এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সংজ্ঞা দাও। তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গবেগ কাকে বলে?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সংজ্ঞা দাও। তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গবেগ কাকে বলে?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় “আলো“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সংজ্ঞা দাও।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য – কোনো তরঙ্গের উপরিস্থিত সমদশায় কম্পিত পরপর দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে ওই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। তরঙ্গদৈর্ঘ্যের SI এককটি হল মিটার (metre)।
তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গবেগ কাকে বলে?
কম্পাঙ্ক – এক সেকেন্ডে কোনো মাধ্যমের মধ্যে যতগুলি পূর্ণতরঙ্গের সৃষ্টি হয়-সেই সংখ্যাকেই ওই তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। কম্পাঙ্কের SI একক হল – হার্জ (hertz বা Hz)।
তরঙ্গবেগ – একক সময়ে কোনো তরঙ্গ কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্বকেই তার তরঙ্গবেগ বলে। এর SI একক ms-1।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলতে কী বোঝায়?
কোনো তরঙ্গের উপরিস্থিত একই দশায় কম্পনরত পরপর দুটি বিন্দুর মধ্যকার দূরত্বকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। উদাহরণস্বরূপ, একটি তরঙ্গশীর্ষ থেকে পরবর্তী তরঙ্গশীর্ষের মধ্যকার দূরত্ব, অথবা একটি তরঙ্গপাদ থেকে পরবর্তী তরঙ্গপাদের মধ্যকার দূরত্বই হল তরঙ্গদৈর্ঘ্য। এর এসআই (SI) একক হল মিটার (m)।
তরঙ্গের কম্পাঙ্ক কী বোঝায়?
এক সেকেন্ড সময়ে কোনো মাধ্যমের একটি নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ অতিক্রম করে (বা উৎস যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি করে), সেই সংখ্যাটিই হল ঐ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক। এর এসআই (SI) একক হল হার্জ (Hz)। 1 Hz মানে হল প্রতি সেকেন্ডে 1টি পূর্ণ তরঙ্গ।
তরঙ্গবেগ কী?
একক সময়ে কোনো তরঙ্গ তার মাধ্যমের মধ্যে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকেই তার তরঙ্গবেগ বলে। এটি সেই বেগ যার সাথে তরঙ্গ শক্তি এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে সঞ্চারিত হয়। এর এসআই (SI) একক হল মিটার প্রতি সেকেন্ড (ms⁻¹)।
কম্পাঙ্ক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মধ্যে কী সম্পর্ক?
তরঙ্গবেগ স্থির থাকলে, কম্পাঙ্ক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মধ্যে একটি বিপরীত সম্পর্ক থাকে।
1. কম্পাঙ্ক বেশি হলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট হয়।
2. কম্পাঙ্ক কম হলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড় হয়।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ), কম্পাঙ্ক (f) এবং তরঙ্গবেগ (v) – এই তিনটির মধ্যে সম্পর্ক কী?
এই তিনটি রাশির মধ্যে একটি মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্কটি হল –
তরঙ্গবেগ (v) = কম্পাঙ্ক (f) × তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ)। অর্থাৎ, v = f × λ
। তরঙ্গবেগ, তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং কম্পাঙ্কের গুণফলের সমান।
শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বাড়লে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কী পরিবর্তন হয়?
যেহেতু একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমে (যেমন – বাতাস) শব্দের বেগ প্রায় স্থির, তাই কম্পাঙ্ক বাড়লে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে (ছোট হয়) এবং কম্পাঙ্ক কমলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়ে (বড় হয়)।
আলোর তরঙ্গের ক্ষেত্রে এই সূত্রটি প্রযোজ্য কি?
হ্যাঁ, এটি একটি সার্বজনীন সূত্র এবং শুধুমাত্র যান্ত্রিক তরঙ্গ (যেমন – শব্দ) নয়, বরং আলোর মতো তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের জন্যও প্রযোজ্য। শূন্যস্থানে সকল তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের বেগ সমান (আলোর বেগ, c), তাই সেখানে c = f × λ
সূত্রটি ব্যবহার করা হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সংজ্ঞা দাও। তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গবেগ কাকে বলে?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সংজ্ঞা দাও। তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গবেগ কাকে বলে?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় “আলো“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন