এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “কৃষিকাজ ও উদ্যানবিদ্যায় কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোন -এর ব্যাবহারিক প্রয়োগ আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান এবং রাসায়নিক সমন্বয়-হরমোন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষিকাজ ও উদ্যানবিদ্যায় কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোন -এর ব্যাবহারিক প্রয়োগ আলোচনা করো।
কৃষিকাজ ও উদ্যানবিদ্যায় কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোন -এর ব্যাবহারিক প্রয়োগ –
উদ্ভিদ হরমোনগুলি বর্তমানে রসায়নাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে ব্যাপকহারে কৃষিকাজ ও উদ্যানবিদ্যায় সফলভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। এরকম কয়েকটি প্রয়োগক্ষেত্র হল –
- বীজহীন ফল উৎপাদন বা পার্থেনোকার্পি – পরাগযোগ ও নিষেক ছাড়াই আকারে বড়ো, প্রয়োজনে সমস্ত ঋতুতে এবং বীজহীন ফল উৎপাদনে IAA, IBA ও NAA প্রভৃতি কৃত্রিম অক্সিন প্রয়োগ করে আপেল, নাসপাতি, পেয়ারা, পেঁপে, আঙুর, তরমুজ, কুমড়ো প্রভৃতির ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়।
- আগাছা দমন – চাষের জমিতে আগাছা তৈরি হলে, তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিষ্কার করে ফেলতে হয়, না হলে আগাছাগুলি মাটি থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে মাটির উর্বরতা হ্রাস করে। এ ছাড়া বিভিন্ন রোগ উৎপাদনেও আগাছাগুলি প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই চাষের জমিতে অল্প পরিমাণে এবং অল্প গাঢ়ত্বে কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোন প্রয়োগ করা হয়। আগাছা দমনের জন্য ব্যবহৃত হরমোনগুলি হল – 2,4-D, 2,4,5-T এবং MCPA।
- অঙ্গজ জননের জন্য কলম তৈরি – গোলাপ, বেল, জুঁই, টগর, জবা, ডালিয়া, লেবু প্রভৃতি গাছের কলম তৈরি করতে এবং দ্রুত মূল উৎপাদনের জন্য অপরিণত শাখার কর্তিত স্থানে NAA, IBA প্রভৃতি কৃত্রিম অক্সিন ব্যবহার করা হয়।
- ফুলের আকার বৃদ্ধি – ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, Camellia (ক্যামেলিয়া), জিরানিয়াম প্রভৃতি ফুলের আকার বৃদ্ধিতে জিব্বেরেলিন প্রয়োগ করা হয়। ফুলগাছের কাক্ষিক মুকুলের পরিস্ফুটনে এই হরমোন প্রয়োগ করা হয়।
- ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি – ধান ও গমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে LAA, পাটের তন্তুর পরিমাণ বৃদ্ধি করতে NAA, সবজির সুগঠিত মূল তৈরিতে IBA প্রয়োগ করা হয়।
- উদ্ভিদ অঙ্গের অকালপতন রোধ – উদ্ভিদের অপরিণত অঙ্গের অকালপতন রোধে বিভিন্ন কৃত্রিম অক্সিন হরমোন (2, 4-D, NAA) প্রয়োগ করা হয়। ফলের বৃন্তে মোচনস্তর উপস্থিত থাকায় 50%-70% ফল পাকবার আগেই ঝরে পড়ে। এক্ষেত্রে ফলের বৃন্তে কৃত্রিম অক্সিন, কৃত্রিম জিব্বেরেলিন অথবা কৃত্রিম সাইটোকাইনিন প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
- জরা রোধ – উদ্যানবিদ্যায় এবং নানারকম সবজি, ফলের গাছ বৃদ্ধি বা জরা অবস্থা বিলম্বিত করতে, পাতাবাহার গাছকে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে কৃত্রিম সাইটোকাইনিন হরমোন প্রয়োগ করা হয় অর্থাৎ সাইটোকাইনিন উদ্ভিদের কোশ বিভাজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
- বীজের অঙ্কুরোদ্গম – বীজের সুপ্তাবস্থা দূর করে অঙ্কুরোদ্গম ঘটাতে বিভিন্ন কৃত্রিম জিব্বেরেলিন (GA1, GA2, GA3) প্রয়োগ করা হয়।
- ক্ষতস্থান পূরণ – আপেল, নাসপাতি, কুল, পেয়ারা ইত্যাদি ফল, গোলাপ, জবা ইত্যাদি ফুলগাছের ডাল ছাঁটার পর 1% IAA (কৃত্রিম অক্সিন) স্প্রে করে ক্ষতস্থানে জীবাণু সংক্রমণ রোধ করে কেলাস গঠনে সাহায্য করা হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “কৃষিকাজ ও উদ্যানবিদ্যায় কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোন -এর ব্যাবহারিক প্রয়োগ আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান এবং রাসায়নিক সমন্বয়-হরমোন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment