অষ্টম শ্রেণি বাংলা – পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্গত ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে কবি ভালোবাসেন কেন?

কবি পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে ভালোবাসেন। কবি শৈশবের পাড়াগাঁকে ফেলে রেখে চলে এসেছেন বহুদূরে। কিন্তু বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে কবির যোগ ছিন্ন হয়নি। বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে রয়েছে কবির জীবন। কবির হৃদয়ে গল্প, কাহিনি, স্বপ্ন, আশার যে স্মৃতি তাই নিয়ে কবিমন নিরন্তর সুখে ডুবে থাকে। বাংলার স্মৃতিমেদুর দুপুরের কথা কবির বারবার মনে পড়ে যায়। ঝরে যাওয়া হলুদ পাতার মতো কবির সেই স্বপ্নের দুপুরের নকশাপেড়ে মেয়েটি সরে গেছে বহুদূরে; কিন্তু কবির হৃদয়ে রয়ে গেছে সেই স্মৃতিমেদুর দুপুরের ছবি। কবির মন তাই পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে ভালোবাসে।

‘স্বপ্নে যে-বেদনা আছে’ – কবির স্বপ্নে কেন বেদনার অনুভূতি?

মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড বলেছেন, মানুষের অবচেতন মনের আকাঙ্ক্ষাই স্বপ্নে প্রকাশিত হয়। তাই স্বপ্নকে ঘিরে মানুষের মনে একটা বেদনার অনুভূতি কাজ করে। সব ক্ষেত্রেই তাতে থাকে বাস্তবায়িত না হওয়ার যন্ত্রণা।

আলোচ্য কবিতায় কবির শৈশব অতিবাহিত হয়েছে গ্রামবাংলায়। কবির মনে শৈশবের দিনগুলির ছবি অমলিন। কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতির প্রতি নিবিড় টান অনুভব করেন। গ্রামবাংলার জলসিঁড়ি নদী, শঙ্খচিল, হিজল, চালতার বুনো গন্ধ, ছোট্ট ডিঙি সবই কবির জীবনে রোদের গন্ধমাখা শুকনো হলুদ পাতার মতো সরে সরে যায়। তাই কবি তাঁর স্বপ্নে স্মৃতিমেদুরতার বেদনাকে অনুভব করেছেন। কবি সেই কারণেই উল্লেখ করেছেন – ‘স্বপ্নে যে-বেদনা আছে’।

প্রকৃতির কেমন ছবি কবিতাটিতে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির কবি। নিসর্গপ্রকৃতি কবির বাণীতে বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে। কবির কবিতায় প্রকৃতির নিবিড়তা প্রকাশিত হয়েছে। ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যের প্রতিটি কবিতাতেই গ্রামবাংলার নিসর্গপ্রকৃতির ছবি সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত হয়েছে। বাংলা প্রকৃতির রূপে কবি এমনভাবে আপ্লুত হয়েছেন যে, কবি ‘রূপসী বাংলা’র অপর এক কবিতাতে উল্লেখ করেছেন –

‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।’

আজন্ম বঙ্গপ্রকৃতির বুকে মগ্ন হয়ে থাকা কবি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন বাংলার নদী, মাঠ, প্রান্তরকে। কবির স্বপ্নে বারবার উঁকি দিয়ে গেছে বাংলার প্রকৃতি। গ্রামের আকাশের রোদ, উদাস প্রান্তর, দূর আকাশে উড়ে বেড়ানো শঙ্খচিল, জলসিঁড়ি নদীর ধারে নুয়ে পড়া চালতাগাছ, হিজল গাছের সঙ্গে বাঁধা একখানি ডিঙি — এসবই কবির প্রকৃতিভাবনার রূপ ধরে আমাদের সামনে সুস্পষ্ট হয়েছে। ঝরে-পড়া শুকনো হলুদ পাতা, শালিক পাখির কলরব, ভাঙা মঠ—এসবই যেন বহুযুগ ধরে কবিকে সঙ্গ দিয়েছে, কথা শিখিয়েছে। বাংলার অপরূপ রূপ কবিকে যেমন মোহিত করেছে, তেমনি কবি বঙ্গপ্রকৃতির অনিন্দ্যসুন্দর রূপকে বাণীরূপ দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।

‘কেঁদে কেঁদে ভাসিতেছে আকাশের তলে’ – কবির এমন মনে হওয়ার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?

সাধারণভাবে দুঃখ তথা বেদনা-অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হল কান্না। যন্ত্রণায় মানুষ এবং মানবেতর প্রাণী কান্নার মধ্য দিয়ে তাদের দুঃখানুভূতিকে প্রকাশ করে।

কবি জীবনানন্দ দাশ বঙ্গপ্রকৃতির রূপতন্ময় কবি। এই বাংলাপ্রকৃতির যুগযুগান্তের প্রবহমানতার সঙ্গে কবি একাত্মতা অনুভব করেছেন। তাই কবি বাংলার অতি পরিচিত জলসিঁড়ি নদীর জলে একটি ভাসমান ডিঙি দেখে নিঃসঙ্গ, একাকী, মালিকহীন ডিঙিটির যন্ত্রণার শরিক হয়েছেন। ঝাঁঝরা-ফোঁপরা ডিঙিটি নির্জীব; কিন্তু একদিন এই ডিঙি ঘিরে প্রাণের উত্তাপ চিরসত্য ছিল। অথচ আজ তা শূন্য, ফাঁকা। কবির জীবনেও একদিন পাড়াগাঁয়ের রোদ, শঙ্খচিল, শালিকের কলরব, চালতা-হিজলের বুনো গন্ধ চিরসত্য ছিল; কিন্তু বর্তমানে তা ঝরে-পড়া শুকনো হলুদ পাতার মতোই বহুদূরে সরে গেছে। কবির জন্মজন্মান্তরের প্রকৃতি যেন স্মৃতিমেদুরতায় স্বপ্নে জেগে রয়েছে। তাই কবির মনও যেন ওই নিঃসঙ্গ ডিঙি নৌকোর মতো আকাশের তলে কেঁদে কেঁদে ভেসে থাকে।

‘কোন্ গল্প, কী কাহিনি, কী স্বপ্ন যে বাঁধিয়াছে ঘর’ – তাৎপর্য লেখো।

প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি জীবনানন্দের ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

কবি তাঁর পাড়াগাঁর দ্বিপ্রহরকে ভালোবাসেন। দ্বিপ্রহরের রৌদ্রের গন্ধ তাঁর চেতনায় মাখামাখি হয়ে আছে। সেই রোদের মধ্যে কবির অনেক স্মৃতি, বহু অনুভূতি লীন হয়ে আছে। দ্বিপ্রহরের কত গল্প-কাহিনি, কত স্বপ্ন কবির হৃদয়ে ঘর বেঁধেছিল; তা কবিকে আলোড়িত করে। তা কবিকে নিয়ে যায় তাঁর জন্মভূমির হারিয়ে ফেলা দ্বিপ্রহরগুলিতে। প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতির মাধ্যমে কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

‘তাহাদের কাছে / যেন এ-জনমে নয়’ – প্রসঙ্গসহ ব্যাখ্যা করো।

প্রসঙ্গ – প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি জীবনানন্দ দাশের ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি তাঁর স্মৃতির সাগরে ডুব দিয়েছেন। পাড়াগাঁ কবির জন্মস্থান, সেখানকার দ্বিপ্রহরের স্মৃতিচারণ প্রসঙ্গে তিনি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

ব্যাখ্যা – কবি ভালোবাসেন তাঁর পাড়াগাঁর দ্বিপ্রহরকে। এখনও তিনি অনুভব করেন সেই দ্বিপ্রহরের রৌদ্রের গন্ধকে। কবির কত স্বপ্ন-কাহিনি হারিয়ে গেছে, কেবল প্রান্তর ও প্রান্তরের শঙ্খচিল তা জানে। কারণ কবির সঙ্গে এদের সম্পর্ক তো শুধু এই জীবনের নয়—জন্মজন্মান্তর ধরে কবির সঙ্গে তাদের চির-অমলিন সম্পর্ক। তাদের কাছ থেকেই কবি নানান কথা শিখেছেন। পল্লিপ্রকৃতির সঙ্গে কবির আত্মিক সম্পর্কই নির্দেশ করেছেন প্রশ্নোক্ত অংশে।

‘হলুদ পাতার মতো সরে যায়,’ – উদ্ধৃতিটির উৎস লেখো। উক্তিটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উদ্ধৃত অংশটি জীবনানন্দ দাশের ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

কবি তাঁর জীবনে কাটিয়ে আসা দিনের স্মৃতিচারণ করেছেন আলোচ্য কবিতায়। কবি তাঁর পাড়াগাঁর দ্বিপ্রহরকে ভালোবাসেন। আর সে-কথা বলতে গিয়েই দ্বিপ্রহরের রোদের কথা বলেছেন, যা তাঁকে আলোড়িত করে। নকশাপেড়ে মেয়েটির কথা আজ তাঁর স্মৃতিতে জেগে ওঠে। আজ সে বাস্তবে তাঁর সামনে নেই। স্মৃতি ক্রমে ঝরে ঝরে যায় কালের গতিতে। গাছের পাতা জীর্ণ হলে তা বৃন্তচ্যুত হয়ে ঝরে পড়ে। রোদের ভিতর হলুদ পাতা যেমন সরে সরে যায়, তেমনই মনের আকাশ থেকেও মেয়েটির স্মৃতি ক্রমে দূরে সরে সরে যায়। এক বিষণ্ণতার কাহিনি কবি তুলে ধরেছেন প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে।

‘নুয়ে আছে বহুদিন ছন্দহীন…’ – কে, কোথায় নুয়ে আছে? ‘ছন্দহীন’ বলার কারণ কী?

জীবনানন্দ দাশের ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ কবিতায় বুনো চালতার শাখা জলসিঁড়ি নদীর পাশে ঘাসের উপরে নুয়ে আছে।

কবি তাঁর পাড়াগাঁর দ্বিপ্রাহরিক প্রকৃতির এক ছবি অঙ্কন করেছেন আলোচ্য কবিতায়। জলসিঁড়ি নদীর পাশে বহুদিন ধরে নুয়ে আছে গ্রামের বুনো চালতা গাছটি। অপরিকল্পিতভাবে সেটি অবস্থান করছে, কেউ তার যত্ন নেয়নি বা এখনও নেয় না যত্ন। অবহেলা সয়েই সে বিস্তার করেছে তার শাখা-প্রশাখা। নিজের মতো করেই চালতা অবস্থান করছে, তাই সে এলোমেলো। এ কথা বোঝাতেই কবি ‘ছন্দহীন’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্গত ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্যাকরণ বিভাগ - সাধু ও চলিত রীতি - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সাধু ও চলিত রীতি

ব্যাকরণ বিভাগ - সমাস - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা - ব্যাকরণ বিভাগ - ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সাধু ও চলিত রীতি

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বাক্যের ভাব ও রূপান্তর