচেনার আনন্দ অনুভব করেছে লেখো।” — এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘অচেনা আনন্দকে পাইতে হইলে পৃথিবী ঘুরিয়া বেড়াইতে হইবে, তাহার মানে নাই।’ — ‘পথের পাঁচালী’তে দুর্গা আর অপু নিশ্চিন্দিপুর গ্রাম থেকেই কীভাবে বারে বারে অচেনার আনন্দ অনুভব করেছে লেখো।
অপু ও দুর্গা অনন্তের পিয়াসি। অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনার আগ্রহ তাদের চিরন্তন। কিন্তু তাদের সীমানা খুবই সংকীর্ণ। নিশ্চিন্দিপুর গ্রাম তাদের জন্মস্থান। সেখানেই তারা বড়ো হয়ে উঠছে। অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। তাই পৃথিবী ঘুরে দেখার অবকাশ তাদের কাছে বামুন হয়ে চাঁদ ধরার মতোই অকল্পনীয়। তবে এই কারণে এই দুই ভাই-বোন বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই তাদের অবাধ বিচরণ।
নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের অতি সামান্য-তুচ্ছ জিনিসও অপু-দুর্গার নজর এড়িয়ে যায় না। নানা ধরনের বুনো ফুল-ফলের গাছ তারা চেনে। অজানা কোনো গাছ দেখলে তারা আগ্রহের সাথে তার সমস্ত বৈশিষ্ট্যকে মনে রাখার চেষ্টা করে। কোথায় কোন্ ঝোপে কী ফুল ফুটেছে, কাদের আমে গুটি ধরেছে এসব খবর দুর্গার নখদর্পণে থাকে। সামান্য কাচকে ‘হীরে’ মনে করে সেটি নিয়ে কী কী করা যেতে পারে—এই চিন্তাভাবনা করে তারা সরলতার পরিচয় জ্ঞাপন করে। প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে ভয়ডরকে উপেক্ষা করে আম কুড়োনোর মজা, ভুলো কুকুরকে এক মুঠো ভাত খেতে দেওয়া, দক্ষিণ মাঠে পাখির ছানা দেখতে যাওয়া, বাছুর খুঁজতে গিয়ে রেলপথ দেখার বৃথা চেষ্টা-এসবের মধ্যেই এই দুটি বালক-বালিকা সীমাহীন আনন্দ খুঁজে পায়। বনভোজনের আয়োজন তাদের জীবনের আর-একটি আনন্দযজ্ঞ। এর পাশাপাশি চড়ক, গাজন, যাত্রাপালার আসর এবং সেখান থেকে নতুন নতুন মানুষের সাথে আলাপ-পরিচয় সবই যেন তাদের কাছে আনন্দের সঞ্চার করে। অচেনাকে কীভাবে চিনতে হয়, অজানাকে কীভাবে জানতে হয়-তা এই দু-ভাই-বোনের কাছ থেকে শিখে নিতে হয়। হয়তো শিক্ষিত তথাকথিত শহুরে মানুষদের কাছে এসব জিনিস নেহাতই তুচ্ছ, সামান্য, অকিঞ্চিৎকর। কিন্তু বাইরের পৃথিবীকে জানার আগে, নিজের সীমাবদ্ধ গণ্ডিটুকুকে ভালো করে চিনে উপভোগ করে নিতে হয়। নাহলে হয়তো কবির মতো আক্ষেপ থেকে যায় –
‘বহুদিন ধরে, বহু ক্রোশ দুরে / বহু ব্যয় করি, বহু দেশ ঘুরে।
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা / দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া / ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া।
একটি ধানের শিষের ওপর / একটি শিশির বিন্দু।’
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, “‘অচেনা আনন্দকে পাইতে হইলে পৃথিবী ঘুরিয়া বেড়াইতে হইবে, তাহার মানে নাই।’ — ‘পথের পাঁচালী’তে দুর্গা আর অপু নিশ্চিন্দিপুর গ্রাম থেকেই কীভাবে বারে বারে অচেনার আনন্দ অনুভব করেছে লেখো।” — নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment