এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ বিভাজন বলা হয় কেন? অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনের কয়েকটি তাৎপর্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ বিভাজন বলা হয় কেন?
উত্তর অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ বিভাজন বলা হয়, কারণ – অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনে বেমতত্ত্ব সৃষ্টি না হয়ে মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি করে।
অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনের কয়েকটি তাৎপর্য লেখো।
অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনের তাৎপর্যগুলি হল –
- অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজন পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়া (প্রোক্যারিয়োটিক) বংশবিস্তার করে।
- অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনে নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়ে অধিক সংখ্যক অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
অ্যামাইটোসিসে ক্রোমোজোমের বিভাজন কীভাবে ঘটে?
অ্যামাইটোসিসে ক্রোমোজোমের কোনো নিয়মিত বিভাজন (যেমন মাইটোসিসের মতো) ঘটে না। নিউক্লিয়াস সরাসরি দুভাগে বিভক্ত হয়।
অ্যামাইটোসিস কোন ধরনের জীবের মধ্যে দেখা যায়?
এটি প্রধানত প্রোক্যারিওটিক জীব (যেমন – ব্যাকটেরিয়া), কিছু নিম্নশ্রেণির প্রোটিস্ট, ফাঙ্গাসের কিছু অংশ, এবং উচ্চশ্রেণির জীবের কিছু বিশেষ কোষে (যেমন – মানুষের লিভার কোষ) হতে পারে।
অ্যামাইটোসিসের তাৎপর্য কী?
অ্যামাইটোসিসের তাৎপর্য –
1. ব্যাকটেরিয়ার মতো প্রোক্যারিওটিক জীবের বংশবিস্তারে এটি প্রধান পদ্ধতি।
2. দ্রুত ও সরাসরি বিভাজনের মাধ্যমে অধিক সংখ্যক অপত্য কোশ তৈরি হয়।
3. শারীরবৃত্তীয় পুনর্জন্ম (regeneration) ও কোষ প্রতিস্থাপনে ভূমিকা রাখে।
অ্যামাইটোসিস ও মাইটোসিসের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
অ্যামাইটোসিস ও মাইটোসিসের মধ্যে প্রধান পার্থক্য –
1. অ্যামাইটোসিসে বেমতন্তু গঠিত হয় না, মাইটোসিসে হয়।
2. অ্যামাইটোসিসে নিউক্লিয়াস সরাসরি বিভক্ত হয়, মাইটোসিসে ক্রোমোজোমের নিয়মিত বিভাজন ও পৃথকীকরণ ঘটে।
3. অ্যামাইটোসিস অপত্য কোষে জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি করে না সাধারণত, মাইটোসিসে জিনগতভাবে অভিন্ন কোষ তৈরি হয়।
অ্যামাইটোসিসের সুবিধা কী?
এটি একটি দ্রুত ও শক্তি-সাশ্রয়ী বিভাজন পদ্ধতি যা পরিবেশের অনুকূল অবস্থায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
অ্যামাইটোসিসের অসুবিধা কী?
জিনগতভাবে অপত্য কোষগুলো সম্পূর্ণ অভিন্ন নাও হতে পারে, তাই বিবর্তনীয় স্থিতিশীলতা কম এবং পরিব্যাপ্তির সম্ভাবনা থাকে।
মানবদেহে অ্যামাইটোসিস কোথায় ঘটে?
মানুষের লিভার, কার্টিলেজ, টেন্ডন ইত্যাদি স্থানের কিছু বিশেষায়িত কোষে অ্যামাইটোসিস হতে পারে।
মাইটোসিসে সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে?
নিউক্লিয়াস বিভাজনের পর সাইটোপ্লাজম সরাসরি খাঁজ সৃষ্টি বা সংকোচনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়।
অ্যামাইটোসিসের মাধ্যমে সৃষ্ট অপত্য কোষগুলো কি জিনগতভাবে অভিন্ন?
সাধারণত না, কারণ ক্রোমোজোমের সমান বণ্টন নিশ্চিত করার কোনো জটিল তন্ত্র এতে থাকে না।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ বিভাজন বলা হয় কেন? অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনের কয়েকটি তাৎপর্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন