হিমোফিলিয়া রোগের কারণ এবং লক্ষণগুলি লেখো | Class 10 Life Science

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “হিমোফিলিয়া রোগের কারণ এবং লক্ষণগুলি লেখো” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ”-এর “কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা (Madhyamik Examination) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

হিমোফিলিয়া রোগের কারণ এবং লক্ষণগুলি লেখো।

হিমোফিলিয়া রোগের কারণ –

X ক্রোমোজোমে অবস্থিত একটি মিউট্যান্ট প্রচ্ছন্ন জিনের প্রভাবে হিমোফিলিয়া ঘটে এবং রক্ততঞ্চনে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। এটি মূলত একটি বংশগত বা জিনগত রোগ যা পিতা-মাতার মাধ্যমে সন্তানের দেহে সঞ্চারিত হয়।

হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষণ (Symptoms of Hemophilia)

হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর দেহে প্রধানত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি প্রকাশ পায় –

  • রক্ততঞ্চন ব্যাহত হওয়া – সাধারণত কোনো স্থান কেটে গেলে সেই ক্ষতস্থানে 3-7 মিনিটের মধ্যে রক্ত তঞ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে ফ্যাক্টর VIII (Factor VIII) বা ফ্যাক্টর IX (Factor IX)-এর অভাব ঘটলে রক্ততঞ্চন ব্যাহত হয় এবং ক্ষতস্থান থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ ঘটে।
  • অবিরাম রক্তপাত – কোনো কারণ ছাড়াই নাক ও মাড়ি থেকে অবিরাম রক্তপাত ঘটে। এছাড়া, কোনো ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের পরও রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না।
  • শারীরবৃত্তীয় সমস্যা ও মৃত্যুঝুঁকি – দেহ থেকে অতিরিক্ত রক্ত বেরিয়ে যাওয়ার কারণে রোগীর রক্তচাপ দ্রুত হ্রাস পায়, দেহ ফুলে যায় এবং অনেক সময় মৃত্যুও ঘটতে পারে। এ ছাড়াও বিভিন্ন রকমের শারীরবৃত্তীয় ভৌত প্রক্রিয়া (যেমন – অভিস্রবণ, ব্যাপন, পরিস্রাবণ ইত্যাদি) মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
  • আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ – টিউমারজনিত কারণে বা কোনো আঘাতের ফলে দেহের অভ্যন্তরে (পেশি বা অস্থিসন্ধিতে) রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা কিছুতেই বন্ধ হতে চায় না।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “হিমোফিলিয়া রোগের কারণ এবং লক্ষণগুলি লেখো।” — নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করেছি। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে জেনে রাখা প্রয়োজন।

আশা করি এই শিক্ষামূলক আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে সরাসরি আমাদের টেলিগ্রাম (Telegram) গ্রুপে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

অসুস্থ ভ্রূণ তথা সন্তান যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলর দম্পতিকে সাধারণত কী কী পরামর্শ দেবেন?

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন দিকগুলি লেখো।

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ উল্লেখ করো।

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রকারভেদ (α ও β থ্যালাসেমিয়া) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

হিমোফিলিয়া রোগের কারণ এবং লক্ষণগুলি লেখো | Class 10 Life Science