এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘কী করে বুঝব’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

গল্পে বুকুর আচরণ তার মাকে অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বুকুর এই আচরণ কি তুমি সমর্থন করো? বুকু কেন অমন আচরণ অতিথিদের সামনে করেছিল?
আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পটিতে ছ-বছরের ছেলে বুকুর কিছু অদ্ভুত আচরণ তার মাকে অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। সে তার সমবয়সি অতিথি বালকটিকে মুখের উপর ‘হাতির মতো চেহারা ও বুদ্ধি’ বলেছিল এবং বইয়ের আলমারি ভাঙার জন্য শাসিয়েছিল। তার মা অতিথিদের সামনে আনন্দ প্রকাশ করলেও তাদের আগমন সংবাদ শুনে যে বিরক্ত হয়েছিলেন, তা সে ফাঁস করে দেয়। সে আরও বলে দিয়েছিল যে তাদের সিনেমার টিকিট কেনা আছে এবং অতিথিরা আসার ফলে সেই টিকিট নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। টিকিট নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনায় তার বাবা যে রেগে গেছেন, তাও সে বলে দিয়েছিল। তাছাড়াও সে বলেছিল যে অতিথিরা বিদায় নেওয়ার পর তাদের নিন্দা করা হবে। সাধারণ দৃষ্টিতে দেখে বিচার করলে বুকুর এই আচরণ অভব্য, অশালীন ও অবশ্যই সমর্থন করা যায় না।
বুকুর আচরণে মনে হতে পারে যে সে একটি অকালপক্ব, বেয়াড়া ছেলে। কিন্তু গল্পের শেষে বোঝা যায় যে, আসলে সে তার মায়ের আদেশই পালন করেছিল। তার মা তাকে বলেছিলেন সর্বদা সত্যি কথা বলতে এবং কারও কাছে কোনো কথা না লুকোতে। বুকু তার শিশুসুলভ বুদ্ধিতে তাই কোনো কথা না লুকিয়ে অতিথিদের সামনে সব সত্যি কথা ফাঁস করে দিয়েছিল। বালকোচিত অনভিজ্ঞ মানসিকতাই এই বিভ্রান্তিকর আচরণের মূল।
‘কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে’—গল্পে বুকু এই কথা বলেছিল। আসলে কী করা উচিত বলে তোমার মনে হয়?
আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পটিতে ছ-বছরের ছেলে বুকু অতিথিদের সামনে নানা কথা ফাঁস করে দিয়ে তার মা-বাবাকে অপদস্থ করেছিল। তার মা-বাবার মনে হয়েছে যে ছেলে বাইরের লোকের সামনে মা-বাবার সম্মান নষ্ট করে, তাকে মেরে তক্তা করাই উচিত। মার খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত বুকু তার আচরণের কারণ জানিয়েছে। তখন বোঝা গেল যে সে আসলে মায়ের উপদেশই মান্য করেছিল। মা তাকে বলেছিলেন সর্বদা সত্যি কথা বলতে এবং কারও কাছে কিছু না লুকোতে। অথচ সেটা করেছে বলেই তারা রেগে গেছেন। তাই বুকুর অসহায় প্রশ্ন, ‘কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে?’
আমার মনে হয় ‘আসলে কী করা উচিত’ সেটা বড়োদের বোঝা দরকার। এ প্রসঙ্গে একটি মন্তব্য লেখিকা স্বয়ং গল্পের মধ্যেই করেছেন—‘ছোটো ছেলেদের সামনে যথেচ্ছ কথা বলার ফল টের পান।’ আসলে ছোটোদের সামনে যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করার সময় বড়োদের সতর্ক থাকা উচিত। শিশুমন কাদামাটির মতো নরম। তাকে যে ছাঁচে ফেলা হবে তার চরিত্র তেমনভাবেই গড়ে উঠবে। তাই ছোটোদের কোনো উপদেশ বা শিক্ষা দেওয়ার সময় বড়োদেরও খেয়াল রাখা উচিত যে সেই শিক্ষা বা উপদেশ কতটা বাস্তবসম্মত। কারণ ছোটোদের বুদ্ধি অপরিণত। তারা যদি বড়োদের কথা মেনে চলতে গিয়ে বুকুর মতো অঘটন ঘটায়, তখন কিন্তু বড়োরা নিজেদের কথা ও কাজের অসংগতির কথা মনে রাখেন না এবং ছোটোদের শাসন করেন। তাই আসলে বড়োদেরই সতর্ক হয়ে ছোটোদের মানুষ করা উচিত।
‘কী করে বুঝব’ গল্পটি পাঠ করে লেখিকার রসবোধ ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির কী পরিচয় পাওয়া যায়?
বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর ‘কী করে বুঝব’ গল্পটিতে আগাগোড়াই লেখিকার অপূর্ব রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। চরিত্রগুলির বর্ণনা, তাদের সংলাপ ও কার্যকলাপ এবং সর্বোপরি সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও আটপৌরে ভাষায় গল্প বলার অসামান্য ভঙ্গিটি গল্পটিকে একটি সরস ও কৌতুকপূর্ণ গঠন দিয়েছে।
হাস্যরসের এই আবরণের মধ্য থেকেও কিন্তু লেখিকার গভীর অন্তর্দৃষ্টির পরিচয়টি পাওয়া যায়। একান্নবর্তী, মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের মানসিকতা, অসময়ে অতিথি এলে বিরক্তিবোধ করেও হাসিমুখে অতিথি আপ্যায়ন করার সামাজিক রীতি ইত্যাদির বাস্তব ছবি লেখিকা গল্পের মধ্যে অতি সুন্দরভাবে এঁকেছেন। কিন্তু তাঁর অন্তর্দৃষ্টির সবচেয়ে বড়ো পরিচয় পাই যখন তিনি শিশুদের কথাবার্তা ও কার্যকলাপের উপর বড়োদের অসচেতনভাবে বলা কথাবার্তার প্রভাবটি কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গিতেই তুলে ধরেন। গল্পের মাঝে তাঁর একটি মন্তব্য রয়েছে—‘ছোটো ছেলেদের সামনে যথেচ্ছ কথা বলার ফল টের পান’, যা তাঁর গভীর মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞানের পরিচয় দেয়।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘কী করে বুঝব’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment