ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে?

ক্রোমোজোম – নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত ক্রোমাটিন ফাইবার বা তন্তুকে ক্রোমোজোম বলে যা স্বাভাবিক অবস্থায় নিউক্লিয়াসের ভিতর বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে।

ক্রোমাটিড – প্রতিটি ক্রোমোজোম দৈর্ঘ্য বরাবর যে দুটি সূক্ষ্ম সুতোর মতো অংশ নিয়ে গঠিত, তাদের ক্রোমাটিড বলে।

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য –

ক্রোমোজোমক্রোমাটিড
নিউক্লিয়াসমধ্যস্থ ক্রোমাটিন জালিকার জল বিয়োজনের ফলে ক্রোমোজোমের উৎপত্তি ঘটে।ক্রোমোজোমের লম্ব বিভাজনের ফলে ক্রোমাটিডের উৎপত্তি ঘটে।
প্রত্যেকটি ক্রোমোজোম একটি সেন্ট্রোমিয়ার নিয়ে গঠিত।দুটি ক্রোমাটিড সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত থাকে কিন্তু ক্রোমাটিডে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে না।
ক্রোমোজোম প্রধানত ক্রোমাটিড এবং সেন্ট্রোমিয়ার অংশে বিভক্ত।প্রতিটি ক্রোমাটিড এক এবং একাধিক (সাধারণত দুটি) ক্রোমোনিমা এবং অসংখ্য ক্রোমোমিয়ার নিয়ে গঠিত।
কোশে দুই বা ততোধিক ক্রোমোজোম উপস্থিত থাকতে পারে।ক্রোমোজোমে উপস্থিত ক্রোমাটিডের সংখ্যা দুটি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

সেন্ট্রোমিয়ার কী? এর কাজ কী?

সেন্ট্রোমিয়ার হল ক্রোমোজোমের একটি বিশেষায়িত অঞ্চল, যা দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডকে সংযুক্ত করে রাখে।
কাজ – কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডল ফাইবার বা তাকতন্তু সংযুক্ত হয়ে ক্রোমাটিডগুলোকে বিপরীত মেরুতে টানতে সাহায্য করে।

ক্রোমোনিমা ও ক্রোমোমিয়ার কাকে বলে?

ক্রোমোনিমা – ক্রোমাটিডের ভিতরে অবস্থিত সূক্ষ্ম, কুণ্ডলীকৃত সুতার মতো গঠন। এটি DNA ও প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত।
ক্রোমোমিয়ার – ক্রোমোনিমার উপর অবস্থিত দানাদার বা মণির মতো গঠন। এগুলি DNA -এর অত্যন্ত কুণ্ডলীকৃত ও ঘনীভূত অঞ্চল।

সিস্টার ক্রোমাটিড বলতে কী বোঝায়?

একটি ক্রোমোজোম DNA প্রতিলিপিকরণ (Replication) এর পর দুটি অভিন্ন ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয়। এই দুটি অভিন্ন ক্রোমাটিডকে সিস্টার ক্রোমাটিড বলে। এরা সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা সংযুক্ত থাকে।

ডিপ্লয়েড (2n) ও হ্যাপ্লয়েড (n) ক্রোমোজোম সংখ্যা বলতে কী বোঝায়?

ডিপ্লয়েড (2n) – যে কোষে জোড়ায় জোড়ায় সমআকৃতির ক্রোমোজোম (হোমোলগাস ক্রোমোজোম) থাকে। দেহকোষ বা সোমাটিক কোষে এই সংখ্যা থাকে। যেমন – মানুষের ডিপ্লয়েড সংখ্যা 46টি (23 জোড়া)।
হ্যাপ্লয়েড (n) – যে কোষে প্রতিটি জোড়ার মাত্র একটি করে ক্রোমোজোম থাকে। জনন কোষ বা গ্যামেটে (শুক্রাণু, ডিম্বাণু) এই সংখ্যা থাকে। মানুষের হ্যাপ্লয়েড সংখ্যা 23টি।

ক্রোমোজোমের গঠনে DNA ছাড়া আর কী কী উপাদান থাকে?

ক্রোমোজোম মূলত DNA এবং প্রোটিন (বিশেষত হিস্টোন প্রোটিন) দ্বারা গঠিত। এছাড়াও অল্প পরিমাণে RNA থাকতে পারে।

ক্রোমোজোমের আকৃতি কয় প্রকার ও কি কি?

ক্রোমোজোমের আকৃতি প্রধানত সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে চার প্রকার –
1. মেটাসেন্ট্রিক – সেন্ট্রোমিয়ার মধ্যখানে → দুটি বাহু প্রায় সমান।
2. সাব-মেটাসেন্ট্রিক – সেন্ট্রোমিয়ার কেন্দ্রের কাছাকাছি → বাহু দুটি অসমান।
3. অ্যাক্রোসেন্ট্রিক – সেন্ট্রোমিয়ার এক প্রান্তের কাছাকাছি → একটি বাহু খুব লম্বা, অন্যটি খুব ছোট।
4. টেলোসেন্ট্রিক – সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তে → একটি বাহু দেখা যায় (অন্য বাহু অনুপস্থিত বলে মনে হয়)।

ক্রোমোজোমের প্রধান কাজ কী?

ক্রোমোজোমের প্রধান কাজ –
1. বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে জিন/ DNA বহন করা।
2. কোষ বিভাজনের সময় জিনগত তথ্য সঠিকভাবে অপত্য কোষে স্থানান্তর করা।
3. প্রোটিন সংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ করে কোষের সকল জৈবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

ক্রোমাটিড এবং ক্রোমাটিনের সম্পর্ক কী?

ক্রোমাটিন হচ্ছে মূল উপাদান যা সংকোচিত ও সংগঠিত হয়ে প্রথমে ক্রোমোজোম গঠন করে। তারপর প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে বিভাজিত হয়ে দুটি ক্রোমাটিড তৈরি করে। অর্থাৎ, ক্রোমাটিন → ক্রোমোজোম → ক্রোমাটিড।

ক্রোমোজোমের সংখ্যা নির্ধারণ করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ক্রোমোজোমের সংখ্যা প্রতিটি প্রজাতির জন্য নির্দিষ্ট। এটি প্রজাতি শনাক্তকরণ, বংশগত রোগ নির্ণয় (যেমন – ডাউন সিনড্রোম-এ 21নং ক্রোমোজাম তিনটি থাকে), এবং জিনগত বৈচিত্র্য ও বিবর্তন বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য লেখো।

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য

নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইড কাকে বলে? নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইডের মধ্যে পার্থক্য