অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সাধু ও চলিত রীতি

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণের “ব্যাকরণ বিভাগ” থেকে “সাধু ও চলিত রীতি” নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। এই অংশটি অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

ব্যাকরণ বিভাগ - সাধু ও চলিত রীতি - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা
Contents Show

বাংলা ভাষার লিখিত কয়টি রূপ দেখতে পাওয়া যায় ও কী কী?

বাংলা ভাষার লিখিত রূপ 2টি, যথা সাধু ভাষা এবং চলিত ভাষা বা কথ্য ভাষা।

বাংলা ভাষার দুই রূপ সাধুভাষা ও কথ্যভাষা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে সুয়োরানি ও দুয়োরানির তুলনা এনেছিলেন কে?

বাংলা ভাষার দুই রূপ সাধুভাষা ও কথ্যভাষা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে সুয়োরানি ও দুয়োরানির তুলনা এনেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সাধুভাষা বা সাধুরীতি কাকে বলে?

সংস্কৃত শিক্ষিত বাঙালি পণ্ডিতেরা উনিশ শতকে বাংলা গদ্য রচনার প্রয়োজনে সংস্কৃত প্রভাবিত এবং সংস্কৃত ব্যাকরণ ও অভিধাননির্ভর, কৃত্রিম পাণ্ডিত্যপূর্ণ যে ভাষার সৃষ্টি করেছিলেন, তাকেই সাধুভাষা বা সাধুরীতি বলা হয়।

উদাহরণ – বাগযন্ত্র বা জিহ্বার সাহায্যে আমরা যে-সমস্ত কথা উচ্চারণ করিয়া থাকি, তাহা কতকগুলি ধ্বনির সামঞ্জস্যপূর্ণ সমষ্টিমাত্র। প্রতিটি ধ্বনি লিখিবার জন্য এক-একটি সুডৌল চিহ্ন রহিয়াছে। এক্ষেত্রে স্থূলাক্ষর শব্দগুলি দেখে সহজেই বোঝা যায় এই ভাষারীতি সংস্কৃত ভাষানুযায়ী।

সাধুরীতির ভাষার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

সাধুরীতির ভাষাবৈশিষ্ট্যগুলি হল সাধুরীতিতে বাক্যগঠন সর্বদাই নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে হয়। এই রীতিতে সমাসবদ্ধ পদ ব্যবহারের ঝোঁক বেশি থাকে, যেমন – সভাপতি, গুণাগুণ, ভুলভ্রান্তি ইত্যাদি। এছাড়া সাধুভাষায় সর্বনাম পদ ও ক্রিয়াপদের পূর্ণ রূপ ব্যবহার আবশ্যিক। যেমন সর্বনামের ক্ষেত্রে তাঁহাকে, তাঁহারা, তদীয়, তাঁহাদের, তাঁহাদিগের ইত্যাদি এবং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে করিয়াছিলাম, খাইয়াছি, পারিব ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।

কথ্যভাষা বা চলিতভাষা রীতি কাকে বলে?

শিক্ষিত জনগণের মৌখিক ভাষাকে ভিত্তি করে বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনার উপযুক্ত আদর্শ ভাষা হিসেবে যে রূপটি স্বীকৃতি পায়, সেটিই হল চলিতভাষা বা মান্য চলিত বাংলা (Standard Colloquial Bengali)। যেমন – জীবনে সুখের জন্য নিঃসন্দেহে ঐশ্বর্যের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ঐশ্বর্যের প্রবণতা হল, তা সামান্য কয়েকজনের হাতেই সঞ্চিত হয়।

সাধু ও চলিত রীতির একটি করে বৈশিষ্ট্য লেখো।

সাধুরীতির একটি বৈশিষ্ট্য হল তৎসম ও অপ্রচলিত শব্দের ব্যবহারের প্রাবল্য, যার উদাহরণ হিসেবে ঊষাকাল, সমষ্টি, সুডৌল ইত্যাদির কথা বলা যায়। অন্যদিকে, চলিতভাষা রীতির একটি বৈশিষ্ট্য হল এই রীতিতে অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি এবং বিদেশি শব্দের প্রয়োগ অনেক বেশি দেখা যায়।

চলিতভাষা রীতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

চলিতভাষা রীতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়, যেমন সর্বনাম হিসেবে তাঁর, তাঁরা, তাঁদের ইত্যাদি এবং ক্রিয়া হিসেবে করি, খাব, গিয়েছিলাম, যাচ্ছি ইত্যাদি। চলিত রীতিতে সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার সাধু রীতির তুলনায় অনেক কম, বরং তার পরিবর্তে বাগধারা অথবা প্রচলিত বাক্যবিন্যাসের বহুল ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া চলিত বাংলায় দিয়ে, হতে, সঙ্গে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি চলিত বাংলায় বাক্যবিন্যাসরীতি অনেকটা শিথিল। যেমন- তুমি কোথায় যাচ্ছ, তুমি যাচ্ছ কোথায়, অথবা কোথায় যাচ্ছ তুমি, এর সবরকমই চলতে পারে।

সাধু ও চলিত রীতির একটি মৌলিক প্রভেদ কী?

সাধু ও চলিত রীতির মৌলিক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:

সাধু রীতিচলিত রীতি
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সম্পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
যেমন – সর্বনাম: তাঁহাদের, তাঁহারা।
ক্রিয়া: করিয়াছি, করিব।
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
যেমন – সর্বনাম: তাঁদের, তাঁরা।
ক্রিয়া: করেছি, করব।

সাধু ও চলিত রীতির অন্যান্য পার্থক্য কী?

সাধু ও চলিত রীতির অন্যান্য পার্থক্যগুলি হল –

বিষয়ের ভিত্তিসাধু রীতিচলিত রীতি
শব্দ ব্যবহারসমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার তুলনায় বেশি এবং তৎসম শব্দ ব্যবহৃত হয়।সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার কম এবং অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি শব্দ ব্যবহার হয়।
অনুসর্গঅনুসর্গের রূপগুলিও সম্পূর্ণ। যেমন—হইতে, চাহিয়া ইত্যাদি।অনুসর্গের রূপগুলি সংক্ষিপ্ত। যথা—হতে, থেকে, চেয়ে, দিয়ে ইত্যাদি।
বাক্যবিন্যাসবাক্যবিন্যাসরীতি সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়।বাক্যবিন্যাসরীতি তুলনামূলকভাবে অনেক নমনীয়।

ঠিক বিকল্পটি বেছে নিয়ে লেখো।

1. ‘আপনাদিগের’ -এর চলিত ভাষার রূপটি হলো –

  1. আপনার
  2. আপনি
  3. আমাদের
  4. আপনাদের

উত্তর – 4. আপনাদের

2. ‘ওদেরকে’ -এর সাধু ভাষার রূপটি হলো –

  1. তাহাদের
  2. তাহাদিগের
  3. উহাদিগকে
  4. উহার

উত্তর – 3. উহাদিগকে

3. সাধু ভাষার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো –

  1. ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ
  2. সমাসবদ্ধ পদের প্রয়োগ-বাহুল্য
  3. সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ
  4. অনুসর্গের আধিক্য

উত্তর – 2. সমাসবদ্ধ পদের প্রয়োগ-বাহুল্য

4. চলিত ভাষায় দেখতে পাওয়া যায় –

  1. সমাসবদ্ধ পদ
  2. ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ
  3. শব্দালংকারের প্রয়োগ-বাহুল্য
  4. তৎসম শব্দের আধিক্য

উত্তর – 2. ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ

5. নিচের কোন বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল?

  1. আপনি ভুল
  2. কোথায় যাওয়া হইতেছে
  3. এখন অন্ধকার হইয়া এসেছে
  4. তোমার নাম লেখো

উত্তর – 3. এখন অন্ধকার হইয়া এসেছে (গুরুচণ্ডালী দোষ বা সাধু-চলিত মিশ্রণ হয়েছে)

সাধু থেকে চলিতভাষায় রূপান্তর

1. ‘আরবেরা তাঁহার অনুসরণে বিরত হইলে, তিনি স্বপক্ষীয় শিবিরের উদ্দেশে গমন করিতে লাগিলেন।’

আরবেরা তাঁর অনুসরণে বিরত হলে তিনি স্বপক্ষের শিবিরের দিকে যেতে লাগলেন।

2. ‘একদা আরব জাতির সহিত মুরদিগের সংগ্রাম হইয়াছিল।’

কোনো একসময় আরব জাতির সঙ্গে মুরদের যুদ্ধ হয়েছিল।

3. ‘বৎসরে দুশো টাকার মাছ বিক্রি হয় বলিয়া জমিদার বেণীবাবু তাহা কড়া পাহারায় আটকাইয়া রাখিয়াছেন।’

বছরে দুশো টাকার মাছ বিক্রি হয় বলে জমিদার বেণীবাবু তা কড়া পাহারায় আটকে রেখেছেন।

4. ‘ধুতিটা কর্মক্ষেত্রের উপযোগী নহে অথচ পায়জামাটা বিজাতীয়, এইজন্য তিনি এমন একটা আপোস করিবার চেষ্টা করিলেন যেটাতে ধুতিও ক্ষুণ্ণ হইল, পায়জামাও প্রসন্ন হইল না।’

ধুতিটা কাজের জায়গার উপযোগী নয় অথচ পায়জামাটা বিজাতীয়, এইজন্য তিনি এমন একটা আপস করার চেষ্টা করলেন যাতে ধুতিও ক্ষুণ্ণ হল, পায়জামাও খুশি হল না।

5. ‘হেয়ার হিন্দু স্কুলের ছোটো ছোটো ছেলেদের এত ভালোবাসিতেন যে, একটার সময় টিফিনের ছুটি হইলে হেয়ারের আর অন্য কাজ থাকিত না; তিনি দৌড়াইয়া আসিয়া একদৃষ্টে দাঁড়াইয়া ছেলেদের খেলা দেখিতেন।’

হেয়ার হিন্দু স্কুলের ছোটো ছোটো ছেলেদের এত ভালোবাসতেন যে, একটার সময় টিফিনের ছুটি হলে হেয়ারের আর অন্য কাজ থাকত না; তিনি দৌড়ে এসে একদৃষ্টে দাঁড়িয়ে ছেলেদের খেলা দেখতেন।

চলিত থেকে সাধুভাষায় রূপান্তর

1. ‘তিনি তৎক্ষণাৎ নম্রহৃদয়ে নতমস্তকে কবির আদেশ শিরোধার্য করে নিলেন।’

তিনি তৎক্ষণাৎ নম্রহৃদয়ে নতমস্তকে কবির আদেশ শিরোধার্য করিয়া লইলেন।

2. ‘স্বপনদার কথা শুনে রঞ্জনের মনের মধ্যে চেপে রাখা রাগটা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।’

স্বপনদার কথা শুনিয়া রঞ্জনের মনের মধ্যে চাপিয়া রাখা রাগটা আবার মাথাচাড়া দিয়া উঠিল।

3. ‘আমি যখন ধীরভাবে চিন্তা করি, তখন আমার নিঃসংশয় ধারণা জন্মে যে, আমাদের সমস্ত দুঃখকষ্টের অন্তরে একটা মহত্তর উদ্দেশ্য কাজ করছে।’

আমি যখন ধীরভাবে চিন্তা করি, তখন আমার নিঃসংশয় ধারণা জন্মে যে, আমাদিগের সকল দুঃখকষ্টের অন্তরে একটি মহত্তর উদ্দেশ্য কাজ করিতেছে।

গুরুচণ্ডালী দোষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে সর্বদাই সাধু বা চলিত যে-কোনো একটি রীতির অনুসারী আমাদের হতে হয়। সাধারণত ব্যাকরণগতভাবে নির্ভুল থাকার জন্যই এমনটি করা হয়; উপরন্তু, একটি রীতির অনুসারী হলে বাক্যগঠন শ্রুতিমধুরও হয়। যদি কোনো ক্ষেত্রে বাক্যগঠনকালে দুই রীতিরই মিশ্রণ ঘটে যায়, তাহলে তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। যেমন – অন্ধকার হইয়া আসছে, আপনাদিগের এখুনি বাহির থেকে ফেরা উচিত।

সাধুভাষা থেকে চলিতভাষায় রূপান্তরিত করো।

“আগে যখন একা মাঠে কিংবা পাহাড়ে বেড়াইতে যাইতাম, তখন সব খালি খালি লাগিত। তারপর গাছ, পাখি, কীটপতঙ্গদিগকে ভালোবাসিতে শিখিয়াছি, সে অবধি তাদের অনেক কথা বুঝিতে পারি, আগে যাহা পারিতাম না। এই যে গাছগুলি কোনো কথা বলে না, ইহাদের যে আবার একটা জীবন আছে, আমাদের মতো আহার করে, দিনদিন বাড়ে, আগে এসব কিছুই জানিতাম না।”

উত্তর – আগে যখন একা মাঠে কিংবা পাহাড়ে বেড়াতে যেতাম, তখন সব খালি খালি লাগত। তারপর গাছ, পাখি, কীটপতঙ্গদের ভালোবাসতে শিখেছি, তখন থেকে তাদের অনেক কথা বুঝতে পারি, আগে যা পারতাম না। এই যে গাছগুলো কোনো কথা বলে না, এদের যে আবার একটা জীবন আছে, আমাদের মতো খায়, দিনদিন বাড়ে, আগে এসব কিছুই জানতাম না।

“জীবিত বস্তুতে গতি দেখা যায়; জীবিত বস্তু বাড়িয়া থাকে। কেবল ডিমে জীবনের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। ডিমে জীবন ঘুমাইয়া থাকে। উত্তাপ পাইলে ডিম হইতে পাখির ছানা জন্মলাভ করে। বীজগুলি যেন গাছের ডিম; বীজের মধ্যেও এরূপ গাছের শিশু ঘুমাইয়া থাকে। মাটি, উত্তাপ ও জল পাইলে বীজ হইতে বৃক্ষশিশু জন্ম নেয়।”

উত্তর – জীবিত বস্তুতে গতি দেখা যায়; জীবিত বস্তু বাড়ে। শুধু ডিমে জীবনের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। ডিমে জীবন ঘুমিয়ে থাকে। উত্তাপ পেলে ডিম থেকে পাখির ছানা জন্মায়। বীজগুলো যেন গাছের ডিম; বীজের মধ্যেও এইরকম গাছের শিশু ঘুমিয়ে থাকে। মাটি, উত্তাপ ও জল পেলে বীজ থেকে বৃক্ষশিশু জন্ম নেয়।

“ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বীজ পাকিয়া থাকে। আম, লিচুর বীজ বৈশাখ মাসে পাকে; ধান, যব ইত্যাদি আশ্বিন-কার্তিক মাসে পাকিয়া থাকে। মনে করো, একটি গাছের বীজ আশ্বিন মাসে পাকিয়াছে। আশ্বিন মাসের শেষে বড়ো ঝড় হয়। ঝড়ে পাতা ও ছোটো ছোটো ডাল ছিঁড়িয়া চারিদিকে পড়িতে থাকে। এইরূপে বীজগুলি চারিদিকে ছড়াইয়া পড়ে।”

উত্তর – বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বীজ পাকে। আম, লিচুর বীজ বৈশাখ মাসে পাকে; ধান, যব ইত্যাদি আশ্বিন-কার্তিক মাসে পাকে। মনে করো, একটা গাছের বীজ আশ্বিন মাসে পেকেছে। আশ্বিন মাসের শেষে বড়ো ঝড় হয়। ঝড়ে পাতা ও ছোটো ছোটো ডাল ছিঁড়ে চারদিকে পড়তে থাকে। এভাবে বীজগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

“আরব সেনাপতি তৎক্ষণাৎ প্রার্থিত আশ্রয় প্রদান করিলেন এবং তাঁহাকে নিতান্ত ক্লান্ত ও ক্ষুৎপিপাসায় একান্ত অভিভূত দেখিয়া, আহারাদির উদ্যোগ করিয়া দিলেন।”

উত্তর – আরব সেনাপতি সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থিত আশ্রয় দিলেন এবং তাঁকে একেবারেই ক্লান্ত ও খিদে-তেষ্টায় একান্ত অভিভূত দেখে, খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্ত করে দিলেন।

“কী কারণে আরব সেনাপতি এরূপ বলিয়া পাঠাইলেন, তাহার মর্মগ্রহ করিতে না পারিয়া মুরসেনাপতি আহার করিয়া, সন্দিহানচিত্তে শয়ন করিলেন।”

উত্তর – কী কারণে আরব সেনাপতি এইরকম বলে পাঠালেন, তার মর্মার্থ উদ্ধার করতে না পেরে মুরসেনাপতি খেয়েদেয়ে, মনে সন্দেহ নিয়ে শুয়ে পড়লেন।

চলিত থেকে সাধুভাষায় রূপান্তরিত করো

“তখন ঠিক করলুম, এই গাড়িতেই ঢুকব, আর ওখানেই জায়গা করে নেব।”

তখন স্থির করিলাম, এই গাড়িতেই ঢুকিব, আর ওই স্থানেই জায়গা করিয়া লইব।

“এইভাবে যথাকালে কলকাতাতে এসে পৌঁছলুম।”

এইরূপে যথাসময়ে কলিকাতাতে আসিয়া পৌঁছাইলাম।

“বাগানবাড়িতে পৌঁছোলাম আরো পনেরো মিনিট পরে।”

বাগানবাড়িতে পৌঁছাইলাম আরো পনেরো মিনিট পরে।

“প্যাঁচার মতো মুখ করে আমরা কাঠ খড়ি সব কুড়িয়ে আনলাম।”

প্যাঁচার মতন মুখ করিয়া আমরা কাষ্ঠ খড়ি সকল কুড়াইয়া আনিলাম।

“ক্যাবলার মা মাছ কেটে নুন-টুন মাখিয়ে দিয়েছিলেন, তাই রক্ষা।”

ক্যাবলার মা মৎস্য কাটিয়া লবণাদি মাখাইয়া দিয়াছিলেন, তাহাতেই রক্ষা।

সাধু রীতির বাক্য কোনটি এবং চলিত রীতির বাক্য কোনটি নির্ণয় করো

“এরপর কয়েকদিন আমাদের কী যে ভয়ে ভয়ে কাটল কী বলব!”

বাক্যটি চলিত রীতির অন্তর্গত।

“আবার অনিমাদি আমাদের লেখাগুলির প্রশংসা করলেন, আমরা যেন লেখার অভ্যাস না ছাড়ি এ কথা বারবার বললেন।”

বাক্যটি চলিত রীতির অন্তর্গত।

“কিয়ৎক্ষণ পরে, তিনি এক আরবসেনাপতির পটমণ্ডপদ্বারে উপস্থিত হইয়া, আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন।”

বাক্যটি সাধু রীতির অন্তর্গত।

“এজন্য তিনি নির্বিঘ্নে স্বপক্ষীয় শিবির সন্নিবেশস্থানে উপস্থিত হইলেন।”

বাক্যটি সাধু রীতির অন্তর্গত।

“তোমার এই ঔদ্ধত্যের জন্য তোমায় আমার সাম্রাজ্য থেকে নির্বাসিত করলাম।”

বাক্যটি চলিত রীতির অন্তর্গত।

“হাবুল সেন বলে যাচ্ছিল-পোলাও, ডিমের ডালনা, রুই মাছের কালিয়া, মাংসের কোর্মা।”

বাক্যটি চলিত রীতির অন্তর্গত।

“দুইদিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত হইয়া অপরাহ্নবেলায় একটু ধরন করিয়াছে।”

বাক্যটি সাধু রীতির অন্তর্গত।

“রমেশ আর শুনিবার জন্য অপেক্ষা করিল না, দ্রুতপদে প্রস্থান করিল।”

বাক্যটি সাধু রীতির অন্তর্গত।

“বোবা মেয়েকে পরের হস্তে সমর্পণ করিয়া বাপ মা দেশে চলিয়া গেল-তাহাদের জাতি ও পরকাল রক্ষা হইল।”

বাক্যটি সাধু রীতির অন্তর্গত।

“সাধারণত শনি আর রবিবার ও ছোটাছুটি করে টিকিট সংগ্রহ করত, কিন্তু এ সপ্তাহে ও বাড়ি থেকে প্রায় নড়লই না।”

বাক্যটি চলিত রীতির অন্তর্গত।

কোন্ বাক্যটি সাধু-চলিত ব্যাকরণরীতি অনুযায়ী ভ্রান্ত এবং কোনটি সঠিক এবং কেন তা সঠিক বা ভ্রান্ত লেখো

“চণ্ডীমণ্ডপে গোপাল সরকারের কাছে বসিয়া রমেশ জমিদারির হিসাবপত্র দেখিতেছিল।”

বাক্যটি সাধু রীতির অন্তর্গত এবং সঠিক বাক্য, কেন-না এই বাক্যে ক্রিয়ার বিস্তৃত রূপ ব্যবহৃত হয়েছে।

“ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন বোবার মতো।”

বাক্যটি চলিত রীতির অন্তর্গত এবং সঠিক বাক্য, কেন-না এই বাক্যে ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়েছে।

“আমরা সকলে মিলিয়া দিঘা ভ্রমণ করিতে গিয়েছিলাম।”

বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট এবং ব্যাকরণগতভাবে ভুল, কেন-না বাক্যের অন্যান্য অংশ সাধু রীতি অনুসারী হলেও বাক্যের ক্রিয়ায় বিস্তৃত রূপ না বসে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়েছে। ফলত বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ভ্রান্ত।

“শমিতা আপনমনে ঘুরছিল আর গান গাহিতেছিল।”

বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট এবং ব্যাকরণগতভাবে ভুল, কেন-না বাক্যের অন্যান্য অংশ চলিত রীতি মানলেও, ক্রিয়াটি সাধুভাষার ক্রিয়ার মতো বিস্তৃতরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

“সে যে কাজকর্ম করিয়া সংসারে উন্নতি করিতে যত্ন করিবে, বহু চেষ্টার পর বাপ-মা সে আশা ত্যাগ করিয়াছেন।”

বাক্যটি সাধু রীতির অনুসারী বাক্য এবং ব্যাকরণগতভাবে সঠিক কেন-না বাক্যটিতে ক্রিয়ার বিস্তৃত রূপ ব্যবহৃত হয়েছে।

“ইহাদের মধ্যেও অভাব-অভিযোগ, দুঃখ-কষ্ট কম নেই।”

বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ভ্রান্ত, কারণ বাক্যটির ক্রিয়া চলিত রীতির ক্রিয়ার মতো সংক্ষিপ্ত কিন্তু এখানে আবার সাধু রীতির মতো সর্বনামের বিস্তৃত (ইহাদের) রূপ ব্যবহৃত হয়েছে।

“ঘন সবুজ পাতায় গাছটি ঢাকা, ছায়াতে তুমি বসিয়াছ।”

বাক্যটি সাধু রীতির অনুসারী বাক্য এবং সঠিক, কেন-না এ ক্ষেত্রে ক্রিয়ার বিস্তৃত রূপ ব্যবহৃত হয়েছে।

“এইরূপে নিরাপদে বৃক্ষশিশুটি ঘুমাইয়া রহিল।”

বাক্যটি সঠিক এবং সাধু রীতির অন্তর্গত, কেন-না বাক্যে ক্রিয়ার বিস্তৃত রূপ ব্যবহৃত হয়েছে।

“আমি সবসময় সত্যি কথা বলিতে অভ্যস্ত।”

বাক্যটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ থাকায় এটি সাধু-চলিত ব্যাকরণরীতি অনুসারে ভ্রান্ত। বাক্যটিতে ‘বলিতে’ ক্রিয়াপদটি সাধুভাষার ক্রিয়াপদের মতো পূর্ণাঙ্গ রূপে ব্যবহৃত হলেও বাদবাকি অংশে চলিত রীতির নিয়ম মানা হয়েছে।

“বাবা বাজার গিয়েছিল মাছ আনতে।”

বাক্যটি চলিত রীতির অন্তর্গত এবং ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক। কারণ এখানে ‘গিয়েছিল’ এবং ‘আনতে’—দুটি ক্রিয়াপদই চলিত রীতির নিয়মানুযায়ী সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এতে কোনো গুরুচণ্ডালী দোষ নেই।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণের “ব্যাকরণ বিভাগ” থেকে “সাধু ও চলিত রীতি” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই অংশটি অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্যাকরণ বিভাগ - সমাস - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা - ব্যাকরণ বিভাগ - ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

ব্যাকরণ বিভাগ - বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয় - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সাধু ও চলিত রীতি

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বাক্যের ভাব ও রূপান্তর