উপযোজন বলতে কী বোঝো? দূরের ও কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে উপযোজন কৌশল ব্যাখ্যা করো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “উপযোজন বলতে কী বোঝো? দূরের ও কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে উপযোজন কৌশল ব্যাখ্যা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উপযোজন বলতে কী বোঝো? দূরের ও কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে উপযোজন কৌশল ব্যাখ্যা করো।

উপযোজন বলতে কী বোঝো?

যে পদ্ধতিতে চক্ষু ও বস্তুর দূরত্বের পরিবর্তন সত্ত্বেও সিলিয়ারি পেশি ও লেন্সের বক্রতার হ্রাস-বৃদ্ধির সাহায্যে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় তাকে উপযোজন (Accomodation) বলে।

দূরের ও কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে উপযোজন কৌশল ব্যাখ্যা করো।

দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে সিলিয়ারি পেশি প্রসারিত হয়, ফলে লেন্সটি বক্রতা হ্রাস পেয়ে সরু হয়ে লম্বাটে হয়ে যায়। এতে লেন্সটির ফোকাস দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়।

কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে মিলিয়ারি পেশি সঙ্কুচিত হয়। ফলে বক্রতা বেড়ে গিয়ে লেন্স বেশি উত্তল হয়। অর্থাৎ, লেন্সটির ফোকাস দৈর্ঘ্য কমে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

উপযোজনের ক্ষমতা বয়সের সাথে কমে যায় কেন?

বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং সিলিয়ারি পেশি দুর্বল হয়। ফলে লেন্সের বক্রতা সহজে পরিবর্তন করা যায় না। এই অবস্থাকেই প্রেসবায়োপিয়া বা চালশে বলে।

উপযোজনের পরিসর বলতে কী বোঝায়?

উপযোজনের পরিসর হলো চোখের সেই নিকটতম ও দূরতম বিন্দুর মধ্যে দূরত্ব, যে সীমার মধ্যে অবস্থিত কোনো বস্তুকে চোখ লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন করে স্পষ্ট দেখতে পারে। সাধারণ তরুণ চোখের জন্য নিকটতম বিন্দু প্রায় ২৫ সেমি এবং দূরতম বিন্দু অসীমে থাকে।

দূরের বস্তু দেখার সময় চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য বেশি হয় না কম হয়?

দূরের বস্তু দেখার সময় সিলিয়ারি পেশি শিথিল হয়, লেন্স পাতলা ও কম উত্তল হয়। ফলে লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়। এটি চোখের একটি বিশ্রাম অবস্থা।

উপযোজন এবং প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য কী?

প্রতিসরণ হলো আলোর দিক পরিবর্তনের সাধারণ প্রক্রিয়া যখন এটি এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যায়। উপযোজন হলো চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তনের সক্রিয় প্রক্রিয়া, যা আলোর প্রতিসরণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তু স্পষ্ট দেখার জন্য।

অতিরিক্ত কাছের বস্তু দেখলে (যেমন মোবাইল ফোন ব্যবহার) চোখের কী ক্ষতি হয়?

দীর্ঘ সময় ধরে কাছের বস্তু দেখলে সিলিয়ারি পেশি ক্রমাগত সংকুচিত অবস্থায় থাকে, যাকে চোখের ক্লান্তি বা সিলিয়ারি পেশির স্প্যাজম বলে। এ থেকে মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অল্প বয়সে চশমা প্রয়োজনীয়তা হয়।

চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স পরলে উপযোজন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন হয় কি?

হ্যাঁ, চশমা বা লেন্স বাহ্যিক একটি অপটিক্যাল ব্যবস্থা যোগ করে। তবে চোখের নিজস্ব উপযোজন প্রক্রিয়া তার প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করে যায়। যেমন, দূরদৃষ্টির চশমা পরলে কাছের বস্তু দেখতে চোখকে আগের চেয়ে কম উপযোজন করতে হয়, অর্থাৎ সিলিয়ারি পেশির কম খাটুনি হয়।

উপযোজন কি শুধু মানুষের চোখে হয়?

না, উপযোজন শুধু মানুষের চোখেই হয় না। অনেক প্রাণীর চোখেই উপযোজন ক্ষমতা থাকে। তবে মানুষের চোখের মতো এত নিখুঁত ও উন্নত উপযোজন ক্ষমতা সবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। কিছু প্রাণীর চোখে লেন্স স্থির থাকে, আবার কিছু প্রাণীর চোখে লেন্স সামনে-পিছনে সরে গিয়ে ফোকাস সামঞ্জস্য করে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “উপযোজন বলতে কী বোঝো? দূরের ও কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে উপযোজন কৌশল ব্যাখ্যা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের পার্থক্য

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।

গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) কী? গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক কী? গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন ও তার বৈচিত্র্য – জীবনের প্রধান/মূল বৈশিষ্ট্য – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন ও তার বৈচিত্র্য – জীবনের প্রধান/মূল বৈশিষ্ট্য – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের পার্থক্য

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।

গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক কী? গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।