এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কীরূপ ভূমিকা ছিল? উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভারতমাতা চিত্রটির অবদান কী ছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কীরূপ ভূমিকা ছিল? উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভারতমাতা চিত্রটির অবদান কী ছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায় “সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কীরূপ ভূমিকা ছিল?
1905 খ্রিস্টাব্দের স্বদেশি আন্দোলনের উন্মাদনার দিনে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর অঙ্কন করেন ‘বঙ্গমাতা’র ছবি, পরে ভগিনি নিবেদিতা এর নাম দেন ‘ভারতমাতা’। চতুর্ভুজা এই মাতৃমূর্তির চার হাতের এক-একটিতে ধরা আছে ধানের শিষ, শ্বেতবস্ত্র, পুস্তক এবং জপের মালা। অর্থাৎ সন্তানের প্রতি মায়ের দান অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা ও দীক্ষা। অবনীন্দ্রনাথের ‘ভারতমাতা’ নয়া জাতীয়তাবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। এই চিত্রের মধ্য দিয়ে অভয় ও সমৃদ্ধিদানকারী মাতৃদেবীর রূপকে কল্পনা করা হয়েছে। জাতীয়তাবোধের উজ্জীবনে ও স্বাদেশিকতার প্রচারে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভারতমাতা চিত্র নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভারতমাতা চিত্রটির অবদান কী ছিল?
জাতীয়তাবাদের ভূমিকা –
স্বদেশি যুগে বাংলায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পাশাপাশি সংস্কৃতির জগতেও জাতীয় চেতনার ব্যাপক ছাপ পড়েছিল। কেবল মাত্র কাব্য, নাটক, সংগীত বা উপন্যাসেই নয়, চিত্র-কলাতেও সে সময় দেশপ্রেম ও স্বাজাত্যবোধ ধরা পড়ে।
ভারতমাতা চিত্রের সৃষ্টি –
1905 খ্রিঃ স্বদেশি আন্দোলনের সময় সারা বাংলা দেশবন্দনা বা মাতৃবন্দনায় উত্তাল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1905 খ্রিঃ ‘ভারতমাতা’ চিত্রটি অঙ্কন করেন। যার পূর্বের নাম ছিল ‘বঙ্গমাতা’।
ভারতমাতা চিত্রের বর্ণনা –
গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত এই মাতৃ মূর্তিটি ছিল চতুঃর্ভুজা। তার চার হাতে ছিল বেদ, ধানের শিষ, জপের মালা ও শ্বেতবস্ত্র। অর্থাৎ এ গুলি সন্তানের প্রতি মায়ের দান – অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও দীক্ষা।
জাতীয়তাবাদের প্রসার –
জাতীয়তাবাদের প্রসারে ‘ভারতমাত’ চিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। যথা –
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারতমাতা’ চিত্রটি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। এই চিত্রের মধ্যদিয়ে সন্তানের প্রতি মায়ের অভয় শক্তি ও স্বদেশীয়ানাকে কল্পনা করা হয়েছে এবং এটিকে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ-বিরোধী প্রতীক হিসাবে তুলে ধরেছিলেন।
- বঙ্গ-ভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোল এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য ভারতমাতা চিত্রটিকে সবসময় আন্দোলনের সামনে রাখা হত।
ভারতমাতা চিত্রের উপসংহার –
সুতরাং ভারতমাতা চিত্রটি জাতীয়তাবাদীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে গতি এনেছিল। ‘লোকমাতা’ ভগিনী নিবেদিতা বলেছেন, এই চিত্রটির মধ্যদিয়ে ভারতের বিমূর্ত জাতীয়তাবাদ মূর্ত হয়ে উঠেছে। যদিও কেউ কেউ ‘ভারতমাতা’র চিত্র হিন্দু স্বদেশিকতার প্রভাব খুঁজে পান।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কীরূপ ভূমিকা ছিল? উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভারতমাতা চিত্রটির অবদান কী ছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কীরূপ ভূমিকা ছিল? উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভারতমাতা চিত্রটির অবদান কী ছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায় “সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন