এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন ও কাজ উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন ও কাজ উল্লেখ করো।
সুষুম্নাশীর্ষক থেকে উৎপন্ন হয়ে মেরুদণ্ডের নিউরাল ক্যানালের মধ্য দিয়ে প্রথম কটিদেশীয় কশেরুকার (L1) প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশ স্তম্ভের ন্যায় অংশ গঠন করে এবং প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে সুষুম্নাকাণ্ড বলে।
সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন –
- সুষুম্নাকাণ্ড মেনিনজেস নামক ত্রিস্তরীয় আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।
- সুষুম্নাকাণ্ড সুষুম্নাশীর্ষক থেকে উৎপন্ন হয়ে মেরুদণ্ডের নিউরাল ক্যানালের মধ্য দিয়ে প্রথম লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি করোটির পিছন দিকে ফোরামেন ম্যাগনাম নামক ছিদ্র দিয়ে মেরুদণ্ডে প্রবেশ করে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুষুম্নাকাণ্ডের দৈর্ঘ্য প্রায় 45 সেমি বা 18 ইঞ্চি এবং প্রস্থ 1.25 সেমি, এর গড় ওজন 30 গ্রাম।
- সুষুম্নাকাণ্ডটি চোঙের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট কিন্তু এর ‘অঙ্কীয় এবং পৃষ্ঠতল কিছুটা চাপা। সুষুম্নাকাণ্ডের অঙ্কীয় দেশের মধ্যরেখা বরাবর একটি গভীর খাঁজ আছে, একে অঙ্কীয় মধ্যখাঁজ বলে। পৃষ্ঠদেশের মধ্যরেখা বরাবর একটি অগভীর খাঁজ থাকে, তাকে পৃষ্ঠীয় মধ্যখাঁজ বলে।
- সুষুম্নাকাণ্ডের মাঝের গহ্বরকে কেন্দ্রীয় নালি বা সেন্ট্রাল ক্যানাল বা নিউরোসিল বলে। এর চারদিকে ইংরেজির ‘H’ অক্ষরের ন্যায় ধূসর বস্তু থাকে এবং ধূসর বস্তুর চারদিকে শ্বেতবস্তু থাকে।
- কেন্দ্রীয় নালি বা সেন্ট্রাল ক্যানাল বা নিউরোসিলের মধ্যে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) থাকে।
- সুষুম্নাকাণ্ড থেকে মানুষের 31 জোড়া সুষুম্নাস্নায়ু উৎপন্ন হয়।
সারভাইক্যাল 8 জোড়া
থোরাসিক 12 জোড়া
লাম্বার 5 জোড়া
স্যাক্রাল 5 জোড়া
কক্সিজিয়াল 1 জোড়া
মোট সুষুম্নাস্নায়ু 31 জোড়া

সুষুম্নাকাণ্ডের কাজ –
- প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ – বিভিন্ন প্রতিবর্ত ক্রিয়াতে সুষুম্নাকাণ্ড স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের কেন্দ্র – সুষুম্নাকান্ডের থোরাসিক এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় লাম্বার খণ্ডগুলি সিমপ্যাথেটিক এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্যাক্রাল খণ্ড প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পেশিটান নিয়ন্ত্রণ – সুষুম্নাকাণ্ড পেশিটান ও রক্তবাহের অভ্যন্তরীণ ব্যাস নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তবাহের গহ্বরের ব্যাস নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করে।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন ও কাজ উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment