এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চতুর্থ পাঠের অন্তর্গত ‘পল্লীসমাজ’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
‘পল্লীসমাজ’ গদ্যাংশটির লেখক হলেন – (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় / বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।
উত্তর – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
‘পল্লীসমাজ’ গদ্যাংশের মুখ্য চরিত্রের নাম হলো – (রমেশ / সুরেশ / বিকাশ)।
উত্তর – রমেশ।
‘পল্লীসমাজ’ গদ্যাংশে – (নব্বই / সত্তর / একশো) বিঘার মাঠ ডুবে যাওয়ার কথা আছে।
উত্তর – একশো।
বেণীর পদবি হলো – (ঘোষাল / মিত্র / মুখুজ্জে)।
উত্তর – ঘোষাল।
একশো বিঘার মাঠটার (উত্তর / দক্ষিণ / পূর্ব) দিকে সরকারি প্রকাণ্ড বাঁধ ছিল।
উত্তর – পূর্ব।
‘রমেশ অবাক হইয়া কহিল, ব্যাপার কী?’ – রমেশের এই প্রশ্নের উত্তরে চাষিরা বলেছিল – (বেণীর সঙ্গে তারা কোনো বিষয় আলোচনা করতে চায় না / ছেলেপুলের হাত ধরে তাদের পথে ভিক্ষে করতে হবে / একশো বিঘের মাঠ ডুবে গেছে, জল বার করে না দিলে সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে, গ্রামের কেউই খেতে পাবে না / রমা দেবীর কাছে তাদের যাবতীয় আবেদন ব্যর্থ হয়ে গেছে)।
উত্তর – একশো বিঘের মাঠ ডুবে গেছে, জল বার করে না দিলে সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে, গ্রামের কেউই খেতে পাবে না।
শূন্যস্থান পূরণ করো
একশো বিঘার মাঠটাই এ গ্রামের একমাত্র ___।
উত্তর – একশো বিঘার মাঠটাই এ গ্রামের একমাত্র ভরসা।
খুড়োর মতামতের জন্য রমেশের ___ ছিল না।
উত্তর – খুড়োর মতামতের জন্য রমেশের কৌতূহল ছিল না।
রমেশ বিস্ময়ে ___ হইয়া গেল।
উত্তর – রমেশ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হইয়া গেল।
তখন রাত্রি বোধ করি ___।
উত্তর – তখন রাত্রি বোধ করি এগারোটা।
আকবর তাহাদের ___ প্রজা।
উত্তর – আকবর তাহাদের পিরপুরের প্রজা।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি উপন্যাস হলো – ‘দেবদাস’ ও ‘শ্রীকান্ত’।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি ছোটোগল্পের নাম লেখো।
কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি ছোটোগল্প হলো – ‘লালু’ ও ‘মহেশ’।
গোপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ কী করছিল?
গোপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ জমিদারির হিসাবপত্র দেখছিল।
গ্রামের একমাত্র ভরসা কী ছিল?
একশো বিঘার মাঠটাই গ্রামের একমাত্র ভরসা ছিল।
‘বোধ করি এই কথাই হইতেছিল’ – কোন্ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে?
বেণীগোপাল ও তোষামোদকারী হালদারের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত কথোপকথন চলছিল। চাষিদের জমি জলমগ্ন হয়েছে, তারা বিপাকে পড়েছে – এখানে সেই কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
রমা আকবরকে কোথায় পাহারা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিল?
রমা আকবরকে বাঁধ পাহারা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিল।
‘পারবি নে কেন?’ – উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন কাজটি করতে পারবে না?
পাঁচটি গ্রামের সর্দার আকবর, বেণী ঘোষালের কথায় রমেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে পারবে না।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন্ পুরস্কারে ভূষিত হন?
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘কুন্তলীন’ পুরস্কারে ভূষিত হন।
শরৎচন্দ্র কোন্ গল্পের জন্য ‘কুন্তলীন’ পুরস্কার পেয়েছিলেন?
শরৎচন্দ্র ‘মন্দির’ গল্পের জন্য ‘কুন্তলীন’ পুরস্কার পেয়েছিলেন।
গ্রামের দক্ষিণ ধারের বাঁধটা কাদের দখলে ছিল?
গ্রামের দক্ষিণ ধারের বাঁধটা ঘোষাল ও মুখুয্যেদের দখলে ছিল।
বাঁধের ধারের জলা থেকে বছরে কত টাকার মাছ বিক্রি হয়?
বাঁধের ধারের জলা থেকে বছরে দুশো টাকার মাছ বিক্রি হয়।
‘ওঠ রে গহর এইবার ঘরকে যাই।’ – গহর কে?
পাঁচ গ্রামের সর্দার আকবরের পুত্র হলো গহর।
‘কেন এত লোকসান করতে যাব সে তো আমি বুঝতে পারিনে।’ – কীসের লোকসানের কথা বলা হয়েছে?
বাঁধ কেটে দিলে চাষিরা উপকৃত হলেও বেণী ঘোষালের দু-তিনশো টাকার মাছ পার্শ্ববর্তী জলাশয় থেকে বেরিয়ে যাবে। তাই কোনোভাবেই এ ক্ষতি স্বীকারে সে নারাজ। এই লোকসানের কথাই এখানে বলা হয়েছে।
‘খুড়োর মতামতের জন্য রমেশের কৌতূহল ছিল না।’ – খুড়ো কে? কেন তার মতামতের জন্য রমেশের কৌতূহল ছিল না?
‘খুড়ো’ বলতে এখানে হালদারমশায়ের কথা বলা হয়েছে। রমেশের খুড়োর মতামতের ব্যাপারে কোনো কৌতূহল ছিল না, কারণ তোষামোদকারী হালদারমশাই সর্বক্ষেত্রেই বেণী ঘোষালের কথায় সহমত পোষণ করেন।
‘সে কিছুতেই এরূপ উত্তর আশা করে নাই’ – কে, কী উত্তর আশা করেনি?
রমেশ যদু মুখুয্যের কন্যা বাল্যসখী রমার কাছ থেকে এমন নেতিবাচক উত্তর আশা করেনি। রমা জানিয়েছিল যে, মাছ বেরিয়ে গেলে যে ক্ষতি হবে, তা সে মেনে নিতে পারবে না। এই উত্তর রমেশ আশা করেনি।
‘অসহ্য বিস্ময়ে রমা দুই চোখ বিস্ফারিত করিয়া কহিল কি আমি?’ – কোন্ কথায় এই উক্তি করা হয়েছে?
রমেশ রমাকে ‘নীচ’ ও ‘অতি ছোটো’ বলায় রমা এই উক্তি করেছে।
ব্যাকরণ
সন্ধি করো –
| সন্ধি বিচ্ছেদ | সন্ধিবদ্ধ পদ |
| বৃষ + তি | বৃষ্টি |
| অতি + অন্ত | অত্যন্ত |
| সম্ + বরণ | সংবরণ |
| অন্ + আত্মীয় | অনাত্মীয় |
| কাঁদ্ + না | কান্না |
| এক + অন্ত | একান্ত |
নীচের শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করো –
নিরুত্তর, নমস্কার, তারকেশ্বর, যথার্থ, প্রত্যাখ্যান, আশ্চর্য, তদবস্থা।
| সন্ধিবদ্ধ পদ | সন্ধি বিচ্ছেদ |
| নিরুত্তর | নিঃ + উত্তর |
| নমস্কার | নমঃ + কার |
| তারকেশ্বর | তারক + ঈশ্বর |
| যথার্থ | যথা + অর্থ |
| প্রত্যাখ্যান | প্রতি + আখ্যান |
| আশ্চর্য | আ + চর্য |
| তদবস্থা | তৎ + অবস্থা |
নীচে দেওয়া শব্দগুলির দল বিশ্লেষণ করো –
অপরাহ্ণ, অকস্মাৎ, আহ্বান, দক্ষিণ, উচ্ছিষ্ট, উত্তপ্ত, বিস্ফারিত, দীর্ঘশ্বাস, অশ্রুপ্লাবিত, হিন্দুস্থানি, অস্বচ্ছ।
| প্রদত্ত শব্দ | দল বিশ্লেষণ | মুক্ত দল / রুদ্ধ দল |
| অপরাহ্ণ | অ-প-রান্-হ | অ-মুক্ত দল; প-মুক্ত দল; রান্-রুদ্ধ দল; হ-মুক্ত দল। |
| অকস্মাৎ | অ-কস্-মাৎ | অ-মুক্ত দল; কস্-রুদ্ধ দল; মাৎ-রুদ্ধ দল। |
| আহ্বান | আহ্-বান্ | আহ্-রুদ্ধ দল; বান্-রুদ্ধ দল। |
| দক্ষিণ | দখ্-খিন্ | দখ্-রুদ্ধ দল; খিন্-রুদ্ধ দল। |
| উচ্ছিষ্ট | উচ্-ছিস্-ট | উচ্-রুদ্ধ দল; ছিস্-রুদ্ধ দল; ট-মুক্ত দল। |
| উত্তপ্ত | উত্-তপ্-ত | উত্-রুদ্ধ দল; তপ্-রুদ্ধ দল; ত-মুক্ত দল। |
| বিস্ফারিত | বিস্-ফা-রি-ত | বিস্-রুদ্ধ দল; ফা-মুক্ত দল; রি-মুক্ত দল; ত-মুক্ত দল। |
| দীর্ঘশ্বাস | দীর্-ঘোস্-শ্বাস্ | দীর্-রুদ্ধ দল; ঘোস্-মুক্ত দল; শ্বাস্-রুদ্ধ দল। |
| অশ্রুপ্লাবিত | অশ্-রু-প্লা-বি-ত | অশ্-রুদ্ধ দল; রু-মুক্ত দল; প্লা-মুক্ত দল; বি-মুক্ত দল; ত-মুক্ত দল। |
| হিন্দুস্থানি | হিন্-দুস্-থা-নি | হিন্-রুদ্ধ দল; দুস্-রুদ্ধ দল; থা-মুক্ত দল; নি-মুক্ত দল। |
| অস্বচ্ছ | অ-সচ্-ছ | অ-মুক্ত দল; সচ্-রুদ্ধ দল; ছ-মুক্ত দল। |
নীচে দেওয়া ব্যাসবাক্যগুলিকে সমাসবদ্ধ পদে পরিণত করে কোনটি কী ধরনের সমাস তা নির্ণয় করো –
জল ও কাদা, নয় আহত, ত্রি অধিক দশ, বেগের সহিত বর্তমান, মড়ার জন্য কান্না, চণ্ডীপুজোর জন্য তৈরি যে মণ্ডপ
| ব্যাসবাক্য | সমাসবদ্ধ পদ | সমাসের শ্রেণি |
| জল ও কাদা | জলকাদা | দ্বন্দ্ব সমাস |
| নয় আহত | অনাহত | নঞ তৎপুরুষ |
| ত্রি অধিক দশ | ত্রয়োদশ | মধ্যপদলোপী কর্মধারয় |
| বেগের সহিত বর্তমান | সবেগে | সহার্থক বহুব্রীহি |
| মড়ার জন্য কান্না | মড়াকান্না | নিমিত্ত তৎপুরুষ |
| চণ্ডীপুজোর জন্য তৈরি যে মণ্ডপ | চণ্ডীমণ্ডপ | মধ্যপদলোপী কর্মধারয় |
নীচের বাক্যগুলিকে নির্দেশ অনুযায়ী পরিবর্তন করো –
কথাটা রমেশ বুঝিতে পারিল না। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর – কথাটা রমেশ শুনিল, কিন্তু বুঝিতে পারিল না।
এ বাড়িতে আসিয়া যখন প্রবেশ করিল তখন সন্ধ্যা হয় হয়। (সরল বাক্যে)
উত্তর – এ বাড়িতে আসিয়া প্রবেশ করামাত্রেই সন্ধ্যা হয় হয়।
ওরা যাবে কি? (নির্দেশক বাক্যে)
উত্তর – ওরা যাবে না।
বেণীর এই অত্যন্ত অপমানকর প্রশ্নের উত্তর দিবারও তাহার প্রবৃত্তি হইল না। (হ্যাঁ-বাচক বাক্যে)
উত্তর – বেণীর এই অত্যন্ত অপমানকর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হইতে সে নিবৃত্ত রহিল।
তুমি নীচ, অতি ছোটো। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর – তুমি নীচ এবং অতি ছোটো।
পথে আর এতটুকু কাদা পাবার জো নেই দিদিমা। (প্রশ্নবোধক বাক্যে)
উত্তর – পথে কি আর এতটুকু কাদা পাবার জো আছে দিদিমা?
মাসি উপরে ঠাকুরঘরে আবদ্ধ থাকায় এ সকলের কিছুই জানিতে পারেন নাই। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – যেহেতু মাসি উপরে ঠাকুরঘরে আবদ্ধ ছিলেন, তাই এ সকলের কিছুই জানিতে পারেন নাই।
নীচে দেওয়া শব্দদুটিকে দুটি আলাদা আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্যরচনা করো –
যাত্রা, বাঁধ
| শব্দ | বাক্যরচনা |
| যাত্রা | 1. আমাদের হিমালয় যাত্রা হরিদ্বার থেকে শুরু হল। 2. আজ নটী বিনোদিনী যাত্রা অহীন্দ্রমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। |
| বাঁধ | 1. চোরটাকে ল্যাম্পপোস্টে বাঁধ। 2. নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে গ্রামবাসীরা বিপদে পড়বে। |
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চতুর্থ পাঠের অন্তর্গত ‘পল্লীসমাজ’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment