আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের তৃতীয় অধ্যায়, ‘ইলিয়াস’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

বাকসির কারা? ইলিয়াসের বিষয়সম্পত্তি প্রথমে কেমন ছিল?
লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে রাশিয়ার এক বিশেষ সম্প্রদায়কে বাকসির বলা হয়েছে। এই সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবিকা ছিল পশুপালন ও চাষবাস করা।
ইলিয়াসের প্রথম জীবনে বিষয়সম্পত্তি বলতে ছিল – সাতটা ঘোটকী, দুটো গোরু এবং কুড়িটা ভেড়া।
‘বোলবোলাও’ শব্দের অর্থ কী? ‘বোলবোলাও’ এর কারণ লেখো।
‘বোলবোলাও’ শব্দের অর্থ হাঁকডাক তথা প্রতিপত্তি। ইলিয়াসের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে লেখক এই শব্দটির উল্লেখ করেছেন।
কারণ – প্রথম জীবনে ইলিয়াসের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও পঁয়ত্রিশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে অগাধ সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছিল সে। তখন তার দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মোষ আর বারোশো ভেড়া। ভাড়াটে মজুর দ্বারা গোরু-মোষের প্রতিপালন হয়, ভাড়াটে মজুরানিরা দুধ, মাখন, পনির ও কুমিস সংগ্রহ করে। ফলে এলাকায় ইলিয়াসের খ্যাতি, প্রতিপত্তি সঞ্চারিত হওয়ার প্রসঙ্গেই ‘বোলবোলাও’ শব্দটির উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ;’ – কে, কেন এ কথা বলেছিল?
উল্লিখিত অংশটি লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ শীর্ষক গল্প থেকে গৃহীত হয়েছে। প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা ইলিয়াসের জনৈক প্রতিবেশী।
এ কথা বলার কারণ – প্রথম জীবনে ইলিয়াসের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রচুর সম্পত্তির অধিকারী হয় সে। তখন তার দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মোষ ও বারোশো ভেড়া। ভাড়াটে মজুর দ্বারা গোরু-মোষের প্রতিপালন হয়। সেখান থেকে দুধ, মাখন ও পনির ও কুমিস সংগ্রহ করার কাজ ছিল তাদের। মোট কথা ইলিয়াসের খুব বাড়বাড়ন্ত ছিল। পাড়া প্রতিবেশী ঈর্ষার চোখে তাকে দেখত, তাই তার প্রভাব-প্রতিপত্তি সম্পর্কে ঈর্ষাকাতর হয়েই বিদ্রূপাত্মক এই উক্তিটি করা হয়েছে।
ধনী ইলিয়াসের আতিথেয়তা কীরূপ ছিল?
ইলিয়াসের আতিথেয়তা – ইলিয়াস অত্যন্ত অতিথিবৎসল ছিল। তাই দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলে তাদের সকলকেই স্বাগত জানিয়ে ভোজ্য পানীয় দিয়ে সেবা করে, কুমিস, চা, শরবত আর মাংস সহযোগে খাদ্য পরিবেশন করা হত। শুধু তাই নয়, অতিথি এলেই একটা বা দুটো ভেড়া মারা হত, অতিথিরা সংখ্যায় বেশি হলে কখনো-কখনো ঘোটকীও মারা হত।
পূর্বাবস্থায় ইলিয়াসের সংসার কেমন ছিল?
ইলিয়াসের প্রথম জীবনের সংসার – পূর্বাবস্থায় ইলিয়াস খুব ধনী বা দরিদ্র কোনোটাই ছিল না। সে আয়েশি জীবনযাপন করত না। তার বিষয়সম্পত্তি বলতে ছিল সাতটা ঘোটকী, দুটো গোরু আর কুড়িটি ভেড়া। আর তার সংসারের সদস্য বলতে ছিল তার স্ত্রী ও তার তিন ছেলেমেয়ে।
ইলিয়াসের অবস্থার উন্নতির কারণ কী?
ইলিয়াসের অবস্থার উন্নতি – ইলিয়াসের অবস্থার উন্নতির প্রধান কারণ তার নম্র স্বভাব ও সুযোগ্য বুদ্ধি। সেই সঙ্গে সে ছিল অতিথিবৎসল। তাই অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার যোগসূত্র ভালোই ছিল। এ ছাড়াও ইলিয়াস অত্যন্ত বিচক্ষণ ছিল। শুধু তাই নয়, মিতব্যয়ী হওয়ার কারণে সে প্রথম জীবনে সামান্য সম্পত্তির অধিকারী হলেও 35 বছরের মধ্যে অসম্ভব পরিশ্রম করে প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিল।
বড়োলোক হবার পর ইলিয়াসের সংসারটি কীরূপ ছিল?
বড়োলোক হওয়ার পর সংসার – প্রথম জীবনে ইলিয়াসের প্রভূত সম্পত্তি না থাকলেও পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সে অনেক সম্পত্তির অধিকারী হয়। তার দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মোষ, বারোশো ভেড়া ছিল। ভাড়াটে মজুরদের কাজ ছিল এদের দেখাশোনা করা। ইলিয়াসের প্রচুর প্রভাব প্রতিপত্তিতে প্রতিবেশীরা তাকে হিংসা করতে শুরু করল। প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হওয়ায় ইলিয়াসের ছেলেরা আয়েশি হয়ে উঠল।
ধনী ইলিয়াস কীভাবে বিত্তহীন হয়ে পড়ে?
বিত্তহীন হওয়া – মানবজীবনের উত্থানপতনের সুন্দর কাহিনি চিত্রিত হয়েছে ‘ইলিয়াস’ গল্পে। প্রথম জীবনে ইলিয়াস প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী না হলেও পরবর্তী জীবনের কঠোর পরিশ্রমে সে অনেক সম্পত্তি করেছিল। এই সময়ে তাঁর জীবন সাফল্যের চূড়া স্পর্শ করেছিল। কিন্তু বড়োলোক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেরা আয়েশি হয়ে পড়ল। বড়ো ছেলেটি মারামারিতে মারা গেল, ছোটো ছেলেটি পারিবারিক অশান্তির কারণে বাড়ি থেকে বিতাড়িত হল। এইসময় ছোটো ছেলেকে সম্পত্তি দিতে গিয়ে ইলিয়াসের সম্পত্তিতে টান পড়ল। এর উপর মড়ক লাগল – তার অনেক পোষ্য মরে গেল। দুর্দশার অন্তিমে পৌঁছে ইলিয়াস বিত্তহীন হয়ে পড়ল।
বৃদ্ধ দম্পতি কীভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ল?
লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পের মধ্যপর্বে বৃদ্ধ দম্পতিকে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়তে দেখা যায়।
তারা যেভাবে নিঃসঙ্গ হল – বিত্তবান ইলিয়াসের সংসারে একের পর এক দুর্বিপাক নেমে আসে। ফলে ইলিয়াসের সাজানো সংসার ভেঙে যায়। উচ্ছৃঙ্খল দুই ছেলের বড়োটি মারা যায়, ছোটো ছেলে বাবার অবাধ্য হয়ে পৈতৃক সম্পত্তির সিংহভাগ নিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর মেয়েটিও মারা গেলে বৃদ্ধ ইলিয়াস আর তার স্ত্রী বৃদ্ধা শাম-শেমাগি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। শক্তিহীন-বিত্তহীন-সর্বহারা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে দেখবার কেউ থাকে না।
সর্বহারা ইলিয়াসের সম্বল কী ছিল?
অনেক কষ্ট করে ইলিয়াস প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হলেও সেই সম্পত্তির শেষ রক্ষা করতে পারেনি। পিতা-পুত্রের সাংসারিক বিবাদ, অসুস্থতা ও নানা কারণে সে সর্বহারা হয়ে পড়েছিল। বৃদ্ধ বয়সে লোকের বাড়ি কাজ না করে আর উপায় থাকল না। এমনই সর্বহারা হয়ে পড়ল যে সম্বলের মধ্যে রইল শুধু কাঁধে একটা বোঁচকা-হাতে তাঁর লোমের তৈরি কোট, টুপি, জুতো আর বুট, আর তার বৃদ্ধা স্ত্রী শাম-শেমাগি।
ইলিয়াসের স্ত্রীর নাম কী? সে কীভাবে স্বামীকে সাহায্য করত?
ইলিয়াসের স্ত্রীর নাম ছিল শাম-শেমাগি।
শাম-শেমাগি অত্যন্ত ধীর স্বভাবের নারী। বরাবরই সে স্বামীর পাশে থেকেছে, ভালোমন্দের অংশীদারি হয়েছে। যখন ইলিয়াস নিঃস্ব হয়ে পড়ছে তখনও শাম-শেমাগি তাঁর সঙ্গী হয়েই পাশে থেকেছে। মহম্মদ শা-র বাড়িতে ইলিয়াস কাজ করার সময় তার স্ত্রী মনিবের ঘোটকী ও গোরুগুলির দুধ দুইতো আর কুমিস তৈরি করত। মোট কথা স্বামীর হাতে হাতে কাজ করে দেবার জন্য সর্বদাই সে স্বামীর পাশে থাকত এবং সাহায্য করত।
ইলিয়াসকে কেন মহম্মদ শা তার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিল?
মহম্মদ শা-র আশ্রয় দেওয়ার কারণ – ইলিয়াস অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিল। সম্পত্তির অধিকারী হয়েও তার স্বভাবের কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটেনি। পরবর্তীকালে যখন সে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তখন তার অবস্থা দেখে পাড়া-প্রতিবেশীদের করুণা হল। এরকমই এক প্রতিবেশী ছিল মহম্মদ শা। যে নিজে ধনীও নয়, দরিদ্রও নয়। কিন্তু ইলিয়াসের সর্বগুণ তাকে মুগ্ধ করেছিল। তাই মহম্মদ শা মনে মনে পরিকল্পনা করল যে, এমন একজন বিশ্বস্ত মানুষকে কাজে লাগাতে পারলে উভয়েরই ভালো হবে। তাই সবদিক বিবেচনা করে ইলিয়াসকে মহম্মদ শা তার বাড়িতে আশ্রয় দিল।
মহম্মদশা কে ছিল? কীসের বিনিময়ে ইলিয়াস তার বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিল?
মহম্মদ শা – মহম্মদ শা ‘ইলিয়াস’ গল্পের অন্যতম চরিত্র। ইলিয়াস সর্বস্ব খুইয়ে যখন বিপন্ন অবস্থার মধ্যে পড়েছিল, সেখান থেকে তখন তাকে উদ্ধার করার জন্য মহম্মদ শা-ই পাশে দাঁড়িয়েছিল।
যার বিনিময়ে – ইলিয়াস ছিল অত্যন্ত সৎ স্বভাবের মানুষ – এটা মহম্মদ শার অজানা ছিল না। খুব দরিদ্র অথবা খুব বিত্তবান – এর কোনোটিই মহম্মদ শা ছিল না। তবু তার তরমুজের খেতে বিভিন্ন কাজকর্ম ও শীতকালে গোরু-ঘোড়াগুলোকে খাওয়ানোর বিনিময়ে ইলিয়াস সস্ত্রীক আশ্রয় পেয়েছিল মহম্মদ শা-র বাড়িতে।
ইলিয়াসের অতিথিবৎসলতার কথা স্মরণ করে কার, কেন দুঃখ হল?
যার দুঃখ – ইলিয়াসের অতিথিবৎসলতার কথা স্মরণ করে তার প্রতিবেশী মহম্মদ শা-র খুব দুঃখ হল।
যে কারণে দুঃখ হল – ইলিয়াস অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিল। অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হলেও তার স্বভাবের কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটেনি। পরবর্তীকালে যখন সে নিঃস্ব হয়ে পড়ল তখন তার অবস্থা দেখে পাড়া-প্রতিবেশীদের করুণা হল। এরকমই একজন প্রতিবেশী মহম্মদ শা, সে নিজে ধনীও নয় আবার দরিদ্রও নয়। ইলিয়াসের অতিথিবৎসলতার কথা স্মরণ করে তার খুব দুঃখ হল।
প্রতিবেশীর সংসারে কীভাবে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সহজেই মানিয়ে নিয়েছিল?
যেভাবে ইলিয়াসরা মেনেছিল – প্রথম জীবনে বিত্তবান না হওয়ার কারণে দারিদ্র্যের সংস্পর্শে এসেছিল ইলিয়াস। এরপর পঁয়ত্রিশ বছরের পরিশ্রমে প্রভূত সম্পত্তির মালিক হয় সে। কিন্তু এর ফলে তার স্বভাবের কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটেনি। কিন্তু পুনরায় দরিদ্র হওয়ার পর তারা বিপদে পড়লে, মহম্মদশা-ই তাদের আশ্রয় দেয়। সেখানে ক্ষেতের কাজকর্মের পাশাপাশি গোরু, ঘোড়া, ঘোটকীগুলিকে খাওয়ানোর কাজ করত সে। প্রথম প্রথম কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে তা সয়ে যেতে লাগল। জীবনকে সুস্থ ও স্বাভাবিক করার জন্য তারা প্রতিবেশীর সংসারে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিল।
মোল্লা কে? তারা কীভাবে আপ্যায়িত হল?
মোল্লা – লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে মোল্লা চরিত্রের পরিচয় আছে। ইলিয়াস বৃদ্ধজীবনে মহম্মদ শা-র বাড়িতে কাজ করত। একদিন মহম্মদ শার একদল আত্মীয় অনেকদূর থেকে তার বাড়িতে অতিথি হয়ে এল। এদের মধ্যে একজন ছিল মোল্লা।
যেভাবে আপ্যায়িত হয় – ইলিয়াস অত্যন্ত অতিথিবৎসল ছিল। নিজের সাধ্য না থাকলেও মনিবের আদেশমতো সে তাদের যথেষ্ট অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। মহম্মদ শা ইলিয়াসকে একটা ভেড়া এনে মারতে বলল। ইলিয়াস তার চামড়া ছাড়িয়ে, সেদ্ধ করে অতিথিদের কাছে পাঠিয়েছিল। অতিথিরা খাওয়াদাওয়ার পর চা খেল, কুমিস খেল। এসবই ইলিয়াস জোগান দিয়েছিল।
“সত্যি, ভাগ্য যেন চাকার মতো ঘোরে” – এ কথা কে বলেছিল? কখন বলেছিল?
যে বলেছিল – ‘ইলিয়াস’ গল্পটিতে ইলিয়াসের জীবনের উত্থানপতনের দিকটি চিত্রিত হয়েছে। প্রথম জীবনে পঁয়ত্রিশ বছরের পরিশ্রমে প্রচুর সম্পত্তি করলেও ভাগ্যের দোষেই তাকে পরবর্তীকালে সমস্ত কিছু হারাতে হয়। এসময় ইলিয়াস মহম্মদ শা-র বাড়িতে আশ্রয় নেয়। একদিন মহম্মদ শা-র একদল আত্মীয় অনেকদূর থেকে তার বাড়িতে আসে। সেই অতিথিদের মধ্যেই একজন উল্লিখিত কথাটি বলেছিল।
যখন বলেছিল – মহম্মদ শা-র পরামর্শমতো ইলিয়াস অতিথিদের সাদর অভ্যর্থনা জানাল। মহম্মদ শা ইলিয়াসকে একটা ভেড়া এনে মারতে বলল। সঙ্গে চা, কুমিস দিতেও সে ভুলল না। যখন সে খাবার পরিবেশন করছিল তখন এক অতিথি উল্লিখিত উক্তিটি করেছিল।
মহম্মদ শা-র বাড়িতে আগত অতিথিদের সামনে ইলিয়াসের ব্যবহার কীরূপ ছিল?
মহম্মদ শা-র বাড়িতে দূরাগত অতিথিদের আপ্যায়নের ভার পড়েছিল ইলিয়াসের উপর। সে যথাযথ আপ্যায়নে অতিথিদের পরিতুষ্ট করেছিল।
ইলিয়াসের ব্যবহার – সন্তুষ্ট হয়ে অতিথিরা তাকে কাছে ডেকে কথা বলেছিল। গৃহকর্তা অদূরে থাকা ইলিয়াসকে ‘বাবাই’ বলে ডেকেছিল। প্রথমে সে নমস্কার করে সেই ঘরে প্রবেশ করে, আবারও নমস্কার করে অতিথিদের সম্মানজ্ঞাপন করে। বৃদ্ধের সৌজন্য ও সদ্ব্যবহারে মুগ্ধ হয় সমাগত অতিথিদল।
কেন শাম-শেমাগিকেই দুঃখসুখের কথা অতিথিদের সামনে বলতে হল?
কারণ – শাম-শেমাগি ইলিয়াসের সহধর্মিণী। জীবনের সুখ থেকে দুঃখ – এই সমস্ত পর্যায়েই সে তার স্বামীর যথার্থ সঙ্গিনী। একসময়ের বিত্তবান ইলিয়াস দরিদ্র হবার পর তার জীবনে পর্বান্তর ঘটে। এই পর্বান্তরের নীরব সাক্ষী শাম-শেমাগি। এ ছাড়া সে ভালো কথা সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলতে পারত। তাই ইলিয়াসের জীবনের উত্থানপতনের যথার্থ সাক্ষী হিসেবে সে-ই সেসব কথা সুন্দরভাবে বলতে পারবে। তাই শাম-শেমাগিকেই দুঃখসুখের কথা অতিথিদের সামনে বলতে হল।
“স্বামীও হাসছে।” – ‘স্বামী’ কে? তার হাসির কারণ কী?
আলোচ্য অংশটি লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ শীর্ষক ছোটোগল্প থেকে গৃহীত প্রশ্নাংশে ‘স্বামী’ বলতে ইলিয়াসকে বোঝানো হয়েছে।
হাসির কারণ – শেষ জীবনে জীবনের যথার্থমর্ম বা জীবনদর্শনের বাস্তবসত্যটি ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগি বুঝতে পেরেছিল। তাদের দুঃখের কথায় অতিথিরা দুঃখিত হলেও জীবনে সুখের সন্ধান পাওয়ায় তারা খুব আনন্দিত ছিল। তাই অতিথিদের সামনে এই কথাগুলি বলতে তাদের কোনো কষ্ট হয়নি, বরং আনন্দই হয়েছে। তাই সে হেসে হেসেই ঘটনা ব্যক্ত করেছে আর তার সঙ্গী হয়েছে ইলিয়াস।
ধনী ইলিয়াসের সংসারে সুখ ছিল না কেন?
ধনী ইলিয়াসের অসুখের কারণ – অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পর ইলিয়াস প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিল। কিন্তু ধনী হবার পরেও একমুহূর্তের জন্য শান্তি ছিল না তাদের। ইলিয়াস ও তার স্ত্রী বসে দুটো সুখ-দুঃখের কথা বলবে সেই সময়ও ছিল না। অন্যদিকে দুশ্চিন্তাও সঙ্গ নিয়েছিল তাদের। অতিথিরা এলে তাদের যেন সামান্যতম ত্রুটি না হয় তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল, তার উপর মজুরেরা যাতে ফাঁকি না দেয়, সেই চিন্তাও কম ছিল না। ঈশ্বরের আরাধনার সময়ও তাদের ছিল না। নেকড়েতে ঘোড়ার বাচ্চা বা গোরুর বাছুর নিয়ে গেল কি না সেই চিন্তা – শীতের জন্য যথেষ্ট খাবার মজুত আছে কি না এ নিয়েও চিন্তা ছিল। এ ছাড়া স্বামী স্ত্রীর মধ্যেও মতের অমিল ছিল। তার উপর ছিল ছেলেদের আয়েশি হয়ে ওঠা – সব মিলিয়ে ধনী ইলিয়াসের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। সংসারে প্রকৃত সুখ ছিল না।
“আর এখন?” – ‘এখন’ বলতে কোন্ সময়কে বোঝানো হয়েছে? সে সময়ে কী হয়েছিল?
এখন – ‘এখন’ বলতে ইলিয়াসের শেষ জীবনের কথাই বলা হয়েছে। সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থ হারানোর পর ইলিয়াস মহম্মদ শা-র বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে অতিথিদের কাছে সুখদুঃখের প্রসঙ্গ আলোচনা করতে গিয়ে ‘এখন’ কথাটি এসেছে।
যা হয়েছিল – পূর্বে ইলিয়াসের জীবনে যখন প্রভূত সম্পত্তি ছিল সেই সময় তার জীবন থেকে প্রকৃত সুখ বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু পুনরায় দারিদ্র্যে উপনীত হলে তারা যখন আশ্রয়দাতা প্রতিবেশীর বাড়িতে থাকতে শুরু করল তখন উপলব্ধি করেছিল জীবনের প্রকৃত সুখকে। সেই সময় ইলিয়াস ও তার স্ত্রী একসঙ্গে সকালে উঠত, সুখ-দুঃখের গল্প করত। ঝগড়াও ছিল না, দুশ্চিন্তাও ছিল না। যতটা পারত স্বেচ্ছায় পরিশ্রম করত, বাড়িতে এসে খাবার ও কুমিস খেয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত করত। শীতকালে শরীর গরম রাখার লোমের কোট ছিল, ছিল ভাববার মতো সময়, সময় ছিল ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার। এই সময়টি ছিল ইলিয়াসের জীবনের মূল্যবান সময়। প্রশ্নাংশে এই সময়ের কথাই বলা হয়েছে।
‘বন্ধুগণ হাসবেন না।’ – এ কথা কে, কেন বলেছে?
বক্তা, কারণ – উল্লিখিত উদ্ধৃতিটির বক্তা ইলিয়াস। স্বয়ং ইলিয়াসের জীবনে ছিল সুখদুঃখের উত্থানপতনের ইতিহাস। তাই একসময় প্রচুর ধনী হওয়া সত্ত্বেও সেই সময়ে তারা প্রকৃত সুখ খুঁজে পায়নি। নানা চিন্তায় তাদের জীবন অশান্ত হয়ে উঠেছিল, কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে মহম্মদ শা-র বাড়িতে আশ্রয় পেয়ে তারা প্রকৃত সুখের সন্ধান পেয়েছে। এখানেই তারা তাদের জীবনের সমস্ত সুখলাভে সিদ্ধ হয়েছে। পঞ্চাশ বছর ধরে প্রকৃত সুখ খুঁজে খুঁজে আজ এতদিনে তার সন্ধান পেয়েছে তারা। মানুষ ভাবে জীবনে অর্থই সব। সেই অর্থ থাকাকালীন তারা কোনো সুখ পায়নি, অর্থ অর্থহীন হবার পর সুখের সন্ধান পেয়েছে – এ কথা শুনেই অতিথিরা যখন হেসে উঠেছে তখন তাদের উদ্দেশে ইলিয়াস উল্লিখিত উক্তিটি করেছে।
অতিথিরা কখন ও কেন ভাবতে বসল?
যখন ভাবল – লিও তলস্তয়ের লেখা ‘ইলিয়াস’ গল্পের একেবারে শেষে দেখা যায়, ইলিয়াসের আপাত অবিশ্বাস্য জীবনকাহিনি শুনে অতিথিরা বিস্মিত হয়ে পড়ে। এই কাহিনি যে কঠিন সত্য, উপহাস না করে তা বিশ্বাস করতে অনুরোধ করে ইলিয়াস। উপস্থিত মোল্লা সে ঘটনার সারবত্তা উপলব্ধি করে এবং ধর্মগ্রন্থে সেই সত্যের সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পেয়ে সে কাহিনিকে সত্য বলে গ্রহণ করে। তখন সমাগত অতিথিরা ভাবতে বসে।
কারণ – ইলিয়াসের জীবনের চমকপ্রদ উত্থান ও দুঃখজনক পতনের কাহিনি শুনে তাদের মধ্যে মিশ্র এক ভাবের জন্ম হয়। কিন্তু মোল্লার সরব সমর্থন পাবার পর তাদের মধ্যে আর কোনো দ্বিধা থাকে না – গভীর ভাবনায় সে জীবনসত্যকে তারা গ্রহণ করে নেয়। গ্রহণের সেই প্রস্তুতির জন্যই অতিথিবর্গ ভাবিত হয়।
“এই তার যা কিছু বিষয়-সম্পত্তি।” — কার, কোন্ বিষয়সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তির বিষয়সম্পত্তি – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশে “তার” বলতে রাশিয়ার উফা প্রদেশে বসবাসকারী বাশকির জনগোষ্ঠীভুক্ত ইলিয়াসের কথা বোঝানো হয়েছে।
বিষয়সম্পত্তির পরিচয় – প্রথম দিকে ইলিয়াসের খুব বেশি সম্পত্তি ছিল না। তার বাবার মৃত্যুর সময় তিনি ইলিয়াসের জন্য যে সম্পত্তি রেখে গিয়েছিলেন, তা হল সাতটি ঘোটকী, দুটি গরু এবং কুড়িটি ভেড়া। এই বিষয়সম্পত্তির কথাই প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে বলা হয়েছে।
“প্রতি বছরই তার অবস্থার উন্নতি হতে লাগল।” — কার অবস্থার, কীভাবে উন্নতি হতে লাগল?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশে ইলিয়াসের অবস্থার উন্নতির কথা বোঝানো হয়েছে।
অবস্থার উন্নতি – ইলিয়াসের বাবা যখন মারা যান, তখন তিনি সম্পত্তি বলতে সাতটি ঘোটকী, দুটি গরু এবং কুড়িটি ভেড়া রেখে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইলিয়াসের বুদ্ধি ও পরিশ্রমে সেই সম্পত্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে। ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন। এর ফলেই তাদের অবস্থার ক্রমশ উন্নতি হতে থাকে।
“পাশাপাশির সকলেই তাকে ঈর্ষা করে।” — তাকে বলতে কার কথা বলা হয়েছে? সেই ব্যক্তিকে ঈর্ষার কারণ কী?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশে “তাকে” বলতে কাহিনির প্রধান চরিত্র বাশকির জনগোষ্ঠীভুক্ত ইলিয়াসকে বোঝানো হয়েছে।
ঈর্ষার কারণ – পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইলিয়াস বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে। দুশো ঘোড়া, দেড়শো গরু-মোষ, বারোশো ভেড়া ও ভাড়াটে মজুরদের মনিব হয়ে ওঠে ইলিয়াস। তার এই সমৃদ্ধি এবং প্রচুর ধনসম্পত্তি দেখেই প্রতিবেশীরা ঈর্ষা করতে শুরু করে।
“ইলিয়াসের তখন খুব বোলবোলাও” — বোলবোলাও শব্দের অর্থ উল্লেখ করে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
অর্থ – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে ব্যবহৃত “বোলবোলাও” শব্দের অর্থ হল নামডাক বা খ্যাতি।
তাৎপর্য – দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং সুব্যবস্থাপনায় ইলিয়াস বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে। দুশো ঘোড়া, দেড়শো গরু-মোষ এবং বারোশো ভেড়াসহ ভাড়াটে মজুর-মজুরনিদের মনিবে পরিণত হয় ইলিয়াস। ক্রমশ তার খ্যাতি এবং পরিচিতি দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণেই, আশেপাশের সকলেই তাকে ঈর্ষা করতে থাকে।
“ইলিয়াসের তখন খুব বোলবোলাও।” — বোলবোলাও বলতে কী বোঝানো হয়েছে? এর ফল কী হয়েছে?
বোলবোলাও অর্থ – “বোলবোলাও” শব্দের অর্থ হলো নামডাক বা খ্যাতি।
এর পরিণতি – দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের কঠোর পরিশ্রমে ইলিয়াস প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে এবং তার খ্যাতি ও প্রতিপত্তি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে প্রতিবেশীরা সকলেই তাকে ঈর্ষা করতে শুরু করে। তারা মন্তব্য করে যে ইলিয়াস ভাগ্যবান পুরুষ, তার কোনো কিছুরই অভাব নেই। তার তাই মরবারও দরকার নেই।
“দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসে।” — অতিথিরা কার সঙ্গে দেখা করতে আসত? সে অতিথিদের কীভাবে সেবা করত?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে দূরদূরান্ত থেকে খ্যাতনামা ব্যক্তিরা ইলিয়াসের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।
সেবার ধরন – অতিথিপরায়ণ ইলিয়াস অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে সকলকেই অত্যন্ত খাতির করতেন। তার বাড়িতে আগত অতিথির সংখ্যা অনুযায়ী একাধিক ভেড়া কিংবা ঘোটকী জবাই করা হত। কুমিস, চা, শরবত ইত্যাদি উৎকৃষ্ট খাদ্য ও পানীয় দিয়ে ইলিয়াস অতিথিদের সেবা করতেন।
“ইলিয়াসের বাড়ি থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো।” — কাদের, কীভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হল?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে ইলিয়াস তার ছোটো ছেলে এবং বউমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তাড়িয়ে দেওয়ার পন্থা – ইলিয়াসের ছোটো ছেলের স্ত্রী ছিল অত্যন্ত ঝগড়াটে। বিয়ের পর থেকেই তারা ইলিয়াসের আদেশ অমান্য করতে শুরু করেছিল। সেই কারণেই ক্ষুব্ধ ইলিয়াস তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। তবে ধর্মপরায়ণ ইলিয়াস একটি বাড়ি এবং কিছু গরু-ঘোড়া তাদের দিয়েছিলেন।
“ইলিয়াসের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ল।” — ইলিয়াসের অবস্থা কীভাবে খারাপ হয়ে পড়ল?
অবস্থার অবনতি – ইলিয়াস গল্পে নিজের বিতাড়িত পুত্রকে একটি বাড়ি, কিছু গরু-ঘোড়া দেওয়ায় ইলিয়াসের সম্পত্তিতে কিছুটা টান পড়ে। এরপরই ভেড়ার পালে মড়ক লেগে তার অনেকগুলি ভেড়া মারা যায়। পরের বছর দুর্ভিক্ষে খড়ের অভাবে শীতকালে অনেক গরু-মোষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। এর ওপর আবার কিরঘিজরা ইলিয়াসের ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিলে ইলিয়াসের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে।
“সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ল।” — এখানে “সে” বলতে কার কথা বলা হয়েছে? সে কীভাবে সর্বহারা হয়ে পড়ল?
“সে”-র পরিচয় – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে “সে” বলতে ইলিয়াসকে বোঝানো হয়েছে।
সর্বহারা হয়ে পড়া – একদা বিপুল সম্পত্তির মালিক ইলিয়াস তার অবাধ্য ও বিতাড়িত ছোটো ছেলেকে একটি বাড়ি এবং কিছু সংখ্যক গরু-ঘোড়া দিয়ে দেওয়ার ফলে তার সম্পত্তিতে টান পড়ে। এরপর মড়ক ও দুর্ভিক্ষের কারণে তার অনেকগুলি ভেড়া এবং গরু-মোষ মারা গেলে, আর কিরঘিজরা তার ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিলে তার দুর্দশা চরমে ওঠে। সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস তার পশমের কোট, কম্বল, ঘোড়ার জিন, তাঁবু এবং সবশেষে গৃহপালিত পশুগুলি বিক্রি করে সর্বহারা হয়ে পড়ে।
“বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্য করবার তখন কেউ নেই!” — বৃদ্ধ দম্পতি বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের সাহায্য করার কেউ নেই কেন?
বৃদ্ধ দম্পতির পরিচয় – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে বৃদ্ধ দম্পতি বলতে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগিকে বোঝানো হয়েছে।
সাহায্য করার কেউ না থাকার কারণ – একদা বিপুল সম্পত্তির মালিক ইলিয়াস যখন মড়ক, দুর্ভিক্ষ, চুরি ইত্যাদির ফলে সর্বহারা হয়ে পড়ে, তখন তার বিতাড়িত ছোটো পুত্রও অনেক দূরদেশে বসবাস করত। তাদের একমাত্র মেয়েটিও মারা গিয়েছিল। ফলে বৃদ্ধ ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর চরম দুর্দশায় তাদের সাহায্য করার মতো নিজের কেউ ছিল না।
“ইলিয়াসের অতিথি-বৎসলতার কথা স্মরণ করে তার খুব দুঃখ হলো।” — কার দুঃখের কথা বলা হয়েছে? সে দুঃখ নিবারণের জন্য কী করল?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে ইলিয়াসের প্রতিবেশী মুহাম্মদ শাহের দুঃখের কথা বলা হয়েছে।
দুঃখ নিবারণ – ইলিয়াস যেভাবে অতিথিদের আদর-যত্ন করতেন, সে-কথা মনে করে মুহাম্মদ শাহ বৃদ্ধ ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে তার বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দিলেন। তিনি ইলিয়াসকে তার সাধ্য অনুযায়ী গ্রীষ্মকালে তার তরমুজের খেতে কাজ করতে এবং শীতকালে গরু-ঘোড়াগুলি দেখাশোনা করতে, আর তার স্ত্রীকে দুধ দোওয়া ও কুমিস তৈরির কাজ করার প্রস্তাব দেন। এর বিনিময়ে তাদের থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হবে। এরপরেও অতিরিক্ত কিছু লাগলে মুহাম্মদ শাহ তা-ও ইলিয়াস দম্পতিকে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
“ইলিয়াস প্রতিবেশীকে ধন্যবাদ দিল।” — কোন্ প্রতিবেশীর কথা বলা হয়েছে? তাকে ধন্যবাদ দেওয়ার কারণ কী?
প্রতিবেশীর পরিচয় – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশে প্রতিবেশী বলতে মুহাম্মদ শাহের কথা বলা হয়েছে।
ধন্যবাদ দেওয়ার কারণ – সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে ইলিয়াস নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া ইলিয়াসের ছোটো ছেলেও অনেক দূরদেশে থাকত, তার মেয়েও মারা গিয়েছিল। চূড়ান্ত দুর্দশায় অসহায় ইলিয়াসকে দয়ালু প্রতিবেশী মুহাম্মদ শাহ সাধ্য অনুযায়ী কাজের বিনিময়ে নিজের বাড়িতে থাকা ও খাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাদের এই চরম বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রতিবেশী মুহাম্মদ শাহকে ইলিয়াস ধন্যবাদ দিয়েছিলেন।
“ক্রমে ক্রমে সব সয়ে গেল।” — “সয়ে যাওয়া” শব্দের অর্থ উল্লেখ করে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখো।
অর্থ – তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশে “সয়ে যাওয়া” বলতে সহ্য হয়ে যাওয়া বা মানিয়ে নেওয়া বোঝানো হয়েছে।
তাৎপর্য – বৃদ্ধ ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগি বিপুল সম্পত্তি হারিয়ে সর্বহারা হয়ে প্রতিবেশী মুহাম্মদ শাহের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন। এর বিনিময়ে ইলিয়াসকে গ্রীষ্মকালে মুহাম্মদ শাহের তরমুজ খেতে কাজ করতে হত এবং শীতকালে গরু-ঘোড়াদের দেখাশোনা করতে হত। তার স্ত্রী শাম-শেমাগির কাজ ছিল ঘোটকীর দুধ দোওয়া ও কুমিস তৈরি করা। প্রথমদিকে ভাড়াটে মজুরের মতো কাজ করে খেতে কষ্ট হলেও মনের জোরে ধীরে ধীরে তাদের সব সয়ে গেল।
“তাকে দেখতে পেয়ে মুহাম্মদ শাহ অতিথিদের বলল” — “তাকে” বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তার সম্পর্কে মুহাম্মদ শাহ অতিথিদের কী বলল?
“তাকে”-র পরিচয় – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্প থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে “তাকে” বলতে একসময়ের ধনী কিন্তু বর্তমানে সর্বহারা বৃদ্ধ ইলিয়াসকে বোঝানো হয়েছে।
অতিথিদের উদ্দেশ্যে মুহাম্মদ শাহের বক্তব্য – মুহাম্মদ শাহ তার বাড়িতে আসা অতিথিদের জিজ্ঞাসা করে দরজার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বৃদ্ধ মানুষটিকে তাঁরা দেখেছেন কি না। কারণ ওই বৃদ্ধের নাম ইলিয়াস, যে একসময় সেই অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী ও অতিথিপরায়ণ ব্যক্তি ছিল। তার সুখ্যাতি বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন সে সর্বহারা এবং নিজের স্ত্রীর সঙ্গে মুহাম্মদ শাহের বাড়িতে ভাড়াটে মজুরের কাজ করে।
“বুড়ো-বুড়িকে রেখে মুহাম্মদ শাহরও লাভ হলো” — বুড়ো-বুড়ি বলতে যাদের কথা বলা হয়েছে, তাদের রেখে মুহাম্মদ শাহর কী লাভ হল?
মুহাম্মদ শাহর লাভের দিক – ইলিয়াস গল্পে বুড়ো-বুড়ি বলতে বৃদ্ধ ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগিকে বোঝানো হয়েছে।
ইলিয়াস দম্পতি নিজেরাই একসময় মনিব ছিলেন। ফলে সব রকমের কাজে তারা পারদর্শী ছিলেন। তাছাড়া তারা অলসও ছিলেন না। মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে থেকে খাওয়া ও পরার বিনিময়ে তারা সাধ্যমতো নিরলস পরিশ্রম করতেন। এর ফলে ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে রেখে মুহাম্মদ শাহর লাভই হয়েছিল।
“অতিথি সবিস্ময়ে জিভ দিয়ে চুঁক-চুঁক শব্দ করল।” — অতিথি কে? তাঁদের বিস্ময়ের কারণ কী?
অতিথির পরিচয় – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্প থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত অতিথি হলেন মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে আগত মোল্লা সাহেবের আত্মীয়।
বিস্ময়ের কারণ – অতিথিরা সকলেই ইলিয়াস ও তার সুনামের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তাকে কখনও চোখে দেখেননি। তাই একসময় যে ইলিয়াস বিত্তশালী ও অতিথিপরায়ণ ছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার দুর্দশার কথা শুনে এবং ভাগ্যের চরম পরিহাস ভেবে অতিথি বিস্মিত হলেন।
“লোকটির সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি কি?” – বক্তব্যটির প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।
প্রেক্ষাপট – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে একজন ধর্মপ্রাণ মোল্লা সাহেব-সহ বেশ কয়েকজন অতিথি হয়ে এসেছিলেন। সেখানে মজুরের কাজে রত একদা বিত্তশালী ইলিয়াসের কথা জানতে পেরে অতিথিদের মধ্যে একজন তার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। অতীত জীবনের সুখসমৃদ্ধি হারিয়ে বর্তমানের দুরবস্থায় জীবন সম্পর্কে ইলিয়াসের কী উপলব্ধি, সেই বিষয়ে কথা বলার জন্যই অতিথি ইলিয়াসের সঙ্গে দেখা করতে চান।
“অতিথি তাকে জিজ্ঞাসা করল” — অতিথি কাকে, কী জিজ্ঞাসা করল?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি ও অতিথির জিজ্ঞাস্য – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশে অতিথি বলতে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মোল্লা সাহেবের আত্মীয়, যাঁরা মুহাম্মদ শাহর বাড়ি অতিথি হয়ে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজনের কথা বলা হয়েছে। অতিথি ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অতীত জীবনের সুখসমৃদ্ধির কথা মনে করে এবং বর্তমানের দুরবস্থার কথা ভেবে ইলিয়াসের কষ্ট হয় কি না।
“এ বিষয়ে তিনিই পুরো সত্য বলতে পারবেন।” — “তিনি” বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তিনি সত্য বলতে পারবেন কেন?
“তিনি”-র পরিচয় – ইলিয়াস গল্পে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশে “তিনি” বলতে ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগির কথা বোঝানো হয়েছে।
সত্য বলতে পারার কারণ – মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে আগত অতিথিরা ইলিয়াসের কাছে জানতে চান যে অতীতের সুখসমৃদ্ধির কথা স্মরণ করে বর্তমান দুঃসময়ের জীবন তাকে কষ্ট দেয় কি না। উত্তরে ইলিয়াস বলে যে, এ বিষয়ে তার স্ত্রী শাম-শেমাগিই ভালো বলতে পারবেন। একজন মহিলা হওয়ায় তার মুখের কথায় মনের প্রকৃত ইচ্ছাই প্রকাশ পাবে।
“আগেকার সুখ আর এখনকার দুঃখ সম্পর্কে তোমার মনের কথাটা বলো তো!” – আগেকার সুখ আর এখনকার দুঃখ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আগেকার সুখ – ইলিয়াস গল্পে মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে আসা এক অতিথি ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগিকে এই কথা বলেছেন। একসময় ইলিয়াস ছিলেন সেই অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার খ্যাতি ও প্রাচুর্যে ভরা জীবনযাপনের দিনগুলিকে এখানে “আগেকার সুখ” বলা হয়েছে।
এখনকার দুঃখ – ভাগ্যের পরিহাসে ধনী ইলিয়াস দম্পতি সর্বহারায় পরিণত হন। ইলিয়াসদের এই দুর্দশার দিনে প্রতিবেশী মুহাম্মদ শাহ তার বাড়িতে ভাড়াটে মজুরের কাজের মাধ্যমে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। “এখনকার দুঃখ” বলতে ইলিয়াস দম্পতির এই সর্বহারা, দারিদ্র্যে ভরা বর্তমান জীবনের কথা বলা হয়েছে।
“পর্দার আড়াল থেকে শাম-শেমাগি বলতে লাগল।” — শাম-শেমাগি কী বলতে লাগল?
শাম-শেমাগির বক্তব্য – ইলিয়াস গল্পে মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে আগত অতিথির প্রশ্নের উত্তরে ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি তার মনের কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি এবং তার স্বামী ইলিয়াস সুখ খুঁজে পাননি। অনেক সম্পদ থাকলেও মানসিক সুখশান্তি তাদের ছিল না। দুশ্চিন্তা ও পাপবোধে সবসময়ই তারা জর্জরিত হয়ে থাকতেন। কিন্তু সর্বহারা হয়ে ভাড়াটে মজুরের মতো দিন কাটানোর দ্বিতীয় বছরেই তারা মনের শান্তি ও প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছেন। জীবনের কাছ থেকে তাদের আর কিছু চাওয়ার নেই।
“অতিথিরা বিস্মিত।” — অতিথিরা বিস্মিত হলেন কেন?
বিস্মিত হওয়ার কারণ – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে অতীত জীবনের সুখ এবং বর্তমান জীবনের দুঃখের দিক থেকে জীবন সম্পর্কে ইলিয়াস দম্পতির উপলব্ধির কথা জানতে চেয়েছিলেন মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে আগত একজন অতিথি। এর উত্তরে ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি তাঁদের জানান যে পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবনে প্রচুর ধনসম্পদের অধিকারী হয়েও তারা সুখ খুঁজে পাননি। কিন্তু সর্বহারা হয়ে ভাড়াটে মজুরের জীবন কাটানোয় তারা প্রকৃত সুখের সন্ধান পেয়েছেন। এই কথা শুনে অতিথিরা বিস্মিত হন।
“আমি সত্য কথাই বলছি, তামাশা করছি না।” – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
তাৎপর্য – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে আসা এক অতিথির প্রশ্নের উত্তরে ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি বলেছিলেন, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবনে প্রচুর ধনসম্পদ থাকলেও সুখ ছিল না। কিন্তু সর্বহারা হয়ে ভাড়াটে মজুরের মতো জীবনযাপনের মাঝেই তারা এমন সুখের সন্ধান পেয়েছেন যে আর কিছুই তারা চান না। এ কথা শুনে অতিথিরা এবং বাড়ির মালিক অবাক হলে শাম-শেমাগি তাঁদের বলেন যে তিনি সত্য কথা বলছেন, তামাশা বা মজা করছেন না।
“দুশ্চিন্তারও অন্ত ছিল না।” — কাদের, কী নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না?
উদ্দিষ্ট ও দুশ্চিন্তার বিষয় – ইলিয়াস গল্পে মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে আসা অতিথিদের শাম-শেমাগি আগের ধনী জীবনে তাদের দুশ্চিন্তার কথা বলেছেন। বাড়িতে অতিথি এলে তাঁদের আপ্যায়নে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, তা নিয়ে যেমন দুশ্চিন্তা ছিল, তেমনই উদ্বেগ ছিল মজুররা ঠিকমতো কাজ করছে কি না সে বিষয়েও। নেকড়ের আক্রমণে কিংবা চোরের উপদ্রবে গরু বা ঘোড়ার বাচ্চার কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, ভেড়ার সদ্যোজাত বাচ্চাগুলো ঠিক আছে কি না কিংবা পোষ্যদের জন্য শীতকালের খড় মজুত আছে কি না—চিন্তা ছিল তা নিয়েও। ফলে একটি দুশ্চিন্তা দূর হওয়ার সাথে সাথে অপর দুশ্চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠত।
“সেও তো পাপ।” — কে, কোন্ কাজকে পাপ বলেছে?
বক্তা – ইলিয়াস গল্পে শাম-শেমাগি কথাটি বলেছেন।
পাপ কাজের পরিচয় – উদ্ধৃতিটি গল্পটিতে দু-বার ব্যবহৃত হয়েছে। বিপুল ধনসম্পদ থাকার সময় ইলিয়াস দম্পতি অনেক মজুরদের মনিব ছিলেন। নিজেদের স্বার্থেই তারা মজুরদের ওপর কড়া নজর রাখতেন। জীবনের প্রকৃত সত্য বোঝার পর এই কাজটিকে শাম-শেমাগি পাপ বলে মনে করেছেন। অন্যদিকে, কোনো কাজ কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে শাম-শেমাগির সঙ্গে তার স্বামী ইলিয়াসের মতবিরোধ হত। স্বামীর সঙ্গে মতের মিল না হওয়াকেও পাপ বলে মনে করেছেন শাম-শেমাগি।
“সুখী জীবন কাকে বলে কোনোদিন বুঝিনি।” – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখো।
প্রসঙ্গ – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে মুহাম্মদ শাহর বাড়িতে আগত একজন অতিথির প্রশ্নের উত্তরে শাম-শেমাগি তার ও ইলিয়াসের দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে এ কথা বলেছেন।
তাৎপর্য – জীবন সম্পর্কে উপলব্ধি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান, একসময় ধনী জীবনে তারা কখনও সুখের সন্ধান পাননি। তাদের জীবনে মনের কথা ভাবার কিংবা বলার, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার সুযোগ ছিল না। শুধু এক দুশ্চিন্তা থেকে আর-এক দুশ্চিন্তায় তাদের জীবন কেটে গেছে। সুখকে খুঁজে ফিরলেও সুখ তাদের কাছে ধরা দেয়নি কখনও।
“কিন্তু ঘুমোবার উপায় নেই।” — কাদের, কেন ঘুমোবার উপায় ছিল না?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে ইলিয়াস দম্পতির ঘুমোবার উপায় ছিল না। একসময় ইলিয়াস দম্পতি প্রচুর গরু, ঘোড়া ও ভেড়ার মালিক ছিলেন। ওই দিনগুলোতে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় তাদের দুশ্চিন্তা হত ভেড়াগুলো তাদের বাচ্চাদের হয়তো চেপে মেরে ফেলল। এই দুশ্চিন্তায় তাদের সারারাত ঘুম আসত না। এ ছাড়াও, চোরের উপদ্রব কিংবা নেকড়ের আক্রমণে তাদের পোষ্যদের বা তাদের শাবকদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাতেও ইলিয়াস দম্পতির রাতে ঘুম আসত না।
“পঞ্চাশ বছর ধরে সুখ খুঁজে খুঁজে এতদিনে পেয়েছি।” — এই সুখের পরিচয় দাও।
সুখের পরিচয় – লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পে বৃদ্ধ ইলিয়াস দম্পতি অবশেষে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবন পেরিয়ে সুখ খুঁজে পেয়েছেন।
দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তাদের কেটেছে প্রাচুর্যে। শাম-শেমাগি এ প্রসঙ্গে বলেন, সেই জীবনে নিজেদের জন্য তাদের কোনো সময় ছিল না। এমনকি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করারও সময় ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সর্বহারা হয়ে ভাড়াটে মজুরের কাজ করে তারা প্রকৃত সুখের সন্ধান পেয়েছেন। মনিবের সেবা করার ফাঁকে নিজেদের মধ্যে সুখ-দুঃখের কথা আলোচনা করা কিংবা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানানোর জন্যও যথেষ্ট সময় আছে। অর্থের দুশ্চিন্তাও আর তাদের নেই।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের তৃতীয় অধ্যায়, ‘ইলিয়াস’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন