অষ্টম শ্রেণি বাংলা – পল্লীসমাজ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চতুর্থ পাঠের অন্তর্গত ‘পল্লীসমাজ’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

পল্লীসমাজ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা
Contents Show

কুড়িজন কৃষক রমেশের কাছে এসে কেঁদে পড়ল কেন?

কুড়িজন কৃষক রমেশের কাছে এসে কেঁদে পড়ল, কারণ অবিরাম বৃষ্টিতে তাদের চাষের খেত জলমগ্ন হয়ে গেছে। ফসল পচে নষ্ট হয়ে গেলে সারাবছর তাদের খাদ্য সংস্থান করা কঠিন হবে। অনাহারে তাদের মৃত্যু অবধারিত।

রমেশ বেণীর কাছে জল বার করে দেবার হুকুম দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল কেন?

বেণী রমেশের জ্যাঠার ছেলে। তার চাষিদের জমিসংলগ্ন জলাশয় আছে। সেটিতে বাঁধ দেওয়া আছে। অবিরাম বর্ষণে চাষিদের জমি জলমগ্ন হয়ে ফসল পচে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাই বাঁধ কেটে জল বের করে দেওয়া একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। এই কারণেই বেণী ঘোষালের কাছে গ্রামবাসীদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে রমেশ এই প্রস্তাব করে।

বেণী জল বার করতে চায়নি কেন?

চাষিদের জমির পাশেই বেণী ঘোষালের একটা জলা আছে। বাঁধ দিয়ে ঘোষাল ও মুখুয্যেরা সেখানে মাছ রক্ষা করে। এই অবস্থায় বাঁধ কেটে দিলে চাষিরা উপকৃত হলেও দুই-তিনশো টাকার মাছ নষ্ট হবে। সেই ক্ষতি স্বীকার করতে বেণী ঘোষাল নারাজ ছিল। তাই সে বাঁধ কেটে জল বার করতে দিতে চায়নি।

‘ঘৃণায়, লজ্জায়, ক্রোধে, ক্ষোভে রমেশের চোখমুখ উত্তপ্ত হইয়া উঠিল,’ – রমেশের এমন অবস্থা হয়েছিল কেন?

অসহায় দুর্বল গ্রামবাসীরা তাদের ফসল রক্ষার জন্য যখন রমেশের দ্বারস্থ হয়, তখনই সে সাহায্যের জন্য বেণী ঘোষালের কাছে ছুটে যায়। জ্যেষ্ঠ বেণী চাষিদের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি প্রদর্শন করেনি। উপরন্তু এই অবস্থায় তিনশো টাকার মাছের ক্ষতি স্বীকার করে বাঁধ কাটতে দিতে সে রাজি নয়, তা-ও সরাসরি জানিয়ে দেয়। নিরীহ গ্রামবাসীরা তার দৃষ্টিতে ছোটোলোক ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা কীভাবে ধারদেনা করে চালাবে তাতে সে বিন্দুমাত্র ভাবিত নয়। বেণীর এইরূপ মানসিকতায় রমেশ ঘৃণায়, লজ্জায় প্রস্থান করে।

‘রমেশ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হইয়া গেল।’ – রমেশের বিস্ময়ের কারণ কী ছিল?

রমেশ যদু মুখুয্যের বিধবা কন্যা তথা বাল্যসখী রমার শরণাপন্ন হয় এই দুর্যোগের হাত থেকে গ্রামবাসীদের রক্ষা করার জন্য; কারণ বাঁধ ঘোষাল ও মুখুয্যেদের উভয়ের। রমেশের কথা শুনে রমা জানায়, বেণী ঘোষালের এ বিষয়ে মত নেই। রমেশ জানায়, সেই বছর গ্রামবাসীদের স্বার্থে কিছু ক্ষতি স্বীকার করতেই হবে। প্রথমে রমা নীরব থাকলেও পরে জানায় ওই ক্ষতি মেনে নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তার এই উত্তরে রমেশ হতবাক হয়ে যায়, কারণ এই উত্তর তার প্রত্যাশিত ছিল না।

রমা রমেশের অনুরোধে রাজি হয়নি কেন?

রমা রমেশের অনুরোধ রাখতে রাজি হয়নি, কারণ সে মনে করে এই জমিদারি তার নামে থাকলেও মূলত পিতা যদু মুখুয্যে নাবালক সন্তান যতীনকেই তা দিয়ে গেছেন, যা রমাকে অভিভাবকত্বে ও দক্ষতায় রক্ষা করতে হবে। তাই পঁচিশ-ছাব্বিশ বছরের জমিদারি বুদ্ধিতে ক্ষতি স্বীকার করলে তাদের প্রভূত লোকসান হবে বলে তার ধারণা। তাছাড়া, বাঁধটি ঘোষালদেরও; তাই এক্ষেত্রে বেণীরও মত নেই। নিজের ইচ্ছা খাটিয়ে সে একা এ কাজ করতে পারে না।

‘মানুষ খাঁটি কি না, চেনা যায় শুধু টাকার সম্পর্কে’ – কে, কার সম্পর্কে এ কথা বলেছিল? সে কেন এ কথা বলেছিল?

তারিণী ঘোষালের ছেলে রমেশ, যদু মুখুয্যের বিধবা কন্যা বাল্যসখী রমার উদ্দেশে এ কথা বলেছিল। রমা দুস্থ, অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতি না জানিয়ে নিজের জমিদারির লাভ-লোকসান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে রমেশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং সরাসরি জানিয়ে দেয় বাঁধ কাটার নির্দেশ দিতে সে পারবে না। রমেশের মনে হয়, প্রাণের চেয়ে অর্থের মূল্য রমার কাছে বড়ো। মানুষ তার মানবিকতায় শ্রেষ্ঠ; মানমর্যাদা বা জাতধর্মে নয়—এই কথাটিই যেন রমেশ তার বাল্যসখী রমাকে বোঝাতে চেয়েছিল।

‘রমা বিহ্বল হতবুদ্ধির ন্যায় ফ্যালফ্যাল্ করিয়া চাহিয়া রহিল’ – রমার এমন অবস্থা হয়েছিল কেন?

রমেশ বাল্যসখী রমাকে গ্রামবাসীদের দুরবস্থার কথা বলেও বাঁধ কাটার অনুমতি পায়নি। রমা সম্পর্কে রমেশের অন্য ধারণা ছিল। কিন্তু রমা যখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে তার পক্ষে ক্ষতি স্বীকার করা সম্ভব নয় এবং দরদি হলে রমেশ যেন ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেয়—এই কড়া কথা রমেশের কাছে একেবারেই অনভিপ্রেত ছিল। রমেশের দৃষ্টিতে রমার স্থান অনেক উচ্চে ছিল। নিজেকে সংযত করতে না পেরে সে জানিয়েছিল, রমাকে শুধু নিষ্ঠুরই বলা যায় না, সে অত্যন্ত নীচ এবং ছোটোমনের অধিকারিণী। এই কথা শুনে রমা অত্যন্ত অপমানিত বোধ করে এবং বিস্ফারিত অশ্রুসজল চোখে রমেশের দিকে চেয়ে থাকে।

রমা আকবরকে ডেকে এনেছিল কেন?

রমার কাছ থেকেও রমেশ সহযোগিতা না পেয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, গরিব গ্রামবাসীর স্বার্থ সে লঙ্ঘিত হতে দেবে না। তাদের বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নিজেই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। রমেশের এই মন্তব্যেই রমা বুঝেছিল একটা বিরাট অনর্থ ঘটতে চলেছে। তাই সে পাঁচ গ্রামের সর্দার, খ্যাতনামা লাঠিয়াল আকবরকে বাঁধ রক্ষার জন্য ডেকে এনেছিল।

‘মোরা নালিশ করতি পারব না।’ – কে এ কথা বলেছে? সে নালিশ করতে পারবে না কেন?

পাঁচ গ্রামের সর্দার লাঠিয়াল আকবর এ কথা বলেছিল। বাঁধ রক্ষার জন্য রমা লাঠিয়াল আকবরকে ডেকে পাঠিয়ে রমেশের দলবলকে শায়েস্তা করার হুকুম দেয়। কিন্তু আকবর দেখে ছোটোবাবু নিজেই লাঠি হাতে বাঁধ কাটার কাজে তদারকি করছে। গ্রামবাসীদের একশো বিঘা জমি বাঁচাতেই তার এই প্রচেষ্টা। আকবর নিজে গ্রামের বাসিন্দা হয়ে গ্রামবাসীর বিরোধিতা করতে পারে না। হুকুম মানতে গিয়ে রমেশের লাঠির আঘাতে সে আহত হয়ে ফিরে আসে। বেণী ঘোষাল তাকে ও তার ছেলেদের রমেশের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে বললে সে রাজি হয় না। গ্রামবাসীদের স্বার্থে ছোটোবাবু রমেশ যে কাজ করেছে তার জন্য সে নিজেও তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে, তার কথাতেই তা প্রকাশ পেয়েছে। তাই বিনা কারণে সে রমেশের বিরুদ্ধাচরণ করতে পারবে না।

‘রমেশ আর শুনিবার জন্য অপেক্ষা করিল না, দ্রুত পদে প্রস্থান করিল।’ – রমেশ কেন প্রস্থান করল?

রমেশের কাছে গ্রামের চাষিরা এসে অভিযোগ জানিয়েছিল যে গ্রামের ভরসা একশো বিঘার মাঠ ডুবে গেছে, জল বার করে না দিলে সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে এবং গ্রামের একটা ঘরও সারাবছর খেতে পাবে না। অথচ জমিদার বেণীবাবু বাঁধের গায়ের জলা থেকে বছরে দুশো টাকার মাছ বিক্রি হয় বলে জল আটকে রেখেছেন। সকাল থেকে চাষিরা তার কাছে কেঁদে কেঁদে মিনতি জানালেও তিনি সেটা কিছুতেই খুলে দিতে রাজি হননি। এ কথা শুনে রমেশ বেণীবাবুর কাছ থেকে অনুমতি আদায়ের জন্য দ্রুতপদে প্রস্থান করল।

‘বাড়ি ফিরিয়া সারারাত্রি তাহার ঘুম হইল না,’ – কার এবং কেন বাড়ি ফিরে সারারাত্রি ঘুম হলো না?

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পল্লীসমাজ’ গদ্যাংশ থেকে প্রশ্নে প্রদত্ত অংশটি নেওয়া হয়েছে। উক্ত গদ্যাংশে রমার বাড়ি ফিরে সারারাত্রি ঘুম হলো না। কারণ সারারাত অনবরত তার চোখের সামনে ভাসতে লাগল তারকেশ্বরে রমেশকে সামনে বসিয়ে খাওয়ানোর দৃশ্য।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চতুর্থ পাঠের অন্তর্গত ‘পল্লীসমাজ’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্যাকরণ বিভাগ - সাধু ও চলিত রীতি - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সাধু ও চলিত রীতি

ব্যাকরণ বিভাগ - সমাস - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা - ব্যাকরণ বিভাগ - ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সাধু ও চলিত রীতি

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বাক্যের ভাব ও রূপান্তর