এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে?
সাইন্যাপস্ – দুটি নিউরোনের যে সংযোগস্থলে একটি নিউরোনের শেষ এবং অপর নিউরোনের শুরু, তাকে সাইন্যাপস্ বা স্নায়ুসন্নিধি বা প্রান্তসন্নিকর্ষ বলে।
সাইন্যাপসিস – যে পদ্ধতিতে মিয়োসিস কোশ বিভাজনের প্রোফেজ-I -এর জাইগোটিন উপদশায় হোমোলোগাস ক্রোমোজোমগুলি সাইন্যাপ্টানেমাল কমপ্লেক্স দ্বারা জোড় বাঁধে এবং টেট্রাড গঠন করে, ক্রোমোজোমের জোড় বাঁধার এই পদ্ধতিকে সাইন্যাপসিস বলে।

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য লেখো।
সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য –
| বিষয় | সাইন্যাপস্ | সাইন্যাপসিস |
| অবস্থান | পূর্ববর্তী নিউরোন এবং পরবর্তী নিউরোনের মাঝে প্রোটোপ্লাজমীয় সূক্ষ্ম স্থানে সাইন্যাপস্ অবস্থিত। | মিয়োসিস কোশ বিভাজনের প্রোফেজের জাইগোটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের পাশে অবস্থিত। |
| কাজ | সাইন্যাপস পূর্ববর্তী নিউরোন থেকে পরবর্তী নিউরোনে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে। | সাইন্যাপসিস ক্রসিং ওভারে সাহায্য করে। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সাইন্যাপস কী?
সাইন্যাপস হল দুটি স্নায়ু কোষ বা নিউরোনের মধ্যকার একটি বিশেষায়িত সংযোগস্থল। এখানে এক নিউরোনের অ্যাক্সনের প্রান্ত এবং অন্য নিউরোনের ডেনড্রাইট বা কোষদেহের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র ফাঁকা স্থান (সাইন্যাপ্টিক ক্লেফ্ট) থাকে। এর মাধ্যমে রাসায়নিক সংকেতের (নিউরোট্রান্সমিটার) সাহায্যে স্নায়ু আবেগ (ইমপালস) এক নিউরোন থেকে অন্য নিউরোনে প্রবাহিত হয়।
সাইন্যাপসিস বলতে বোঝানো হয় কোন প্রক্রিয়াকে?
সাইন্যাপসিস হল একটি জিনগত প্রক্রিয়া যা মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-I পর্যায়ে ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় সমসংস্থ (হোমোলোগাস) ক্রোমোজোমগুলি জোড় বেঁধে একটি নির্দিষ্ট গঠন তৈরি করে। ক্রোমোজোমের এই জোড় বাঁধার মাধ্যমেই পরবর্তীতে ক্রসিং ওভার এবং জিনের পুনর্সমন্বয় সম্ভব হয়।
সাইন্যাপসিস ব্যতীত মিয়োসিস সম্পূর্ণ হতে পারে কি?
না, সাইন্যাপসিস ছাড়া মিয়োসিসের স্বাভাবিক পরিণতি সম্ভব নয়। সাইন্যাপসিসের মাধ্যমেই সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলি সঠিকভাবে সারিবদ্ধ হয় এবং ক্রসিং ওভার ঘটে। এছাড়া, সাইন্যাপসিস না ঘটলে হ্যাপ্লয়েড গেমেট সঠিকভাবে গঠিত হয় না এবং জিনগত বৈচিত্র্য হ্রাস পায়।
সাইন্যাপসে স্নায়ুসংকেত কীভাবে স্থানান্তরিত হয়?
সাইন্যাপসে স্নায়ুসংকেত সাধারণত রাসায়নিকভাবে স্থানান্তরিত হয়। প্রি-সাইন্যাপ্টিক নিউরোন থেকে নিউরোট্রান্সমিটার নামক রাসায়নিক নির্গত হয়ে সাইন্যাপ্টিক ক্লেফ্ট পেরিয়ে পোস্ট-সাইন্যাপ্টিক নিউরোনের রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়, ফলে নতুন একটি বৈদ্যুতিক সংকেতের সৃষ্টি করে।
সাইন্যাপসিসের সময় ক্রোমোজোম জোড় বাঁধার গুরুত্ব কী?
সাইন্যাপসিসের সময় সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড় বাঁধার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি নিশ্চিত করে যে ক্রোমোজোমগুলি সঠিকভাবে মেটাফেজ প্লেটে সারিবদ্ধ হয় এবং ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে জিনের বিনিময় ঘটে। এটি জীবের জিনগত বৈচিত্র্য নিশ্চিত করে, যা বিবর্তন ও বংশগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন