বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়? বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুবিধাগুলি এবং অসুবিধা

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুবিধাগুলি এবং অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো। বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুবিধাগুলি এবং অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো। বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “পরিবেশের জন্য ভাবনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুবিধাগুলি এবং অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো। বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়?

বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুবিধাগুলি এবং অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো।

বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুবিধা –

  • বায়ুশক্তিকে ক্রমাগত ব্যবহার করলেও এর ভান্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই অর্থাৎ বায়ুশক্তি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস।
  • বায়ুশক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক খরচ একটু বেশি হলেও নিয়মিত ব্যবহারে খরচ অত্যন্ত কম। বায়ুকল চালানোর জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া আর কোনো খরচ নেই।
  • বায়ুশক্তি পরিবেশ বান্ধব।
  • বায়ুশক্তি ব্যবহারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমে, ফলে সেগুলি সংরক্ষণ করা যায়।
  • বায়ুশক্তি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বায়ুকে বিনা খরচেই পাওয়া যায়।

বায়ুশক্তি ব্যবহারের অসুবিধা –

  • তীব্র বায়ু প্রবাহ যুক্ত কেবলমাত্র মেরু এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে বায়ুশক্তি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।
  • বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের খরচ বেশি।
  • বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে খুব কম পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
  • আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। বায়ু প্রবাহ কম থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়।
  • বায়ুকলগুলির পাখা জোড়ে ঘোরায় উৎপন্ন উচ্চ শব্দ তরঙ্গ শব্দদূষণ ঘটায়।

বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়?

প্রবাহিত বায়ুর গতিশক্তিই হল বায়ুশক্তি। প্রবাহিত বায়ুর গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বায়ুকলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। প্রবাহিত বায়ু বায়ুকলের পাখাকে প্রচণ্ড গতিতে ঘোরায়। বায়ুকলের বায়ুচক্রের কেন্দ্রীয় অক্ষদণ্ডের সঙ্গে বৈদ্যুতিক জেনারেটরের টারবাইনকে সংযুক্ত করা হয়। বায়ুকলের পাখা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে টারবাইনে প্রবল ঘূর্ণনের সৃষ্টি হয় ফলে টারবাইনে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

বায়ুশক্তি কী?

বায়ুশক্তি হল প্রবাহিত বায়ুর গতিশক্তি, যা বায়ুকল (Wind Turbine) এর মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা হয়।

বায়ুশক্তির প্রধান সুবিধাগুলি কী কী?

বায়ুশক্তির সুবিধাগুলি হল –
1. পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি – বায়ুশক্তির ভান্ডার কখনো ফুরায় না।
2. পরিবেশবান্ধব – কার্বন নিঃসরণ কম, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করে।
3. কম অপারেশনাল খরচ – একবার স্থাপন করলে শুধু রক্ষণাবেক্ষণ খরচ থাকে।
4. মুক্ত ও বিনামূল্যের উৎস – বায়ু প্রকৃতি থেকে বিনা খরচে পাওয়া যায়।

বায়ুশক্তির অসুবিধাগুলি কী?

বায়ুশক্তির অসুবিধাগুলি হল –
1. অবস্থানের সীমাবদ্ধতা – শুধুমাত্র তীব্র বায়ুপ্রবাহযুক্ত এলাকায় (মেরু অঞ্চল, উপকূল) কার্যকর।
2. উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ – বায়ুকল স্থাপনের খরচ বেশি।
3. অনিয়মিত শক্তি উৎপাদন – বায়ুর গতি কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়।
4. শব্দদূষণ – বায়ুকলের পাখা ঘোরার সময় শব্দদূষণ সৃষ্টি করে।

বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ কীভাবে উৎপন্ন হয়?

বায়ুর গতিশক্তি বায়ুকলের পাখা ঘুরায় → পাখার ঘূর্ণন টারবাইনে সঞ্চালিত হয় → জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

বায়ুশক্তি কি সব জায়গায় ব্যবহার করা যায়?

না, শুধুমাত্র যে অঞ্চলে নিয়মিত ও শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ থাকে (যেমন: উপকূল, মরুভূমি, উচ্চভূমি), সেখানেই বায়ুশক্তি কার্যকর।

বায়ুশক্তি কি জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে ভালো?

হ্যাঁ, কারণ এটি নবায়নযোগ্য, পরিবেশদূষণ কম করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী। তবে এটি আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল, তাই একমাত্র শক্তি উৎস হিসেবে ব্যবহার করা কঠিন।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুবিধাগুলি এবং অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো। বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুবিধাগুলি এবং অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো। বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “পরিবেশের জন্য ভাবনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? অথবা, পাতলা লেন্সের আলোককেন্দ্র বলতে কী বোঝায়?

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? আলোক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? আলোক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে? উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্সের মধ্যে পার্থক্য

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা