এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বিনাইন টিউমার এবং ম্যালিগন্যান্ট টিউমার কী?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিনাইন টিউমার এবং ম্যালিগন্যান্ট টিউমার কী?
বিনাইন টিউমার – অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজনের ফলে সৃষ্ট অক্ষতিকর, ব্যথা-বেদনাবিহীন টিউমার হল বিনাইন টিউমার। বিনাইন টিউমার স্থানীয়ভাবে সৃষ্টি হয়। এগুলি ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে না। এর কোশগুলির প্রতিবেশী কোশকে আক্রান্ত করে দেহের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার অর্থাৎ মেটাস্ট্যাসিসের ক্ষমতা নেই।
ম্যলিগন্যান্ট টিউমার – অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজনের ফলে সৃষ্ট যে টিউমার দেহে ক্যানসার রোগের সৃষ্টি করে এবং যার কোশগুলির উৎসস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়ে রক্ত এবং লসিকার মাধ্যমে বাহিত হয়ে প্রতিবেশী কোশকে আক্রান্ত করে দেহের বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার সৃষ্টিকারী টিউমার সৃষ্টি করার অর্থাৎ মেটাস্ট্যাসিসের ক্ষমতা আছে, সেইসব টিউমারকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বলে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের প্রধান পার্থক্য কী?
বিনাইন টিউমার সাধারণত ছড়ায় না (মেটাস্ট্যাসিস করে না), ধীরে বৃদ্ধি পায়, স্পষ্ট সীমানা থাকে এবং জীবননাশের ঝুঁকি কম। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার দ্রুত বাড়ে, প্রতিবেশী কলা ও দূরের অঙ্গে ছড়াতে পারে, অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন হয় এবং জীবননাশের ঝুঁকি থাকে।
বিনাইন টিউমার কি পরে ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সার) হয়ে যেতে পারে?
কিছু ক্ষেত্রে হ্যাঁ, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের বিনাইন টিউমার (যেমন পলিপ, কিছু টিউমার) পরে পরিবর্তিত হয়ে ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। তাই অনেক সময় চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ বা অপসারণের পরামর্শ দেন।
বিনাইন টিউমারের লক্ষণ কী?
সাধারণত ব্যথাহীন, ধীরে বাড়া, স্পষ্ট সীমানাযুক্ত পিণ্ড। অবস্থানভেদে চাপের কারণে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে (যেমন – মস্তিষ্কে হলে)।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত করার উপায় কী?
বায়োপসি (কলার নমুনা পরীক্ষা) হচ্ছে নিশ্চিত পদ্ধতি। এছাড়াও ইমেজিং (সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আল্ট্রাসাউন্ড), রক্ত পরীক্ষা (টিউমার মার্কার) ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।
বিনাইন টিউমারের চিকিৎসা কী?
যদি লক্ষণ সৃষ্টি না করে বা ঝুঁকি না থাকে, শুধু পর্যবেক্ষণ করা হয়। যদি চাপ সৃষ্টি করে, আকার বাড়ে বা জটিলতা দেখা দেয়, তবে সার্জারি করে অপসারণ করা হয়।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের চিকিৎসা পদ্ধতি কী?
অপারেশন (সার্জারি), কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি (বিকিরণ চিকিৎসা), ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ইত্যাদি। রোগের ধরন, পর্যায় ও রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
টিউমার হওয়ার ঝুঁকি কী কী?
জেনেটিক বা পারিবারিক ইতিহাস, বয়স, তামাক ও মদ সেবন, কিছু ভাইরাস সংক্রমণ (যেমন – HPV, হেপাটাইটিস), মেদ, পরিবেশ দূষণ, রেডিয়েশন ইত্যাদি।
টিউমার প্রতিরোধ করা যায় কি?
সম্পূর্ণ প্রতিরোধ না গেলেও ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, টিকা গ্রহণ (যেমন – HPV, হেপাটাইটিস বি), নিয়মিত চেকআপ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ।
“মেটাস্ট্যাসিস” বলতে কী বোঝায়?
এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের কোষগুলি মূল স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্ত বা লসিকা প্রবাহের মাধ্যমে শরীরের অন্য নতুন স্থানে গিয়ে বসতি স্থাপন করে এবং সেখানে নতুন টিউমার গঠন করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বিনাইন টিউমার এবং ম্যালিগন্যান্ট টিউমার কী?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন