এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার পদ্ধতিগুলি উদাহরণসহ সংক্ষেপে উল্লেখ করো। অথবা, উদাহরণসহ উদ্ভিদের যে-কোনো তিন প্রকার প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারের বিবরণ দাও।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার পদ্ধতিগুলি উদাহরণসহ সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
অথবা, উদাহরণসহ উদ্ভিদের যে-কোনো তিন প্রকার প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারের বিবরণ দাও।
উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সংঘটিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন পদ্ধতি –
পাতার সাহায্যে অঙ্গজ বংশবিস্তার –
কিছুকিছু উদ্ভিদ যেমন – পাথরকুচি, Begonia (বিগোনিয়া) ইত্যাদির ক্ষেত্রে পাতার কিনারা বা শিরা থেকে কিছু অস্থানিক মুকুল (পত্রাশ্রয়ী মুকুল) নির্গত হয় যা পরে মূল উদ্ভিদ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে উপযুক্ত পরিবেশে নতুন অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
কাণ্ডের সাহায্যে অঙ্গজ বংশবিস্তার –
উদ্ভিদদেহে সাধারণত ভূনিম্নস্থ কাণ্ড, অর্ধবায়বীয় কাণ্ডের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন পরিলক্ষিত হয়।
ভূনিম্নস্থ কাণ্ডের মাধ্যমে অঙ্গজ বংশবিস্তার – উদ্ভিদদেহে উপস্থিত ভূনিম্নস্থ কাণ্ডগুলি সমান্তরালভাবে মাটির নীচে বৃদ্ধি পায় এবং কাণ্ড থেকে কিছু অস্থানিক মুকুলের সৃষ্টি হয় যা থেকে পরবর্তী সময়ে নতুন অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন – আলু, আদার ক্ষেত্রে এই প্রকারের অঙ্গজ জনন পরিলক্ষিত হয়।
অর্ধবায়বীয় কাণ্ডের মাধ্যমে অঙ্গজ বংশবিস্তার –
এটি মূলত দু-রকমের হয় যেমন-
- ধাবক – কিছু লতানো উদ্ভিদের ক্ষেত্রে উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে দীর্ঘ শাখাপ্রশাখাযুক্ত কিছু অস্থানিক মুকুল নির্গত হয় যা থেকে পরবর্তী সময়ে অপত্য উদ্ভিদের জন্ম হয়। যেমন – থানকুনি, আমরুল ইত্যাদি।
- খর্বধাবক – কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদির ক্ষেত্রে মাটির কাছাকাছি কাণ্ডের পর্ব থেকে ছোটো, মোটা কিছু শাখার সৃষ্টি হয় যা মাটির নীচে অনুভূমিক তলে বর্ধিত হয়ে কাছাকাছি আর একটি পর্বের সষ্টি করে এবং সেখান থেকে একটি শাখা বায়বীয়ভাবে উৎপন্ন হয়ে নতুন অপত্য উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
মূলের সাহায্যে অঙ্গজ বংশবিস্তার –
কিছু উদ্ভিদ, যেমন – ডালিয়া, রাঙা আলু বা মিষ্টি আলু ইত্যাদির ক্ষেত্রে মৃদগত, স্ফীত এবং অস্থানিক মূল খাদ্যসঞ্চয় করে রসালো হয়। অনুকূল পরিবেশে রসালো মূল থেকে কিছু অস্থানিক মুকুলের সৃষ্টি হয় (মূলজ মুকুল), যেগুলি পরবর্তী সময়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি করে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার কী?
এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কোনো উদ্ভিদ যৌন প্রজনন ছাড়াই (বীজ/জন্মাণু ব্যতীত) তার দেহের বিভিন্ন অঙ্গ (যেমন – কাণ্ড, মূল, পাতা) থেকে স্বাভাবিকভাবে নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তারের মূল পার্থক্য কী?
প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তারের মূল পার্থক্য –
1. প্রাকৃতিক – উদ্ভিদ নিজে থেকেই প্রাকৃতিকভাবে নতুন অপত্য উদ্ভিদ তৈরি করে (যেমন – আলুর টিউবার, পাথরকুচি পাতার মুকুল)।
2. কৃত্রিম – মানুষ বিভিন্ন পদ্ধতি (যেমন – কলম, ডালপাতা রোপণ, অঙ্গসংযোজন) প্রয়োগ করে নতুন উদ্ভিদ তৈরি করে।
পাতার সাহায্যে অঙ্গজ বংশবিস্তারের দুটি উদাহরণ দাও।
পাতার সাহায্যে অঙ্গজ বংশবিস্তারের দুটি উদাহরণ –
1. পাথরকুচি – পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল তৈরি হয়, যা পড়ে গিয়ে নতুন চারা গজায়।
2. বিগোনিয়া – পাতার শিরা থেকে নতুন মুকুল ও শিকড় গজায়।
ভূনিম্নস্থ কাণ্ডের মাধ্যমে অঙ্গজ বংশবিস্তার বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দাও।
মাটির নিচে থাকা কাণ্ড (রাইজোম, টিউবার ইত্যাদি) থেকে নতুন মুকুল ও শিকড় গজায়, যা আলাদা হয়ে নতুন উদ্ভিদ তৈরি করে।
উদাহরণ – আলু (টিউবার), আদা (রাইজোম), পেঁয়াজ (বাল্ব)।
ধাবক ও খর্বধাবক কাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?
ধাবক ও খর্বধাবক কাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য –
1. ধাবক – লতানো উদ্ভিদের দীর্ঘ, সরু শাখা যা মাটি স্পর্শ করে নতুন চারা দেয় (যেমন – থানকুনি, আমরুল)।
2. খর্বধাবক – খুব ছোট ও মোটা শাখা যা দ্রুত নতুন চারা গজায় এবং প্রায়ই জলজ উদ্ভিদে দেখা যায় (যেমন – কচুরিপানা)।
কোন কোন উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার করে?
যে সব উদ্ভিদের খাদ্য সঞ্চয়কারী রসালো/স্ফীত মূল থাকে, সেখান থেকে মুকুল গজায়। যেমন – ডালিয়া, মিষ্টি আলু (রাঙা আলু)।
অঙ্গজ বংশবিস্তারের সুবিধা কী?
অঙ্গজ বংশবিস্তারের সুবিধা –
1. মূল উদ্ভিদের সমস্ত বৈশিষ্ট্য (জিনগত) অপত্য উদ্ভিদে সরাসরি স্থানান্তরিত হয়।
2. বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তারে যে সময় লাগে, তার চেয়ে দ্রুত নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়।
3. অপত্য উদ্ভিদ খাদ্য সঞ্চয়ের অঙ্গ (যেমন – আলু, আদা) থেকে গজালে শুরু থেকেই শক্তিশালী হয়।
অর্ধবায়বীয় কাণ্ড কী?
যে কাণ্ড প্রথমে অনুভূমিকভাবে (মাটির নিচে বা উপরিভাগে) বেড়ে যায় এবং পরে উল্লম্বভাবে উপরের দিকে বৃদ্ধি পেয়ে নতুন চারা তৈরি করে। যেমন – খর্বধাবক।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার পদ্ধতিগুলি উদাহরণসহ সংক্ষেপে উল্লেখ করো। অথবা, উদাহরণসহ উদ্ভিদের যে-কোনো তিন প্রকার প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারের বিবরণ দাও।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন