এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “শাখাকলমের সাহায্যে কীভাবে কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তার ঘটানো হয়?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শাখাকলমের সাহায্যে কীভাবে কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তার ঘটানো হয়?
শাখাকলম পদ্ধতি –
- কয়েকটি পর্ব এবং কাক্ষিক মুকুলসহ কাণ্ড বা শাখার একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে ভিজে মাটিতে রোপণ করা হয়।
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নিয়মিত এই খণ্ডিত শাখাটিতে জলসেচন করা হয়। প্রয়োজনে কৃত্রিম হরমোন জলে গুলে খণ্ডিত শাখাটির ওপর ছিটিয়ে দেওয়া হয়।
- খণ্ডিত শাখাটির পর্ব থেকে অস্থানিক মূল বের হয় এবং কাক্ষিক মুকুল থেকে শাখা বের হয়।
- আম, জবা, গোলাপ, গাঁদা প্রভৃতি উদ্ভিদে স্টেম কাটিং এবং পাতিলেবু, কমলালেবু প্রভৃতি উদ্ভিদে রুট কাটিং -এর মাধ্যমে শাখাকলম বহুলাংশে কার্যকরী হয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
শাখাকলম কী?
শাখাকলম (স্টেম কাটিং) হলো উদ্ভিদের একটি অঙ্গজ বংশবিস্তার পদ্ধতি, যেখানে একটি স্বাস্থ্যকর শাখার কয়েকটি পর্ব এবং কাক্ষিক মুকুলসহ একটি অংশ কেটে নিয়ে উপযুক্ত মাধ্যম (ভিজে মাটি, বালু ইত্যাদি) রোপণ করে নতুন চারা তৈরি করা হয়।
কোন কোন উদ্ভিদে শাখাকলম পদ্ধতি কার্যকর?
এই পদ্ধতি গোলাপ, জবা, আম, গাঁদা, বাগানবিলাস, থানকুনি ইত্যাদি বহু উদ্ভিদে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়।
কোন সময় শাখাকলমের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত?
বসন্ত বা বর্ষার শুরু যখন উদ্ভিদের বৃদ্ধি তীব্র থাকে, তখন শাখাকলম নেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা অনুকূলে থাকায় মূল গজানোর হার বেশি হয়।
শাখাকলম কাটার সময় কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?
শাখাকলম কাটার সময় সাবধানতা অবলম্বন –
1. ধারালো ও জীবাণুমুক্ত ছুরি বা কাঁচি ব্যবহার করতে হবে।
2. কাটা অংশে যেন অন্তত 2–3টি পর্ব (Node) থাকে।
3. উপরের দিকের কাটা কুঁশির কিছুটা ওপরে এবং নিচের দিকের কাটা পর্বের কিছুটা নিচে হতে হবে।
শাখাকলমে হরমোনের প্রয়োজন হয় কেন?
রুটিং হরমোন (যেমন – IBA, NAA) ব্যবহার করলে দ্রুত ও বেশি সংখ্যক মূল গজায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে অনেক উদ্ভিদে এটি ছাড়াও শুধু জল ও মাটিতে মূল গজাতে পারে।
শাখাকলম রোপণের জন্য কোন মাধ্যম ভালো?
ভালো নিষ্কাশনযুক্ত হালকা মিডিয়া যেমন বালু+কম্পোস্টের মিশ্রণ, কোকোপিট বা ভার্মিকুলাইট ব্যবহার করা যায়। মাধ্যমটি অবশ্যই আর্দ্র কিন্তু জল জমে না এমন হওয়া উচিত।
শাখাকলমে জলসেচন ও অবস্থানের নির্দেশনা কী?
শাখাকলমে জলসেচন ও অবস্থানের নির্দেশনা –
1. মিডিয়াম সামান্য ভেজা রাখতে হবে, ভিজে না।
2. সরাসরি রোদ বা শক্ত বাতাস থেকে দূরে রাখতে হবে, তবে হালকা আলো প্রয়োজন।
3. কখনও কখনও চারা উপরের অংশটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিলে আর্দ্রতা বজায় থাকে।
রুট কাটিং ও শাখাকলমের পার্থক্য কী?
রুট কাটিং ও শাখাকলমের পার্থক্য –
1. শাখাকলম – কাণ্ডের অংশ ব্যবহার করা হয় (গোলাপ, জবা)।
2. রুট কাটিং – মূলের টুকরো ব্যবহার করা হয় (পাতিলেবু, কমলালেবু, চেরি ইত্যাদি)।
উদ্ভিদের শাখাকলমে কোন ধরনের হরমোন বেশি ব্যবহৃত হয়?
ইনডোল বিউটিরিক অ্যাসিড (IBA) ও ন্যাফথালিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড (NAA) বেশি ব্যবহৃত হয়, যা পাউডার বা দ্রবণ আকারে কাটা অংশে লাগানো হয়।
বাণিজ্যিকভাবে শাখাকলমের ব্যবহার কোথায় দেখা যায়?
ফলজ, ওষধি ও সৌন্দর্য্যবর্ধক উদ্ভিদ (গোলাপ, জবা, আম, পেয়ারা) এর দ্রুত ও একরূপ চারা তৈরি করতে নার্সারিগুলো এ পদ্ধতি ব্যবহার করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “শাখাকলমের সাহায্যে কীভাবে কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তার ঘটানো হয়?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন