এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে?
সংজ্ঞাবহ নিউরোন –
যে সমস্ত নিউরোন রিসেপ্টর দ্বারা গৃহীত স্নায়ুস্পন্দন বা স্নায়বিক উদ্দীপনাকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে নিয়ে যায়, তাদের সংজ্ঞাবহ (Sensory neuron) বলে।
সংজ্ঞাবহ নিউরোনের মাধ্যমে স্নায়বিক উদ্দীপনা দেহের বাইরে থেকে ভিতরে পরিবাহিত হয় বলে একে অন্তর্বাহী (Afferent) নিউরোন বলে।
আজ্ঞাবহ নিউরোন –
যে নিউরোনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে স্নায়ুস্পন্দন বা সাড়া (Response) বাহিত হয়ে কারক বা ইফেক্টরে আসে, তাদের চেষ্টীয় নিউরোন বা আজ্ঞাবহ নিউরোন (Motor neuron) বলে।
সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে পার্থক্য –
| সংজ্ঞাবহ নিউরোন | আজ্ঞাবহ নিউরোন |
| স্নায়ু উদ্দীপনাকে গ্রাহক থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে। | স্নায়ু উদ্দীপনাকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে কারক অঙ্গে বহন করে। |
| এই নিউরোনের অ্যাক্সনটি স্বল্প দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট। | এই নিউরোনের অ্যাক্সনটি অধিক দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট। |
| নিউরোনের ডেনড্রনটি গ্রাহকের সঙ্গে যুক্ত থাকে। | নিউরোনের ডেনড্রনটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোন ছাড়া আর কী ধরনের নিউরোন আছে?
হ্যাঁ, আছে। এদের অন্তর্বর্তী নিউরোন বা ইন্টারনিউরোন বলে। এগুলি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডে) অবস্থান করে এবং সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এরা স্নায়ুস্পন্দন প্রক্রিয়াকরণ ও সমন্বয়ের কাজ করে।
একটি সরল প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় (Reflex Action) এই নিউরোনগুলি কীভাবে কাজ করে?
সরল প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় (যেমন, গরম জিনিস স্পর্শ করলে হাত সরানো) তিনটি নিউরোন জড়িত –
1. সংজ্ঞাবহ নিউরোন – তাপগ্রাহক থেকে স্নায়ুস্পন্দন স্পাইনাল কর্ডে নিয়ে যায়।
2. অন্তর্বর্তী নিউরোন – স্পাইনাল কর্ডে সংজ্ঞাবহ নিউরোন থেকে স্পন্দন গ্রহণ করে আজ্ঞাবহ নিউরোনে স্থানান্তর করে।
3. আজ্ঞাবহ নিউরোন – স্পাইনাল কর্ড থেকে স্পন্দন পেশী (কারক অঙ্গ) পর্যন্ত নিয়ে যায়, ফলে হাত সড়ে যায়।
“অন্তর্বাহী” (Afferent) ও “বহির্বাহী” (Efferent) শব্দের অর্থ কী?
অন্তর্বাহী (Afferent) – মানে কেন্দ্রের দিকে বহন করা। যেহেতু সংজ্ঞাবহ নিউরোন উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের দিকে নিয়ে যায়, তাই এদের অন্তর্বাহী নিউরোন বলে।
বহির্বাহী (Efferent) – মানে কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে বহন করা। যেহেতু আজ্ঞাবহ নিউরোন সাড়া বা নির্দেশ কেন্দ্র থেকে কারক অঙ্গের (পেশী/গ্রন্থি) দিকে নিয়ে যায়, তাই এদের বহির্বাহী নিউরোন বলে।
সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের দৈহিক গঠনে (Structure) মূল পার্থক্যগুলো কী কী?
সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের দৈহিক গঠনে (Structure) মূল পার্থক্য –
1. সংজ্ঞাবহ নিউরোনের দেহ কোষ স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে ডорসাল রুট গ্যাংলিয়নে থাকে। আজ্ঞাবহ নিউরোনের দেহ কোষ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (মস্তিষ্ক বা স্পাইনাল কর্ড) ভিতরে বা ভেন্ট্রাল হর্নে থাকে।
2. ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সনের দৈর্ঘ্য – সংজ্ঞাবহ নিউরোনের ডেনড্রাইট সাধারণত লম্বা (গ্রাহক পর্যন্ত) এবং অ্যাক্সন তুলনামূলক ছোট। আজ্ঞাবহ নিউরোনের ডেনড্রাইট ছোট এবং অ্যাক্সন খুব লম্বা (স্পাইনাল কর্ড থেকে পায়ের পেশী পর্যন্ত) হয়।
সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনগুলি কী ধরনের স্নায়ুস্পন্দন বা তথ্য বহন করে?
সংজ্ঞাবহ নিউরোন – বহন করে সংবেদনশীল তথ্য। যেমন – ব্যথা, তাপ, স্পর্শ, শব্দ, আলোর অনুভূতি।
আজ্ঞাবহ নিউরোন – বহন করে মোটর কমান্ড বা নির্দেশ। এটি মস্তিষ্ক বা স্পাইনাল কর্ড থেকে পেশীকে সংকোচন বা গ্রন্থিকে নিঃসরণের নির্দেশ বহন করে।
সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনগুলির ক্ষতি বা রোগের উদাহরণ দাও।
সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনগুলির ক্ষতি বা রোগের উদাহরণ –
1. সংজ্ঞাবহ নিউরোন ক্ষতি – এর ফলে অনুভূতি হ্রাস বা লোপ পাওয়া যায়। যেমন – হাত-পা ঝিনঝিন করা, স্পর্শ বা ব্যথা না বোঝা (নিউরোপ্যাথি)।
2. আজ্ঞাবহ নিউরোন ক্ষতি – এর ফলে পক্ষাঘাত বা পেশী দুর্বলতা দেখা দেয়। উদাহরণ – পোলিও রোগে আজ্ঞাবহ নিউরোন আক্রান্ত হয়, ফলে পেশী শক্তি হারায়। অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS) এও আজ্ঞাবহ নিউরোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কোন নিউরোন সরাসরি গ্রাহক (Receptor) বা কারক (Effector) অঙ্গের সাথে যুক্ত থাকে?
সংজ্ঞাবহ নিউরোন সরাসরি গ্রাহকের (Receptor) সাথে যুক্ত থাকে। আজ্ঞাবহ নিউরোন সরাসরি কারক অঙ্গের (Effector – পেশী বা গ্রন্থি) সাথে যুক্ত থাকে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন