এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “দেহকোশ এবং জননকোশ কী? দেহকোশ এবং জননকোশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

দেহকোশ এবং জননকোশ কী?
দেহকোশ – জীবদেহে উপস্থিত যেসব কোশগুলি দেহের গঠনে সাহায্য করে তাদের দেহকোশ বলে। উদাহরণ – স্নায়ুকোশ, পেশিকোশ ইত্যাদি।
জননকোশ – জীবদেহে উপস্থিত যেসব কোশগুলি (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) জনন প্রক্রিয়ায় মিলিত হয়ে জাইগোট উৎপাদন করে, তাদের জননকোশ বলে। উদাহরণ – প্রাণীদেহে উপস্থিত ডিম্বাণু ও শুক্রাণু।
দেহকোশ এবং জননকোশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
দেহকোশ এবং জননকোশের মধ্যে পার্থক্য –
| দেহকোশ | জননকোশ |
| দেহকোশ, দেহগঠনে অংশগ্রহণ করে। | জননকোশগুলি সরাসরি জননকার্যে অংশগ্রহণ করে। |
| দেহকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা ডিপ্লয়েড (2n)। | জননকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড (n)। |
| পুরুষ বা স্ত্রীভেদে দেহকোশের কোনো প্রকারভেদ বা তারতম্য নেই। | পুরুষ ও স্ত্রীভেদে জননকোশের প্রকারভেদের তারতম্য ঘটে, যেমন – মানুষের X ও Y সেক্স ক্রোমোজোম আকার ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। |
| দেহ মাতৃকোশ মাইটোসিস কোশ বিভাজন পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়। | জনন মাতৃকোশ মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়। |
| দুটি দেহকোশের কদাচিৎ মিলন ঘটে। | দুটি ভিন্নধর্মী জননকোশ (পুং ও স্ত্রীগ্যামেট) নিষেক বা সিনগ্যামি পদ্ধতিতে মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
দেহকোশ কাকে বলে? উদাহরণ দিন।
দেহকোশ হল সেই সব কোষ যা জীবদেহ গঠন করে এবং বিভিন্ন শারীরিক কাজ সম্পাদন করে। যেমন – স্নায়ুকোষ, পেশিকোষ, ত্বকের কোষ, রক্তকোষ ইত্যাদি।
জননকোশ কাকে বলে?
জননকোশ হল বিশেষ ধরনের কোষ যা প্রজনন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। দুটি জননকোশ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) মিলিত হয়ে নিষেকের মাধ্যমে জাইগোট তৈরি করে, যা পরবর্তীতে নতুন জীবের বিকাশ ঘটায়।
দেহকোশ ও জননকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যার প্রধান পার্থক্য কী?
দেহকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা ডিপ্লয়েড (2n), অর্থাৎ জোড়ায় জোড়ায় থাকে। জননকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড (n), অর্থাৎ দেহকোশের অর্ধেক।
দেহকোশ ও জননকোশের বিভাজন পদ্ধতি কীভাবে ভিন্ন?
দেহকোশগুলি সাধারণত মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়, যেখানে জননকোশ উৎপাদনের জন্য জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়।
X ও Y ক্রোমোজোম কী ধরনের কোষে পাওয়া যায়?
X ও Y ক্রোমোজোম (লিঙ্গ নির্ধারণী ক্রোমোজোম) জননকোশে (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) থাকে এবং এগুলির সংমিশ্রণেই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। দেহকোষেও এগুলি থাকে, কিন্তু জননকোষে এগুলির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিষেক বা সিনগ্যামি কী?
নিষেক হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে একটি পুরুষ জননকোষ (শুক্রাণু) এবং একটি স্ত্রী জননকোষ (ডিম্বাণু) মিলিত হয়ে একটি জাইগোট গঠন করে। এটি যৌন জননের একটি অপরিহার্য ধাপ।
দেহকোশ কি কখনও সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়?
না, দেহকোশের মূল কাজ দেহ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। তারা সরাসরি প্রজননে অংশগ্রহণ করে না। প্রজননের জন্য শুধুমাত্র জননকোষই (গ্যামেট) দায়ী।
জনন মাতৃকোষ কী?
জনন মাতৃকোষ হল সেই বিশেষ কোষ যা মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড জননকোষ (গ্যামেট) উৎপন্ন করে। যেমন – শুক্রাণুজনক মাতৃকোষ ও ডিম্বাণুজনক মাতৃকোষ।
জাইগোট কী?
জাইগোট হল নিষিক্ত ডিম্বাণু, অর্থাৎ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে সৃষ্ট প্রথম কোষ। এই কোষটি ডিপ্লয়েড (2n) এবং মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ ও পরবর্তীতে নতুন জীবদেহ গঠন করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “দেহকোশ এবং জননকোশ কী? দেহকোশ এবং জননকোশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন