এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘সবুজ জামা’ -এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব। এখানে কবির পরিচিতি, কবিতার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, কবিতার সারসংক্ষেপ, কবিতার নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘সবুজ জামা’ কবিতা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং কবিতাটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক পরিচিতি
বিংশ শতকের মধ্যভাগের প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলাদেশের (পূর্বতন পূর্ববঙ্গ) ঢাকার বিক্রমপুরে 1920 খ্রিস্টাব্দের 2 সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম জীবনে তিনি অনুশীলন দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে বামপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত হন। 1942 খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম কাব্য ‘গ্রহচ্যুত’ প্রকাশ পায়। দ্বিতীয় কাব্য ‘রানুর জন্য’ প্রকাশের পর পাঠকমহলে তাঁর পরিচিতি হয়। তাঁর বিশিষ্ট কাব্য – ‘উলুখড়ের কবিতা’, ‘মৃত্যুত্তীর্ণ’, ‘লখিন্দর’, ‘জাতক’, ‘ভিসা অফিসের সামনে’, ‘মহাদেবের দুয়ার’, ‘মানুষের মুখ’, ‘ভিয়েতনাম – ভারতবর্ষ’, ‘অথচ ভারতবর্ষ তাদের’, ‘আমার যজ্ঞের ঘোড়া’, ‘অফুরন্ত জীবনের মিছিল’ প্রভৃতি। এ ছাড়া তিনি বেশ কিছু কবিতা অনুবাদ করেন-যা তাঁর প্রতিভার পরিচয় বহন করে। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, মানুষ, সাধারণ জীবনের সংগ্রাম ও বাস্তব পরিস্থিতির বিচিত্র রূপায়ণ ধরা পড়ে। 1982 খ্রিস্টাব্দে ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থের জন্য তিনি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ পান। 1985 খ্রিস্টাব্দের 7 নভেম্বর তাঁর লোকান্তর ঘটে।
উৎস
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিশিষ্ট কাব্য ‘উলুখড়ের কবিতা’ থেকে প্রদত্ত কবিতাটি গৃহীত হয়েছে।
বিষয়সংক্ষেপ
গাছেরা এক আশ্চর্য সবুজ জামা গায়ে দেয়। অল্পবয়সী তোতাইয়েরও অনুরূপ সবুজ জামার বাসনা। কিন্তু তোতাই স্কুলে গিয়ে বর্ণমালা শিখবে। আসলে বৃক্ষশিশু জানে মানবশিশু স্কুলের পাঠক্রমে ব্যস্ত থাকবে। গাছগুলো এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে সবুজ জামা পরে, তোতাই সেই সবুজ জামার প্রতি তীব্র আগ্রহ এবং আসক্তি অনুভব করে।
তোতাই হঠাৎ করে বৃক্ষ হয়ে যেতে চায়। সে বর্ণমালা শিখতে চায় না, স্কুলে যাওয়ার প্রতি ভীষণ অনাসক্তি দেখায়। গাছেদের মতো সে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আনন্দের খেলায় মেতে উঠতে চায়। তার মনে হয় গাছেরা কেমন এক পায়ে দাঁড়িয়ে একে অন্যের সঙ্গে খেলা করে, অনুরূপভাবে সেও মত্ত হতে চায় খেলার আনন্দে। তোতাইয়ের পিতামহ চশমা ছাড়া প্রকৃতির সবুজ দেখতে পায় না বলে শিশুর আক্ষেপের অবধি নেই। দাদু যে সবুজের সমারোহ দর্শন থেকে বঞ্চিত-এই ভেবে তোতাই বিষণ্ণ হয়।
তোতাই মনে করে তার যদি গাছেদের মতো সবুজ একটা জামা থাকত তাহলে ঠিক তার গায়ে প্রজাপতিরা ভিড় জমাত। আর তার কোলের কাছে একটা, দুটো, তিনটে লাল-নীল ফুল নেমে এসে তাকে পুষ্পময় করে তুলত। তোতাই নিজে একসময় বৃক্ষ হয়ে সবুজ পাতার আনন্দে বিভোর হয়ে উঠবে – এই বিশ্বাস কবিতায় আছে।
নামকরণ
সবুজ পাতায় ঢাকা গাছেরা সবুজ রঙের জামা পরে থাকে। তোতাই নামের এক শিশুর বিশ্বাস সেও গাছেদের মতো সবুজ জামা পরে আনন্দে থাকবে। তোতাইকে স্কুলে পাঠালে সে আবদ্ধ হবে এবং বর্ণমালা শিখবে। কিন্তু তোতাই সেই পাঠের মধ্যে কোনো আনন্দ পায় না। গাছেরা কেমন এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে, অনুরূপভাবে তোতাইও বন্ধুদের সঙ্গে এক্কা-দোক্কা খেলবে গাছেদের মতো।
কবির বিশ্বাস, প্রকৃতি থেকে সবুজ কমে যাওয়ায় প্রকৃতি ধীরে ধীরে সবুজ হারাচ্ছে এবং দূষণে পূর্ণ হচ্ছে বিশ্ব। দূষণমুক্ত প্রকৃতির প্রয়োজনে আরও সবুজ প্রয়োজন এবং এজন্য আরও গাছ লাগাতে হবে। সবুজায়নে প্রকৃতি দূষণমুক্ত হবে। সবুজ জামা পরে প্রকৃতি যেমন সুন্দর হয় এবং পত্রময় বৃক্ষের ডালে ডালে প্রজাপতি এসে বসে আনন্দ প্রকাশ করে তেমন তোতাই যদি সবুজ জামা পরে থাকে তাহলে তার গায়েও প্রজাপতি এসে বসবে।
প্রকৃতির বিস্তৃত সবুজের সঙ্গে মিশে তোতাই নামের শিশুটি যথার্থভাবে সবুজ পাতা হয়ে উঠবে। প্রকৃতিতে সবুজের সমারোহ একান্ত আবশ্যক-এই বিশ্বাস এ কবিতায় রয়েছে। এজন্য কবিতার নামকরণটি যথার্থই সার্থক।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘সবুজ জামা’ -এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





Leave a Comment