অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – টিকিটের অ্যালবাম – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের টিকিটের অ্যালবাম অধ্যায়ের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর গুলি পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইভাবে টিকিটের অ্যালবাম অধ্যায়ের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর গুলি যদি তোমরা প্রস্তুত করে না যাও তাহলে পরীক্ষায় টিকিটের অ্যালবাম অধ্যায়ের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর গুলোর উত্তর দিতে পারবে না। তাই টিকিটের অ্যালবাম অধ্যায়ের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর গুলি ভালো করে মুখস্ত করে গেলে তোমরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল পাবে।

Table of Contents

রাজাপ্পা নামক এক কিশোরের ছিল টিকিট সংগ্রহের অদম্য আগ্রহ। বহু কষ্টে সে তার টিকিটের অ্যালবাম গড়ে তোলে। এক সময় তার এই অ্যালবাম স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুর থেকে পাঠানো একটি টিকিট সমৃদ্ধ অ্যালবাম রাজাপ্পার জনপ্রিয়তা কেড়ে নেয়। নাগরাজন নামক তার বন্ধুর এই অ্যালবাম সকলের আকর্ষণ কেড়ে নেয়। ঈর্ষায় রাজাপ্পা নাগরাজনের অ্যালবাম চুরি করে। কিন্তু অপরাধবোধে তার মন কুঁচকে যায়। রাতে সে টিকিটের অ্যালবামটি পুড়িয়ে ফেলে। পরদিন সকালে নাগরাজন তার হারানো অ্যালবামের খবর দিলে রাজাপ্পার অনুশোচনা আরও বেড়ে যায়। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে তার সাধের অ্যালবামটি নাগরাজনকে উপহার দেয়।

এই গল্পটি আমাদের ঈর্ষা, অনুশোচনা এবং প্রায়শ্চিত্তের বার্তা দেয়। রাজাপ্পার চরিত্র আমাদের শেখায় ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে এবং ভালো কাজের মাধ্যমে ভুল সংশোধন করতে।

টিকিটের অ্যালবাম – অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

কেউ রাজাপ্পার অ্যালবামের কথা উল্লেখও করত না, বা তাকে পাত্তাও দিত না। – সকলের এমন আচরণের কারণ গল্প অনুসরণে আলোচনা করো।

সুন্দর রামস্বামীর ‘টিকিটের অ্যালবাম’ নামক গল্পে দুটি কিশোরের দুটি টিকিটের অ্যালবাম ছিল। আগে রাজাপ্পা নামক কিশোরটির অ্যালবাম বেশ জনপ্রিয় ছিল। স্কুলের মধ্যে ওর অ্যালবামটাই ছিল সবচেয়ে বড়ো। বহু সময় ব্যয় করে রাজাপ্পা ডাকটিকিট সংগ্রহ করে অ্যালবামে রাখত কিন্তু এখন আর সেই অ্যালবামটির প্রতি ছেলেদের কোনো আগ্রহ নেই। এখন তাদের সমস্ত আগ্রহ নাগরাজনের অ্যালবামটিকে ঘিরেই। নাগরাজনের কাকা সিঙ্গাপুর থেকে একটি টিকিটের অ্যালবাম পাঠিয়েছে নাগরাজনকে। অ্যালবামটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই স্থানীয় কোনো দোকানে এমন অ্যালবাম পাওয়া যাবে না। এককথায় অ্যালবামটি ছিল অদ্বিতীয়। তা ছাড়া নাগরাজন সবাইকেই অ্যালবামটি দেখতে দিত। ছেলেদের মতে নাগরাজনের অ্যালবামের কাছেপিঠে পৌঁছোনোর যোগ্যতাও নাকি ছিল না রাজাপ্পার অ্যালবামটির। এইসব কারণেই কেউ রাজাপ্পার অ্যালবামের কথা উল্লেখও করত না বা তাকে পাত্তাও দিত না।

ডাকটিকিট সংগ্রহ করার রার ক্ষেত্রে রাজাপ্পার তীব্র আকর্ষণের যে পরিচয় গল্পে রয়েছে, তা আলোচনা করো।

রাজাপ্পা মৌমাছির মধু সংগ্রহ করার মতো কষ্ট করে ডাকটিকিট সংগ্রহ করত। ডাকটিকিট সংগ্রহই ছিল তার নেশা। ভোরবেলায় সে অপর টিকিট সংগ্রাহকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বেরিয়ে পড়ত। একটা রাশিয়ার টিকিটের সঙ্গে দুটি পাকিস্তানি টিকিটের বিনিময় করত। বিকেলবেলা স্কুলের সমস্ত বইখাতা এককোণে তাড়াতাড়ি রেখে, হাফপ্যান্টের মধ্যে জলখাবার ঢুকিয়ে এককাপ কফি গিলে আবার বেরিয়ে পড়ত, চার মাইল দূরের একটা ছেলের কাছে রক্ষিত কানাডার টিকিট সংগ্রহ করতে। রাজস্ব বিভাগের এক অফিসারের ছেলে একবার পঁচিশ টাকার বিনিময়ে ওর অ্যালবামটি কিনতে চাইলে রাজাপ্পা উত্তর দিয়েছিল যে, সে কি তার শিশু ভাইকে তিরিশ টাকায় বিক্রি করতে পারবে। এমনই ছিল রাজাপ্পার ডাকটিকিট সংগ্রহের প্রতি আকর্ষণ এবং ভালোবাসা।

নাগরাজনের প্রতি রাজাপ্পা কীভাবে ক্রমশ ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিল?

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে রাজাপ্পা ও নাগরাজন দুই কিশোরের কথা বলা হয়েছে, যাদের টিকিট সংগ্রহের অ্যালবাম ছিল। রাজাপ্পার শখ ছিল নানা স্থান থেকে ডাকটিকিট সংগ্রহ করে অ্যালবামে সেগুলি সঞ্চয় করা। স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে বেশ কদর ছিল তার অ্যালবামের। বহু কষ্ট করে সে টিকিটগুলি সংগ্রহ করত কিন্তু একদিন নাগরাজনের কাকা সিঙ্গাপুর থেকে নাগরাজনকে একটি ডাকটিকিটসহ অ্যালবাম পাঠায়। সেটি ছিল অভূতপূর্ব। সব ছেলেমেয়ে সেই অ্যালবামটির প্রতি আকৃষ্ট হয়-সেটি দেখার জন্য ছেলেরা নাগরাজনের কাছে ভিড় জমাত। রাজাপ্পার অ্যালবামকে কেউ আর গুরুত্বই দিত না-বরং তার অ্যালবাম যে নাগরাজনের অ্যালবামের তুলনায় কিছুই না, তা জোর করে বলত। রাজাপ্পাকে হিংসুটে বলতেও ছাড়েনি তারা। এইসব ঘটনা রাজাপ্পার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করত, সে নাগরাজনের অ্যালবামের জনপ্রিয়তা মন থেকে মেনে নিতে পারত না-এভাবেই সে ক্রমে নাগরাজনের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিল।

রাজাপ্পার চোখ জলে ভরে গেল। – কোন পরিস্থিতিতে রাজাপ্পার চোখ জলে ভরে উঠল?

নাগরাজনের প্রতি প্রবল ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের অসচেতনতায় রাজাপ্পা নাগরাজনের ডাকটিকিটের অ্যালবামটা চুরি করে আনে। পরে আপ্পুর থেকে জানতে পারে যে, নাগরাজনের বাবা পুলিশসুপারের অফিসে কাজ করায় তার ইঙ্গিতমাত্রই পুলিশবাহিনী অ্যালবাম উদ্ধারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এ কথা শোনার পর রাজাপ্পা মনে মনে ভীত হয়ে পড়ে। দরজায় টোকা মারার আওয়াজ হলে ভাবে হয়তো পুলিশ এসেছে তার বাড়িতে অ্যালবামটির তল্লাশি করতে। এ কারণে ভীত রাজাপ্পা ছুটে বাড়ির পিছনে স্নানের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। স্নানের জল গরম করার জন্য রাখা উনুনে সে ভয়ে চুরি করা নাগরাজনের অ্যালবামটা ফেলে দেয় এবং সেই মুহূর্তেই সব টিকিট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমনসব টিকিট আর হয়তো কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে রাজাপ্পার চোখ জলে ভরে যায়।

নাগরাজন হতবুদ্ধি হয়ে গেল। — তার হতবুদ্ধি হয়ে পড়ার কারণ কী?

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পের কিশোর চরিত্র নাগরাজনের একটি ডাকটিকিটসমৃদ্ধ অ্যালবাম ছিল, তার কাকা তাকে সিঙ্গাপুর থেকে অ্যালবামটি পাঠিয়েছিল। সেই অ্যালবামটি চুরি করে নিয়েছিল রাজাপ্পা। নাগরাজন তা বুঝতে পারেনি। তাই সে রাজাপ্পার কাছে এসে তার অ্যালবাম হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করে। নাগরাজনের কষ্টে রাজাপ্পা মনে মনে বেদনা অনুভব করে, সে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং নিজের সাধের অ্যালবামটি নাগরাজনের হাতে তুলে দেয়। রাজাপ্পার এমন আচরণে নাগরাজন বিস্মিত হয় দারুণভাবে। কারণ সে জানত যে টিকিটের অ্যালবামটি ছিল নাগরাজনের প্রাণ আর সে কী না (রাজাপ্পা) সেটা দিয়ে দিতে চাইছে! সে রাজাপ্পা-কে প্রশ্ন করে যে, অ্যালবাম ছাড়া রাজাপ্পা থাকবে কীভাবে? তবুও রাজাপ্পা নিজের অ্যালবামটি নাগরাজনের হাতে তুলে দিয়ে, তাকে সেটি গ্রহণের অনুরোধ জানায়। রাজাপ্পার এমন আচরণের আকস্মিকতায় নাগরাজন হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল।

কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হয়েই ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে রাজাপ্পার আত্মশুদ্ধি ঘটেছে। – গল্পের ঘটনা বিশ্লেষণ করে উদ্ধৃতিটির যথার্থতা প্রতিপন্ন করো।

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে দেখা যায় যে, রাজাপ্পা নামক এক কিশোরের একটি টিকিটের অ্যালবাম আছে। রাজাপ্পা বহু কষ্টে একটি একটি করে টিকিট সংগ্রহ করত। সেটা ছিল তার খুব সাধের জিনিস। আগে স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে এই অ্যালবামটির বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। কিন্তু নাগরাজনের কাকা নাগরাজনকে সিঙ্গাপুর থেকে ডাকটিকিটসমৃদ্ধ একটি অ্যালবাম পাঠানোর পরে রাজাপ্পার অ্যালবামের জনপ্রিয়তা একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। সবাই ছোটে নাগরাজনের কাছে-তার অ্যালবামটি দেখার জন্য। নাগরাজনের অ্যালবামটি অদ্বিতীয়। রাজাপ্পার অ্যালবামের প্রতি কারও কোনো আকর্ষণ রইল না। শুধু তাই নয়, অনেকে এ কথা বলল যে নাগরাজনের অ্যালবামের কাছে রাজাপ্পার অ্যালবাম তো ডাস্টবিনে ফেলার যোগ্য। এইসব ঘটনা রাজাপ্পাকে ঈর্ষাকাতর করে তোলে নাগরাজনের প্রতি। সে একদিন সন্ধ্যায় নাগরাজনের বাড়িতে যায় কম দামের কিছু টিকিটের বিনিময়ে নাগরাজনের কাছ থেকে বেশি মূল্যের টিকিট হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু নাগরাজন বাড়িতে ছিল না, সুযোগ বুঝে রাজাপ্পা চুরি করে নাগরাজনের অ্যালবাম। তবে এরপর এ থেকেই তার মনে অস্থিরতা দেখা দেয়, গলা শুকিয়ে যায়। বাড়ি ফিরে আসে রাজাপ্পা। রাত আটটার সময় আপ্পুর কাছে শোনে নাগরাজনের অ্যালবাম চুরি গেছে। রাতে কিছু খেতে পারে না রাজাপ্পা দুশ্চিন্তায়। তার বাবা-মা চিন্তা করে, অ্যালবামটা যে কোথায় ঠিকভাবে রাখা যায়-তাই রাজাপ্পার ভাবনার অন্ত থাকে না। সকালেই আপ্পু চলে আসে। আপ্পুর কথায় রাজাপ্পা বুঝতে পারে যে, অ্যালবাম চুরির জন্য তাকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ তল্লাশি চালাতে পারে-সে খবরও সে পায় আপ্পুর কাছে। এমন সময় দরজায় টোকা পড়ে। রাজাপ্পার মনে হয় নিশ্চয়ই পুলিশ এসেছে। সে ছুটে চলে যায় স্নান ঘরে। সেখানে জল গরম করার উনুন জ্বলছিল, তার আগুনে পুড়িয়ে ফেলে নাগরাজনের অ্যালবামখানি। তবে এই সময় তার চোখ জলে ভরে ওঠে – এমন টিকিটগুলি আর কোথাও পাওয়া যাবে না ভেবে। মা-এর ডাকে স্নান সেরে ঘরে ঢুকে দেখে নাগরাজনকে। নাগরাজন তার হারিয়ে যাওয়া অ্যালবামের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে রাজাপ্পার মনে অনুশোচনা দেখা দেয়। সমস্ত কিছুর জন্য সে নিজেকেই দোষী বুঝতে পেরে, বন্ধুর দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারছিল না।

রাজাপ্পার অনুতাপবিদ্ধ মন ক্রমে নির্মল হতে থাকে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে নাগরাজনের হাতে তুলে দেয় নিজের বহু যত্নে তৈরি করা সাধের অ্যালবামটি। রাজাপ্পার অনুরোধ ফেলতে পারেনি নাগরাজন, সে গ্রহণ করে রাজাপ্পার অ্যালবামটি। নাগরাজন চলে যেতে পা বাড়ালে মাত্র একটি রাতের জন্য রাজাপ্পা অ্যালবামটি বন্ধুর কাছে চায়। আর সেটা পেয়ে ঘরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে রাজাপ্পা। যেন তার মনের মলিনতা পরিষ্কার হয়ে গেল চোখের জলে।

এভাবেই কৃতকর্মের অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে আত্মশুদ্ধি হয়েছিল রাজাপ্পার।

তোমরা এমনই অনেক ভারতের কিংবা অন্যান্য দেশের ডাকটিকিট সংগ্রহ করে একটি অ্যালবাম তৈরি করো।

ভারতের কিংবা অন্যান্য দেশের ডাকটিকিট সংগ্রহ করে একটি অ্যালবাম তৈরি করার কৌশল –

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র –

  • ডাকটিকিট – বিভিন্ন থিম, যুগ, দেশ, বা মূল্য অনুযায়ী ডাকটিকিট সংগ্রহ করুন।
  • স্ট্যাম্প অ্যালবাম – আপনার পছন্দ এবং সংগ্রহের আকার অনুযায়ী একটি অ্যালবাম নির্বাচন করুন।
  • স্ট্যাম্প হিঞ্জ – ডাকটিকিটগুলিকে অ্যালবামে স্থাপন করার জন্য হিঞ্জ ব্যবহার করুন।
  • ক্যাটালগ – ডাকটিকিটের মূল্য এবং বিবরণ জানতে একটি ক্যাটালগ ব্যবহার করুন।
  • চিমটি – ডাকটিকিট সাবধানে পরিচালনা করার জন্য চিমটি ব্যবহার করুন।
  • ক্যানসেলার – ব্যবহৃত ডাকটিকিট থেকে স্ট্যাম্প বাতিল করার জন্য ক্যানসেলার ব্যবহার করুন (ঐচ্ছিক)।

ধাপে ধাপে নির্দেশিকা –

  1. থিম নির্বাচন করুন – আপনি কি ভারতের ডাকটিকিট, কোন নির্দিষ্ট যুগের ডাকটিকিট, কোন নির্দিষ্ট থিমের ডাকটিকিট, বা বিভিন্ন দেশের ডাকটিকিট সংগ্রহ করতে চান তা নির্ধারণ করুন।
  2. ডাকটিকিট সংগ্রহ করুন – ডাকটিকিট বিক্রেতা, অনলাইন স্টোর, বা পুরনো জিনিসপত্রের দোকান থেকে ডাকটিকিট কিনুন। বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের কাছ থেকেও ডাকটিকিট দান করতে পারেন।
  3. ডাকটিকিট সাজান – থিম, যুগ, দেশ, বা মূল্য অনুযায়ী ডাকটিকিটগুলিকে সাজান।
  4. অ্যালবাম নির্বাচন করুন – আপনার সংগ্রহের আকার এবং পছন্দ অনুযায়ী একটি অ্যালবাম নির্বাচন করুন। বিভিন্ন আকার, পৃষ্ঠা সংখ্যা, এবং থিমের অ্যালবাম পাওয়া যায়।
  5. ডাকটিকিট স্থাপন করুন – ডাকটিকিটের পেছনে হিঞ্জ লাগান এবং অ্যালবামের প্রাসঙ্গিক পৃষ্ঠায় সাবধানে স্থাপন করুন।
  6. লেবেল যোগ করুন – প্রতিটি ডাকটিকিটের জন্য দেশ, থিম, যুগ, এবং মূল্য সহ লেবেল যোগ করুন।
  7. সংগ্রহ বজায় রাখুন – আপনার অ্যালবামকে ধুলো, আর্দ্রতা, এবং সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করুন। নিয়মিতভাবে আপনার সংগ্রহ পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে মেরামত করুন।

অতিরিক্ত টিপস –

  • আপনার সংগ্রহের জন্য একটি নাম এবং একটি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করুন।
  • আপনার প্রিয় ডাকটিকিটগুলির জন্য বিশেষ পৃষ্ঠা তৈরি করুন।
  • আপনার সংগ্রহ সম্পর্কে একটি জার্নাল রাখুন।
  • স্থানীয় স্ট্যাম্প ক্লাবে যোগদান করুন এবং অন্যান্য সংগ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করুন।
  • প্রদর্শনীতে আপনার সংগ্রহ প্রদর্শন করুন।

সঙ্গের ছেলেরা চেঁচাতে লাগল, বাজে অ্যালবাম! বাজে অ্যালবাম – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে, ছেলেদের এমন আচরণের কারণ নির্দেশ করো।

প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতাংশটি সুন্দর রামস্বামীর ‘টিকিটের অ্যালবাম’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্ত গল্পে দেখা যায় যে, নাগরাজনের অ্যালবামটি দেখার জন্য উৎসাহ থাকলেও ছেলেদের কেউই রাজাপ্পার অ্যালবামটিকে গুরুত্বই দিতে চাইছিল না। তখন রাজাপ্পা ছেলেদের কাছে নিজের অ্যালবামের গুরুত্বের কথা বলতে গেলে, ছেলেরা সেই প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছিল।

নাগরাজনের অ্যালবামটি ছিল অদ্বিতীয়, সেই অ্যালবামের উপরের লেখাটি ছেলেরা যখন টুকছিল তখন রাজাপ্পা তাদের নকলনবিশ বলায় ছেলেদের মধ্যে কৃষ্ণান রাজাপ্পাকে হিংসুটে বলে। তাও রাজাপ্পা নিজের অ্যালবামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করলে ছেলেদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং জনৈক ছাত্র কৃষ্ণান বলে ‘তোর অ্যালবামটা ডাস্টবিনে রাখার যোগ্য’-এই কারণেই ছেলেরা প্রশ্নোক্ত আচরণ করেছিল।

গলা শুকিয়ে কাঠ, মাথায় রক্তের চাপ বোধ হচ্ছে। – উদ্দিষ্ট ব্যক্তির এমন বোধ হবার কারণ কী?

প্রশ্নোক্ত অংশটি সুন্দর রামস্বামীর ‘টিকিটের অ্যালবাম’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে, উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হল গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র রাজাপ্পা।

রাজাপ্পা নিজের কম দামি টিকিটের বিনিময়ে নাগরাজনের বেশি মূল্যের টিকিটগুলি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নাগরাজনের বাড়িতে যায়। সেখানে তখন নাগরাজন ছিল না; সেই পরিস্থিতির সুযোগে রাজাপ্পা নাগরাজনের সুদৃশ্য, অদ্বিতীয় অ্যালবামটি চুরি করে নিয়ে আসে বাড়িতে। এরপর থেকেই এক অপরাধবোধ গ্রাস করতে থাকে রাজাপ্পাকে, অ্যালবামটা সে বইয়ের ব্যাগের পিছনে লুকিয়ে যেন শান্তি পায় না। তার মানসিক অস্বস্তির সঙ্গে শারীরিক অস্বস্তিও শুরু হয়ে যায়, যেন আগুনের হলকা বেরোতে থাকে শরীর দিয়ে। এই কারণেই তার মনে হয় যে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, মাথায় রক্তের চাপ বেড়ে গেছে।

রাজাপ্পা আপ্পুর কথার সুরে সন্দেহ আঁচ করতে পারল। – রাজাপ্পার এমন মনে হবার কারণ কী?

অবচেতন মনে রাজাপ্পার ঈর্ষা সৃষ্টি হয়েছিল নাগরাজনের অ্যালবামের প্রতি, তাই সুযোগ পেতেই সে নাগরাজনের অ্যালবামটি চুরি করেছে। সেদিন রাত আটটার সময় আপ্পু জানায় যে, নাগরাজনের অ্যালবামটি চুরি হয়ে গেছে-শুরু হয়ে যায় রাজাপ্পার মনের মধ্যে চরম অশান্তি। আবার পরের দিন সকালে তার ঘুম থেকে ওঠার আগেই চলে আসে আপ্পু আর আপ্পু জানায় যে, নাগরাজনের বোনের কাছ থেকে জানা গেছে নাগরাজন আর সে (আপ্পু) যখন শহরে গিয়েছিল, তখন কেবল রাজাপ্পাই নাগরাজনদের বাড়িতে গিয়েছিল। অর্থাৎ আপ্পুর ইঙ্গিত একেবারেই পরিষ্কার, তা ছাড়া রাজাপ্পার মনের মধ্যেই দুর্বলতা বাসা তৈরি করে আছে-সে তো সত্যিই চোর। এই কারণেই আপ্পুর কথায় রাজাপ্পা সন্দেহ আঁচ করেছে।

রাজাপ্পা খুব কষ্ট করে টিকিট জোগাড় করত – রাজাপ্পার টিকিট সংগ্রহের কাহিনি লেখো।

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পে রাজাপ্পার একটি অ্যালবাম ছিল, যা নানাপ্রকার ডাকটিকিটে সমৃদ্ধ ছিল। টিকিট সংগ্রহ করা ছিল তার নেশা, যেন ওটাই ছিল তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যেমনভাবে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে, রাজাপ্পাও তেমনই বহু কষ্টে বহু যত্নে টিকিট সংগ্রহ করত। সাধারণত শনিবার আর রবিবার সে নানা স্থানে ছোটাছুটি করে নানা দেশের টিকিট সংগ্রহ করত। ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে অন্যান্য টিকিট সংগ্রাহকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সে বেরিয়ে পড়ত। বিকালে স্কুলের বই এক কোনে ধূপ করে রেখে, হাফ প্যান্টের পকেটে জলখাবার ঢুকিয়ে, চোঁ চোঁ করে এক কাপ কফি পান করে, আবার বেরিয়ে পড়ত। চার মাইল দূরের একটা ছেলের কাছে একটা কানাডার টিকিট আছে, সেটা সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে। কখনো কখনো টিকিট সংগ্রহের জন্য বিনিময়প্রথাও অবলম্বন করত রাজাপ্পা। যেমন – একটা রাশিয়ার টিকিটের সঙ্গে দুটো পাকিস্তানি টিকিটের বিনিময় করত সে। এভাবেই বহু আয়াস সাধনের মাধ্যমে রাজাপ্পা ডাকটিকিট জোগাড় করত।

সন্ধ্যাবেলা রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়ি গেল। – কোন্ চেতনা দ্বারা ভাবিত হয়ে রাজাপ্পা এমন কাজ করেছিল?

সুন্দর রামস্বামী রচিত ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পের কিশোর চরিত্র রাজাপ্পার একটি টিকিটের অ্যালবাম ছিল, যা আগে ছেলের কাছে জনপ্রিয়তা পেলেও বর্তমানে নাগরাজনের অ্যালবামের জনপ্রিয়তার কাছে তা অবহেলার যোগ্য। এটা রাজাপ্পা মনে মনে মেনে নিতে পারছিল না। তাই একদিন সে স্থির করল যে, নাগরাজনের কাছ থেকে কম দামি টিকিটের বিনিময়ে বেশি মূল্যের টিকিটগুলি হাতিয়ে নিতে হবে, সেই উদ্দেশ্যে সে একদিন ৩ সন্ধ্যাবেলায় নাগরাজনের বাড়ি গিয়েছিল।

রাজাপ্পার ধারণা হয়েছিল যে ঘটনাচক্রে নাগরাজন একটা অ্যালবাম পেয়েছে, এতে তার কষ্ট বা আবেগ কোনো কাজ করেনি, অর্থাৎ ডাকটিকিটের সঠিক মূল্যও নাগরাজন বোঝে না। কী করে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করতে হয়, তাও নাগরাজনের জানা নেই। রাজাপ্পা ভাবে যে নাগরাজনের ধারণা আকারে বড়ো হলেই দামি হবে অ্যালবাম অথবা শক্তিশালী দেশের টিকিট দুর্বল দেশের টিকিটের তুলনায় বেশি মূল্যের হবে। আর এক্ষেত্রে নাগরাজনকে অপেশাদার মনে হয় রাজাপ্পার। তাই সহজেই নাগরাজনকে ঠকাতে পারবে সে। অর্থাৎ কম দামি টিকিটের বিনিময়ে দামি টিকিটগুলি হাতিয়ে নেওয়া যাবে। টিকিটের দুনিয়ায় এমন চালাকি-প্রতারণা খুব চলে আর নাগরাজন তো এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী মাত্র – এমন ভাবনায় ভাবিত হয়েই রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়িতে গিয়েছিল।

টিকিটের অ্যালবাম গল্পটির নামকরণ কতটা সার্থক?

নামকরণ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিন্দুতে সিন্ধু দর্শনের মতো নামকরণের মধ্য দিয়ে পাঠকরা সাহিত্য-বিষয়টি সম্পর্কে খানিক ধারণা পেতে পারে। নামকরণ নানা প্রকারের হতে পারে। যেমন – চরিত্রপ্রধান, বিষয়কেন্দ্রিক, ব্যঞ্জনাধর্মী ইত্যাদি। তামিল লেখক সুন্দর রামস্বামীর ‘টিকিটের অ্যালবাম’ নামক গল্পটি আবর্তিত হয়েছে দুই কিশোর রাজাপ্পা ও নাগরাজনকে কেন্দ্র করে।

রাজাপ্পার নেশা ছিল ডাকটিকিট সংগ্রহ করা। তার টিকিটের আলবামটি একসময় স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুর থেকে কাকা নাগরাজনকে একটি টিকিটের অ্যালবাম পাঠালে সেটিই ক্রমশ বন্ধুমহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রাজাপ্পার অ্যালবামকে আর কেউ পাত্তা দেয় না, এমনকি ব্যঙ্গও করে। এ ঘটনায় আহত হয়ে রাজাপ্পা সিদ্ধান্ত নেয় সেই অপমান সে আর সহ্য করবে না। অপেশাদার, শিক্ষার্থী নাগরাজনের কাছ থেকে কম দামি টিকিট দিয়ে দামি টিকিট হাতিয়ে নেবে সে। সেই উদ্দেশ্যে সে নাগরাজনদের বাড়িতে যায়। সেসময় নাগরাজন বাড়িতে ছিল না। তার অনুপস্থিতির সুযোগে নিজের অবচেতনে অ্যালবামটা আত্মসাৎ করে সে। আপ্পু এসে পরে জানায় যে নাগরাজনরা পুলিশে খবর দিতে পারে অ্যালবাম উদ্ধারের জন্য। দরজায় টোকা পড়ার শব্দে ভীত রাজাপ্পা উনুনের আগুনে ভস্মীভূত করে দেয় অ্যালবামটি। পরে দেখে পুলিশ নয়, বাড়িতে এসেছে নাগরাজন। তার দুঃখের কথা শুনে রাজাপ্পার নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা হয়, সে নিজের অ্যালবামটা নাগরাজনকে দিয়ে দেয়। নাগরাজন সেটি প্রথমে নিতে অসম্মত হলেও পরে নেয়। তবে সে চলে যাওয়ার সময় রাজাপ্পা তার কাছ থেকে সেটি এক রাতের জন্য চেয়ে নেয় এবং ঘরে গিয়ে সেটিকে জাপটে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

“টিকিটের অ্যালবাম” গল্পটি ঈর্ষা, অনুশোচনা এবং বন্ধুত্বের গভীর অনুভূতির এক সুন্দর চিত্র তুলে ধরে। রাজাপ্পা, এক কিশোর, তার সংগ্রহ করা টিকিটের অ্যালবামে গর্বিত ছিল। কিন্তু যখন তার বন্ধু নাগরাজন সিঙ্গাপুর থেকে একটি মূল্যবান টিকিটের অ্যালবাম পায়, তখন রাজাপ্পার ঈর্ষা জেগে ওঠে। সে প্রথমে নাগরাজনের অ্যালবাম চুরি করে, কিন্তু পরে তার অনুশোচনা এবং অপরাধবোধ তাকে ভেঙে ফেলে।

রাজাপ্পার অনুতাপ তাকে সাহসী করে তোলে। সে তার ভুল স্বীকার করে এবং নাগরাজনের কাছে ক্ষমা চায়। নাগরাজন, একজন সত্যিকারের বন্ধু, রাজাপ্পাকে ক্ষমা করে এবং তার সাথে তার নিজের অ্যালবাম শেয়ার করে। এই ঘটনাটি রাজাপ্পাকে বুঝতে সাহায্য করে যে সত্যিকারের বন্ধুত্ব ঈর্ষা ও প্রতিযোগিতার উপরে নয়, বরং বোঝাপড়া, সহানুভূতি এবং ক্ষমার উপরে প্রতিষ্ঠিত।

গল্পের শেষে, রাজাপ্পা এবং নাগরাজন তাদের মনোমালিন্য কাটিয়ে ওঠে এবং আরও দৃঢ় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বোঝাপড়া দেখায়। “টিকিটের অ্যালবাম” আমাদের শেখায় যে ঈর্ষা একটি বিধ্বংসী শক্তি হতে পারে, কিন্তু অনুতাপ ও ক্ষমার মাধ্যমে আমরা সত্যিকারের বন্ধুত্ব এবং আত্ম-পরিশোধন অর্জন করতে পারি।

গল্পটির সম্পূর্ণ ঘটনাবৃত্ত আবর্তিত হয়েছে টিকিটের অ্যালবামকে কেন্দ্র করে। সেটিকে নিয়েই বন্ধুদের আলোচনা, উৎসাহ বা অনুৎসাহ। রাজাপ্পার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়া আবার তার চিত্তশুদ্ধি, নীতিরাজনের আনন্দ ও দুঃখ-সবই টিকিটের অ্যালবামকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে।

তাই গল্পটির বিষয়কেন্দ্রিক নামকরণ সার্থক হয়েছে বলেই মনে করি।

এই গল্পটি বন্ধুত্ব, ঈর্ষা এবং অনুতাপের একটি শক্তিশালী চিত্র তুলে ধরে। রাজাপ্পার ঈর্ষা তাকে ভুল পথে পরিচালিত করে, কিন্তু তার অনুতাপ তাকে তার ভুল স্বীকার করতে এবং সংশোধন করতে সাহায্য করে। গল্পটি আমাদের শেখানোর চেষ্টা করে যে ঈর্ষা একটি ধ্বংসাত্মক শক্তি হতে পারে এবং বন্ধুত্বের মূল্য অপরিসীম।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন