এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মিয়োসিস কোশ বিভাজনের তাৎপর্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মিয়োসিস কোশ বিভাজনের তাৎপর্য লেখো।
মিয়োসিস কোশ বিভাজনের তাৎপর্যগুলি নীচে উল্লেখ করা হল –
- প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা – মিয়োসিস কোশ বিভাজনের ফলে ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোশ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়। দুটি হ্যাপ্লয়েড কোশ জননকার্যের সময় মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n) গঠন করে। জাইগোটটি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ ডিপ্লয়েড জীব গঠিত হয়। অর্থাৎ এই কোশ বিভাজন পদ্ধতিতে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে।
- গ্যামেট সৃষ্টি – জনন মাতৃকোশ থেকে মিয়োসিস পদ্ধতিতে উৎপন্ন বিপরীত গ্যামেটদ্বয়ের মিলনের ফলেই যৌন জনন সম্পন্ন হয়, তাই গ্যামেট উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টিতে মিয়োসিসের ভূমিকা অপরিসীম।
- জীবের জিনগত প্রকরণ সৃষ্টি – মিয়োসিস কোশ বিভাজনের সময় নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে যার ফলে পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যগুলি সৃষ্ট গ্যামেটে সঞ্চারিত হয় এবং নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের সৃষ্টি হয়। একেই প্রকরণ বলে।
- অভিব্যক্তি – মিয়োসিস কোশ বিভাজন জৈব অভিব্যক্তির পথকে প্রশস্ত করে।
- জনুক্রম – নিয়ন্ত্রণে রাখা মিয়োসিস কোশ বিভাজনের ফলে ডিপ্লয়েড (2n) জনু থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) জনু গঠিত হয় যার মাধ্যমে জনুক্রম বজায় থাকে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মিয়োসিস ও মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
মিয়োসিস জনন কোশে ঘটে এবং হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন করে, যেখানে মাইটোসিস দৈহিক কোশে ঘটে ও জিনগতভাবে অভিন্ন ডিপ্লয়েড অপত্য কোশ তৈরি করে। মিয়োসিসে দুই ধাপ বিভাজন ও ক্রসিং ওভার হয়, ফলে প্রকরণ সৃষ্টি হয়।
ক্রসিং ওভার কী এবং এটি মিয়োসিসে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ক্রসিং ওভার হল মিয়োসিসের প্রথম ধাপে (প্রোফেজ I) হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশ বিনিময়। এটি জিনগত প্রকরণ সৃষ্টি করে, যা জীবের অভিব্যক্তি ও বিবর্তনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
মিয়োসিস না ঘটলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা সম্ভব হতো না – কেন?
মিয়োসিস না ঘটলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা সম্ভব হতো না কারণ মিয়োসিসের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোশ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) গ্যামেট তৈরি হয়। দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটের নিষেকে আবার ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট সৃষ্টি হয়। মিয়োসিস ছাড়া ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রতি প্রজন্মে দ্বিগুণ হতো।
মিয়োসিসের ফলে জিনগত বৈচিত্র্য কীভাবে সৃষ্টি হয়?
মূলত দুটি প্রক্রিয়ায় –
1. ক্রসিং ওভার এর মাধ্যমে হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের জিনের পুনর্বিন্যাস।
2. মিয়োসিস-I এ হোমোলোগাস ক্রোমোজোমগুলোর স্বতন্ত্র বিন্যাস (Independent Assortment), যার ফলে গ্যামেটগুলোতে বিভিন্ন সংমিশ্রণ তৈরি হয়।
মিয়োসিস কোশ বিভাজন কিভাবে জীবের অভিব্যক্তিতে (Evolution) সাহায্য করে?
মিয়োসিসে সৃষ্ট জিনগত প্রকরণ প্রাকৃতিক নির্বাচনের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করে। নতুন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অনুকূল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব নির্বাচিত হয় এবং প্রজাতির ধারাবাহিক পরিবর্তন (অভিব্যক্তি) ঘটে।
জনুক্রম (Alternation of Generation) বলতে কী বোঝায় এবং মিয়োসিস এতে কী ভূমিকা পালন করে?
অনেক উদ্ভিদে ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট (2n) ও হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটোফাইট (n) জনু পর্যায়ক্রমে আবির্ভূত হয়। মিয়োসিসের মাধ্যমেই ডিপ্লয়েড দশা থেকে হ্যাপ্লয়েড দশায় রূপান্তর ঘটে, ফলে জনুক্রমের ধারা বজায় থাকে।
মিয়োসিস কোশ বিভাজনের কোন পর্যায়ে ক্রসিং ওভার ঘটে?
ক্রসিং ওভার ঘটে মিয়োসিস-I এর প্রোফেজ I উপধাপে, বিশেষ করে প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে।
মিয়োসিসের ফলে উৎপন্ন চারটি অপত্য কোশের বৈশিষ্ট্য কি অভিন্ন হয়?
না, ক্রসিং ওভার ও স্বতন্ত্র বিন্যাসের কারণে মিয়োসিসের ফলে সৃষ্ট চারটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট বা স্পোর জিনগতভাবে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয় (প্রকরণ থাকে)।
শুধু মাইটোসিসের মাধ্যমে প্রজনন করলে সমস্যা কী হতো?
শুধু মাইটোসিস হলে নতুন প্রজন্মে কোনও জিনগত বৈচিত্র্য থাকত না, প্রজাতির অভিযোজন ক্ষমতা কমে যেত, এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকত না (যৌন জননে)।
গ্যামেট গঠন ছাড়া আর কোন প্রক্রিয়ায় মিয়োসিস ঘটে?
কিছু উদ্ভিদে (যেমন – ব্রায়োফাইট, টেরিডোফাইট) মিয়োসিসের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড স্পোর মাতৃকোশ থেকে হ্যাপ্লয়েড স্পোর (বা মিয়োস্পোর) উৎপন্ন হয়, যা পরে গ্যামেটোফাইট তৈরি করে।
মিয়োসিস কোশ বিভাজনকে ‘হ্রাসবিভাজন’ বলে কেন?
মিয়োসিস কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোশের ক্রোমোজোম একবার কিন্তু নিউক্লিয়াসসহ সাইটোপ্লাজম দু-বার বিভাজিত হয়ে ডিপ্লয়েড মাতৃকোশের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোমবিশিষ্ট চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোশের সৃষ্টি হওয়ার জন্য মিয়োসিস কোশ বিভাজনকে ‘হ্রাসবিভাজন’ বলে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মিয়োসিস কোশ বিভাজনের তাৎপর্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন