অষ্টম শ্রেণি বাংলা – পরাজয় – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘পরাজয়’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

পরাজয় - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

‘একটু আগেও সবকটা কাগজে বারপুজোর রিপোর্ট পড়েছে।’ – এখানে ‘ও’ বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে? সে সবকটা কাগজে একই বিষয়ের রিপোর্ট পড়ল কেন?

প্রশ্নে প্রদত্ত উদ্ধৃতিটিতে ‘ও’ বলতে বোঝানো হয়েছে শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ গল্পের প্রধান চরিত্র দক্ষ ফুটবলার রঞ্জন সরকারকে।

রঞ্জন 15 বছর ধরে যে ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছে, নববর্ষের দিনে সেই ক্লাবের বারপুজোর অনুষ্ঠানের খবর বেরিয়েছে খবরের কাগজগুলিতে। ক্লাবের পক্ষ থেকে কেউ একটিবারও রঞ্জনকে বারপুজোর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর সৌজন্য দেখায়নি। অপমানিত, বেদনাহত রঞ্জন খবরের কাগজগুলিতে বেশি করে দেখতে চেয়েছিল যে ওদের ক্লাবের অনুষ্ঠানে সেদিন কে কে এসেছিল। এই কারণেই সে সবকটা কাগজে একই বিষয়ের রিপোর্ট বারবার পড়েছে।

‘ওকে নিয়ে মাতামাতিটা ঠিক আগের মতো আর নেই।’ – আগে ‘ওকে’ নিয়ে কী ধরনের মাতামাতি হত?

‘ওকে’ বলতে রঞ্জন সরকারের কথা বলা হয়েছে। সে একজন দক্ষ ফুটবলার। প্রতি বছর নববর্ষের দিনে ক্লাবের বারপুজোয় উপস্থিত থাকার জন্য ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি প্রমুখ কর্তারা রঞ্জনকে আমন্ত্রণ জানাতেন। পুজোর দিন ভোরেই রঞ্জনের বাড়িতে ক্লাবের পক্ষ থেকে গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হত, যাতে সে ভালোভাবে ক্লাবে চলে আসতে পারে। সবথেকে বড়ো ব্যাপার হল ওর প্রতি ক্লাবকর্তারা বেশ আন্তরিক ছিলেন। এমন ধরনের মাতামাতি হত আগে রঞ্জনকে নিয়ে।

‘ঠিক এক বছর আগের ঘটনা।’ – এক বছর আগে কোন্ ঘটনা ঘটেছিল?

এক বছর আগে থেকেই রঞ্জন উপলব্ধি করতে শুরু করে যে, তাকে নিয়ে ক্লাবের উন্মাদনা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তার মন একটু খারাপ হলেও এ বিষয়ে সে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। ঠিক এক বছর আগেই রঞ্জনের পুরোনো ক্লাবের ফুটবল সেক্রেটারি এবং কোচ এসে ওর সাথে দল গঠনের ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। কোন্ কোন্ ব্যক্তিকে দলে সংযুক্ত করা যায় সে-বিষয়ে ওর পরামর্শও নিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর রঞ্জনের মনের ভারও অনেকাংশে লাঘব হয়েছিল।

‘রঞ্জন সারাটা দিন আর বাড়ি থেকে বেরোয়নি।’ – কোন্ দিনের কথা বলা হয়েছে?

প্রশ্নোক্ত অংশটি শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। নববর্ষের দিন রঞ্জন সরকারের পুরোনো ক্লাবে মহা উৎসাহের সঙ্গে বারপুজো করা হয়েছে অথচ রঞ্জনকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সেই দিন রঞ্জন বাড়ি থেকে বেরোয়নি একবারের জন্যও।

‘রঞ্জন নামগুলো পড়ার চেষ্টা করে।’ – রঞ্জন কোন্ নামগুলি পড়ার চেষ্টা করে?

বারপুজোর পরের দিন অপরাহ্নে মনের অস্থিরতা শান্ত করতে রঞ্জন গিয়েছিল গঙ্গার ধারে। সে গঙ্গাবক্ষে দূরে কয়েকটি ছোটো-বড়ো জাহাজকে নোঙর করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল। সেই জাহাজগুলির নাম পড়ার চেষ্টা করেছিল সে।

‘রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিল।’ – কোন্ কথা শুনে রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিল?

নিজের দলের কর্তাদের কাছ থেকে চরম আঘাত পেয়ে রঞ্জন সরকার ফোন করেছিল অপর বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনবাবুকে। রঞ্জনের সঙ্গে কয়েকটি কথা শুনেই স্বপনবাবু বুঝে যান যে রঞ্জন কী বলতে চাইছে। স্বপনবাবু রঞ্জনকে বলেন যে, তিনি আধঘণ্টার মধ্যেই রঞ্জনের বাড়িতে চলে আসছেন। এ কথা শুনেই টেলিফোনটা রেখে দেয় রঞ্জন।

‘সত্যি ওরা তোমার সঙ্গে উচিত কাজ করেনি!’ – কোন্ অনুচিত কাজের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে?

রঞ্জনের পুরোনো ক্লাবের কর্তারা রঞ্জনকে বারপুজোয় একবারের জন্যও আমন্ত্রণ জানাননি। এমনকি বারপুজোর পরবর্তী দুদিন তারা রঞ্জনের বাড়িতে আসা তো দূরের কথা, একটা টেলিফোন পর্যন্ত করেনি। পুরোনো ক্লাবের এহেন অনুচিত কাজের কথাই প্রশ্নে নির্দেশ করা হয়েছে।

‘মন স্থির করে ফেলেছ তো?’ – উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন্ বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছে?

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হল শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ গল্পের নায়ক রঞ্জন সরকার।

রঞ্জন মনস্থির করেছে যে, পুরোনো ক্লাবের অপমানের জবাব তাকে খেলার মাঠে দিতেই হবে আর সেই কারণেই অন্য বড়ো ক্লাবে সে খেলোয়াড় হিসেবে যোগদান করবে, যে ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনবাবু।

‘আপনি সব ব্যবস্থা করুন।’ – কোন্ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে?

প্রশ্নোক্ত অংশটি শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটির বক্তা হল দক্ষ ফুটবলার রঞ্জন সরকার। পুরোনো ক্লাবের অপমানের জবাব দেওয়ার জন্য রঞ্জন স্বপনবাবুদের ক্লাবে যোগদান করতে চাইছে। এটা যাতে সম্ভব হয় সেই ব্যবস্থা করার জন্যই রঞ্জন স্বপনবাবুকে অনুরোধ করেছে।

‘ও গাড়িটা নিয়ে চলে গেল গঙ্গার ধারে।’ – রঞ্জন সরকার গঙ্গার ধারে কেন গেল?

দীর্ঘ 15 বছর ধরে রঞ্জন যে ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছে, যে ক্লাবের সুখ-দুঃখে সর্বদা থেকেছে-সেই ক্লাবের কর্মকর্তারা পয়লা বৈশাখের বারপুজোর অনুষ্ঠানে রঞ্জনকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে চরম অপমান করেছে। পরের দিন অফিসে নানা জনের প্রশ্নের সামনে পড়তে হয়েছে তাকে। মনের ভিতর দুঃখ-অভিমানের এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার। তার মনে হয়েছে ক্লাব এভাবে অপমান করে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সে এখন ক্লাবে অবাঞ্ছিত। এইপ্রকার মানসিক যন্ত্রণা থেকে একটু আরাম পেতেই রঞ্জন গঙ্গার ধারে গিয়েছিল।

‘এ কথা ভাবাও যে পাপ’। – উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।

প্রশ্নোক্ত অংশটি শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য গল্পের প্রধান চরিত্র রঞ্জন সরকার দীর্ঘ 15 বছর যে ক্লাবের হয়ে খেলার মাঠে ঘাম-রক্ত ঝরিয়েছে, সেই ক্লাবের বারপুজোর অনুষ্ঠানে তাকে একবার কেউ আমন্ত্রণ জানায়নি। রঞ্জনের অনুভব হয় যে, এমন অপমানের মাধ্যমে কর্তারা তাকে বোঝাতে চেয়েছে যে, ক্লাবে তার আর গুরুত্ব নেই। রঞ্জনের মনে সংশয় দেখা দেয়-তবে কি তাকে ক্লাব ছেড়ে দিতে হবে? যে ক্লাবের জার্সি তার কাছে মায়ের মতো, যে 10 নম্বর জার্সিটা তাকে যশ-মান-অর্থ সব দিয়েছে-তাকেই ছাড়তে হবে এবার। এমন চিন্তা করাই অনুচিত এবং পাপ বলে মনে করেছে রঞ্জন, কারণ মাকে কখনও ত্যাগ করা যায় না।

‘দুটো দিন কেটে গেল’ – দুটো দিন কীভাবে কেটেছিল?

শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ নামক গল্পের প্রধান চরিত্র রঞ্জন সরকার যে ক্লাবে দীর্ঘ 15 বছর খেলেছে, সেই ক্লাবে পয়লা বৈশাখে বারপুজোর অনুষ্ঠানে এবার তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি-এখানে ‘দুটো দিন’ বলতে বারপুজোর পরের দুই দিনের কথা বোঝানো হয়েছে।

এই দুইদিন রঞ্জন ছটফট করে কাটিয়েছে, অফিস ছাড়া কোথাও বের হয়নি, কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথাও বলেনি। অফিসে ওকে গম্ভীর দেখে সহকর্মী খেলোয়াড়রা তার কাছে ঘেঁষেনি, পুরো সময়টা সে অফিসে কাটিয়েছে। বাকি সময় বাড়িতে টেলিফোনের কাছাকাছি থেকেছে, যদি ক্লাবের কেউ যোগাযোগ করে এমন আশায়। ওর চোখ-মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল টেনশনে আছে, তাই বাড়ির লোকেরা ঘাঁটায়নি ওকে। এভাবেই মানসিক অশান্তিতে রঞ্জনের দুটি দিন কেটে গিয়েছিল।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘পরাজয়’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্যাকরণ বিভাগ - দল - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – দল

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – দল

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর