এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “হ্যাপ্লয়েড কোশ ও ডিপ্লয়েড কোশ কাকে বলে? হ্যাপ্লয়েড কোশ ও ডিপ্লয়েড কোশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

হ্যাপ্লয়েড কোশ ও ডিপ্লয়েড কোশ কাকে বলে?
হ্যাপ্লয়েড কোশ – জীবদেহের যেসব কোশে ক্রোমোজোমের একটি সম্পূর্ণ সেট বর্তমান থাকে, তাদের হ্যাপ্লয়েড কোশ (n) বলে। এক্ষেত্রে মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা ডিপ্লয়েড কোশের অর্ধেক হয়। যেমন – মানুষের জননকোশ অর্থাৎ শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু।
ডিপ্লয়েড কোশ – জীবদেহের যেসব কোশে ক্রোমোজোমের দুটি সম্পূর্ণ সেট বর্তমান তাদের ডিপ্লয়েড কোশ (2n) বলে। এক্ষেত্রে ক্রোমোজোমগুলি জোড়ায় অবস্থান করে এবং প্রতি জোড়ার একটি ক্রোমোজোম পিতা এবং অপর ক্রোমোজোমটি মাতার থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আসে। যেমন – মানুষের জনন মাতৃকোশ।
হ্যাপ্লয়েড কোশ ও ডিপ্লয়েড কোশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
হ্যাপ্লয়েড কোশ ও ডিপ্লয়েড কোশের মধ্যে পার্থক্য –
| হ্যাপ্লয়েড কোশ | ডিপ্লয়েড কোশ |
| হ্যাপ্লয়েড কোষ একটি মাত্র জিনোমযুক্ত। | ডিপ্লয়েড কোষে দুই সেট জিনোম থাকে। |
| হ্যাপ্লয়েড অবস্থা “n” চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। | ডিপ্লয়েড অবস্থাকে “2n” চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। |
| জীবজগতে কতিপয় স্পোরোজোয়া, অধিকাংশ শৈবাল ও ছত্রাক এবং সকল ব্রায়োফাইট হ্যাপ্লয়েড কোষ বিশিষ্ট। | অধিকাংশ প্রাণী, বহু অপুষ্পক ও সপুষ্পক উদ্ভিদ ডিপ্লয়েড কোশ বিশিষ্ট। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মিয়োসিস কোষ বিভাজনে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড কোশের ভূমিকা কী?
মিয়োসিস হল এমন একটি বিভাজন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোশ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোশ (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) তৈরি করে। এর মাধ্যমে জননে ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখা সম্ভব হয়।
মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ফলাফল হিসেবে কী ধরনের কোশ (হ্যাপ্লয়েড নাকি ডিপ্লয়েড) সৃষ্টি হয়?
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে একটি ডিপ্লয়েড (2n) কোশ থেকে দুটি সমআকৃতির ও সমগুণসম্পন্ন ডিপ্লয়েড (2n) কোশ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, মিয়োসিসের ফলে একটি ডিপ্লয়েড (2n) কোশ থেকে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোশ সৃষ্টি হয়।
নিষেক প্রক্রিয়ায় হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড কোশের কী ভূমিকা আছে?
নিষেকের সময় একটি হ্যাপ্লয়েড (n) শুক্রাণু ও একটি হ্যাপ্লয়েড (n) ডিম্বাণু মিলিত হয়ে একটি ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় পিতা ও মাতা উভয়ের থেকে প্রাপ্ত জিনগত উপাদান সন্তানের দেহকোশে সংযুক্ত হয়।
মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড কোশের উদাহরণ কী কী?
মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড কোশের উদাহরণ –
1. প্রাণী – মৌমাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি কিছু পতঙ্গের পুরুষ সদস্য (যেমন – ড্রোন) হ্যাপ্লয়েড (n) হয়, কারণ তারা অনিষিক্ত ডিম থেকে জন্ম নেয় (অপুংজনন)।
2. উদ্ভিদ – শৈবাল ও ব্রায়োফাইটের (যেমন, মস) প্রধান দেহটি হ্যাপ্লয়েড (n) হয়। সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগরেণু ও ডিম্বকোষ হ্যাপ্লয়েড (n), কিন্তু তাদের দেহকোশগুলি ডিপ্লয়েড (2n)।
কোন কোন জীব তাদের জীবনচক্রের অধিকাংশ সময় হ্যাপ্লয়েড অবস্থায় থাকে?
কিছু শৈবাল, ছত্রাক (যেমন – ঈস্ট) এবং সমস্ত ব্রায়োফাইট (মস জাতীয় উদ্ভিদ) তাদের প্রধান বা গ্যামেটোফাইট পর্যায়ে হ্যাপ্লয়েড (n) অবস্থায় জীবনযাপন করে।
হ্যাপ্লয়েড ও মনোপ্লয়েড কি একই?
সাধারণত জিনগত আলোচনায় হ্যাপ্লয়েড (n) ও মনোপ্লয়েডকে (x) একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। তবে, বিবর্তনীয় জিনতত্ত্বে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকতে পারে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই হ্যাপ্লয়েড বলতে ক্রোমোজোমের একটি মাত্র সেট বোঝায়, যা মনোপ্লয়েডেরই সমার্থক।
হ্যাপ্লয়েড কোশ গবেষণা বা কৃষিকাজে কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ উৎপাদন করে উদ্ভিদ প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যায়। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদের ক্রোমোজোম দ্বিগুণ করে সম্পূর্ণ সমসংখ্যক (হোমোজাইগাস) বিশুদ্ধ লাইন দ্রুত তৈরি করা সম্ভব, যা উচ্চ ফলনশীল সংকর জাত তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড অবস্থার পরিবর্তনকে কী বলে?
জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড (n) ও ডিপ্লয়েড (2n) পর্যায়ের একে অপরের অনুক্রমিক আবর্তনকে ক্রোমোজোম চক্র বা প্রজন্মান্তর বলে। নিষেকের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড থেকে ডিপ্লয়েড এবং মিয়োসিসের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড থেকে হ্যাপ্লয়েড অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “হ্যাপ্লয়েড কোশ ও ডিপ্লয়েড কোশ কাকে বলে? হ্যাপ্লয়েড কোশ ও ডিপ্লয়েড কোশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন