অ্যাস্টার, অ্যাস্ট্রাল মাইটোসিস এবং অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস কাকে বলে?

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অ্যাস্টার, অ্যাস্ট্রাল মাইটোসিস এবং অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস কাকে বলে?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাস্টার, অ্যাস্ট্রাল মাইটোসিস এবং অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস কাকে বলে?

অ্যাস্টার, অ্যাস্ট্রাল মাইটোসিস এবং অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস কাকে বলে?

অ্যাস্টার – অণুনালিকা দিয়ে গঠিত যেসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তন্তু বিচ্ছুরিত হয়ে সেন্ট্রিয়োল দুটির চারপাশে ছড়িয়ে থাকে, তাদের অ্যাস্ট্রাল রশ্মি বলে। অ্যাস্ট্রাল রশ্মি ও সেন্ট্রিয়োল জোড়ার সমন্বয়ে গঠিত হয় অ্যাস্টার।

অ্যাস্ট্রাল মাইটোসিস – প্রাণীকোশে সেন্ট্রোজোম উপস্থিত থাকায় প্রাণীকোশের মাইটোসিস বিভাজনে স্পিন্ডল বা বেম অ্যাস্ট্রাল রশ্মি থেকে সৃষ্টি হয়। এই প্রকার মাইটোসিসকে অ্যাস্ট্রাল মাইটোসিস বলে। উদ্ভিদকোশের সেন্ট্রোজোম অনুপস্থিত থাকায় কোনো অ্যাস্ট্রাল রশ্মি গঠিত হয় না।

অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস – উদ্ভিদকোশে সেন্ট্রোজোম না থাকায় উদ্ভিদকোশের মাইটোটিক বিভাজনে অ্যাস্ট্রাল রশ্মি সৃষ্টি হয় না, নিউক্লিয়োপ্লাজম এবং সাইটোপ্লাজমের অণুনালিকা (MTOC) থেকে বেমতত্ত্ব গঠিত হয়। এই প্রকার মাইটোসিসকে অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস বলে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

অ্যাস্টার ও স্পিন্ডলের মধ্যে পার্থক্য কী?

অ্যাস্টার ও স্পিন্ডলের মধ্যে পার্থক্য –
1. অ্যাস্টার – সেন্ট্রিয়োলকে ঘিরে অ্যাস্ট্রাল রশ্মি/তন্তুর বিচ্ছুরিত কাঠামো। এটি সেন্ট্রোজোমের অ্যাস্ট্রাল মাইক্রোটিউবুল দিয়ে গঠিত।
2. স্পিন্ডল বা বেমতন্তু – ক্রোমোজোম সংযুক্ত হওয়া (কাইনেটোকোর মাইক্রোটিউবুল) এবং দুই মেরুকে সংযুক্তকারী (পোলার মাইক্রোটিউবুল) মাইক্রোটিউবুলের সমন্বয়ে গঠিত মাইটোটিক যন্ত্র। প্রাণীকোশে অ্যাস্টার এই স্পিন্ডল গঠনে অংশ নেয়।

প্রাণীকোশে কেন অ্যাস্টার গঠিত হয়, কিন্তু উদ্ভিদকোশে হয় না?

কারণ প্রাণীকোশে সেন্ট্রোজোম (এক জোড়া সেন্ট্রিওল এবং পারিসেন্ট্রিওলার ম্যাটেরিয়াল) থাকে, যা মাইটোসিস শুরুতে প্রতিলিপিত হয়ে দুই মেরুতে সরে যায় এবং প্রতিটির চারপাশে অ্যাস্ট্রাল রশ্মি বিস্তৃত হয়ে অ্যাস্টার গঠন করে। উদ্ভিদকোশে সাধারণত সেন্ট্রোজোম অনুপস্থিত থাকে, তাই অ্যাস্টার গঠিত হয় না।

অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিসে উদ্ভিদকোশের বেমতন্তু কীভাবে গঠিত হয়?

উদ্ভিদকোশে MTOC (Microtubule Organizing Center) বা অণুনালিকা সংগঠক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে কোশ প্রাচীরের নিকটবর্তী নিউক্লিয়ার পর্দা বা সাইটোপ্লাজমের অন্যান্য স্থান। এখান থেকে মাইক্রোটিউবুল গঠিত হয়ে ক্রোমোজোমের কাইনেটোকোর এবং বিপরীত মেরুর সাথে যুক্ত হয়ে স্পিন্ডল বা বেমতন্তু গঠন করে।

অ্যাস্টারের প্রধান কাজ কী?

অ্যাস্টারের প্রধান কাজ –
1. মাইটোসিসের প্রাথমিক পর্যায়ে সেন্ট্রোজোম জোড়াকে কোশের বিপরীত মেরুতে ঠিকভাবে অবস্থান করতে সাহায্য করে।
2. স্পিন্ডল যন্ত্রের মেরু নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
3. কিছু প্রাণীকোশে কোশ বিভাজনের শেষ পর্যায়ে (সাইটোকাইনেসিস) কোশ পর্দার খাঁজ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।

অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস কি শুধু উদ্ভিদকোশেই হয়?

না, কিছু নির্দিষ্ট প্রাণীকোশেও (যেমন – স্তন্যপায়ী প্রাণীর ডিম্বাণুর মাইটোসিস) সেন্ট্রোজোম অনুপস্থিত থাকতে পারে এবং সেক্ষেত্রেও অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস সংঘটিত হয়। অর্থাৎ, মুখ্য বৈশিষ্ট্য হলো সেন্ট্রোজোম/অ্যাস্ট্রাল রশ্মির অনুপস্থিতি।

অ্যাস্ট্রাল রশ্মি ছাড়াই উদ্ভিদকোশে কিভাবে বিভাজন মেরু স্থির থাকে?

উদ্ভিদকোশে অ্যাস্ট্রাল রশ্মি না থাকলেও, মেরু অঞ্চলে অবস্থিত MTOC থেকে বিকিরণকারী মাইক্রোটিউবুল এবং কোশপ্রাচীরের সাথে সংযুক্ত অন্যান্য সাইটোস্কেলিটন উপাদান (যেমন এক্টিন ফিলামেন্ট) স্পিন্ডলের অবস্থান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

প্রাণী ও উদ্ভিদকোশের মাইটোসিসের মধ্যে আর কী কী গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে?

সাইটোকাইনেসিস – প্রাণীকোশে ক্লিভেজ ফারো বা খাঁজের মাধ্যমে, উদ্ভিদকোশে সেল প্লেট গঠনের মাধ্যমে কোশ বিভাজন সম্পন্ন হয়।
আকৃতি – প্রাণীকোশ সাধারণত গোলাকার, উদ্ভিদকোশ দৃঢ় কোশপ্রাচীরের কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির হয় যা মাইটোসিসেও প্রভাব ফেলে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অ্যাস্টার, অ্যাস্ট্রাল মাইটোসিস এবং অ্যানাস্ট্রাল মাইটোসিস কাকে বলে?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য লেখো।

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য

নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইড কাকে বলে? নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইডের মধ্যে পার্থক্য