অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – শিলা – টীকা

Souvick

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের তৃতীয় অধ্যায় ‘শিলা’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার (WBBSE Class 8 Geography) জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জীবাশ্ম (Fossil) সম্পর্কে টীকা লেখো। 

জীবাশ্মের সংজ্ঞা – জীবাশ্ম = জীব + অশ্ম। জীব অর্থাৎ, যার জীবন আছে এবং ‘অশ্ম’ শব্দের অর্থ শিলা বা প্রস্তর। কোনো জীবদেহ শিলায় পরিণত হলে বা প্রস্তরীভূত হলে তাকে জীবাশ্ম বলে। জীবাশ্মের উৎপত্তি – সমুদ্রগর্ভে স্তরে স্তরে পলি সঞ্চিত হওয়ার সময় অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ওই স্তরের মধ্যে চাপা পড়ে যায়। কালক্রমে পলিস্তর জমাট বেঁধে শিলায় পরিণত হওয়ার সময় এগুলি প্রস্তরীভূত হয়ে জীবাশ্মে পরিণত হয়। এটি একমাত্র পাললিক শিলায় দেখতে পাওয়া যায়। জীবাশ্মের গুরুত্ব – পাললিক শিলাস্তরে প্রাপ্ত এই জীবাশ্মের গুরুত্ব অপরিসীম। এই জীবাশ্ম পরীক্ষা করে –

  • জীবের আবির্ভাবকাল জানা যায়।
  • শিলার বয়স জানা যায়।
  • বিভিন্ন যুগে জীবের বিবর্তন ও জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে জানা যায়।

জীবাশ্মের উদাহরণ – হিমালয় পর্বত সৃষ্টির সময় টেথিস সাগরের বিশাল পলি সঞ্চিত হয়। বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহ চাপা পড়ে এবং পলির সঙ্গে এগুলিও ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয়, তাই হিমালয়ে জীবাশ্ম দেখতে পাওয়া যায়।

জীবাশ্মের উৎপত্তি

গ্রানাইট (Granite) সম্পর্কে টীকা লেখো। 

গ্রানাইটের বৈশিষ্ট্য –

  • খনিজ – এই শিলা কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, মাইকা ও হর্নব্লেন্ড খনিজ দ্বারা গঠিত। রং হালকা সাদা, ধূসর থেকে গোলাপি বা লাল রঙের হয়।
  • কাঠিন্য – এই শিলা খুব শক্ত ও ভারী হওয়ায় এর ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
  • প্রবেশ্যতা – এই শিলা অপ্রবেশ্য।
  • দানার আকৃতি – এই শিলা খুব ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে জমাট বাঁধে বলে দানাগুলি বড়ো হয়, যার ব্যাস 3 মিমি-র বেশি।
  • অম্লত্ব – এই শিলায় সিলিকার পরিমাণ বেশি থাকায় একে আম্লিক শিলা বলে।
  • ভূমিরূপ – গ্রানাইট শিলাগঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ সাধারণত গোলাকার হয়।
  • অবস্থান/বণ্টন – ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক ও ঝাড়খণ্ডের ছোটোনাগপুর মালভূমি প্রভৃতি স্থানে গ্রানাইট শিলা দেখা যায়।
  • গ্রানাইটের ব্যবহার – রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি নির্মাণে এই শিলা ব্যবহৃত হয়।
গ্রানাইট

ব্যাসল্ট (Basalt) সম্পর্কে টীকা লেখো।

নিঃসারী আগ্নেয় শিলা হলো ব্যাসল্ট। এই শিলা দিয়ে মহাসাগরীয় ভূত্বক গঠিত হয়। ব্যাসল্টের বৈশিষ্ট্য –

  • খনিজ – কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, অলিভিন, পাইরক্সিন, হর্নব্লেন্ড, প্ল্যাজিওক্লেজ, লোহা প্রভৃতি খনিজ দ্বারা ব্যাসল্ট গঠিত।
  • রং – গাঢ় ধূসর থেকে কালো রঙের হয়।
  • কাঠিন্য – খুব ভারী, শক্ত এবং ক্ষয়প্রতিরোধী।
  • প্রবেশ্যতা – এই শিলায় উল্লম্ব ফাটল বা দারণ বেশি থাকায় এর প্রবেশ্যতা বেশি।
  • দানার আকৃতি – দ্রুত জমাট বেঁধে গঠিত হওয়ায় দানাগুলি সূক্ষ্ম, যার ব্যাস 1 মিমি-এর কম।
  • ক্ষারত্ব – ব্যাসল্ট শিলায় সিলিকার পরিমাণ কম, তাই এই শিলা ক্ষারকীয় প্রকৃতির।
  • ভূমিরূপ – ব্যাসল্ট শিলাগঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ চ্যাপটা বা চ্যাপটামাথা আকৃতির (Flat-topped) হয়।
  • অবস্থান/বণ্টন – মহারাষ্ট্রের লাভা মালভূমি ও গুজরাটের কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের সন্নিকটস্থ অঞ্চলে ব্যাসল্ট শিলা দেখা যায়।
  • ব্যাসল্টের ব্যবহার – ট্রেন লাইনের মাঝে এই শিলা রাখা হয়। বাড়ি তৈরিতেও এই শিলা ব্যবহৃত হয়।
ব্যাসাল্ট

চুনাপাথর (Limestone) সম্পর্কে টীকা লেখো।

জৈব বা রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা গঠিত অসংঘাত পাললিক শিলা হলো চুনাপাথর।

চুনাপাথরের বৈশিষ্ট্য –

  • উপাদান/খনিজ – প্রধানত ক্যালশিয়াম কার্বনেট বা ক্যালসাইট খনিজ দিয়ে গঠিত।
  • উৎপত্তি – ক্যালশিয়াম কার্বনেট রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অধঃক্ষিপ্ত হয়ে জমাট বেঁধে চুনাপাথরে পরিণত হয়। এছাড়া সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ থেকেও চুনাপাথর সৃষ্টি হয়।
  • রং – চুনাপাথর সাদা, ধূসর, সবুজ, কালচে রঙের হতে পারে।
  • কাঠিন্য – চুনাপাথরের কাঠিন্য কম। এটি নরম প্রকৃতির ও সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  • প্রবেশ্যতা – এই শিলার প্রবেশ্যতা বেশি।
  • ভূমিরূপ – চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে জলের দ্রবণ ক্রিয়ায় বিভিন্ন আকৃতির গর্তের ন্যায় ভূমিরূপ গড়ে ওঠে।
  • অবস্থান/বণ্টন – ইউরোপ মহাদেশের যুগোশ্লাভিয়ার আড্রিয়াটিক উপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল, ইংল্যান্ডের পিনাইন পর্বত, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপালেশিয়ান পার্বত্য অঞ্চলের পশ্চিম ঢাল, ভারতের কুমায়ুন অঞ্চল।
  • চুনাপাথরের ব্যবহার – সিমেন্ট তৈরিতে, লৌহ-ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়।
চুনাপাথর

বেলেপাথর (Sandstone) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বেলেপাথর এক ধরনের পাললিক শিলা। বালুকণা জমাট বেঁধে এই শিলার সৃষ্টি হয়। বেলেপাথরের বৈশিষ্ট্য –

  • খনিজ – কোয়ার্টজ, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন অক্সাইড, ক্যালশিয়াম কার্বনেট, সিলিকা।
  • রং – বেলেপাথর হলুদ, কমলা, লাল, সাদা, গোলাপি, ধূসর রঙের হয়।
  • কাঠিন্য – বেলেপাথর সাধারণত নরম। তবে সিলিকা দ্বারা গঠিত বেলেপাথর খুব কঠিন হয়। এর ক্ষয়প্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্ট বেশি।
  • প্রবেশ্যতা – বেলেপাথরের প্রবেশ্যতা ও সচ্ছিদ্রতা উভয়ই বেশি।
  • দানার আকৃতি – 0.06-2.0 মিমি ব্যাসযুক্ত দানা দ্বারা গঠিত।
  • বালুকণা – বেলেপাথরের বালুকার কণাগুলি কোয়ার্টজ বা এরকম কোনো কঠিন পদার্থ দ্বারা গঠিত হয়।
  • অবস্থান/বণ্টন – ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিকের আরাবল্লি পার্বত্য অঞ্চল এবং মধ্য ভারতের ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড়ি অঞ্চলে বেলেপাথর পাওয়া যায়।
  • বেলেপাথরের ব্যবহার – স্থাপত্যশিল্প ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণে (যেমন – লালকেল্লা, খাজুরাহোর মন্দির, সোনার কেল্লা প্রভৃতি) বেলেপাথর ব্যবহৃত হয়েছে।
বেলেপাথর

কাদাপাথর (Claystone) সম্পর্কে টীকা লেখো।

যান্ত্রিক উপায়ে গঠিত অত্যন্ত সূক্ষ্ম কর্দমময় পাললিক শিলা হলো কাদাপাথর। কাদাপাথরের বৈশিষ্ট্য –

  • রং – কাদাপাথর কালচে ধূসর রঙের হয়।
  • কাঠিন্য – কাদাপাথর বেশ নরম ও ভঙ্গুর প্রকৃতির।
  • প্রবেশ্যতা – কাদাপাথরের প্রবেশ্যতা কম কিন্তু সচ্ছিদ্রতা খুব বেশি। তাই এর জলধারণ ক্ষমতা বেশি।
  • দানার আকৃতি – 0.06 মিমি-এর কম ব্যাসযুক্ত অত্যন্ত মিহি দানা দ্বারা এই শিলা গঠিত।
  • স্তরায়ণ – কাদাপাথরের মধ্যে স্তরায়ণ খুব স্পষ্ট।
  • ভূমিরূপ – কাদাপাথর গঠিত অঞ্চল বিস্তীর্ণ সমভূমি অধ্যুষিত হয়। নরম প্রকৃতির এই শিলা আবহবিকার দ্বারা দ্রুত খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়। ফলে, সমগ্র অঞ্চলটির ভূমিরূপ দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
  • অবস্থান/বণ্টন – নদী, হ্রদ, সমুদ্রের তলদেশ থেকে কাদাপাথর সংগৃহীত হয়।
  • কাদাপাথরের ব্যবহার – এই শিলা স্তর বরাবর সহজে ভেঙে যায় বলে বাড়ির টালি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ভঙ্গুর হওয়ায় এই শিলাগঠিত অঞ্চলে বড়ো ধরনের নির্মাণকার্য করা উচিত নয়।
কাদাপাথর

মারবেল (Marble) সম্পর্কে টীকা লেখো।

চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মারবেল সৃষ্টি হয়। মারবেলের বৈশিষ্ট্য –

  • মূল শিলা – চুনাপাথর।
  • সৃষ্টির প্রক্রিয়া – প্রচণ্ড তাপের প্রভাবে চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মারবেলে পরিণত হয়।
  • রূপ – রূপান্তরের ফলে সৃষ্ট মারবেল পাথর দেখতে খুবই সুন্দর, মসৃণ ও চকচকে হয়।
  • রং – মারবেল সাদা, সবুজ, ধূসর, হলুদ, নীল নানা রঙের হয়।
  • প্রকৃতি – মারবেল যথেষ্ট নরম শিলা।
  • ক্ষয় – অ্যাসিডের সংস্পর্শে মারবেল দ্রুত ক্ষয়ে যায়। তাই অ্যাসিড বৃষ্টি মারবেলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
  • ভূমিরূপ – মারবেল অধ্যুষিত ভূমি সাধারণত অনুর্বর হয়। ভূমির উপরিভাগ এবড়োখেবড়ো, তরঙ্গায়িত ও বন্ধুর হয়ে থাকে। তবে দূর থেকে দেখতে খুবই সুন্দর লাগে, যেমন – রাজস্থানের কিষানগড়।
  • অবস্থান/বণ্টন – রাজস্থানের আরাবল্লি পার্বত্য অঞ্চল, হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চল ও মধ্য-দক্ষিণ ভারতের ক্ষয়জাত পাহাড় অঞ্চলে মারবেল পাথর পাওয়া যায়।
  • মারবেলের ব্যবহার – মারবেল নরম বলে এতে কারুকার্য করা সহজ হয়। তাই স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পে (যেমন- তাজমহল, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল) এই শিলার প্রচুর ব্যবহার দেখা যায়।
মারবেল (Marble)

স্লেট (Slate) সম্পর্কে টীকা লেখো।

কাদাপাথর বা শেলের রূপান্তরিত রূপ হলো স্লেট। স্লেটের বৈশিষ্ট্য –

  • খনিজ – কোয়ার্টজ, অভ্র, ফেল্ডসপার।
  • সৃষ্টির প্রক্রিয়া – প্রচণ্ড চাপে কাদাপাথর বা শেল স্লেটে পরিণত হয়।
  • প্রকৃতি – স্লেট বেশ মসৃণ।
  • রং – নীলচে ধূসর থেকে কালো রঙের হয়ে থাকে।
  • গঠন – স্লেট কঠিন, ঘন ও অত্যন্ত সূক্ষ্ম কণাবিশিষ্ট শিলা।
  • ক্ষয় – পাতলা পাতের আকারে স্লেট সহজে ভেঙে যায় এবং জলে নরম হয় না।
  • ভূমিরূপ – স্লেট গঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ সাধারণত সমতল প্রকৃতির হয়। জল ধরে রাখতে না পারার জন্য ভূমি প্রধানত অনুর্বর হয়ে থাকে।
  • অবস্থান/বণ্টন – প্রাচীন পাললিক শিলাস্তরযুক্ত অঞ্চল দীর্ঘকাল ধরে উত্তাপ ও চাপের প্রভাবে এই শিলায় পরিণত হয়েছে।
  • স্লেটের ব্যবহার –
    • স্লেট দিয়ে ঘরের টালি তৈরি করা হয়।
    • ব্ল্যাকবোর্ড তৈরিতে এবং লেখার কাজে স্লেট ব্যবহৃত হয়।
স্লেট

নিস্ (Niese) সম্পর্কে টীকা লেখো।

গ্রানাইট শিলা রূপান্তরিত হয়ে নিস্ শিলায় পরিণত হয়।

নিস্-এর বৈশিষ্ট্য –

  • খনিজ – কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, অভ্র, হর্নব্লেন্ড, অগাইট প্রভৃতি।
  • সৃষ্টির প্রক্রিয়া – তীব্র চাপ ও তাপের ফলে গ্রানাইট শিলা নিস্ শিলায় পরিণত হয়।
  • ক্ষয় – এই শিলা অত্যন্ত শক্ত ও ক্ষয় প্রতিরোধী।
  • খনিজের অবস্থান – অনেক নিস্ শিলাতে বলয় বা ব্যান্ডের আকারে খনিজগুলি একসঙ্গে সজ্জিত থাকে। এই ধরনের নিস্-কে ‘ব্যান্ডেড নিস্’ (Banded Gneiss) বলে। এর থেকে নির্দিষ্ট খনিজ সহজে সংগ্রহ করা যায়।
  • কাঠিন্য – গ্রানাইট শিলার তুলনায় নিস্ সামান্য কম শক্ত হতে পারে, তবে এটি যথেষ্ট দৃঢ়।
  • গঠন ও রং – এর খনিজের কণাগুলি বড়ো হয়। নিস্-এর রং ধূসর, সাদা ও ফিকে কালো হয়।
  • ভূমিরূপ – নিস্ শিলা গঠিত ভূমির উপরিভাগ কিছুটা সমতল বা ঢেউখেলানো প্রকৃতির হয়, কারণ এর কণাগুলি সমান্তরালভাবে সাজানো থাকে।
  • অবস্থান/বণ্টন – নিস্ যেহেতু পাতালিক আগ্নেয় শিলা গ্রানাইট থেকে সৃষ্টি হয়, তাই এটি মাটির অনেকটা নীচে অবস্থান করে। তবে ভূ-আন্দোলনের প্রভাবে বা ক্ষয়কাজের ফলে এটি কখনো কখনো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসে।
  • নিস্-এর ব্যবহার – রাস্তাঘাট তৈরিতে ও নির্মাণকার্যে এই শিলা ব্যবহৃত হয়।
নিস্

কার্স্ট ভূমিরূপ (Karst Landform) সম্পর্কে টীকা লেখো।

কার্স্ট ভূমিরূপের সংজ্ঞা – কার্স্ট (Karst) কথাটি শ্লোভেন শব্দ ‘ক্রাস’ (Kras) এর জার্মান রূপ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘উন্মুক্ত প্রস্তরক্ষেত্র’। মূলত চুনাপাথর দ্বারা গঠিত অঞ্চলে সৃষ্ট বিশেষ ভূমিরূপকে কার্স্ট ভূমিরূপ বলে।

কার্স্ট ভূমিরূপের উৎপত্তি – বৃষ্টির জলে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) উৎপন্ন করে। এই অ্যাসিড মিশ্রিত জল চুনাপাথরের (ক্যালশিয়াম কার্বনেট) সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া (দ্রবণ বা Carbonation) করে নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ গড়ে তোলে। কার্স্ট অঞ্চলের ভূমিরূপ – কার্স্ট অঞ্চলে নানা প্রকার ভূমিরূপ গড়ে ওঠে। গুহার অভ্যন্তরে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলো হলো –

  • স্ট্যালাকটাইট – চুনাপাথরের গুহার ছাদ বা ফাটল থেকে চুনমিশ্রিত জল নীচে ফোঁটায় ফোঁটায় নেমে আসে। জল বাষ্পীভূত হয়ে চুন জমাট বাঁধে এবং ছাদ থেকে ঝুড়ির বা স্তম্ভের মতো নীচের দিকে ঝুলতে থাকে, একে বলা হয় স্ট্যালাকটাইট।
  • স্ট্যালাগমাইট – যখন এই চুনমিশ্রিত জল গুহার মেঝেতে পড়ে এবং জল শুকিয়ে চুন জমা হয়ে উল্লম্ব স্তম্ভের আকারে ছাদের দিকে বাড়তে থাকে, তাকে স্ট্যালাগমাইট বলে।
  • স্তম্ভ (Pillar) – যখন ছাদ থেকে নেমে আসা স্ট্যালাকটাইট এবং মেঝে থেকে ঊর্ধ্বগামী স্ট্যালাগমাইট পরস্পর জুড়ে গিয়ে একটি অখণ্ড চুনাপাথরের স্তম্ভরূপে অবস্থান করে, তখন তাকে গুহাস্তম্ভ বা স্তম্ভ বলে।

কার্স্ট ভূমিরূপের উদাহরণ –

  • দেরাদুনের তপকেশ্বর।
  • মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি।
  • অন্ধ্রপ্রদেশের বোরা গুহা (Borra Caves) ও জয়ন্তী অঞ্চল।
কার্স্ট ভূমিরূপ

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের তৃতীয় অধ্যায় ‘শিলা’ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘টীকা’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ (চতুর্থ অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ টীকা

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – ‘চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ (চতুর্থ অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – শিলা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – শিলা – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর