বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

Souvick

Home » বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ উল্লেখ করো” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর “কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Pariksha) এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ উল্লেখ করো।

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (Causes and Symptoms of Color Blindness)

নিচে বর্ণান্ধতা বা কালার ব্লাইন্ডনেস-এর প্রধান কারণ এবং লক্ষণগুলি সহজভাবে আলোচনা করা হলো –

বর্ণান্ধতার কারণ

  • জিনগত মিউটেশন – মানুষের X ক্রোমোজোম এবং ৭নং অটোজোমে অবস্থিত মিউট্যান্ট প্রচ্ছন্ন জিনের প্রভাবে যথাক্রমে লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা এবং নীল বর্ণান্ধতার সৃষ্টি হয়।
  • কোন কোশের ত্রুটি – এই মিউটেশনের জন্য মানুষের চোখের রেটিনায় অবস্থিত বর্ণসংবেদী কোন কোশগুলি (Cone cells), অর্থাৎ লাল রং শনাক্ত করার জন্য লাল-সংবেদী কোন কোশ, সবুজ রং শনাক্ত করার জন্য সবুজ-সংবেদী কোন কোশ এবং নীল রং শনাক্ত করার জন্য নীল-সংবেদী কোন কোশ সুগঠিত হয় না। ফলে এগুলি প্রয়োজনীয় রঞ্জক প্রস্তুত করতে পারে না।
  • রঙের পার্থক্য বুঝতে অসুবিধা – রঞ্জকের অভাবে রঙের পার্থক্য করতে অসুবিধা হয়, যার ফলে বর্ণান্ধতা দেখা যায়। স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা ইশিহারা (Ishihara) চার্টগুলির ভেতরের সংখ্যাগুলি সহজে পড়তে পারেন। কিন্তু বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা এই সংখ্যাগুলি পড়তে পারেন না।

বর্ণান্ধতার লক্ষণ

রঙিন বস্তু শনাক্ত করার অক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই রোগের লক্ষণগুলিকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় –

  • প্রোটানোপিয়া (Protanopia) – এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি লাল রং শনাক্ত করতে অক্ষম হন।
  • ডিউটেরানোপিয়া (Deuteranopia) – ডিউটেরানোপিয়ায় আক্রান্ত রোগী সবুজ রং চিনতে পারেন না।
  • ট্রাইটানোপিয়া (Tritanopia) – ট্রাইটানোপিয়ায় আক্রান্ত রোগী নীল রং শনাক্ত করতে পারেন না।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ উল্লেখ করো” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর “কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

বায়ুদূষণ কাকে বলে? বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি লেখো।

বায়ুদূষণ কাকে বলে? বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি লেখো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? অ্যাজমা রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশগত ভূমিকাগুলি উল্লেখ করো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? অ্যাজমা রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশগত ভূমিকাগুলি উল্লেখ করো।

ব্রংকাইটিস কী? ব্রংকাইটিস রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা উল্লেখ করো।

ব্রংকাইটিস কী? ব্রংকাইটিস রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা উল্লেখ করো।

About The Author

Souvick

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মাতৃভাষা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – বঙ্গভূমির প্রতি – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – পাগলা গণেশ – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – বঙ্গভূমির প্রতি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর