এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বিভিন্ন আদ্যপ্রাণী ও প্রাণীদেহে সংঘটিত বিভিন্ন অযৌন জনন পদ্ধতিগুলি উদাহরণসহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন আদ্যপ্রাণী ও প্রাণীদেহে সংঘটিত বিভিন্ন অযৌন জনন পদ্ধতিগুলি উদাহরণসহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
বিভিন্ন আদ্যপ্রাণী ও প্রাণীদেহে সংঘটিত বিভিন্ন অযৌন জনন পদ্ধতি –
দ্বিবিভাজন –
দ্বিবিভাজনে জীবদেহে উপস্থিত জনিতৃকোশের সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়। যেমন-আদ্যপ্রাণী (Amoeba) (অ্যামিবা) -তে দ্বিবিভাজন পরিলক্ষিত হয়। Amoeba (অ্যামিবা) -এর দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে কোশপর্দাসহ নিউক্লিয়াসটির মাঝখানে খাঁজ সৃষ্টির ফলে নিউক্লিয়াসটি ডাম্বেল আকৃতিবিশিষ্ট হয় এবং পরে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়।
বহুবিভাজন –
বহুবিভাজন পদ্ধতিতে মাতৃকোশের নিউক্লিয়াসসহ সাইটোপ্লাজম বহুবার বিভাজিত হয়ে অসংখ্য অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়। যেমন – Plasmodium (প্লাসমোডিয়াম) নামক আদ্যপ্রাণী বহুবিভাজন পদ্ধতিতে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। Plasmodium (প্লাসমোডিয়াম), মানবদেহের যকৃতে বিভিন্ন দশার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়ার পর সাইজন্ট দশায় অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে। যা পরবর্তীকালে সাইটোকাইনেসিস পদ্ধতির মাধ্যমে বহুসংখ্যক মেরোজয়েট সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন করে।
কোরকোদ্গম –
Hydra (হাইড্রা) কোরকোদ্গম পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে। মাতৃদেহের বহির্গাত্রে কোনো একটি অংশে প্রথমে এক বা একাধিক স্ফীত উপবৃদ্ধি বা কোরক গঠিত হয়। কোরক মাতৃদেহ থেকে ক্রমশ পুষ্টিরস শোষণ করে ধীরে ধীরে পুষ্ট হয়। মাতৃকোশের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হলে একটি অপত্য নিউক্লিয়াস কোরকের মধ্যে প্রবেশ করে এবং অবশেষে মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য জীবে পরিণত হয়।
পুনরুৎপাদন –
পুনরুৎপাদন পদ্ধতিতে প্রাণীদেহে কোনো কারণে অঙ্গহানি হলে বা খণ্ডে বিভক্ত হলে সেই কর্তিত অংশ থেকে মাইটোসিসের মাধ্যমে পুনরায় নতুন অপত্য জীবের সৃষ্টি হয় অথবা সেই অঙ্গহানি হওয়া অংশে নতুন অঙ্গ পুনঃস্থাপিত হয়। যেমন – Planaria (প্ল্যানেরিয়া) নামক চ্যাপটা কৃমির কোশদেহ গঠন, তারামাছের বাহু ইত্যাদি পুনরুৎপাদন পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বিভিন্ন আদ্যপ্রাণী ও প্রাণীদেহে সংঘটিত বিভিন্ন অযৌন জনন পদ্ধতিগুলি উদাহরণসহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment