এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘পরাজয়’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
ফুটবল মাঠে বারপুজো অনুষ্ঠিত হয় – (1 বৈশাখ / 25 বৈশাখ / 22 শ্রাবণ)।
উত্তর – 1 বৈশাখ।
পরাজয় গল্পের প্রধান চরিত্র রঞ্জনের পদবি হল – (মিত্র / ঘোষ / সরকার)।
উত্তর – সরকার।
একটি বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন – (সুবীরবাবু / স্বপনবাবু / অর্পণবাবু)।
উত্তর – স্বপনবাবু।
রঞ্জনের একজন সহ-খেলোয়াড় হল – (সমর / অমর / গৌতম)।
উত্তর – সমর।
শূন্যস্থান পূরণ করো
গত ___ বছর যে ক্লাবের জন্য রক্ত ঝরাল আজ তারাই কিনা তাকে এত বড়ো অপমানটা করল।
উত্তর – গত পনেরো বছর যে ক্লাবের জন্য রক্ত ঝরাল আজ তারাই কিনা তাকে এত বড়ো অপমানটা করল।
গত বছরই রঞ্জন অনুভব করেছিল, ওকে নিয়ে ___ ঠিক আগের মতো আর নেই।
উত্তর – গত বছরই রঞ্জন অনুভব করেছিল, ওকে নিয়ে মাতামাতিটা ঠিক আগের মতো আর নেই।
রঞ্জন ___ দিন রাত্তিরে টেলিফোন করল অন্য বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারিকে।
উত্তর – রঞ্জন তৃতীয় দিন রাত্তিরে টেলিফোন করল অন্য বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারিকে।
রঞ্জনের ব্যাপারে ঘোষদাকে খবর দিয়েছিলেন ___ বাবু।
উত্তর – রঞ্জনের ব্যাপারে ঘোষদাকে খবর দিয়েছিলেন স্বপন বাবু।
গাড়িটা পার্ক করে রঞ্জন একটা ___ উপর গিয়ে বসেছিল।
উত্তর – গাড়িটা পার্ক করে রঞ্জন একটা বেঞ্চির উপর গিয়ে বসেছিল।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বইয়ের নাম লেখো।
শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বই-এর নাম হল ‘দেরারি’ উপন্যাস।
কলকাতার ফুটবল নিয়ে লেখা তাঁর দুটি বই-এর নাম লেখো।
কলকাতার ফুটবল নিয়ে শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা দুটি বই-এর নাম হল ‘ক্লাবের নাম মোহনবাগান’ এবং ‘ক্লাবের নাম ইস্টবেঙ্গল’।
‘এত দুঃখ এত ব্যথা সে কখনও পায়নি।’ – এখানে কার দুঃখ-বেদনার কথা বলা হয়েছে?
প্রশ্নে প্রদত্ত উদ্ধৃতিটিতে শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘পরাজয়’ গল্পের নায়ক ফুটবলার রঞ্জন সরকারের দুঃখ-বেদনার কথা বলা হয়েছে।
‘রঞ্জনদা তুমি কাল ক্লাবে যাওনি?’ – এই প্রশ্নের উত্তরে রঞ্জন কী বলেছিল?
প্রশ্নে প্রদত্ত জিজ্ঞাসার উত্তরে রঞ্জন বলেছিল যে, তাকে আগের দিন সকালেই কলকাতার বাইরে যেতে হয়েছিল।
গঙ্গার পাড়ে গিয়ে কোন্ দৃশ্য রঞ্জনের চোখে ভেসে উঠল?
গঙ্গার পাড়ে গিয়ে রঞ্জনের চোখে ভেসে উঠেছিল-নদীর বুকে দূরে নোঙর করেছে কটা ছোটো-বড়ো জাহাজ, অনেকগুলি নৌকো সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
‘সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রঞ্জনের মন অনেকটা শান্ত হল।’ – এখানে রঞ্জনের কোন্ সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে?
রঞ্জন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, সে দুটো দিন অপেক্ষা করবে যদি পুরোনো ক্লাবের কেউ ওর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভালো আর তা না হলে ক্লাব ছেড়ে দেবে, তবে খেলা ছাড়বে না।
‘ঘোষদা একটা বড়ো খবর আছে।’ – কী সেই ‘বড়ো খবর’?
‘বড়ো খবরটি’ হল প্রতিভাবান খেলোয়াড় রঞ্জন সরকার তার পুরোনো ক্লাব ছেড়ে স্বপনদা, ঘোষদাদের ফুটবল ক্লাবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
‘রঞ্জনের দলবদল করার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে টনক নড়েছিল ক্লাবকর্তাদের।’ – ক্লাবকর্তাদের যে টনক নড়েছে, তা কীভাবে বোঝা গেল?
রঞ্জনের দলবদলের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাবকর্তারা রঞ্জনের বাড়িতে ছুটোছুটি করতে লাগল। রঞ্জন যে খেলোয়াড়দের স্নেহ করত তাদের দিয়ে রঞ্জনের মত বদলানোর চেষ্টা করতে লাগল – এই আচরণেই বোঝা গেল ক্লাবকর্তাদের টনক নড়েছে।
‘ব্যাপারটা কী হল বুঝতে একটু সময় লাগল সমর্থকদের।’ – এখানে কোন্ ব্যাপারটার কথা বলা হয়েছে?
রঞ্জনের ব্যাকভলি করা বলটা বুলেটের গতিতে ঢুকে গেছে রঞ্জনের পুরোনো ক্লাবের গোলে – এই ব্যাপারটার কথাই প্রশ্নে বলা হয়েছে।
‘দুহাতে মুখ ঢেকে শুয়ে পড়ল একটা বেঞ্চিতে।’ – স্ট্রাইকার রঞ্জন সরকারের এমনভাবে শুয়ে পড়ার কারণ কী?
পুরোনো ক্লাবের বিরুদ্ধে গোল করে অপমানের যোগ্য জবাব দিলেও রঞ্জনের হৃদয়ে জেগে ওঠে মায়ের মতো ভালোবাসা জড়িয়ে যে ক্লাবটির সঙ্গে তার কথা, তাকেই কিনা সে পরাজিত করল-এই বেদনাবোধে আক্রান্ত হয়েই রঞ্জন সরকার প্রশ্নোক্ত আচরণ করেছিল।
ক্রিকেট খেলার আইনকানুন গ্রন্থটি কার লেখা?
ক্রিকেট খেলার আইনকানুন গ্রন্থটি শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা।
পুরোনো ক্লাবের হয়ে রঞ্জন কত বছর ধরে খেলছে?
পুরোনো ক্লাবের হয়ে রঞ্জন পনেরো বছর ধরে খেলছে।
রঞ্জন ক্লাবের জার্সিকে কীসের মতো ভালোবাসে?
রঞ্জন ক্লাবের জার্সিকে মায়ের মতো ভালোবাসে।
রঞ্জনের জার্সি নম্বর কত ছিল?
রঞ্জনের জার্সি নম্বর ছিল দশ।
মানসিক শান্তি পাওয়ার আশায় রঞ্জন কোথায় গিয়েছিল?
মানসিক শান্তি পাওয়ার আশায় রঞ্জন গঙ্গার ধারে গিয়েছিল।
‘প্রত্যেক বছর ফোনের পর ফোন আসে।’ – কার কাছে কেন ফোন আসে?
শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ গল্পের নায়ক চরিত্র রঞ্জনের কাছে ফোন আসে।
রঞ্জনদের ক্লাবে পয়লা বৈশাখ বারপুজোর অনুষ্ঠানে রঞ্জন যেন উপস্থিত থাকে, সেই অনুরোধ জানিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে ফোন আসে।
‘আমি একবার ঘোষদার সঙ্গে কথা বলে নিচ্ছি।’ – বক্তা কে? ঘোষদার পরিচয় দাও।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির বক্তা হল কলকাতার এক বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনবাবু।
ঘোষদা হলেন রঞ্জনের নতুন ক্লাবের জনৈক কর্মকর্তা।
‘আর একটু ভেবে দেখো।’ – বক্তা কী ভেবে দেখতে বলেছেন?
প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তিটির বক্তা হলেন ময়দানের এক বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনবাবু। দক্ষ ফুটবলার রঞ্জন সরকার অপমানের জবাব দিতে তার পুরোনো ক্লাব ছেড়ে দিতে চাইছে – এই ব্যাপারটিই রঞ্জনকে ভেবে দেখতে বলেছেন বক্তা।
“ওয়েলকাম টু আওয়ার ক্লাব।” – উক্তিটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? কে, কাকে কথাটি বলেছে?
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।
উক্তিটি করেছেন ময়দানের এক বড়ো ক্লাবের কর্মকর্তা ঘোষদা। তিনি দক্ষ ফুটবলার রঞ্জন সরকারকে কথাটি বলেছেন।
‘খেলোয়াড়রা তখন রঞ্জনকে নিয়ে মেতে উঠেছে।’ – কখন এমন ঘটনা ঘটেছিল?
নতুন দলের জার্সি গায়ে দিয়ে রঞ্জন সরকার পুরোনো দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে গোল করে। গোলের পরে সারা স্টেডিয়ামের সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। সেই সময়ে মাঠের মধ্যে সহ-খেলোয়াড়রা রঞ্জনকে নিয়ে মেতে উঠেছিল।
ব্যাকরণ
নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো –
(চরকি, সক্কাল, নেমন্তন্ন, নম্বর, ছুটোছুটি)
| শব্দ | ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার |
| চরকি | সংস্কৃত চক্র > ফারসি চর্থ > ফারসি চরখী > বাংলা চরকি। |
| সক্কাল | বাংলা সকাল > কথ্য বাংলার রূপ সক্কাল। |
| নেমন্তন্ন | সংস্কৃত নি + মন্ত্র + অন > নিমন্ত্রণ > কথ্য বাংলার রূপ নেমন্তন্ন। |
| নম্বর | ইংরেজি number > বাংলা নম্বর। |
| ছুটোছুটি | হিন্দি ছুট + হিন্দি ছুটি > ছুট + ছুটি > ছুটাছুটি > কথ্য বাংলার রূপ ছুটোছুটি। |
নীচের বাক্যগুলি থেকে সন্ধিবদ্ধ পদ খুঁজে নিয়ে সন্ধি বিচ্ছেদ করো –
- ওর মনের মধ্যে জমে ওঠা দুঃখ আর অভিমান রূপান্তরিত হয়েছিল রাগে।
- ক্লাবের কর্তাদের হাবভাব দেখে সে পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে।
- কেউ একটা টেলিফোন পর্যন্ত করল না।
- তার পুরস্কার এতদিনে পেলাম স্বপনদা।
- ওরা যা দিয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট ছিলাম।
| সন্ধিবদ্ধ পদ | সন্ধি বিচ্ছেদ |
| রূপান্তরিত | রূপ + অন্তরিত। |
| পরিষ্কার | পরিঃ + কার। |
| পর্যন্ত | পরি + অন্ত। |
| পুরস্কার | পুরঃ + কার। |
| সন্তুষ্ট | সম্ + তুষ্ট। |
নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো –
রঞ্জন ঘরের মধ্যে চরকির মতো ঘুরছে।
উত্তর – কর্তৃকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।
গাড়ি পাঠানো তো দূরের কথা।
উত্তর – কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।
সারাটা সকাল ও ছটফট করে বেরিয়েছিল।
উত্তর – অধিকরণ কারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।
কানে ভেসে আসে পাখির ডাক।
উত্তর – সম্বন্ধপদে ‘র’ বিভক্তি।
রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিল।
উত্তর – কর্মকারকে ‘টা’ নির্দেশক যোগে।
নীচের বাক্যগুলির ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো –
| বাক্য | ক্রিয়ার কাল |
| গুরুত্ব দেয়নি। | অতীত কাল। |
| তুই চলে আয়। | বর্তমান কাল। |
| কাল সকালে আমায় কলকাতার বাইরে যেতে হয়েছিল। | অতীত কাল। |
| আমি রঞ্জন সরকার বলছি। | বর্তমান কাল। |
| রঞ্জনের মুখে খেলে গেল ম্লান হাসি। | অতীত কাল। |
নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো –
এত দুঃখ, এত ব্যথা সে কখনও পায়নি। (হ্যাঁ-সূচক বাক্যে)
উত্তর – এত দুঃখ, এত ব্যথা সে এই প্রথম পেল।
সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রঞ্জনের মন অনেকটা শান্ত হল। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – যখন রঞ্জন সিদ্ধান্তটা নিল তখন তার মন অনেকটা শান্ত হল।
সেই মুহূর্তে কলিংবেলটা বেজে উঠল। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর – মুহূর্তটা এল এবং কলিংবেলটা বেজে উঠল।
রঞ্জনের গলাটা একটু কেঁপে উঠল। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর – রঞ্জনের গলাটা একটু না কেঁপে থাকল না।
যারা এতক্ষণ দেয়ালে পিঠ দিয়ে লড়ছিল তারাই এখন রুখে দাঁড়াল। (সরল বাক্যে)
উত্তর – এতক্ষণ দেয়ালে পিঠ দিয়ে লড়াকু ব্যক্তিরাই এখন রুখে দাঁড়াল।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘পরাজয়’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment