অ্যাকুয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী? ভিট্রিয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী?

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অ্যাকুয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী? ভিট্রিয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাকুয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী? ভিট্রিয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী?
Contents Show

অ্যাকুয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী?

অ্যাকুয়াস হিউমর – লেন্স এবং কর্নিয়ার মাঝে যে প্রকোষ্ঠটি থাকে, তাকে অ্যাকুয়াস প্রকোষ্ঠ বলে। এই অ্যাকুয়াস প্রকোষ্ঠে অবস্থিত জলীয় পদার্থটিকে অ্যাকুয়াস হিউমর বলে।

অ্যাকুয়াস হিউমর এর কাজ – এটি প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং লেন্স ও কর্নিয়াকে পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী?

ভিট্রিয়াস হিউমর – লেন্স এবং রেটিনার মাঝে যে প্রকোষ্ঠটি থাকে, তাকে ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠ বলে। এই ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠটি একটি স্বচ্ছ জেলির মতো ঘন তরল দ্বারা পূর্ণ থাকে, একে ভিট্রিয়াস হিউমর বলে।

ভিট্রিয়াস হিউমর এর কাজ – এটি প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং চোখের ভিতরের চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

অ্যাকুয়াস হিউমর কোথায় উৎপন্ন হয়?

এটি চোখের সিলিয়ারি বডি থেকে নিঃসৃত হয়।

অ্যাকুয়াস হিউমরের প্রধান উপাদান কী?

এটি প্রধানত পানি (প্রায় 98%), ইলেক্ট্রোলাইট (সোডিয়াম, পটাশিয়াম), এসকরবিক অ্যাসিড, প্রোটিন এবং গ্লুকোজ দ্বারা গঠিত।

অ্যাকুয়াস হিউমরের চাপ বেড়ে গেলে কী হয়?

এর নিষ্কাশন পথ বন্ধ বা বাধাপ্রাপ্ত হলে চোখের ভিতরের চাপ (ইন্ট্রাওকুলার প্রেশার) বেড়ে যায়, যা গ্লুকোমা রোগের প্রধান কারণ।

ভিট্রিয়াস হিউমর কি নিঃসৃত হয় এবং পুনর্নবীকরণ হয়?

না, ভিট্রিয়াস হিউমর ভ্রূণাবস্থায় তৈরি হয় এবং সাধারণত জীবনভর একই থাকে (বা খুব ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়)। এটি পুনঃউৎপাদন বা দ্রুত প্রতিস্থাপিত হয় না।

ভিট্রিয়াস হিউমরের ঘন জেলির মতো গঠনের কারণ কী?

এটি হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, কলাজেন ফাইবার এবং জলের একটি নেটওয়ার্ক দ্বারা গঠিত, যা এটিকে জেলির মতো স্থিতিস্থাপক এবং ঘন গঠন দেয়।

বয়সের সাথে সাথে ভিট্রিয়াস হিউমরে কী পরিবর্তন হয়?

বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি তরলীকৃত (লিকুইফাই) হতে শুরু করে এবং সঙ্কুচিত হয়, যাকে “ভিট্রিয়াস ডিট্যাচমেন্ট” বলে। এই প্রক্রিয়ায় কলাজেন ফাইবার জমাট বেঁধে “ফ্লোয়াটার্স” বা “মাছি উড়া” দেখার অনুভূতি তৈরি করে।

ভিট্রিয়াস হিউমর ক্ষতিগ্রস্ত বা বের হয়ে গেলে কি পুনরায় তৈরি হয়?

সাধারণত না। চোখের অস্ত্রোপচারে (ভিট্রেক্টমি) এটি সরিয়ে ফেলা হলে, সাধারণত লবণ-পানি বা বিশেষ তেল/গ্যাস/সিলিকন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা শরীর নিজে থেকে নতুন ভিট্রিয়াস তৈরি করে না।

ভিট্রিয়াস হিউমর এবং রেটিনা ছিড়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক কী?

ভিট্রিয়াস হিউমর সঙ্কুচিত হওয়ার সময় যদি রেটিনার সাথে এর সংযোগ শক্তিশালী হয়, তাহলে এটি রেটিনাকে টেনে ছিঁড়ে দিতে পারে, যা একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা।

অ্যাকুয়াস এবং ভিট্রিয়াস হিউমরের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

অ্যাকুয়াস এবং ভিট্রিয়াস হিউমরের মধ্যে মূল পার্থক্য –
1. স্থিতি – অ্যাকুয়াস হল পানির মতো তরল ও গতিশীল, ভিট্রিয়াস হল স্থির জেলি।
2. পুনর্নবীকরণ – অ্যাকুয়াস ক্রমাগত তৈরি ও নিষ্কাশিত হয়, ভিট্রিয়াস সাধারণত আজীবন থাকে।
3. অবস্থান – অ্যাকুয়াস কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্যবর্তী সামনের চেম্বারে; ভিট্রিয়াস লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী পেছনের বড় চেম্বারে।
4. মূল কাজ – অ্যাকুয়াস পুষ্টি সরবরাহ ও চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা রাখে; ভিট্রিয়াস চোখের গোলক আকার ও চাপ বজায় রাখা এবং আলো পরিবহনে ভূমিকা রাখে।

চোখে রক্তক্ষরণ বা ইনফেকশন হলে এই তরলগুলোর কী হয়?

অ্যাকুয়াস হিউমরে প্রদাহ বা রক্ত (হাইফেম) জমা হলে তা স্বচ্ছতা হারায় ও দৃষ্টি ঝাপসা করে। ভিট্রিয়াস হিউমরে রক্তক্ষরণ (ভিট্রিয়াস হেমোরেজ) বা ইনফেকশন (এন্ডোফথ্যালমাইটিস) হলে তা জেলিকে অস্বচ্ছ করে তোলে, যা গুরুতর দৃষ্টি loss এবং জরুরি চিকিৎসার কারণ।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অ্যাকুয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী? ভিট্রিয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের পার্থক্য

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।

গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) কী? গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক কী? গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন সংগঠনের স্তর – জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন সংগঠনের স্তর – জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন সংগঠনের স্তর – জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন সংগঠনের স্তর – জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন ও তার বৈচিত্র্য – জীবনের নানা বৈচিত্র্যের শ্রেণিবিন্যাস : ট্যাক্সোনমি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর