এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এবং পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও। সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এবং পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এবং পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও।
সমবেদী বা সিমপ্যাথেটিক –
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত যে সকল স্নায়ুগুলি সুষুম্নাকাণ্ডের থোরাসিক এবং লাম্বার থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিস্তৃত অঞ্চলের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে সমবেদী (Sympa-thetic) স্নায়ুতন্ত্র বলে।
পরাসমবেদী বা প্যারাসিমপ্যাথেটিক –
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত যে সকল স্নায়ু করোটি এবং সুষুম্নাকাণ্ডের স্যাক্রাল খণ্ডে থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে পরাসমবেদী (Parasympathetic) স্নায়ুতন্ত্র বলে।
সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এবং পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
সমবেদী এবং পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য –
| সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র | পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র |
| এটি সুষুম্নাকাণ্ডের বক্ষদেশীয় এবং লাম্বার খণ্ডক থেকে সৃষ্ট হয়। | এটি মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের স্যাক্রাল খণ্ড থেকে সৃষ্ট হয়। |
| এই স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত স্নায়ুগ্রন্থিগুলি প্রতিটি কশেরুকার কাছে এবং দুপাশে শৃঙ্খলের ন্যায় সজ্জিত থাকে। | এই স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত স্নায়ুগ্রন্থিগুলি সুষুম্নাকাণ্ড থেকে দূরে সজ্জিত থাকে। |
| এই স্নায়ুতন্ত্র সমগ্র দেহে বিস্তৃত থাকে। | দেহে এই স্নায়ুতন্ত্রের বিস্তার সীমিত। |
| মেরুদণ্ডীয়, প্রাক্-মেরুদণ্ডীয় এবং প্রান্তীয় স্নায়ুগ্রন্থি নিয়ে গঠিত। | শুধুমাত্র প্রান্তীয় স্নায়ুগ্রন্থি নিয়ে গঠিত। |
| প্রাক্ স্নায়ুগ্রন্থির অন্তর্ভুক্ত স্নায়ুতন্তুর প্রান্ত থেকে অ্যাসিটাইল কোলিন এবং পশ্চাদ স্নায়ুগ্রন্থির অন্তর্ভুক্ত স্নায়ুতন্তুর প্রান্ত থেকে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরিত হয়। | প্রাক্ এবং পশ্চাদ স্নায়ুগ্রন্থির অন্তর্ভুক্ত স্নায়ুতন্তুসমূহের প্রাপ্ত থেকে অ্যাসিটাইল কোলিন ক্ষরিত হয়। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র (Autonomic Nervous System) কী?
এটি স্নায়ুতন্ত্রের সেই অংশ যা দেহের অনৈচ্ছিক কাজগুলো (যেমন – হৃৎস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, পরিপাক) স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি প্রধানত দুটি উপবিভাগে বিভক্ত – সমবেদী ও পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র।
‘লড়াই-বা-পলায়ন’ (Fight or Flight) প্রতিক্রিয়া বলতে কী বোঝায়? এবং কোন স্নায়ুতন্ত্র এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে?
চাপপূর্ণ, বিপজ্জনক বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেহের যে স্বতঃস্ফূর্ত শারীরবৃত্তীয় প্রস্তুতি ঘটে, তাকে ‘লড়াই-বা-পলায়ন’ প্রতিক্রিয়া বলে। সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এই প্রতিক্রিয়াকে সক্রিয় করে, যার ফলে হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং শক্তি সরবরাহ বাড়ে।
‘বিশ্রাম ও পরিপাক’ (Rest and Digest) প্রতিক্রিয়া বলতে কী বোঝায়? এবং কোন স্নায়ুতন্ত্র এটি নিয়ন্ত্রণ করে?
চাপপূর্ণ, বিপজ্জনক বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেহের যে স্বতঃস্ফূর্ত শারীরবৃত্তীয় প্রস্তুতি ঘটে, তাকে ‘লড়াই-বা-পলায়ন’ প্রতিক্রিয়া বলে। সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এই প্রতিক্রিয়াকে সক্রিয় করে, যার ফলে হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং শক্তি সরবরাহ বাড়ে।
সমবেদী ও পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের কাজগুলো উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
সমবেদী ও পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের কাজ –
1. সমবেদীর কাজ – হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়ানো, রক্তনালী সংকুচিত করে রক্তচাপ বাড়ানো, পরিপাকক্রিয়া ধীর করা, চোখের পুতুলি প্রসারিত করা, অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ উৎসাহিত করা।
2. পরাসমবেদীর কাজ – হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের হার কমানো, পরিপাক নালীর চলন ও এনজাইম ক্ষরণ বাড়ানো, চোখের পুতুলি সংকুচিত করা, লালা ও অশ্রু নিঃসরণ বাড়ানো।
নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে সমবেদী ও পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রে কোন কোন রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়?
সমবেদী – প্রাক্-স্নায়ুগ্রন্থি শেষপ্রান্তে অ্যাসিটাইলকোলিন এবং পশ্চাদ-স্নায়ুগ্রন্থি শেষপ্রান্তে প্রধানত নরঅ্যাড্রিনালিন (অ্যাড্রিনালিনের মতো) ক্ষরণ হয়।
পরাসমবেদী – প্রাক্ ও পশ্চাদ উভয় স্নায়ুগ্রন্থির শেষপ্রান্তেই অ্যাসিটাইলকোলিন ক্ষরণ হয়।
দেহের সাম্যাবস্থা (Homeostasis) বজায় রাখতে এই দুটি স্নায়ুতন্ত্রের ভূমিকা কী?
তারা দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে একযোগে কাজ করে। সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র দেহকে প্রস্তুত করে (চাপের সময়), আর পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র দেহকে পুনরুদ্ধার ও শক্তি সঞ্চয়ে সাহায্য করে (বিশ্রামের সময়)। এই দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই দেহের তাপমাত্রা, রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রিত হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এবং পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও। সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এবং পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন