মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়া কী? মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়া কী? মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়া কী? মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়া কী?

মায়োপিয়া – কোনো বস্তুকে সুস্পষ্টভাবে দেখায় সবচেয়ে কম দূরত্বকে ন্যূনতম দৃষ্টি দূরত্ব বলে। একে চোখের নিকট-বিন্দুও (Near Point) বা মায়োপিয়া বলে।

হাইপারমেট্রোপিয়া – যখন কোনো চোখ দূরের বস্তু দেখে কিন্তু কাছের বস্তু দেখতে পায় না, তখন এই ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া বলে।

মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়ার পার্থক্য –

মায়োপিয়াহাইপারমেট্রোপিয়া
কাছের বস্তু পরিষ্কার দেখা যায়।কাছের বস্তু অস্পষ্ট হয়।
দূরের বস্তু অস্পষ্ট হয়।দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
অক্ষিগোলকের আকার লম্বাটে হয়।অক্ষিগোলকের আকার চ্যাপ্টা হয়।
এই ত্রুটি দূর করতে অবতল লেন্স ব্যবহৃত হয়।এই ত্রুটি দূর করতে উত্তল লেন্স ব্যবহৃত হয়।
মায়োপিয়ার অপর নাম নিকট দৃষ্টি।হাইপারমেট্রোপিয়ার অপর নাম দূরদৃষ্টি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়া কি সারাজীবন স্থির থাকে?

না, বয়সের সাথে সাথে এদের মাত্রা পরিবর্তন হতে পারে। শিশু ও কিশোর বয়সে মায়োপিয়া বাড়তে পারে। হাইপারমেট্রোপিয়া প্রায়ই জন্মগত, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের অভ্যন্তরীণ লেন্সের নমনীয়তা কমে যাওয়ায় (প্রেসবায়োপিয়া) উপসর্গ স্পষ্ট হতে পারে।

মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়া দৃষ্টি ত্রুটিগুলো বংশগত বা বয়সের কারণে হয়?

উভয়েরই বংশগত প্রবণতা থাকে। তবে মায়োপিয়া অনেকক্ষেত্রে শৈশব থেকে শুরু হয় এবং পড়াশোনা/কাছের কাজের চাপের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। হাইপারমেট্রোপিয়া প্রায়ই জন্মগত, কিন্তু লক্ষণ বয়স বাড়ার সাথে প্রকাশ পায়।

চশমা/লেন্স ছাড়া কি মায়োপিয়া বা হাইপারমেট্রোপিয়া ভালো হয়?

না, এগুলো সাধারণত স্থায়ী চোখের গঠনগত ত্রুটি (অক্ষিগোলকের দৈর্ঘ্য বা কর্নিয়ার বক্রতার সমস্যা)। চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স শুধুমাত্র আলোকে সঠিকভাবে ফোকাস করতে সাহায্য করে, ত্রুটি সারায় না। তবে লেজার সার্জারি এর মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান হয়।

ন্যূনতম দৃষ্টি দূরত্ব বা নিকট-বিন্দু (Near Point) কি আসলে মায়োপিয়ার সংজ্ঞা?

না। আপনি যে সংজ্ঞাটি দিয়েছেন তাতে বিভ্রান্তি আছে। ন্যূনতম দৃষ্টি দূরত্ব বা নিকট-বিন্দু হলো সেটি সবচেয়ে কম দূরত্ব যেখানে চোখ কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে পারে। এটি সকলের (স্বাভাবিক, মায়োপিক, হাইপারমেট্রোপিক) জন্য আলাদা। মায়োপিয়া হলো একটি দৃষ্টি ত্রুটি যেখানে নিকট-বিন্দু স্বাভাবিকের চেয়ে খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং দূরের বস্তু ঝাপসা দেখায়।

মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়া দৃষ্টি সমস্যাগুলো কি অন্ধত্বের কারণ হয়?

সাধারণত না, সঠিক চশমা দিয়ে সংশোধন করলে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। তবে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার মায়োপিয়ার (Pathological Myopia) ক্ষেত্রে চোখের অন্যান্য জটিলতা ও রেটিনা ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া কি একই চোখে একসাথে থাকতে পারে?

হ্যাঁ, একে বলে অ্যানিসোমেট্রোপিয়া। এতে একটি চোখ মায়োপিক এবং অন্যটি হাইপারমেট্রোপিক হতে পারে। সঠিক চশমা বা লেন্স দিয়ে সংশোধন করা জরুরি।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়া কী? মায়োপিয়া এবং হাইপারমেট্রোপিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখো। Euglena (ইউগ্নিনা) -এর গমন পদ্ধতি

সিলিয়ার বৈশিষ্ট্য ও সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন পদ্ধতি