অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি – ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Sourav Das

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইভাবে পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি যদি তোমরা প্রস্তুত করে না যাও তাহলে পরীক্ষায় পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলোর উত্তর দিতে পারবে না। তাই পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি ভালো করে মুখস্ত করে গেলে তোমরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল পাবে।

কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর কবিতা ভাবনার গভীরতা, ভাষার চমৎকার ব্যবহার এবং প্রকৃতির প্রতি অপার ভালোবাসার জন্য বিখ্যাত। “দ্বিপ্রহর” কবিতাটি তার অন্যতম জনপ্রিয় রচনা, যেখানে তিনি গ্রামবাংলার প্রতি তার অগাধ মমত্ব ও স্মৃতিচারণকে অসাধারণ সৌন্দর্য্যে ফুটিয়ে তুলেছেন।

এই কবিতায় কবি দ্বিপ্রহরের সময় গ্রামবাংলার চিত্র তুলে ধরেছেন। দ্বিপ্রহরের রোদের গন্ধে ভেসে আসে তার শৈশবের স্মৃতি, যখন তিনি গ্রামের প্রান্তরে খেলাধুলা করতেন, শঙ্খচিলের ডাক শুনতেন, এবং নকশাপেড়ে শাড়ি পরা এক রহস্যময়ী মেয়ের সাথে দেখা করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সব কিছুই অতীতের স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। ঝাঁঝরা-ফোঁপরা ডিঙিটি আর নদীতে ভাসে না, বুনো ঘাসের উপর জলসিড়ি নদীর ধারে পড়ে আছে, আর সেই রহস্যময়ী মেয়েটির কোনো খোঁজ নেই। এই পরিবর্তন কবির মনে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা জাগিয়ে তোলে।

জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির প্রতি অপার ভালোবাসার জন্য পরিচিত। এই কবিতায়ও তিনি দ্বিপ্রহরের রোদ, হলুদ পাতা ঝরা, জলসিড়ি নদী, বুনো ঘাসের মতো প্রকৃতির বিভিন্ন দিকের অপূর্ব চিত্র তুলে ধরেছেন। কবিতার মূল ভাব হলো কবির শৈশবের স্মৃতিচারণ। দ্বিপ্রহরের রোদের গন্ধে ভেসে আসে তার অতীতের সুখ-দুঃখের স্মৃতি। বর্তমানের পরিবর্তন এবং অতীতের স্মৃতির মধ্যে পার্থক্য কবির মনে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা জাগিয়ে তোলে। এই বিষণ্ণতা কবিতাটির মূল সুর। জীবনানন্দ দাশের ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত সাবলীল ও চিত্রাত্মক। তিনি বিভিন্ন রূপক, উপমা ও প্রতীক ব্যবহার করে কবিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন।

“দ্বিপ্রহর” কবিতাটি কেবল একটি গ্রামবাংলার চিত্র তুলে ধরে না, বরং জীবনের নश्वরতা, স্মৃতির ক্ষণস্থায়িত্ব এবং অতীতের প্রতি মানুষের আকর্ষণের মতো গভীরতর বিষয়গুলোকেও স্পর্শ করে। এই কবিতার মাধ্যমে জীবনানন্দ দাশ একজন সৃজনশীল কবি।

পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি – অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে কবি ভালোবাসেন কেন?

কবি পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে ভালোবাসেন। কবি শৈশবের পাড়াগাঁকে ফেলে রেখে চলে এসেছেন বহুদুরে। কিন্তু বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে কবির যোগ ছিন্ন হয়নি। বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে রয়েছে কবির জীবন। কবির হৃদয়ে গল্প, কাহিনি, স্বপ্ন, আশার যে স্মৃতি তাই নিয়ে কবিমন নিরন্তর সুখে ডুবে থাকে। বাংলার স্মৃতিমেদুর দুপুরের কথা কবির বারবার মনে পড়ে যায়। ঝরে যাওয়া হলুদ পাতার মতো কবির সেই স্বপ্নের দুপুরের নকশাপাড়া মেয়েটি সরে গেছে বহুদূরে; কিন্তু কবির হৃদয়ে রয়ে গেছে সেই স্মৃতিমেদুর দুপুরের ছবি। কবির মন তাই পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে ভালোবাসেন।

স্বপ্নে যে-বেদনা আছে – কবির স্বপ্নে কেন বেদনার অনুভূতি?

মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড বলেছেন, মানুষের অবচেতন মনের আকাঙ্ক্ষাই স্বপ্নে প্রকাশিত হয়। তাই স্বপ্নকে ঘিরে মানুষের মনে একটা বেদনার অনুভূতি কাজ করে। সবক্ষেত্রেই তাতে থাকে বাস্তবায়িত না হওয়ার যন্ত্রণা।

আলোচ্য কবিতায় কবির শৈশব অতিবাহিত হয়েছে গ্রামবাংলায়। কবির মনে শৈশবের দিনগুলির ছবি অমলিন। কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতির প্রতি নিবিড় টান অনুভব করেন। গ্রামবাংলার জলসিড়ি নদী, শঙ্খচিল, হিজল, চালতার বুনো গন্ধ, ছোট্ট ডিঙি সবই কবির জীবনে রোদের গন্ধ মাখা শুকনো হলুদ পাতার মতো সরে সরে যায়। তাই কবি তাঁর স্বপ্নে স্মৃতিমেদুরতার বেদনাকে অনুভব করেছেন। কবি সেই কারণেই উল্লেখ করেছেন – ‘স্বপ্নে যে-বেদনা আছে’।

কোন্ গল্প, কী কাহিনি, কী স্বপ্ন যে বাঁধিয়াছে ঘর – তাৎপর্য লেখো।

প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি জীবনানন্দের ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

কবি তাঁর পাড়াগাঁর দুপ্রহরকে ভালোবাসেন। দ্বিপ্রহরের রৌদ্রের গন্ধ তাঁর চেতনায় মাখামাখি হয়ে আছে। সেই রোদের মধ্যে কবির অনেক স্মৃতি, বহু অনুভূতি লীন হয়ে আছে। দ্বিপ্রহরের কত গল্পকাহিনি, কত স্বপ্ন কবির হৃদয়ে ঘর বেঁধে ছিল; তা কবিকে আলোড়িত করে। তা কবিকে নিয়ে যায় তার জন্মভূমির হারিয়ে ফেলা দ্বিপ্রহরগুলিতে। প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতির মাধ্যমে কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

হলুদ পাতার মতো সরে যায়, – উদ্ধৃতিটির উৎস লেখো। উক্তিটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উদ্ধৃত অংশটি জীবনানন্দ দাশের ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

কবি তাঁর জীবনে কাটিয়ে আসা দিনের স্মৃতিচারণ করেছেন আলোচ্য কবিতায়। কবি তাঁর পাড়াগাঁর দ্বিপ্রহরকে ভালোবাসেন। আর সে-কথা বলতে গিয়েই দ্বিপ্রহরের রোদের কথা বলেছেন, যা তাঁকে আলোড়িত করে। নকশাপেড়ে মেয়েটির কথা আজ তাঁর স্মৃতিতে জেগে ওঠে। আজ সে বাস্তবে তাঁর সামনে নেই। স্মৃতি ক্রমে ঝরে ঝরে যায় কালের গতিতে। গাছের পাতা জীর্ণ হলে তা বৃন্তচ্যুত হয়ে ঝরে পড়ে। রোদের ভিতর হলুদ পাতা যেমন সরে সরে যায়, তেমনই মনের আকাশ থেকেও মেয়েটির স্মৃতি ক্রমে দূরে সরে সরে যায়। এক বিষণ্ণতার কাহিনি কবি তুলে ধরেছেন প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে।

নুয়ে আছে বহুদিন ছন্দহীন – কে, কোথায় নুয়ে আছে? ‘ছন্দহীন’ বলার কারণ কী?

জীবনানন্দ দাশের ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ কবিতায় বুনো চালতার শাখা জলসিড়ি নদীর পাশে ঘাসের উপরে নুয়ে আছে।

কবি তাঁর পাড়াগাঁর দ্বিপ্রাহরিক প্রকৃতির এক ছবি অঙ্কন করেছেন আলোচ্য কবিতায়। জলসিড়ি নদীর পাশে বহুদিন ধরে নুয়ে আছে গ্রামের বুনো চালতা গাছটি। অপরিকল্পিতভাবে সেটি অবস্থান করছে, কেউ তাকে যত্ন নেয়নি বা এখনও নেয় না যত্ন। অবহেলা সয়েই সে বিস্তার করেছে তার শাখাপ্রশাখা। নিজের মতো করেই চালতা অবস্থান করছে, তাই সে এলোমেলো। এ কথা বোঝাতেই কবি ‘ছন্দহীন’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

কবি জীবনানন্দ দাশের “দ্বিপ্রহর” কবিতাটিতে গ্রামবাংলার প্রতি কবির গভীর মমতার প্রকাশ ঘটেছে। দ্বিপ্রহরের রোদের গন্ধ, হলুদ পাতা ঝরা, ঝাঁঝরা-ফোঁপরা ডিঙি, বুনো চালতা ঘাসের উপর নুয়ে জলসিড়ি নদী – এই সবকিছুই কবির স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে।

এই স্মৃতিগুলিতে আছে সুখের স্মৃতি, দুঃখের স্মৃতি, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মিশেল। কবি যেন ফিরে যেতে চান সেই অতীতের দিনগুলিতে, যেখানে তিনি নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতেন গ্রামের প্রান্তরে।

কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা অন্য। গ্রামের সেই সরল জীবন, প্রকৃতির সৌন্দর্য – সবকিছুই যেন হারিয়ে গেছে। ঝাঁঝরা-ফোঁপরা ডিঙিটি যেন অযত্নের শিকার, বুনো চালতা ঘাসের উপর নুয়ে থাকা জলসিড়ি নদীর ধারেও যেন এক অদ্ভুত নিরুদ্বেগ।

এই সবকিছুই কবিকে দুঃখিত করে তোলে। তবুও তিনি এই দ্বিপ্রহরকে ভালোবাসেন। কারণ এই দ্বিপ্রহরের সাথে জড়িয়ে আছে তার শৈশবের স্মৃতি, তার জন্মভূমির প্রতি তার অপার মমতা।

“দ্বিপ্রহর” কবিতাটি কেবল গ্রামবাংলার চিত্র তুলে ধরে না, বরং জীবনের অস্থায়িত্ব, সুখ-দুঃখের মিশেল, এবং জন্মভূমির প্রতি মমতার মতো গভীর বিষয়গুলোকেও স্পর্শ করে।

JOIN US ON WHATSAPP

JOIN US ON TELEGRAM

Please Share This Article

About The Author

Related Posts

লোকটা জানলই না – অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – লোকটা জানলই না – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

লোকটা জানলই না – অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – লোকটা জানলই না –  ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

লোকটা জানলই না – অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – লোকটা জানলই না – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

Trending Now

Class 9 – English Reference – Tom Loses a Tooth – Question and Answer

Class 9 – English Reference – The North Ship – Question and Answer

Class 9 – English – His First Flight – Question and Answer

Class 9 – English – A Shipwrecked Sailor – Question and Answer

Class 9 – English – The Price of Bananas – Question and Answer