এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। ” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী?
মাইটোসিস – যে কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোশ বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি করে এবং অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান হয় তাকে মাইটোসিস কোশ বিভাজন বলে ।
মিয়োসিস – যে কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস পরপর দু’বার এবং ক্রোমোজোম মাত্র একবার বিভাজিত হয়ে মাতৃকোশের ক্রোমোজোমের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোমযুক্ত চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে তাকে মায়োসিস কোশ বিভাজন বলে।
মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য –
| মাইটোসিস | মিয়োসিস |
| দেহকোশে মাইটোসিস কোশ বিভাজন সংঘটিত হয়। | জন মাতৃকোশে মিয়োসিস কোশ বিভাজন সংঘটিত হয়। |
| মাইটোসিসকে সমবিভাজন বলা হয়। | মিয়োসিসকে হ্রাসবিভাজন বলা হয়। |
| ক্রোমোজোম, নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়। | ক্রোমোজোম একবার এবং নিউক্লিয়াসসহ সাইটোপ্লাজম দু-বার বিভাজিত হয়। |
| জনিতৃ কোশ বিভাজিত হয়ে দুটি ডিপ্লয়েড অপত্য (2n) কোশের সৃষ্টি হয়। | জনিতৃ কোশ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়। |
| মিয়োসিস কোশ বিভাজনের মাধ্যমে গ্যামেট গঠিত হয় যার মাধ্যমে প্রকরণের সৃষ্টি হয়। | মিয়োসিস কোশ বিভাজনের মাধ্যমে গ্যামেট গঠিত হয় যার মাধ্যমে প্রকরণের সৃষ্টি হয়। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মাইটোসিস কোথায় ঘটে?
মাইটোসিস দেহকোশে (সোমাটিক সেল) ঘটে। এটি দেহের বৃদ্ধি, টিস্যু মেরামত ও অযৌন প্রজননে ভূমিকা রাখে।
মিয়োসিস কোথায় ঘটে?
মিয়োসিস জনন মাতৃকোশে (জার্ম সেল) ঘটে এবং শুধুমাত্র যৌন প্রজননক্ষম জীবের জনন অঙ্গে (যেমন – শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) সংঘটিত হয়।
মিয়োসিসের গুরুত্ব কী?
মিয়োসিসের মাধ্যমে গ্যামেট (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) সৃষ্টি হয়, যেগুলো যৌন প্রজননে অংশ নিয়ে নতুন জীবের সৃষ্টি করে। এটি ক্রোমোজোমের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জিনের বৈচিত্র্য (প্রকরণ) সৃষ্টি করে।
মাইটোসিসের পর্যায়গুলো কী কী?
মাইটোসিসের পর্যায়গুলো হলো – প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ।
মিয়োসিস কতটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়?
মিয়োসিস দুইটি প্রধান বিভাজনে সম্পন্ন হয় – মিয়োসিস I ও মিয়োসিস II।
1. মিয়োসিস I-এ হোমোলগাস ক্রোমোজোম পৃথক হয়।
2. মিয়োসিস II-এ ক্রোমাটিডগুলো পৃথক হয়।
ক্রসিং ওভার কী এবং কোন বিভাজনে ঘটে?
ক্রসিং ওভার হলো হোমোলগাস ক্রোমোজোমের মধ্যে জিনের বিনিময় প্রক্রিয়া। এটি মিয়োসিস I-এর প্রোফেজ I পর্যায়ে ঘটে এবং জিনেটিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
মানুষের দেহকোশে মাইটোসিস হলে অপত্য কোশে কয়টি ক্রোমোজোম থাকে?
মানুষের দেহকোশ ডিপ্লয়েড (2n=46)। মাইটোসিস বিভাজনের ফলে প্রতিটি অপত্য কোশেও 46টি ক্রোমোজোম থাকে।
মানুষের গ্যামেটে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
মিয়োসিস বিভাজনের ফলে তৈরি গ্যামেট (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) হ্যাপ্লয়েড (n=23) অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যা 23টি।
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের ফলাফলের মধ্যে কী মৌলিক পার্থক্য আছে?
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের ফলাফলের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য –
1. মাইটোসিস → জিনেটিকভাবে অভিন্ন অপত্য কোশ সৃষ্টি।
2. মিয়োসিস → জিনেটিকভাবে ভিন্ন গ্যামেট সৃষ্টি (ক্রসিং ওভার ও স্বাধীন সঞ্চালনের কারণে)।
কোন বিভাজনে সাইন্যাপসিস ঘটে?
সাইন্যাপসিস (হোমোলগাস ক্রোমোজোমের জোড়া বাঁধা) ঘটে মিয়োসিস I -এর প্রোফেজ I পর্যায়ে।
উদ্ভিদের ক্ষেত্রে মিয়োসিস কোথায় ঘটে?
উদ্ভিদের পরাগধানী (Anther) ও ডিম্বাশয় (Ovary) মধ্যে যথাক্রমে পরাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করতে মিয়োসিস ঘটে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। ” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন