এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জনন কাকে বলে? জীবদেহে জননের তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জনন কাকে বলে? জীবদেহে জননের তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো।
যে জৈবনিক পদ্ধতিতে জীব তার নিজ প্রকৃতি এবং সত্তাবিশিষ্ট এক বা একাধিক অপত্য জীব সৃষ্টি করে নিজ অস্তিত্ব বজায় রাখে এবং জীবজগতে নিজেদের ভারসাম্য বজায় রাখে, তাকে জনন বলে।
জীবদেহে জননের তাৎপর্য –
- অস্তিত্ব বজায় রাখা – জনন পদ্ধতিতে জীব তার প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।
- সংখ্যা বৃদ্ধি – জননের মাধ্যমে যে-কোনো জীব তার প্রজাতির সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
- বংশগত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা – জননের মাধ্যমে জীব তার নিজস্ব বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলিকে বংশপরম্পরায় বজায় রাখে।
- প্রকরণ – যৌন জননের মাধ্যমে অপত্যের মধ্যে জনিতৃ জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ ঘটে। এর ফলে প্রজাতির মধ্যে প্রকরণ বা ভেদের সৃষ্টি হয়।
- অভিব্যক্তি – যৌন জননের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া ভেদ অভিব্যক্তির মূল সোপান।
- ভারসাম্য বজায় রাখা – জননের ফলে কোনো প্রজাতির মৃত্যুজনিত সদস্য সংখ্যার হ্রাসের ফলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয় তার পূরণ ঘটে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
জনন কী?
যে জৈবনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীব তার নিজের মতো নতুন জীব সৃষ্টি করে নিজের প্রজাতির অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বজায় রাখে, তাকে জনন বলে।
জীবের জননের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
প্রধান উদ্দেশ্য হল প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করা এবং বংশগত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত করা।
জনন কত প্রকার ও কি কি?
জনন প্রধানত দুই প্রকার –
1. অলৈঙ্গিক জনন (যেমন – বিভাজন, মুকুলোদগম)
2. লৈঙ্গিক জনন (পুরুষ ও স্ত্রী জনন কোষের মিলনের মাধ্যমে)।
অলৈঙ্গিক ও লৈঙ্গিক জননের মধ্যে পার্থক্য কী?
অলৈঙ্গিক ও লৈঙ্গিক জননের মধ্যে পার্থক্য –
1. অলৈঙ্গিক জননে একক জীবের অংশ থেকে নতুন জীব তৈরি হয় এবং অপত্য জীব জিনগতভাবে জনক জীবের অনুরূপ হয়।
2. লৈঙ্গিক জননে দুটি ভিন্ন লিঙ্গের জননকোষের মিলন প্রয়োজন এবং অপত্য জীব জিনগতভাবে উভয় জনকের বৈশিষ্ট্য পায়।
প্রকরণ সৃষ্টিতে কোন ধরনের জনন ভূমিকা রাখে?
যৌন জনন (লৈঙ্গিক জনন) প্রকরণ সৃষ্টির মূল ভিত্তি, কারণ এতে দুটি ভিন্ন জীবের জিনগত উপাদান মিশ্রিত হয়।
জনন কিভাবে জীবজগতের ভারসাম্য বজায় রাখে?
জননের মাধ্যমে কোনো প্রজাতির সদস্য সংখ্যা হ্রাস পেলে তা পূরণ হয়, ফলে প্রজাতির টিকে থাকা এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা পায়।
জনন ছাড়া কি কোনো প্রজাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে?
না, জনন ছাড়া প্রজাতির সদস্য সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যায় এবং শেষে প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
বংশগত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে জননের ভূমিকা কী?
জননের মাধ্যমে জীবের ডিএনএ বা বংশগত উপাদান পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়, ফলে প্রজাতির স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে।
অভিব্যক্তি (Evolution) এর সাথে জননের সম্পর্ক কী?
যৌন জননের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রকরণ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সময়ের সাথে সাথে অভিব্যক্তির পথ সুগম করে।
জনন শুধুমাত্র সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নয় কেন?
জনন শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি করে না, এটি জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে, প্রজাতির অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জনন কাকে বলে? জীবদেহে জননের তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন