অষ্টম শ্রেণি বাংলা – টিকিটের অ্যালবাম – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘টিকিটের অ্যালবাম’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

টিকিটের অ্যালবাম - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

‘হঠাৎ যেন ওর জনপ্রিয়তা কমে গেছে’ – কার এমন মনে হয়েছে? এই ‘জনপ্রিয়তা’ হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণ কী?

প্রশ্নে প্রদত্ত অংশটি সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। এই কথাটি মনে হয়েছিল রাজাপ্পার। নাগরাজনের কাকা নাগরাজনকে সিঙ্গাপুর থেকে একটা অপরূপ সুন্দর ডাকটিকিটের অ্যালবাম পাঠিয়েছিল। সেটি দেখার জন্য স্কুলের ছেলেরা উৎসুক হয়ে পড়ে। তারা নাগরাজনের চারপাশে ভিড় জমাতে থাকে। রাজাপ্পার সংগৃহীত ডাকটিকিটের অ্যালবামটির প্রতি কেউ আর বিশেষ নজর দিত না। এই কারণে রাজাপ্পার ‘জনপ্রিয়তা’ হঠাৎ কমে গিয়েছিল।

‘কেউ রাজাপ্পার অ্যালবামের কথা উল্লেখও করত না, বা তাকে পাত্তাও দিত না।’ – সকলের এমন আচরণের কারণ গল্প অনুসরণে আলোচনা করো।

সুন্দর রামস্বামীর ‘টিকিটের অ্যালবাম’ নামক গল্পে দুটি কিশোরের দুটি টিকিটের অ্যালবাম ছিল। আগে রাজাপ্পা নামক কিশোরটির অ্যালবাম বেশ জনপ্রিয় ছিল। স্কুলের মধ্যে ওর অ্যালবামটাই ছিল সবচেয়ে বড়ো। বহু সময় ব্যয় করে রাজাপ্পা ডাকটিকিট সংগ্রহ করে অ্যালবামে রাখত, কিন্তু এখন আর সেই অ্যালবামটির প্রতি ছেলেদের কোনো আগ্রহ নেই। এখন তাদের সমস্ত আগ্রহ নাগরাজনের অ্যালবামটিকে ঘিরেই। নাগরাজনের কাকা সিঙ্গাপুর থেকে একটি টিকিটের অ্যালবাম পাঠিয়েছে নাগরাজনকে। অ্যালবামটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই স্থানীয় কোনো দোকানে এমন অ্যালবাম পাওয়া যাবে না। এককথায় অ্যালবামটি ছিল অদ্বিতীয়। তা ছাড়া, নাগরাজন সবাইকেই অ্যালবামটি দেখতে দিত। ছেলেদের মতে, নাগরাজনের অ্যালবামের কাছেপিঠে পৌঁছানোর যোগ্যতাও নাকি ছিল না রাজাপ্পার অ্যালবামটির। এইসব কারণেই কেউ রাজাপ্পার অ্যালবামের কথা উল্লেখও করত না বা তাকে পাত্তাও দিত না।

স্কুলের ছেলেমেয়েদের নাগরাজন কীভাবে তার নিজের অ্যালবামটি দেখতে দিত?

নাগরাজন পরম ধৈর্য সহকারে স্কুলের ছেলেদের তার অ্যালবামটি দেখাত। তবে তার একমাত্র শর্ত ছিল যে, কেউ অ্যালবামটা হাত দিয়ে ধরতে পারবে না। নাগরাজন নিজের কোলে অ্যালবামটা রেখে পাতাগুলো ওলটাত, সবাই সেটা প্রাণভরে দেখত।

ডাকটিকিট সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে রাজাপ্পার তীব্র আকর্ষণের যে পরিচয় গল্পে রয়েছে, তা আলোচনা করো।

রাজাপ্পা মৌমাছির মধু সংগ্রহ করার মতো কষ্ট করে ডাকটিকিট সংগ্রহ করত। ডাকটিকিট সংগ্রহই ছিল তার নেশা। ভোরবেলায় সে অপর টিকিট সংগ্রাহকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বেরিয়ে পড়ত। একটা রাশিয়ার টিকিটের সঙ্গে দুটি পাকিস্তানি টিকিটের বিনিময় করত। বিকেলবেলা স্কুলের সমস্ত বইখাতা এককোণে তাড়াতাড়ি রেখে, হাফপ্যান্টের মধ্যে জলখাবার ঢুকিয়ে এককাপ কফি পান করে আবার বেরিয়ে পড়ত, চার মাইল দূরের একটা ছেলের কাছে রক্ষিত কানাডার টিকিট সংগ্রহ করতে। রাজস্ব বিভাগের এক অফিসারের ছেলে একবার পঁচিশ টাকার বিনিময়ে ওর অ্যালবামটি কিনতে চাইলে রাজাপ্পা উত্তর দিয়েছিল যে, সে কি তার শিশু ভাইকে তিরিশ টাকায় বিক্রি করতে পারবে? এমনই ছিল রাজাপ্পার ডাকটিকিট সংগ্রহের প্রতি আকর্ষণ এবং ভালোবাসা।

‘চোরাদৃষ্টিতে অ্যালবামটা দেখত’ – সেই চোরাদৃষ্টিতে দেখা অ্যালবামটির কোন বিশেষত্বের কথা গল্পে রয়েছে?

প্রশ্নোক্ত অংশটি সুন্দর রামস্বামীর ‘টিকিটের অ্যালবাম’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে গল্পের অন্যতম চরিত্র নাগরাজনের অ্যালবামটির কথা বলা হয়েছে, সেটি চোরাদৃষ্টিতে দেখত রাজাপ্পা নামক কিশোরটি। নাগরাজনের অ্যালবামটি তার কাকা সিঙ্গাপুর থেকে তাকে পাঠিয়েছে। অ্যালবামটি বেশ সুন্দর দেখতে ছিল। স্থানীয় কোনো দোকানে এমন অ্যালবাম ছিল না। অ্যালবামটি এককথায় অদ্বিতীয় ছিল – সেটাই ছিল এই অ্যালবামটির বিশেষত্ব।

নাগরাজনের প্রতি রাজাপ্পা কীভাবে ক্রমশ ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিল?

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে রাজাপ্পা ও নাগরাজন দুই কিশোরের কথা বলা হয়েছে, যাদের টিকিট সংগ্রহের অ্যালবাম ছিল। রাজাপ্পার শখ ছিল নানা স্থান থেকে ডাকটিকিট সংগ্রহ করে অ্যালবামে সেগুলি সঞ্চয় করা। স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে বেশ কদর ছিল তার অ্যালবামের। বহু কষ্ট করে সে টিকিটগুলি সংগ্রহ করত। কিন্তু একদিন নাগরাজনের কাকা সিঙ্গাপুর থেকে নাগরাজনকে একটি ডাকটিকিটসহ অ্যালবাম পাঠায়। সেটি ছিল অভূতপূর্ব। সব ছেলেমেয়ে সেই অ্যালবামটির প্রতি আকৃষ্ট হয় – সেটি দেখার জন্য ছেলেরা নাগরাজনের কাছে ভিড় জমাত। রাজাপ্পার অ্যালবামকে কেউ আর গুরুত্বই দিত না, বরং তার অ্যালবাম যে নাগরাজনের অ্যালবামের তুলনায় কিছুই না, তা জোর করে বলত। রাজাপ্পাকে হিংসুটে বলতেও ছাড়েনি তারা। এইসব ঘটনা রাজাপ্পার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করত, সে নাগরাজনের অ্যালবামের জনপ্রিয়তা মন থেকে মেনে নিতে পারত না – এভাবেই সে ক্রমে নাগরাজনের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিল।

‘সন্ধ্যাবেলা রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়ি গেল।’ – কোন উদ্দেশ্য নিয়ে রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়িতে গিয়েছিল? এর মধ্য দিয়ে তার চরিত্রের কোন দিকটি ধরা পড়ে?

সুন্দর রামস্বামীর ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে রাজাপ্পা মনস্থির করেছিল যে, সে আর নিজের অসম্মান কখনোই সহ্য করবে না। নাগরাজন মূলত একজন অপেশাদার ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তি। তাই রাজাপ্পা সহজেই তার কাছ থেকে কম দামি টিকিট দিয়ে দামিগুলো হাতিয়ে নিতে পারবে। এই উদ্দেশ্যেই রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়ি এসেছিল। এর মধ্য দিয়ে রাজাপ্পার চরিত্রের যে দিকটি ফুটে ওঠে তা হলো চালাকি বা প্রতারণার মানসিকতা। একজন ব্যক্তির অনভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাকে ঠকানো ঘোরতর অন্যায়। নিজের দ্রব্যকে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা দেওয়ার জন্য অন্যকে প্রতারিত করার মানসিকতা অবশ্যই নিন্দনীয়।

‘রাজাপ্পার চোখ জলে ভরে গেল।’ – কোন পরিস্থিতিতে রাজাপ্পার চোখ জলে ভরে উঠল?

নাগরাজনের প্রতি প্রবল ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের অসচেতনতায় রাজাপ্পা নাগরাজনের ডাকটিকিটের অ্যালবামটা চুরি করে আনে। পরে আপ্পুর থেকে জানতে পারে যে, নাগরাজনের বাবা পুলিশ সুপারের অফিসে কাজ করায় তার ইঙ্গিতমাত্রই পুলিশবাহিনী অ্যালবাম উদ্ধারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এ কথা শোনার পর রাজাপ্পা মনে মনে ভীত হয়ে পড়ে। দরজায় টোকা মারার আওয়াজ হলে ভাবে, হয়তো পুলিশ এসেছে তার বাড়িতে অ্যালবামটির তল্লাশি করতে। এ কারণে ভীত রাজাপ্পা ছুটে বাড়ির পিছনে স্নানের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। স্নানের জল গরম করার জন্য রাখা উনুনে সে ভয়ে চুরি করা নাগরাজনের অ্যালবামটা ফেলে দেয় এবং সেই মুহূর্তেই সব টিকিট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমনসব টিকিট আর হয়তো কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে রাজাপ্পার চোখ জলে ভরে যায়।

‘নাগরাজন হতবুদ্ধি হয়ে গেল।’ – তার হতবুদ্ধি হয়ে পড়ার কারণ কী?

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পের কিশোর চরিত্র নাগরাজনের একটি ডাকটিকিটসমৃদ্ধ অ্যালবাম ছিল, তার কাকা তাকে সিঙ্গাপুর থেকে অ্যালবামটি পাঠিয়েছিল। সেই অ্যালবামটি চুরি করে নিয়েছিল রাজাপ্পা। নাগরাজন তা বুঝতে পারেনি। তাই সে রাজাপ্পার কাছে এসে তার অ্যালবাম হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করে। নাগরাজনের কষ্টে রাজাপ্পা মনে মনে বেদনা অনুভব করে, সে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং নিজের সাধের অ্যালবামটি নাগরাজনের হাতে তুলে দেয়। রাজাপ্পার এমন আচরণে নাগরাজন বিস্মিত হয় দারুণভাবে। কারণ সে জানত যে, টিকিটের অ্যালবামটি ছিল নাগরাজনের প্রাণ আর সে কিনা (রাজাপ্পা) সেটা দিয়ে দিতে চাইছে! সে রাজাপ্পাকে প্রশ্ন করে যে, অ্যালবাম ছাড়া রাজাপ্পা থাকবে কীভাবে? তবুও রাজাপ্পা নিজের অ্যালবামটি নাগরাজনের হাতে তুলে দিয়ে, তাকে সেটি গ্রহণের অনুরোধ জানায়। রাজাপ্পার এমন আচরণের আকস্মিকতায় নাগরাজন হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল।

‘কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হয়েই ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে রাজাপ্পার আত্মশুদ্ধি ঘটেছে।’ – গল্পের ঘটনা বিশ্লেষণ করে উদ্ধৃতিটির যথার্থতা প্রতিপন্ন করো।

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে দেখা যায় যে, রাজাপ্পা নামক এক কিশোরের একটি টিকিটের অ্যালবাম আছে। রাজাপ্পা বহু কষ্টে একটি একটি করে টিকিট সংগ্রহ করত। সেটা ছিল তার খুব সাধের জিনিস। আগে স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে এই অ্যালবামটির বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। কিন্তু নাগরাজনের কাকা নাগরাজনকে সিঙ্গাপুর থেকে ডাকটিকিটসমৃদ্ধ একটি অ্যালবাম পাঠানোর পরে রাজাপ্পার অ্যালবামের জনপ্রিয়তা একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। সবাই ছোটে নাগরাজনের কাছে-তার অ্যালবামটি দেখার জন্য। নাগরাজনের অ্যালবামটি অদ্বিতীয়। রাজাপ্পার অ্যালবামের প্রতি কারও কোনো আকর্ষণ রইল না। শুধু তাই নয়, অনেকে এ কথা বলল যে, নাগরাজনের অ্যালবামের কাছে রাজাপ্পার অ্যালবাম তো ডাস্টবিনে ফেলার যোগ্য।

এইসব ঘটনা রাজাপ্পাকে ঈর্ষাকাতর করে তোলে নাগরাজনের প্রতি। সে একদিন সন্ধ্যায় নাগরাজনের বাড়িতে যায় কম দামের কিছু টিকিটের বিনিময়ে নাগরাজনের কাছ থেকে বেশি মূল্যের টিকিট হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু নাগরাজন বাড়িতে ছিল না, সুযোগ বুঝে রাজাপ্পা চুরি করে নাগরাজনের অ্যালবাম। তবে এরপর থেকেই তার মনে অস্থিরতা দেখা দেয়, গলা শুকিয়ে যায়। বাড়ি ফিরে আসে রাজাপ্পা। রাত আটটার সময় আপ্পুর কাছে শোনে নাগরাজনের অ্যালবাম চুরি গেছে। রাতে কিছু খেতে পারে না রাজাপ্পা দুশ্চিন্তায়। তার বাবা-মা চিন্তা করে, অ্যালবামটা যে কোথায় ঠিকভাবে রাখা যায়-তাই নিয়ে রাজাপ্পার ভাবনার অন্ত থাকে না। সকালেই আপ্পু চলে আসে। আপ্পুর কথায় রাজাপ্পা বুঝতে পারে যে, অ্যালবাম চুরির জন্য তাকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ তল্লাশি চালাতে পারে-সে খবরও সে পায় আপ্পুর কাছে।

এমন সময় দরজায় টোকা পড়ে। রাজাপ্পার মনে হয় নিশ্চয়ই পুলিশ এসেছে। সে ছুটে চলে যায় স্নানের ঘরে। সেখানে জল গরম করার উনুন জ্বলছিল, তার আগুনে পুড়িয়ে ফেলে নাগরাজনের অ্যালবামখানি। তবে এই সময় তার চোখ জলে ভরে ওঠে – এমন টিকিটগুলি আর কোথাও পাওয়া যাবে না ভেবে। মায়ের ডাকে স্নান সেরে ঘরে ঢুকে দেখে নাগরাজনকে। নাগরাজন তার হারিয়ে যাওয়া অ্যালবামের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে রাজাপ্পার মনে অনুশোচনা দেখা দেয়। সমস্ত কিছুর জন্য সে নিজেকেই দোষী বুঝতে পেরে, বন্ধুর দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারছিল না।

রাজাপ্পার অনুতাপবিদ্ধ মন ক্রমে নির্মল হতে থাকে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে নাগরাজনের হাতে তুলে দেয় নিজের বহু যত্নে তৈরি করা সাধের অ্যালবামটি। রাজাপ্পার অনুরোধ ফেলতে পারেনি নাগরাজন, সে গ্রহণ করে রাজাপ্পার অ্যালবামটি। নাগরাজন চলে যেতে পা বাড়ালে মাত্র একটি রাতের জন্য রাজাপ্পা অ্যালবামটি বন্ধুর কাছে চায়। আর সেটা পেয়ে ঘরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে রাজাপ্পা। যেন তার মনের মলিনতা পরিষ্কার হয়ে গেল চোখের জলে। এভাবেই কৃতকর্মের অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে আত্মশুদ্ধি হয়েছিল রাজাপ্পার।

তোমরা এমনই অনেক ভারতের কিংবা অন্যান্য দেশের ডাকটিকিট সংগ্রহ করে একটি অ্যালবাম তৈরি করো।

ভারতের কিংবা অন্যান্য দেশের ডাকটিকিট সংগ্রহ করে একটি অ্যালবাম তৈরি করার কৌশল –

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র –

  • ডাকটিকিট – বিভিন্ন থিম, যুগ, দেশ, বা মূল্য অনুযায়ী ডাকটিকিট সংগ্রহ করুন।
  • স্ট্যাম্প অ্যালবাম – আপনার পছন্দ এবং সংগ্রহের আকার অনুযায়ী একটি অ্যালবাম নির্বাচন করুন।
  • স্ট্যাম্প হিঞ্জ – ডাকটিকিটগুলিকে অ্যালবামে স্থাপন করার জন্য হিঞ্জ ব্যবহার করুন।
  • ক্যাটালগ – ডাকটিকিটের মূল্য এবং বিবরণ জানতে একটি ক্যাটালগ ব্যবহার করুন।
  • চিমটি – ডাকটিকিট সাবধানে পরিচালনা করার জন্য চিমটি ব্যবহার করুন।
  • ক্যানসেলার – ব্যবহৃত ডাকটিকিট থেকে স্ট্যাম্প বাতিল করার জন্য ক্যানসেলার ব্যবহার করুন (ঐচ্ছিক)।

ধাপে ধাপে নির্দেশিকা –

  • থিম নির্বাচন করুন – আপনি কি ভারতের ডাকটিকিট, কোন নির্দিষ্ট যুগের ডাকটিকিট, কোন নির্দিষ্ট থিমের ডাকটিকিট, বা বিভিন্ন দেশের ডাকটিকিট সংগ্রহ করতে চান, তা নির্ধারণ করুন।
  • ডাকটিকিট সংগ্রহ করুন – ডাকটিকিট বিক্রেতা, অনলাইন স্টোর, বা পুরোনো জিনিসপত্রের দোকান থেকে ডাকটিকিট কিনুন। বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের কাছ থেকেও ডাকটিকিট দান হিসেবে পেতে পারেন।
  • ডাকটিকিট সাজান – থিম, যুগ, দেশ, বা মূল্য অনুযায়ী ডাকটিকিটগুলিকে সাজান।
  • অ্যালবাম নির্বাচন করুন – আপনার সংগ্রহের আকার এবং পছন্দ অনুযায়ী একটি অ্যালবাম নির্বাচন করুন। বিভিন্ন আকার, পৃষ্ঠা সংখ্যা, এবং থিমের অ্যালবাম পাওয়া যায়।
  • ডাকটিকিট স্থাপন করুন – ডাকটিকিটের পেছনে হিঞ্জ লাগান এবং অ্যালবামের প্রাসঙ্গিক পৃষ্ঠায় সাবধানে স্থাপন করুন।
  • লেবেল যোগ করুন – প্রতিটি ডাকটিকিটের জন্য দেশ, থিম, যুগ, এবং মূল্য সহ লেবেল যোগ করুন।
  • সংগ্রহ বজায় রাখুন – আপনার অ্যালবামকে ধুলো, আর্দ্রতা, এবং সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করুন। নিয়মিতভাবে আপনার সংগ্রহ পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে মেরামত করুন।

‘রাজাপ্পা খুব কষ্ট করে টিকিট জোগাড় করত’ – রাজাপ্পার টিকিট সংগ্রহের কাহিনি লেখো।

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে রাজাপ্পার একটি অ্যালবাম ছিল, যা নানাপ্রকার ডাকটিকিটে সমৃদ্ধ ছিল। টিকিট সংগ্রহ করা ছিল তার নেশা, যেন ওটাই ছিল তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যেমনভাবে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে, রাজাপ্পাও তেমনই বহু কষ্টে বহু যত্নে টিকিট সংগ্রহ করত। সাধারণত শনিবার আর রবিবার সে নানা স্থানে ছোটাছুটি করে নানা দেশের টিকিট সংগ্রহ করত। ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে অন্যান্য টিকিট সংগ্রাহকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সে বেরিয়ে পড়ত। বিকালে স্কুলের বই এক কোণে ধুপ করে রেখে, হাফ প্যান্টের পকেটে জলখাবার ঢুকিয়ে, চোঁ-চোঁ করে এক কাপ কফি পান করে, আবার বেরিয়ে পড়ত। চার মাইল দূরের একটা ছেলের কাছে একটা কানাডার টিকিট আছে, সেটা সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে। কখনো কখনো টিকিট সংগ্রহের জন্য বিনিময় প্রথাও অবলম্বন করত রাজাপ্পা। যেমন – একটা রাশিয়ার টিকিটের সঙ্গে দুটো পাকিস্তানি টিকিটের বিনিময় করত সে। এভাবেই বহু আয়াস সাধনের মাধ্যমে রাজাপ্পা ডাকটিকিট জোগাড় করত।

‘সন্ধ্যাবেলা রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়ি গেল।’ – কোন চেতনা দ্বারা ভাবিত হয়ে রাজাপ্পা এমন কাজ করেছিল?

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পের কিশোর চরিত্র রাজাপ্পার একটি টিকিটের অ্যালবাম ছিল, যা আগে ছেলেদের কাছে জনপ্রিয়তা পেলেও বর্তমানে নাগরাজনের অ্যালবামের জনপ্রিয়তার কাছে তা অবহেলার যোগ্য। এটা রাজাপ্পা মনে মনে মেনে নিতে পারছিল না। তাই একদিন সে স্থির করল যে, নাগরাজনের কাছ থেকে কম দামি টিকিটের বিনিময়ে বেশি মূল্যের টিকিটগুলি হাতিয়ে নিতে হবে, সেই উদ্দেশ্যে সে একদিন সন্ধ্যাবেলায় নাগরাজনের বাড়ি গিয়েছিল। রাজাপ্পার ধারণা হয়েছিল যে, ঘটনাচক্রে নাগরাজন একটা অ্যালবাম পেয়েছে, এতে তার কষ্ট বা আবেগ কোনো কাজ করেনি, অর্থাৎ ডাকটিকিটের সঠিক মূল্যও নাগরাজন বোঝে না। কী করে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করতে হয়, তাও নাগরাজনের জানা নেই। রাজাপ্পা ভাবে যে, নাগরাজনের ধারণা আকারে বড়ো হলেই দামি হবে অ্যালবাম অথবা শক্তিশালী দেশের টিকিট দুর্বল দেশের টিকিটের তুলনায় বেশি মূল্যের হবে। আর এক্ষেত্রে নাগরাজনকে অপেশাদার মনে হয় রাজাপ্পার। তাই সহজেই নাগরাজনকে ঠকাতে পারবে সে। অর্থাৎ কম দামি টিকিটের বিনিময়ে দামি টিকিটগুলি হাতিয়ে নেওয়া যাবে। টিকিটের দুনিয়ায় এমন চালাকি-প্রতারণা খুব চলে আর নাগরাজন তো এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী মাত্র – এমন ভাবনায় ভাবিত হয়েই রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়িতে গিয়েছিল।

টিকিটের অ্যালবাম গল্পটির নামকরণ কতটা সার্থক?

নামকরণ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিন্দুতে সিন্ধু দর্শনের মতো নামকরণের মধ্য দিয়ে পাঠকরা সাহিত্য-বিষয়টি সম্পর্কে খানিক ধারণা পেতে পারে। নামকরণ নানা প্রকারের হতে পারে। যেমন – চরিত্রপ্রধান, বিষয়কেন্দ্রিক, ব্যঞ্জনাধর্মী ইত্যাদি। তামিল লেখক সুন্দর রামস্বামীর ‘টিকিটের অ্যালবাম’ নামক গল্পটি আবর্তিত হয়েছে দুই কিশোর রাজাপ্পা ও নাগরাজনকে কেন্দ্র করে।

রাজাপ্পার নেশা ছিল ডাকটিকিট সংগ্রহ করা। তার টিকিটের অ্যালবামটি একসময় স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুর থেকে কাকা নাগরাজনকে একটি টিকিটের অ্যালবাম পাঠালে সেটিই ক্রমশ বন্ধুমহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রাজাপ্পার অ্যালবামকে আর কেউ পাত্তা দেয় না, এমনকি ব্যঙ্গও করে। এ ঘটনায় আহত হয়ে রাজাপ্পা সিদ্ধান্ত নেয় সেই অপমান সে আর সহ্য করবে না। অপেশাদার, শিক্ষার্থী নাগরাজনের কাছ থেকে কম দামি টিকিট দিয়ে দামি টিকিট হাতিয়ে নেবে সে। সেই উদ্দেশ্যে সে নাগরাজনদের বাড়িতে যায়। সেসময় নাগরাজন বাড়িতে ছিল না। তার অনুপস্থিতির সুযোগে নিজের অবচেতনে অ্যালবামটা আত্মসাৎ করে সে। আপ্পু এসে পরে জানায় যে, নাগরাজনরা পুলিশে খবর দিতে পারে অ্যালবাম উদ্ধারের জন্য। দরজায় টোকা পড়ার শব্দে ভীত রাজাপ্পা উনুনের আগুনে ভস্মীভূত করে দেয় অ্যালবামটি। পরে দেখে পুলিশ নয়, বাড়িতে এসেছে নাগরাজন। তার দুঃখের কথা শুনে রাজাপ্পার নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা হয়, সে নিজের অ্যালবামটা নাগরাজনকে দিয়ে দেয়। নাগরাজন সেটি প্রথমে নিতে অসম্মত হলেও পরে নেয়। তবে সে চলে যাওয়ার সময় রাজাপ্পা তার কাছ থেকে সেটি এক রাতের জন্য চেয়ে নেয় এবং ঘরে গিয়ে সেটিকে জাপটে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

গল্পটির সম্পূর্ণ ঘটনাবৃত্ত আবর্তিত হয়েছে টিকিটের অ্যালবামকে কেন্দ্র করে। সেটিকে নিয়েই বন্ধুদের আলোচনা, উৎসাহ বা অনুৎসাহ। রাজাপ্পার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়া আবার তার চিত্তশুদ্ধি, নাগরাজনের আনন্দ ও দুঃখ-সবই টিকিটের অ্যালবামকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। তাই গল্পটির বিষয়কেন্দ্রিক নামকরণ সার্থক হয়েছে বলেই মনে করি।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘টিকিটের অ্যালবাম’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – টীকা

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

ওশিয়ানিয়া - মারে-ডার্লিং অববাহিকা - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – মারে-ডার্লিং অববাহিকা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – ওশিয়ানিয়া – ওশিয়ানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর